ফন্ট সাইজ:
থিম:
জেহের এ ইস্ক

১১তম পর্ব

লেখক: সানজিদা বিনতে সফি

#জেহের_এ_ইস্ক ১১

#সানজিদা_বিনতে_সফি

জমিদার বাড়ির বাগান পেরিয়েই শান বাধানো পুকুর৷ এই গভীর রাতে রূপকথা সেই পুকুরে মৃত লাশের মতো ভেসে আছে৷ পরনে তার সাদা শাড়ি৷ এই সাদা শাড়ি তো বিধবাদের পোশাক বলে প্রচলিত। কিন্তু রূপকথার বিধবা সাজে ভীষণ আপত্তি। মানুষ মরে, ভালোবাসা মরে যায় না, স্মৃতি মরে যায় না৷ স্মৃতিতে বেঁচে থাকা মানুষ টাকে মৃত ঘোষণা করে বৈধব্য কেন গ্রহণ করবে সে?

অতীত,

রূপকথা তখন সদ্য কৈশোরে পা দিয়েছে। সাভারের এক গ্রাম এলাকায় তার বাবা স্কুল শিক্ষক হিসেবে আছে বহু বছর ধরে। সেখানেই এক টুকরো জমি কিনে বসতভিটা করেছে তার বাবা।

রূপকথা মাত্র ক্লাস সেভেনে উঠেছে। স্কুল শুরু হওয়ার পর থেকেই রোজ সকালে নিয়ম করে স্কুলে যায় সে। সাভারের এই সাইটে একটা বিশাল বড়ো জুতার ফ্যাক্টরি হয়েছে। ফ্যাক্টরি শুরু হলেই বহু মানুষের কাজের ব্যবস্থা হবে সেখানে। ফ্যাক্টরির তদারকির দায়িত্বে আছে সাদমান শেখ।

রূপকথার স্কুলের পথেই পড়ে ফ্যাক্টরি।

রোজ সকালে সাদা স্কুল ইউনিফর্মটা গায়ে চাপিয়ে, দুই বিনুনি দুলিয়ে হেলেদুলে স্কুলে যেত রূপকথা। বয়সটাই তখন এমন। চোখে একরাশ রঙিন স্বপ্ন আর মনে রাজ্য জয়ের আনন্দ। আর তার পথের ঠিক মাঝপথেই দাঁড়ানো ওই চারদেওয়ালের নতুন দানবটা৷ এসএস গ্রুপের সেই বিশাল জুতার ফ্যাক্টরি।

ফ্যাক্টরির কাজ তখন পুরোদমে চলছে। ইট, বালু, আর রডের ভিড়ে বেশ কিছু চকচকে দামি গাড়ি প্রায়ই এসে থামত সেখানে। আর সেই বিশাল কর্মযজ্ঞের মধ্যমণি হয়ে হুকুম চালিয়ে বেড়াত এক যুবক। নাম তার সাদমান শেখ।

সাদমান ছিল দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, স্বভাবটা তেমনি উগ্র ও অহংকারী। বাবা আর ভাইয়ের অগাধ টাকা আর ক্ষমতার দাপটে সবাইকেই সে পুতুল ভাবত। ধুলোবালি ও শ্রমিকের ঘামে ভরা কাজের মাঝেও ধোপদুরস্ত শার্ট আর চোখে কালো সানগ্লাস এঁটে ঘুরে বেড়ানো সাদমানের নজর একদিন গিয়ে পড়ল সেই পথ দিয়ে হেঁটে যাওয়া চঞ্চল মেয়েটার ওপর।

রূপকথা তখন কেবলই নিষ্পাপ এক কিশোরী। প্রতিদিন সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে সে অনুভব করত ফ্যাক্টরির তিনতলার বারান্দা থেকে এক জোড়া নোংরা দৃষ্টি তাকে তাড়া করে ফিরছে। কিন্তু সাদমান শেখ যে কত বড় দানব, তা তখন রূপকথার ওই সরল মনের কল্পনারও বাইরে ছিল।

