#আমি_সেই_নীতু
#পর্ব_২৫
#আনাবিয়া_বৃষ্টি
__ আমি ঠিক আছি , আমার কিছু হয়নি , আমায় ছাড়ুন সবাই দেখছে লাল ভাই ..........
সে নীতুকে ছেড়ে দেয়।সবার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে নীতুকে বলে ,
ফাইয়াজ : এমন বোকার মত কাজ কেউ করে নীল ? যদি তোর কিছু হয়ে যেতো ? কে বলেছে আমাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন দিতে? বেশি সাহস বেড়েছে তোর তাই না ?
নীতু কিছু বলতে যাবে তার আগেই ....
ফুয়াদ : তুমি ঠিক আছো বউ ? দেখি কোথায় লেগেছে ? মুখের কি অবস্থা (গেলে হাত দিয়ে )
ফাইয়াজ : ফুয়াদ ..... (ধমক দিয়ে)
নীতু : আমি একদম ঠিক আছি , আমার কিছু হয়নি , আর সবার সামনে আমায় বউ বলছেন কেনো ? সবাই তাকিয়ে আছে দেখুন (বাকিদের দিকে ইশারা দিয়ে )
[🌷বিঃদ্রঃ আপনারা অবশেষে জেনেই গেলেন , হ্যাঁ এই নীলাঞ্জনা মেয়েটি আর কেউ নয় আপনাদের সেই নীতু , নীতু এখন একজন( criminal investigation department) অফিসার ( যাকে আমারা CID পরিচয়ে চিনে থাকি, CID হলো অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষ শাখা। এটি বাংলাদেশ পুলিশের অন্যতম প্রাচীন ও বিশেষায়িত বিভাগ। এটি সন্ত্রাসবাদ, খুন এবং সংগঠিত অপরাধের তদন্ত করে থাকে। এছাড়াও প্রয়োজন অনুসারে ফরেনসিক সাহায্যও দিয়ে থাকে। শান্তিকালীন এবং যুদ্ধকালীন সময়ে সিআইডি সেনাবাহিনীকে সহায়তা করে। সেনাবাহিনী সিআইডি তার প্রাথমিক তদন্তমূলক দায়িত্ব পালন করে, একই সাথে আকস্মিক অভিযান এবং যুদ্ধক্ষেত্রের মিশন পরিচালনা করে। স্থাপনা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে সিআইডির মিশন একই রকম।) আর এখন সে নীলাঞ্জনা চৌধুরী (নতুন পরিচয়) । আর আপনাদের শাহমীর ফাইয়াজ চৌধুরী একজন (criminal investigation department) হেড (ADG - Additional Director General ) লেখিকার পছন্দের মানুষ মানে 😁 মাহতাব ফুয়াদ চৌধুরী (IG - inspector general) 🌷]
ফুয়াদ : সরি মিস , যখন এই বুড়ো থাকবে না তখন বউ বলব (নীতুকে চোখ মেরে ফিসফিস করে বলে )
ফাইয়াজ : কিছু বললি ?
ফুয়াদ : আমরা এখন ডিউটিতে আছি স্যার পার্সোনাল কোনো কথা হবে না , এটা আপনারই রুলস স্যার (গম্ভীর ভাব নিয়ে )
ফাইয়াজ : বাড়ি চল তোদের দেখছি পরে , বোম ব্লাস্ট হলো কি করে নীল ? (রাগি কণ্ঠে)
নীতু : আসলে আমি বোম ডিজিউজ করতে গিয়েছিলাম , ডিফিউজ করতে পারছিলাম না আর সময় ও ছিল না , তাই আমি ওই ঘরের পিছনের দরজা দিয়ে বাহিরে চলে যাই , বোমকে দূরে ছুঁড়ে মারি , বোম দূরে গিয়ে ব্লাস্ট হয় কিন্তু সেখানে একটা বিদ্যুতিক তার এই বাড়ির সাথে যুক্ত ছিল তাই এই বাড়িতে আগুন লেগে যায় , আমি সেখান থেকে দৌড়ে চলে আসি , এসে আপনাদের দেখি ...
