#আমি_সেই_নীতু
#আনাবিয়া_বৃষ্টি
#পর্ব_৪
সন্ধ্যায় সবাই দোতলায় বসে আড্ডা দিচ্ছিল, (নিচে চাচা , চাচীরা, আম্মা থাকে , দোতলায় নীতু রা থাকে, নীতু , হাসি, খুশী, রিমি বুবু ,ফাইজুল ভাইয , আর যখন ফুপু আসে তখন তারা থাকেন ) ।
বড় আম্মা: তা আসমান তোমাগো বাড়ির সবাই কেমন আছে?
আসমান : সবাই ভালো আছেন।
মেজো আম্মা: আসতে কোনো সমস্যা হয় নাই তো ?
ফাইজুল: আমার সাথে আসলে আবার সমস্যা কেমনে হইব মেজো আম্মা ?
আসমান : ঠিকই বলেছিস , তোকে দেখে সমস্যারা ভয়ে আর আসবে না ( বাকা মুচকি হেসে)
রিমি : ভাইয়া কি কি আনলা দাও আমাগো, দেখি কি কি আনলা ।
ফাইজুল : আমার ঘর থেকে ব্যাগ গুলা নিয়া আয় যা ,
রিমি : হাসি - খুশি যা ব্যাগ গুলা নিয়া আয় তো
হাসি : যাই বুবু , নীতু আয় তো ব্যাগ নিয়া আহি...
ফাইজুল : নীতু থাক তোরা যা ,
রিমি : বাহ্ বাহ্ ভাই , এখনই ( ভুরু নাচিয়ে)
হাসি-খুশি ব্যাগ গুলা নিয়ে আসে, ফাইজুল ভাই সবার জন্য কিছু না কিছু নিয়ে এসেছে, রিমি বুবুর জন্য শাড়ি, হাসির - খুশির জন্য শাড়ি চুড়ি আরও কত কি ।
নীতুর জন্য নীল রঙের একটি শাড়ি , লাল আর সবুজ রঙের চুড়ি , (নীতুর খুব লজ্জা লাগছিল )
ফাইজুল : নীতু এই গুলা তোর (শাড়ি, চুড়ি নীতুর হাতে দিয়ে বলে ) কাল পরিস কেমন ।
নীতু : আইচ্ছা
সবাই আড্ডা দিয়ে যে যার মতো ঘুমিয়ে পড়ল ।
______________________
সকাল এ ঘুম থেকে উঠে নীতু দেখে হাসি - খুশি তাকে দেখে হাসছে ।
নীতু : কিরে হাসছস কেন ?
হাসি : হাসি কারণ, কয়টা বাজে জানোস?
খুশী: ১০ টা বাজে
নীতু : কী? ১০ টা !!!! (অবাক হয়ে )
হাসি ,খুশি এক সাথে বলে উঠলো হ্যাঁ
নীতু : এত দেড়ি হয়ে গেলো ? আজ তো স্কুল ও যেতে পারলাম না ।
সেই মুহূর্তে রিমি ঘরে ঢুকলো
রিমি : যাবি কি কইরা ঘুম থেকেই তো উঠোস নাই ।
নীতু :আসলে কাল রাইতে ঘুমাইতে পারি নাই বুবু
হাসি: কেনো রে ভাইয়া তোরে ঘুমাইতে দেয় নাই বুঝি ?
নীতু : না না , ঘুমে ধরে নাই তাই , আমায় কেও ডাকলা না কেন ?
খুশী: ভাইয়া কইছে তোরে ডাকতে না , কইছে নীতু সারা রাত ঘুমায় নাই ওরে বিরক্ত করিস না ,( শাসন করে) আইজ স্কুলে যাওয়া লাগবো না ।
তখন ঘরে ফাইজুল ভাই কাশি দিয়ে বলে ; আসবো ?
রিমি : আসো দেইখা যাও তোমার পরাণের নীতুর মাত্র ঘুম ভাঙ্গলো ওনার( মুচকি হেসে)
ফাইজুল : (ঘরের প্রবেশ করে কিছুক্ষণ নীতুর দিকে তাকিয়ে, বলে উঠে ) আমি আজ এক জায়গায় যাবো ,তোদের বরং অন্য কোন দিন ঘুরতে নিয়ে যাবো ।
সবাই মাথা নাড়িয়ে বলল আইচ্ছা।
ফাইজুল ভাই চলে যান।
নীতু উঠে মুখ ধুয়ে আসে , তখন হাসি-খুশি বলে উঠলো
হাসি : নীতু বল্লিনা তো এত দেরি করে কেন উঠলি?