একদিন হঠাৎ বৃষ্টি নামায় রূপকথা আর তার বান্ধবী ফ্যাক্টরির সামনের এক বটতলায় এসে দাঁড়ায়। ছাতা না থাকায় ভিজতে থাকা রূপকথার চোখের সামনে দিয়ে চলে যায় এক চকচকে কালো পাজেরো। বটতলা থেকে কয়েক হাত দূরে ফ্যাক্টরির সামনে গিয়ে দাঁড়ায় সেই গাড়ি। রূপকথা আগ্রহ ভরা চোখ নিয়ে তাকিয়ে। কয়েক সেকেন্ড পরেই গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে আসে এক সুদর্শন পুরুষ। রূপকথার ছোট্ট মন এক মুহুর্তের জন্য থমকে যায়। একেই বুঝি বলে কল্পনার রাজপুত্র!

সেই সুদর্শন পুরুষ টি আর কেউ নয়, জমিদারের মেজো ছেলে শেহরোজ শেখ। তার জীবনের ধ্বংসের সূচিপত্র লেখা এক অমানুষ।

হুট করে পানির ঝাপটায় অতীত থেকে বাস্তবে ফিরে আসে রূপকথা। কেউ হয়তো জলে ঝাপ দিয়েছে।

কিন্তু এতো রাতে কে আসবে এখানে?

রূপকথার ভাবনার মাঝেই দুটো হাত তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো নিজের সাথে। ক্রমশ নিয়ে চলল পাড়ের দিকে। রূপকথা প্রতিক্রিয়া দেখানোর ও সুযোগ পেলো না৷

শেহরোজ কোলে করে পাড়ে তুললো রূপকথা কে। টানাটানির দরুন বেশ পানি ঢুকেছে রূপকথার নাক মুখ দিয়ে। শেহরোজ তাকে শান বাধানো ঘাটের সিঁড়ি তে শোয়াতেই সে কাশতে শুরু করলো। শেহরোজ হাপাচ্ছে। সে রেগে কিছু বলবে৷ তার আগেই তার চোখ গেল রূপকথার দিকে। ভালো করে থাকাতেই থমকে গেল সে। নিঃশ্বাস আটকে গেল, হৃৎস্পন্দন মিস করে গেল কয়েকটা। বুকের ভেতর টা বিদ্রোহ শুরু করলো তার।

রূপকথা নিজেকে সামলে রেগে তাকালো শেহরোজের দিকে। শেহরোজের এমন হতভম্ব দৃষ্টি দেখে কপাল কুচকালো সে। সে দাতে দাত চেপে বলল,

“এমন দুশ্চরিত্রের মতো তাকিয়ে আছেন কেন? জীবনে মেয়ে দেখেন নি?”

শেহরোজ বিদ্যুৎ গতিতে জড়িয়ে ধরলো রূপকথা কে। তার শক্ত বাহুবন্ধনী তে আবদ্ধ হয়ে রূপকথার মনে হলো এক্ষুণি তাকে বুকের ভেতর ঢুকিয়ে ফেলবে লোকটা৷ রূপকথার দম বন্ধ হয়ে এলো। হাসফাস করতে করতে সে ছটফট করতে লাগলো ছোটার জন্য। শেহরোজের চোখ ছলছল করছে। সে বিরবির করে কিছু একটা বলে চলেছে বারবার৷

রূপকথা গলা ছেড়ে চিৎকার করছে। নির্দিধায় ভয়ংকর ভয়ংকর গালি দিয়ে চলেছে শেহরোজ কে৷

“বদমায়েশের বাচ্চা, ছাড় আমাকে। মেয়ে মানুষ দেখলেই ছোয়ার জন্য হাত নিশপিশ করে? আমি তোর ওই বদমায়েশি হাত কেটে কুত্তা দিয়ে খাওয়াবো।”

শেহরোজ রূপকথা কে ছেড়ে দিল৷ একটু দূরে সরে নিজের কপালে লেপ্টে থাকা ভেজা চুল গুলো পেছনে ঠেলে দিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,

“মাথা আর চোপা, দুইটাই তো সুস্থ আছে দেখছি। তাহলে মরতে গিয়েছিলে কেন? আমাকে মার্ডার কেসে ফাঁসাতে চাও?”

