#আমি_সেই_নীতু
#পর্ব_৫০
#আনাবিয়া_বৃষ্টি
পুরনো জমিদার বাড়ির পাতালঘরে ফাইজুল এবং তার না*রী পা*চা*র*কা*রী সকল সদস্য মিটিং করছেন। এখানে দেশ বিদেশের সকল নেতা, বিজনেসম্যান রয়েছে । বড় চাচা , মেজ চাচা এরাও রয়েছে। ফাইজুল পায়ের উপর পা তুলে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে চেয়ারে বসে পড়ে।
__ আজ সবাই আছে ভালো লাগছে । তবে ফুপা থাকলে আরও ভালো হতো কে মেরেছে এখনো জানা যায়নি । আসা করছি যত দ্রুত জেনে যাবো । আমাদের গত বার নারী পা*চা*র কাজে বেশি প্রফিট হয়েছে। (ফাইজুল )
__ আমাদের আরো কিছু মেয়ে লাগবে ফাইজুল (নেতা )
__ সেটা জোগাড় করে দিবো , তবে আমাদের ভাবতে হবে আমাদের পিছনে কারা লেগেছে ? কোন প্রশাসনের লোক হলে তো আপনারা জানতে পারতেন তাই না মন্ত্রী সাহেব ?
__ অবশ্যই
__ আমার ধারণা এটা শাহমীর এর কাজ ।
__ শাহমীর তো আপনার ফুফাতো ভাই তাই না ? (বিজনেসম্যান)
__ হ্যাঁ তার সাথে আমার শত্রু আমার ভালোবাসার মানুষকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। (রাগি কন্ঠে)
__ আপনি এত মানুষকে মে*রে ফেলেছেন তাহলে ওকে মা*র*তে পারছেন না কেন ?
__ মারার চেষ্টা করেছিলাম বেটা মরে নাই। এবার এমন প্ল্যান করেছি এবার আর বাঁচবে না।
এই দিকে কালো পোশাক পরিধান করা পাঁচ জন লোক পাতাল ঘরে কাছে চলে আসে ... তাদের মুখ দেখা যাচ্ছে না ... হাতে তাদের বন্দুক । একজন তাদের ইশারা করে সামনে আগাতে বলে । তার পিছু পিছু বাকিরা চলছে .. পাতাল ঘরের বাহিরে অনেক পাহারাদার । তারা একজন একজন করে সবাইকে ঘাড় ঘুরিয়ে মেরে ফেলে । ধীরে ধীরে পাতাল ঘরে দরজার সামনে যায় .. একজন পাতাল ঘরের দরজা চাবি দিয়ে খুলে ফেলে ... সামনে থাকা লোকটির বাকিদের আলাদা আলাদা জায়গায় যেতে বলে , এক এক জন এক এক জায়গায় চলে যায় , সামনে থাকা লোকটির ফাইজুলদের মিটিং রুমের সামনে চলে যায় ... পাঁচ জনের সাথে থাকা একটি লোক ফাইজুলদের গুলি ছুড়তে থাকে। মিটিংয়ে থাকার সকল সদস্য ছোটাছুটি করতে থাকে। সেই পাঁচজন সদস্য ও মিটিং রুমে চলে আসে। তারা একে একে সবাইকে গুলি করতে থাকে। সদস্যদের মধ্যে দুজন ছিল মেয়ে। ফাইজুল তার বন্দুক বের করে পাঁচজন সদস্যদের ওপর গুলি ছুড়তে থাকে। ফাইজুলদের লোকেদের সাথে পাঁচজন কালো পোশাকধারী লোকদের সাথে মারামারি শুরু হয়ে যায়। ফাইজুল একাই সবার সাথে ফাইটিং করছে । গোলাগুলি খাওয়াতে তাইজুলের বাবা ও ফাইজুলের মেজ কাকা মারা যায়। সাথে কিছু বিজনেসম্যান ও মন্ত্রীও মারা যায়। একে একে ফাইজুলের সকল সদস্য মারা যায়। পাঁচজন পোশাক ধারণ করা লোকেদের মধ্যে একজন মেয়ে ফাইজুলের সামনে বন্দুক হাতে নিয়ে দাঁড়ায় । মেয়েটির সাথে ফাইজুলের কিছু লড়াই চলে । লড়াই এর একপর্যায়ে মেয়েটির মুখ থেকে মুখোশ খুলে ফেলে তাইজুল। মেয়েটিকে দেখে ফাইজুল অবাক হয়ে যায়। আর বলে ওঠে;