ফাইয়াজ : গ্রেট জব নীল..আমরা তোর ওপর গর্ব বোধ করছি আমাদের ডিপার্টমেন্টে তুই আছিস .. তোর কোথায় লাগেনি তো ?
নীতু : আমি একদম ঠিক আছি , "ধন্যবাদ"আমাকে আপনাদের সাথে যুক্ত করার জন্য ....
ঠিক সেই সময় দর্শুর দল চলে আসে, এই দল নারী পাচার কারীর সাথে যুক্ত , কেও এই দলকে ধরতে পারছিল না তাই পুলিশের হাত থেকে হ্যান্ডোভার হয়ে শাহমীর ভাইয়ের হাতে এসেছে । গত এক সপ্তাহ যাবৎ তারা এই দলের সাথে লড়াই করছে , পাচার কারীর চক্রটি অনেক বড় , পাচার কারীর লোক গুলো নিতুদের ফোর্স দেখে পালাতে শুরু করে, তারা সবাই দর্শুদের পিছু নেয়, তাদের সাথে নিতুদের হাড্ডা হাড্ডি লড়াই চলে অবশেষে নীতুরা তাদের সকলকে ধরতে সফল হয়, তবে এদের ধরে যা জানতে পারল এই চক্র বিশাল বড় , এরা পাচার কারীর চক্রটির ছোট একটি অংশ মাত্র , এদের ওপরে কে বা কারা আছে তা তারা জানে না , তাদের নিয়ে গিয়ে পুলিশদের হাতে তুলে দেয়া হয়।নীতুরা সবাই যে যার মতো অফিস্যাল কাজ শেষ করে এক সপ্তাহ পর বাড়ি ফিরে।
__________________
জানালার পাশে চেয়ারে বসে হাঁটুতে ডায়রী নিয়ে আজকের ঘটনা গুলো লিখছে নীতু , এই লেখা লেখির স্বভাবটা তার শাহমীর এর থেকে পাওয়া , আজকের ঘটনা লিখে একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে..... নীতু সেই দিনের কথা ভাবতে শুরু করে যেদিন গ্রাম থেকে পালিয়ে ঢাকার মত শহরে পা রাখে , ফুয়াদ তার জীবন বাঁচান , শাহমীর ভাইয়ের বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং সে সেখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর যখন ফুয়াদ এর সাথে কথা কাটা কাটি হয় সেই মুহূর্ত
৬ বছর আগের ঘটনা ................
ফুয়াদ : তোমার লাল ভাইকেও না ??
নীতু লোকটির মুখে লাল ভাইয়ের নাম শুনে অবাক হয়ে যায় , এই লোক লাল ভাইকে কি করে চিনে ?নীতু লোকটিকে জিজ্ঞেস করি
নীতু : লাল ভাইজানরে কেমনে চিনেন ? (কৌতুহল হয়ে )
ফুয়াদ : চিনি ,চিনি আমি সবাইকে চিনি , তোমার নাম ও আমি জানি বউ (দাঁত ৩২ টা বের করে )
নীতু : আপনি কি আমার লগে মজা লইতাছেন?
ফুয়াদ : মজা কেনো নিবো ? আমি সত্যি তোমাদের চিনি , (ইনোসেন্ট ভাব নিয়ে)
নীতু : কেমনে ? আর আপনে আমায় সেই কহন থেইকা আমায় বউ বউ কেন করতাছেন? কে আপনে ?
ফুয়াদ : তুমি আমায় ভুলে গেলেও আমি তো তোমায় ভুলি নি বোকাফুল , আচ্ছা তাহলে তোমায় মনে করাই , ছোট বেলায় তোমার পুতুল বর কে হতো ? আমি ই তো হতাম ভুলে গেলে ?