রূপকথা খ্যাঁক করে বলল,

“মরতে যাবো কোন দুঃখে? আমি তো গোসল করছিলাম! আপনি ই তো এসে মাঝখান থেকে জাপটা জাপটি করে ব্যাপার টা অশ্লীল করে ফেললেন৷ শুনুন বদমাশ জমিদার, আপনি দ্রুত বিয়ে করুন৷ আপনার কুড়কুড়ানি ভয়ংকর ভাবে বাড়ছে৷ ভাদ্র মাসের কুত্তার মতো যাকে তাকে কামড়াতে আসা কোন ভদ্রলোক কাজ নয়। যত্তসব!”

শেহরোজ শান্ত চোখে তাকিয়ে গমগমে গলায় বলল,

“আর একটা বাজে কথা বললে জীভ কেটে ফেলবো। এন্ড আই মিন ইট।”

রূপকথা উঠে দাড়ালো। শেহরোজের দিকে তাচ্ছিল্যের চোখে তাকিয়ে বলল,

“তাতে আমার চুল ছেড়া গেল।”

“ইয়্যু,,,”

শেহরোজ কিছু বলার আগেই রূপকথা হনহন করে চলে গেছে। নাহ, এই মেয়ে কিছুতেই “সে” হতে পারে না! কোথায় শান্তশিষ্ট একটা মোলায়েম পরী। আর কোথায় এই অসভ্য, বেয়াদব,চোপাখোর মেয়ে? শেহরোজের বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখা পুরনো ক্ষতটা পুনরায় তাজা হয়ে উঠেলো আজ। এই যন্ত্রণা যে সহ্য করার মতো নয়!

শেহরোজ উঠে দাড়ালো। ভাই বিয়োগের যন্ত্রণার সাথে আবার সেই পুরনো ক্ষতটা ও আজ তাজা হয়ে উঠেছে।

ভেজা গায়ে মন্থর পায়ে ঘরে ফিরে এল রূপকথা। পুরো শরীর শীতে আর ঘৃণায় কাঁপছে। দরজাটা ভেতর থেকে আটকে দিয়ে সে ভেজা শাড়িটা একপাশে ছুঁড়ে ফেলল। শেহরোজের ছোঁয়া লাগা জায়গাগুলো তো তোয়ালে দিয়ে ঘষে ঘষে একদম লাল করে ফেলল সে।

রূপকথার চোখ দুটো জ্বলে উঠল প্রতিশোধের আগুন! যে রূপকথাকে তারা একসময় অবলীলায় ধ্বংস করে দিয়েছিল, যে রূপকথার স্বজনদের রক্তে ওদের হাত রঞ্জিত, আজ সেই রূপকথাই অন্য এক রূপ নিয়ে শেহরোজের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। শেহরোজ চিনতে পারছে না, কারণ এই রূপকথার মুখটা যে আর আগের মতো নেই।

স্টোর রুমে রাখা ভাঙ্গা আয়নাটার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় রূপকথা। নিজের মুখটায় আঙ্গুল বুলিয়ে তপ্ত শ্বাস ফেলে সে৷ জীবনের সাথে সাথে মুখটাও যে বদলে গেছে তার। তার জীবনে এখন আর এসব সস্তা আবেগের কোন দাম নেই। আছে শুধু একরাশ ঘৃণা আর আক্রোশ।

অপরদিকে, পুকুর পাড়ে বসে থাকা শেহরোজের মাথার রগগুলো যন্ত্রণায় ছিঁড়ে যাওয়ার উপক্রম। সে ধীর পায়ে নিজের রুমে ফিরে এসে সে ভেজা কাপড় না বদলে সোজা বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়াল। ডার্ক চকলেট রঙের সিগারটা ধরিয়ে লম্বা টান দিল সে। ধোঁয়া বাতাসে মিলিয়ে যেতেই আবার সেই পুরনো স্মৃতিগুলো তার মাথায় জট পাকাতে শুরু করল। কল্পনার ক্যানভাসে ভেসে উঠলো একজোড়া নিষ্পাপ চোখ!