__ ধবংসবতী ........
এই পাঁচজন কালো পোশাক পরা লোক গুলো আর কেউ নয় শাহমীর, ফুয়াদ , আসমান, নীতু আর মারিয়াম । নীতু ফাইজুলের সামনে দাঁড়িয়ে বলে আজ শেষ তোমাদের খেলা। আজ তোমার পাপের রাজত্ব শেষ। আজ হাজারো মায়ের আহাজারির অবসান ঘটবে। আর কোন মায়ের বুক খালি হবে না। ফাইজুল নিতুর দিকে তাকিয়ে ছিল।
ফাইজুলের পুরো শরীর থেকে রক্ত ঝরে ঝরে পড়ছে। ফাইজুল বলে ;
__ আমি জানি আমার ধ্বংস তোর হাতেই ছিল নিতু। আমি এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম। অপেক্ষা করছিলাম কখন আমার পাপের রাজত্ব শেষ হবে । আমি তোকে পাইনি তাতে কি হয়েছে আমি তোর হাতে মরতে পারবো এটাই আমার কাছে অনেক। ভালোবেসেছি তোকে। এতটাই ভালবেসেছি তোর জন্য জীবন দিতেও পারি তোর জন্য জীবন নিতেও পারি। আজ আমি ম*রে গেলে আমার কোন আফসোস থাকবে না। তবে শান্তি পাবো তোর হাতে মরতে পারবো ।
সেই সময় কোথা থেকে ফাইজুলের একটি লোক মৃত্যুর গায়ে গুলি ছুড়ে। ফাইজুল নিতুকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে, সেইগুলি নিজের বুকে নিয়ে নেয়। ফাইজুল তার হাতে থাকা বন্দুক দিয়ে সেই লোকটিকে মাথা বরাবর গু*লি করে। আর বলে আমি বেঁচে থাকতে আমার নিতুর গায়ে একটা আচ আসতে দিবো না । লোকটি সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। গুলিটি সম্পূর্ণ ফাজিলের বুকে গিয়ে লাগে। ফাইজুল মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ফাইজুল বলে, আমি তোকে খুব ভালোবাসি নীতু ... একটিবারের জন্য তোর বুকে আমাকে ঠাই দিবি? মরেও শান্তি পাবো রে !! দিবি থাই ? আজি তো আমাদের শেষ দেখা আর কখনো দেখা হবে না দে না থাই একটিবারের জন্য !! ফাইজুলের দিকে নিতু একটিবারের জন্য তাকাইনি, নিতুর মনে কষ্ট হচ্ছে কিনা তাও জানা নেই। ফাইজুল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে করতে বলে
বন্ধু
তোর
চোখে
ধ্বংসরা
খেলা
করে !!
পুনর্জন্ম বলতে যদি কিছু হয় আমি আবারো তোমার প্রেমে পড়বো ধ্বংসবতী। এই কথা বলে ফাইজুল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সেখানেই মারা যায়। নিতুর চোখ অশ্রু জলে ভেসে যায়। নিতু তার চোখের পানি ধরে রাখতে পারছে না। বারবার চোখের পানি মুছে যাচ্ছে। শাহমীর ভাই নিতুকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছে । ফুয়াদ ভাই এসে বলে ,অবশেষে পাপের অবসান ঘটলো।
মারিয়াম বলে ওঠে; ফাইজুল সত্যি নিতুকে খুব বেশি ভালোবাস। এতটাই ভালোবাসতো দেখো নিতুর জন্য নিজের জীবন দিয়ে দিল। আচ্ছা নিতু আপু একটিবারের জন্য কি তাকে বুকে ঠাঁই দিতে পারতে না? নিঃশ্বাস কি তোমার কোলে ত্যাগ করতে পারত না ?