নীতু মনে মনে বলে ,
নীতু :আমি কি কইরা কই ফাইজুল ভাইয়ের চিন্তায় ঘুমাইতে পারি নাই , কাইল মাঠের সেই ঘটনা,কাল সন্ধ্যায় সবাই সবার মত ঘরে চলে যাওয়ার পর ,(নীতু আর হাসি - খুশি এক সাথে ঘুমায় ) হাসি খুশী ঘুমিয়ে গেলে ।
ফাইজুল ভাই নীতুকে ডাক দেন ,নীতু ঘর থেকে বের হলে উনি ওকে সিঁড়ির সামনে নিয়ে যান , ওকে জিজ্ঞেস করেন
ফাইজুল : ধ্বংসবতী, আমায় দেখে খুশি হওনি বুঝি ? তুমি যখন আমার দিকে তাকিয়ে থাকো তখনই তোমার চোখে আমি আমার ধ্বংস দেখতে পাই , (নেশালো কণ্ঠে বলে উঠে) তুমি কেনো আমার দিকে এই ভাবে তাকিয়ে থাকো ? আমার ধ্বংস দেখার জন্য ?( এক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে)
নীতু কি বলবে কিছুই বুঝে উঠতে পারল না , উনার এতো গুলো প্রশ্নের কি উত্তর দিবে? কিচ্ছু বুঝেই তো নি , কি বলবে ?
(ফাইজুল ভাই নীতুর থেকে ৬ বছরের বড় , রিমি বুবু নীতুর থেকে দুই বছরের বড় , হাসি - খুশী নীতুর থেকে ৩ মাসের বড় , হাসি খুশীর থেকে দুই মিনিট এর বড় )
নীতুর যখন ১০ কিংবা ১২ বছর বয়স তখন থেকেই সে জানে ফাইজুল ভাইয়ের সাথে তার বিয়ে , বড় চাচা ঠিক করে রেখেছেন । তখন থেকেই ফাইজুল ভাই কে দেখলে নীতুর খুব ভয় আর লজ্জা কাজ করে ।
নীতুর এত কিছুর ভাবনার মাঝে ফাইজুল ভাই বলে উঠে
ফাইজুল : কি ভাবা হচ্ছে ? এত কি ভাবে আমার ধ্বংসবতী ?
নীতু : ভয়ে ভয়ে উত্তর দেয় , কই কিছু নাহ তো ..
ফাইজুল : আচ্ছা আমি তো শুনেছি , আমি না থাকলে কে যেনো পুরো এলাকা ঘুরে বেড়ায়! আর আমার কাছে আসলে চুপসে যায় কে সে ?
নীতু লজ্জায় পরে যায়, সত্যি তো এমনিতে তো নীতু অনেক লাফায়, ঘোরাঘুড়ি করে , ঘরে এক মুহুর্ত থাকে না উনি আসলে কি হয় নীতুর?
ফাইজুল : সাইকেল টা তোকে সেজন্যই কিনে দিয়েছি , আমি জানি,আমি বাড়িতে থাকলে তুমি সাইকেল এ চড়বে না তাই কাল আমি রূপনগর থাকবো না ,, তুমি আমার দেয়া শাড়ি, চুড়ি পরে সাইকেল নিয়ে ঘুরে বেরিও, আমি খুব খুশি হব .. আমার পাখী উড়িয়ে বেরিয়েছে ...
নীতু অবাক নয়নে ওনার দিকে তাকিয়ে কথা শুনছিল , লোকটা তাকে কত ভালোবাসে,তার জন্য কত কিছু করে , কত ভাবে ।
ফাইজুল যেতে যেতে বললেন ঘুমিয়ে যাও ,কাল আবার ধ্বংসবতীর আগুনে পুড়ব..
ধ্বংসবতীর আগুনে ঝলসে যেতে আমার ভালোই লাগে। এই বলে হাসতে হাসতে চলে যান।
এত কিছু ভাবছিল নীতু ঠিক তখন রিমি বুবু বলে উঠে
রিমি : দেখ গিয়ে ভাইয়ার জন্য ঘুমাতে পারেন নি রানী সাহেবা
নীতু :আরে না না মাথা ব্যাথা করছিলো তাই ঘুম হয়নি।(লজ্জা মুখ নিয়ে)
হাসি : হাসতে হাসতে বলে, ভাইয়াকে বলি তোর মাথা ব্যাথা ? মাথা টিপে দিবে ..
নীতু : সেখান থেকে চলে যায় কি লজ্জা কি লজ্জা , লজ্জায় মরে যাওয়ার অবস্থা ...
______________
বিকাল ৩ টায় নীল রঙের শাড়ি , চুড়ি পরে কাউকে না বলে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে গেল নীতু ।
সাইকেল চালানো আগে থেকেই ফাইজুল ভাই সবাইকে শিখিয়েছে।
ক্ষেতের মাঝের রাস্তা দিয়ে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলা নীতু ।নীল আকাশ, চারপাশে সবুজ ঘাস, গায়ে নীল শাড়ি, মুখে মন কারা হাসি , চুল গুলো বাতাসে উড়ছে, ঠিক সেই সময় নীতুর সামনে দিয়ে একটি নীল রঙের একটা পাখি উড়ে যাচ্ছে , পাখিটির নাম কি তা নীতু জানে না , না এর আগে কখনো দেখেছে খুব সুন্দর পাখি ।
সাইকেল চালাতে চালাতে বাজার এর রাস্তা পেরিয়ে একটা চায়ের দোকানের পাশ দিয়ে বাড়ির উদ্দ্যেশে যাচ্ছিল নীতু ..
সেই সময় কেউ ডেকে উঠলো
ধ্বংসবতী.................
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, চলবে ?,,,,,,,,,,,,,,,,