শেহরোজ চোখ বন্ধ করে ফেললো। সে ভাবতে চায় না৷ দুই দিনের দেখায় কি কেউ মনে জায়গা করে নিতে পারে? একদমই নয়৷ কিন্তু তবুও মেয়েটা মাঝে মাঝে ই তার কল্পনায় এসে ভাবনা গুলো উলট পালট করে দিয়ে যায়৷

শেহরোজ আনমনে মলিন হাসে৷ মেয়েটা নিশ্চয়ই এতোদিনে অনেক বড় হয়ে গেছে? পড়াশোনা করছে? নাকি বিয়ে করে সংসারী হয়েছে?

শেহরোজ ভেজা কাপড়েই বারান্দায় দাঁড়িয়ে রয়৷ পশ্চিমের সুবিশাল আকাশের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বলে,

“পরীদের জীবনে দানবের কোন স্থান থাকা উচিত নয়, লিটল প্রিন্সেস। আমি যে মন্সটার! কিভাবে তোমার ডাকে সাড়া দিতাম বলো?”

শেহরোজ থামে। কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে মলিন স্বরে বলে,

“যেখানেই থাকো, ভালো থেকো মাই লিটল এঞ্জেল। আমার দোয়া সব সময় তোমার সঙ্গে থাকবে।”

অথচ শেহরোজ জানলোই না, তার নাম, তার পরিচয় তার পরীর জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে। নরক করে তুলেছে তার পৃথিবী।

*****

সকাল থেকে একের পর এক মানুষ আসছে জমিদার বাড়ি। বেশিরভাগ ই নেতা গোছের লোক। রূপকথা সকাল থেকেই কপাল কুচকে রেখেছে। কে আসলো, কে গেল, তাতে তার মাথা ব্যথা নেই। কিন্তু সকাল থেকে তাকে পাতিল ভরে ভরে চা নাশতা বানাতে হচ্ছে। মরার বাড়ি এসে এমন গাণ্ডেপিণ্ডে গিলতে হবে কেন! উল্টো আসার সময় হাতে করে গরম গরম নাশতা নিয়ে আসবে, তা না! উল্টো তাকে এখানে চুলার সামনে দাঁড়িয়ে কয়লা হতে হচ্ছে।

রূপকথা মনে মনে গজরাতে থাকে। পরেরবার জমিদারের ক্রিমিনাল গুষ্টির সাথে এই চা খেতে আসা হাভাতের গুষ্টি গুলো কেও সে ইঁদুরের বিষ খাইয়ে মারবে। এতো মেহনত তার দ্বারা সম্ভব নয়। বেঁচে থেকে এরা করবেটাই বা কি?। মানুষের ক্ষতি করা ছাড়া এদের তো আর বিশেষ কোন কাজ নেই! ইসস! গা জ্বলে যায় একেবারে।

চায়ের কাপের শেষ চুমুক দিতে দিতেই চেয়ারম্যান সাহেব শেহরোজের দিকে তাকিয়ে গলার স্বর দু-ধাপ নামিয়ে বলল,

“শেখ সাব, ভাইটার এমন হঠাৎ চলে যাওয়াটা কিন্তু স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। পুলিশি ঝামেলা না হয়, এজন্য চুপচাপ সবটা সামলে নিলাম। সামনেই নির্বাচন। এই সময়ে এই সব নিয়া ঘাটাঘাটি হইলে তো ঝামেলা। তয়, ভেতরের খবর কি কিছু পাইলেন?”

রান্নাঘরের কোণে তখন ট্রের ওপর নতুন এক সেট চায়ের কাপ সাজাচ্ছিল রূপকথা। কান দুটো তার খরগোশের মতো খাড়া। চোখের কোণে এক চিলতে ক্রুর হাসি খেলে গেল তার। ভেতরের খবর? ভেতরটা যে আগেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, সেই খবর তো এই রক্তচোষাদের জানা নেই!