আসমান তার বন্ধুর জন্য চোখে পানি নিয়ে বলে, হয়তো ফাইজুল অনেক খারাপ একজন পাপিষ্ঠ পুরুষ তবে বন্ধু হিসাবে ১০০% খাঁটি ছিল। আর প্রেমিক পুরুষ হিসেবে তার কোন তুলনাই নেই। পরপারে ভালো থাকিস ফাইজুল । বন্ধু হিসেবে তোর জন্য কিছুই করতে পারলাম না।
শাহমীর নিতু কে ছেড়ে ফাইজুলের কাছে গিয়ে হাটু গেড়ে বসে, ফাইজুলের দুচোখ বন্ধ করে দেয়। শাহমীর বলে ; তুই পাপিষ্ঠ পুরুষ না হলে আমি আমার ভালোবাসার মানুষটাকে পেতাম। পেতাম না আমার পদ্মফুলকে। পরপারে ভালো থাকিস।
তারা পাঁচ জন বের হয়ে যায় ... যাওয়ার সময় বাড়িটিতে আগুন লাগিয়ে যায়।
সকাল হতে হতে জমিদার বাড়িতে মানুষের ভিড় বসে যায় । বাড়ি চারিপাশে পুলিশের আনাগোনা। ওপর মহল থেকে শাহমীরদের জানানো হয় রসুলপুর গ্রামের জমিদার বাড়িতে অনেকগুলো লাশ পাওয়া গেছে। তাদের সেখানে তদন্ত করতে পাঠায়। ( কি এক অবস্থা বলুন চোরের কাছে চুরির খবর বলে 😁) তাদের টিম নিয়ে জমিদার বাড়িতে চলে আসে । খুঁজতে থাকে । প্রমাণ পাবে কি করে ? শাহামীর যত কোন প্রমাণ রাখেন ।
(ফ্ল্যাশব্যাক : নীতু যখন শাহমীরদের প্লান বলে )
__ দেখুন ওরা এমনিতেও অনেক পাওয়ারফুল। আর আমরা চাইলেও কিছু করতে পারবো না। ওদের অনেক বড় বড় হাত আছে নিজেদের রক্ষা করে নিবে। ওদের জেলে পাঠালে ওরা বের হয়ে আসবে সেই একই কাজ বারবার করবে। তবে আমাদের উচিত ওদের একবারে ধ্বংস করে দেওয়া। যেন ওদের পাপের রাজত্ব সারা জীবনের জন্য ধ্বংস হয়ে যায়। তাই আমাদেরও ওদের মতো করেই কাজ করতে হবে। ওরা যেমন লুকিয়ে সব কাজ করে তেমন আমরাও লুকিয়ে ওদের ধ্বংস করব। প্রমাণ সহকারে ওদের যদি কোর্টে তোলা হয়। মন্ত্রীদের হাত ধরে ওরা বের হয়ে আসবে। আর যদি ওদের একবারে শেষ দেয়া হয় তাহলে কেমন হয় ? (নীতু )
__ কি করে ?( মারিয়াম )
__ আমরা আমাদের টিম নিয়ে নয় বরং আমরাই ওদের ধ্বংস করব। আমরা যদি টিম না নিয়ে নিজেরাই ওদের ধ্বংস করি তাহলে কোন প্রমাণ থাকবে না। শুনেছি কাল ওদের মিটিংয়ে সবাই থাকবে। আমাদের হাতে এই সুযোগ সবাইকে একসাথে ধ্বংস করা।
শাহমীর নীতুর কথা বুঝতে পারে নীতু কি বলতে চেয়েছে ... শাহমীর রাজি হয়ে যায় , পড়ে শাহমীর কিভাবে কি করবে সবাইকে বুঝিয়ে দেয় .. সবাই এই প্ল্যানের সাথে সহমত হয়।
এদিকে ফাইজুলদের সকল তথ্য প্রমাণ কোর্টে তোলা হয়। ফাইজুলদের সকল জায়গা বন্ধ করে দেয়া হয় । অবশেষে ফাইজুলদের পাপের রাজত্ব ধ্বংস হয় ।
___________________
কেটে যায় অনেক গুলো মাস ,
নীতু উদাস নয়নে জানলার ওই পাড়ে মুখ করে চেয়ে আছে। পিছন থেকে কেউ একজন নীতুকে জড়িয়ে ধরে নীতুর ঘাড়ে মুখ গুজে । নীতুর বুঝতে বাকি নেই কে জড়িয়ে ধরেছে । নীতু বলে ;
__ কি হয়েছে লাল বাঁদরের?
__ আমার কিছু হয়নি , তোমার কি হয়েছে সেটা বলো ।
__ কিছু হয়নি ভাবছি বাবা এখন অনেকটাই সুস্থ বাড়িতে নিয়ে আসলে কেমন হয় ?
__ আমিও তাই ভাবছিলাম। তা না হয় মামাকে নিয়ে আসবো , তবে এখন যে আমার প্রেম প্রেম পাচ্ছে !!
__ আচ্ছা আপনি এত নির্লজ্জ কবে থেকে হলেন বলেন তো ?
__ যবে থেকে বউ আমাকে স্বামীর স্বীকৃতি দিয়েছে সেদিন থেকে .......
__ বাহ ভালো তো..... তবে আপনাকে হাসলেই বেশি সুন্দর লাগে।
__ একটা কথা বলার ছিল বলব ?
__ বল.......
__আমায় বছর খানেকের জন্য বিদেশ যেতে হবে, ভিনদেশে যুদ্ধ হচ্ছে সেখানে আমাদের ডাক পড়েছে ... যেতে হবে। যতদিন না যুদ্ধ শেষ হচ্ছে আসতে পারবো না।
__ আচ্ছা যাও.... আমাদের কাজ মানুষদের রক্ষা করা.... অন্যায়ের বিরুদ্ধে লরা। তুমি যাও, আমি এদিকটা সামনে নেব।
__ আমাদের বাচ্চার কি হবে ?
__বাচ্চাকে সামনে নি ....
__ আমাদের প্রথম বেবি আমি চেয়েছিলাম তোমার পাশে থাকতে।
__ সমস্যা নেই দ্বিতীয় বেবি যখন হবে তখন থাকবে ... (মুচকি হেসে)
__ তাই না দুষ্টু !!!!
নীতু সামনে ঘুরে শাহমীরের গালে আলতো করে ছুয়ে কপালে চুমু দিয়ে বলে;
__ নিজের খেয়াল রেখো। আমাদের বাচ্চা তোমার জন্য অপেক্ষা করবে ....
__ ঠিক আছে, তুমি তোমার যত্ন নিবে , আমি মারিয়াম আর ফুয়াদকে বলে দিয়েছি ... ঘরে কোন কাজ করবে না। বাড়িতে এতগুলো লোক আছে তারা সামনে নেবে। কোথাও বিপদের কথা শুনলে দৌড়ে চলে যেওনা।
__ কখন যাবে ?
__ কাল সকালে .....
সকালে .........
শাহমীর নীতুর কপালে চুমু দিয়ে বলে; আসছি নিজের খেয়াল রেখো সাথে আমার বাচ্চার । নীতু মুচকি হাসি দিয়ে মাথা নেড়ে সম্মতি জানায় .... শাহমীর গাড়িতে উঠে চলে যায় ....... নীতু শাহমীরের যাওয়ার পানে তাকিয়ে থাকে । শাহমীর গাড়ি ঘুরিয়ে আবার নিতুর কাছে এসে থামে। গাড়ি থেকে বের হয়ে নিতুকে জড়িয়ে ধরে বলে; দেশে ফিরে এসে যেন দেখি শাহমীর ফাইয়াজ চৌধুরীর ছেলে শেরহাম ফাহাদ চৌধুরী বাড়ি মাতিয়ে রেখেছে......
চলবে ..........