নীতু : পুতুল বর? ( ভাবনায় পড়ে )
ফুয়াদ : হ্যাঁ , আমি ঢাকা থেকে তোমাদের গ্রামে গেলে তুমি বায়না ধরতে আমায় তোমার পুতুল বর হতে হবে , আমায় তোমার পাশে জোড় করে বসিয়ে রাখতে , আর বলতে ফুয়া ভাই আপনি আমার পুতুল বর , নেন খাইয়া লন , তোমার ফোকলা দাঁত, তোতলানো কথার কারণে আমার নাম নিতে পারতে না, কি মিষ্টি ছিল তোমার দাঁত গুলো , সামনের ২ টা দাঁত ছিল না হাহাহাহাহা ( হাসিতে ফেটে পড়ে)
নীতু এবার ইনাকে চিনতে পেরেছে হ্যাঁ ছোটবেলায় ফুয়াদ এর নাম নীতু ঠিক ভাবে বলতে পারত না,নীতু তো শাহমীর ভাইয়ের নাম ও বলতে পারত না , কি কঠিন নাম রে বাবা 🫤 তাইতো লাল ভাই বলে , লাল নাম টাই সহজ , আর শাহমীর ভাই রাগলে তার নাক লাল হয়ে যেতো ,,,, ছোট বেলায় যখন ফুয়াদ ভাই আসতেন নীতুর সাথে পুতুল বর খেলতেন ।
নীতু : আপনি লাল ভাইয়ের চাচাতো ভাই তাই না ?
ফুয়াদ : হ্যাঁ যাক চিনতে পারলে তাহলে হুহ্
নীতু : কিন্তু আপনে মিথ্যা কথা কইলেন কেন? আমি আপনারে আমার পুতুল বর বানানোর লাইগা বায়না ধরতাম ? আপনিই তো জোর পূর্বক আমার লগে বইতেন বর সাজার লাইগা , না নিলে আমার পুতুলের চুল ছিরা ফেলাইতেন (সরু চোখে তাকিয়ে)
ফুয়াদ : আচ্ছা তাই নাকি? আমার তো মনে নেই !! তবে আমি এখন বড় হয়ে গেছি তার ওপর ভালো মানুষ । আমি এখন তোমার পুতুলের চুল ছিঁড়বো না কথা দিলাম , ছিঁড়লে তোমার লাল ভাইয়ের ছিঁড়বো (চোখ মেরে)
নীতু : আপনে কি আগের মত এহোনো পাগল ?
ফুয়াদ : পাগল আর হলাম কই ?তবে এবার হব , চলো বুড়ো অপেক্ষা করছে !! চিন্তা করছে খুব , তোমায় না নিয়ে গেলে আমায় গুলি মেরে খুলি উড়িয়ে দিবে ( ঠোঁট উল্টে )
নীতু : বুড়ো আবার কে? আচ্ছা লাল ভাই কোই ? আমার তারে খুব প্রয়োজন (কান্না ভেজা চোখ)
ফুয়াদ : বুড়ো তোমার লাল ভাই , চলো তোমায় নিয়ে যাই, অনেক কিছু জানার আছে , আর তোমার অবস্থা তো বেশি ভালো না চলো চলো বউ .....
তারা লাল ভাইয়ের সেই রাজপ্রাসাদের মত বাড়িতে যায়,তাকে যে ঘরে রাখা ছিল সেই ঘরে তাকে ফুয়াদ নিয়ে যায় , দরজা খুলতেই লাল ভাইকে পিছনের দিকটা দেখতে পায় নীতু ...কেনো যেনো লাল ভাইকে দেখে ভিতর থেকে দুমড়ে মুচড়ে কান্নারা দল বেঁধে বেরিয়ে আসছে তার , লাল ভাই দরজার শব্দে পিছনে ফিরতেই সে দৌড়ে গিয়ে লাল ভাইকে জড়িয়ে ধরে, আর বলে...
লাল ভাই ওরা....... ওরা আমার .................
,,,,,,,,,,,,,,,,,, চলবে ? ,,,,,,,,,,,,,,,,,,