শেহরোজ গম্ভীর গলায় বলল,

“তদন্ত চলছে, চেয়ারম্যান। শেখ পরিবারের গায়ে ধাক্কা দিয়ে কেউ আরামে ঘুমাবে, এই সাধ্য কারও নেই। অপরাধী যে-ই হোক, তার সাজা হবে।”

গলার আওয়াজটা রূপকথার কানে যেন তপ্ত লোহা ঢেলে দিল। অপরাধীর সাজা? কী চমৎকার নীতিবাক্য! যে পরিবার নিজে একটা জলজ্যান্ত মেয়ের জীবন তছনছ করে দিল, তাদের মুখে সাজার কথা বড্ড বেমানান শোনায়। রূপকথার ইচ্ছে হলো নীতিবাক্য ঝাড়া ওই শয়তানটার জীভ টেনে বের করে এসিড দিয়ে ঝলসে দিতে৷ নটকীর বাচ্চা! মেয়ে হইলে ঠিক নামকরা বেশ্যা হইতো হারামজাদা।

রূপকথা ফোঁস করে শ্বাস ফেলে। আজকাল কিছুতেই রাগ আর সামলে রাখতে পারে না সে। চোখের সামনে শয়তান গুলো কে দেখে রক্ত টগবগ করে ফুটতে থাকে সর্বদা৷ ইচ্ছে করে ধর থেকে এক কোপে মাথা গুলো আলাদা করে দিতে।

ট্রে টা হাতে নিয়ে সুশৃঙ্খল কায়দায় বৈঠকি ঘরে প্রবেশ করল রূপকথা। মাথাটা সামান্য নিচু, পরনে অতি সাধারণ একখানা সুতির সেলোয়ার-কামিজ। একদম অনুগত কাজের মেয়ের অভিনয়।

কাপগুলো একে একে টেবিল রাখার সময় রূপকথার হাত সামান্য কেঁপে উঠল শেহরোজের ঠিক সামনে এসে। শেহরোজ আড়চোখে তাকাল রূপকথার দিকে।

রূপকথা আলাভোলা মুখ করে তাকায়। কি নিষ্পাপ তার চাহনি!

শেহরোজ কপাল কুচকায়৷ এই মেয়ে এভাবে তাকাচ্ছে কেন? নাহ! অংক তো কিছুতেই মিলছে না! নিশ্চিত কোন ঘাপলা আছে।

রূপকথা গরম চায়ের কাপ শেহরোজের সামনে ধরলো। পরপর ই সব টুকু চা ঢেলে দিল শেহরোজের কোলের উপর। শেহরোজ নড়লো না। সামান্য আর্তনাদ ও বের হলো না তার মুখ থেকে। তার দৃষ্টি রূপকথার হাতের উপরেই স্থির। আপাত দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে ব্যাপার টা দুর্ঘটনা। কিন্তু শেহরোজ জানে, রূপকথা ইচ্ছে করেই ফেলেছে।

চেয়ারম্যান সাহেব লাফিয়ে উঠেছে। রূপকথা কে কিছু বলতে কি যাবে, শেহরোজের কঠোর দৃষ্টি দেখে চুপ হয়ে গেল সে৷ চেয়ারম্যানের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে শেহরোজ পুনরায় রূপকথার দিকে তাকালো। ঠান্ডা স্বরে বলল,

“ভেতরে যাও।”

রূপকথা মন খারাপ করার ভান করে বলল,

“আহারে! মনে হচ্ছে আপনার ভবিষ্যৎ পুড়ে জখম হয়ে গেছে। আমি কি মলম এনে দেবো?”

“শেহরোজ শেখের ভবিষ্যৎ পোড়ানো এতো সহজ নয় মেয়ে। নিজের কাজে যাও।”

শেহরোজের কণ্ঠ শীতল। রূপকথা মনে মনে মুখ বাকায়। পুড়েছে কি না, তা সে খুব ভালো করেই জানে। টগবগে গরম পানি এনেছে সে। ইসস! যে না এক বদমায়েশ, মেয়েবাজ ভাই ছিল! তার জন্য দুঃখে গলা শুকিয়ে মরছে। নাটক দেখলে গা পিত্তি জ্বলে যায়! এবার নিজের পোড়ায় মলম লাগাতে লাগাতে শোক কর ভালো করে। যত্তসব!

চলবে,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন