#গল্প :শুধু তোমাতেই বাঁচি
#পর্ব ০১
# লেখক: কারিমুন্নাহার রিমি
( পেইজ: Hidden Books lover.)
ঈশান ড্রয়িংরুমের মাঝখানে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছে। তার সামনে বসে আছেন তার বাবা শাহরিয়া সবাই চৌধুরী সাহেব বলে ডাকে আর মা লতিফা বেগম। পরিবেশটা এতটাই থমথমে যে ঘড়ির কাঁটার শব্দও কানে বাজছে।
"বিয়েটা তোমাকে করতেই হবে ঈশান। কথা আমি দিয়ে ফেলেছি," চৌধুরী সাহেব গম্ভীর গলায় বললেন।
ঈশান অবিশ্বাসের সুরে হাসল। "বাবা, তুমি কি আসলেই সিরিয়াস? আমি একজন প্রফেসর সাথে আমি বিসিএস ক্যাডার হিসেবে জয়েন করতে যাচ্ছি আর তোমরা আমার বিয়ে ঠিক করেছ ক্লাস নাইনে পড়া একটা বাচ্চার সাথে? ওর বয়স কত? বড়জোর চৌদ্দ বা পনেরো!"
মা এগিয়ে এসে ঈশানের হাত ধরলেন, "শোন বাবা, মেয়েটার বাবা মারা যাওয়ার সময় তোর বাবার হাত ধরে অনুরোধ করে গেছেন। তাদের পরিবার এখন খুব অসহায়। ওরা ঠিক করে তিনবেলা খেতে পারে না।চাচা একটু আকটু নিজের সামর্থ অনুযায়ী যা পারে তা দেই। আমরা শুধু একটু আশ্রয় দিতে চাইছি।"ঈশান ঝটকা দিয়ে হাত সরিয়ে নিল। তার মাথায় তখন রক্ত চড়ছে।
"আশ্রয় দিতে চাইলে ওকে পড়াশোনা করাও, হোস্টেলে রাখো, আমি খরচ দেব। কিন্তু বিয়ে কেন? আমি কি কোনো ডে-কেয়ার সেন্টার খুলছি যে একটা বাচ্চাকে কোলে তুলে নিয়ে ঘুরব? ওর হাতে তো এখনো মেহেদির বদলে স্কুলের খাতা থাকার কথা!"
"মুখ সামলে কথা বলো ঈশান!" চৌধুরী সাহেব ধমক দিয়ে উঠলেন। "সমাজ-সংসারে সবকিছুর একটা নিয়ম আছে। কালই কাবিন হবে। কোনো আলোচনা আর হবে না।"
ঈশান রেগে কটমটে তাকায়। তারপর বাবাকে বলে, বাবা কাবিনটা কিভাবে হবে? তোমরা যে বাচ্চাটার সাথে বিয়ে দিচ্ছো ওর তো ১৮ বছরই হয়নি! মেয়েটা যদি S.S.C শেষ করতো তাহলে না হয় বিয়েটা মানার একটা উপায় থাকতো। তোমরা অনেক ভালো করে জানো আমার ছোট বাচ্চা একদম পছন্দ না। তুমি কি একবার ও ভেবেছো ওকে বিয়ে করলে আমার জবটা না ও থাকতে পারে?
চৌধুরী সাহেব রেগে বলে, তোমার বাবা আমি। বিয়ে নিয়ে তোমার টেনশন না করলে ও হবে।তা ভাবার জন্য আমি এখনো জীবিত ঈশান চৌধুরী।
ঈশান আর কথা বাড়াল না। রাগে আর অপমানে তার ফর্সা মুখটা লাল হয়ে গেছে। সে হনহন করে ঘর থেকে বেরিয়ে নিজের বাইকটা স্টার্ট দিল দূরে এক ঘন জঙ্গলে গিয়ে বসে আছে।ঈশান এর যখন রাগ বেশি হই তখন এই জঙ্গলে গিয়ে বসে থাকে। প্রকৃতির পরিবেশ তার মাথা ঠান্ডা রাখে। সে জানে, এই বাড়িতে যুক্তির কোনো দাম নেই।
পরদিন কাজি অফিসে পরিবেশটা ছিল একদমই ভিন্ন। ঈশান পাথরের মতো মুখ করে বসে আছে। তার পাশে ছোট্ট একটা মেয়ে— নাম তার তিশা। গায়ের রঙ শ্যামবর্ণ।চেহারাটা মায়াবি। চুল কালো কুচকুচে হাঁটু পর্যন্ত লম্বা। নীল রঙের একটা বিশাল কাতান শাড়ি পরানো হয়েছে তাকে, যা সামলাতে সে হিমশিম খাচ্ছে। শাড়ির আঁচল বারবার মেঝেতে লুটিয়ে পড়ছে। এই শাড়ি জীবনের প্রথম পরেছে তিশা।তাদের এত টাকা – পয়সা ছিলো না। আর এখনতো বাবা নেই। ঠিক করে খাবারই জুটেনা আবার দামী শাড়ি!
কাজি সাহেব যখন তিশাকে সই করতে বললেন, তিশার হাত থরথর করে কাঁপছিল। সে ড্যাবড্যাব করে তার মায়ের দিকে তাকাল। তার চোখে ভয়, ঠিক যেন একটা অসহায় একটা মানুষ। যার কোন কিছু করার ক্ষমতা নেই।
সই করার জন্য তিশা আর ঈশানকে বসানো হলো। ঈশান তিশার দিকে একবার তাকিয়ে দেখেনি। তিশার দুচোখ দিয়ে টুপ টুপ করে নোনা জল গরিয়ে পরছে। সম্পূর্ণভাবে বিয়ে শেষ হওয়ার পর তিশা নিজের মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। সে হয়তো জানেও না 'বউ' হওয়া মানে কী, সে শুধু জানে আজ থেকে তার চেনা ঘরটা পর হয়ে যাচ্ছে। এই কান্নায় উপস্থিত অনেকের চোখ ভিজে উঠলেও ঈশান নির্বিকার। সে শুধু ভাবছে, এই অসম সমীকরণ তাকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করাবে। তিশার মা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বিড়বিড় করে বললেন, "ভালো থাকিস মা। এই বাড়িতে তোর কোনো ভবিষ্যৎ ছিল না, তাই তোকে বিয়ে দিতে হয়েছে। তোর শশুড় বাড়িটাই নিজের বাড়িই বুঝেছিস! তিশা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়।ঈশান দূর থেকে দৃশ্যটা দেখল আর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে মনে মনে ঠিক করে নিল, বিয়েটা সে মেনে নিলেও এই মেয়েকে কোনোদিন 'স্ত্রী'র মর্যাদা দিতে পারবে না। তার কাছে তিশা শুধুই একটা উপদ্রব।
চলবে... ইনশাআল্লাহ...
( বই Approved হওয়ার পর পর্ব দেওয়া হয়। বই Approved হওয়ার পর পর্ব দেওয়ার আগেই নতুন বই গুলোর সাথে যুক্ত হয়ে যায়। তার পর পর্ব দেওয়া লাগে।পর্ব দেওয়ার আগেই দুইজন অতি বুদ্ধিমান ব্যক্তি ডিসলাইক দিয়ে গেছে। দেখে তো আমি বোকা হয়ে গেছি। মানে পর্ব পড়ে ভালো না লাগলে ডিসলাইক মানাই পর্ব পড়ার আগে কে ডিসলাইক দেয় আজব। সবার উদ্দেশ্যে বলছি। প্রথম পর্ব পড়ে ভালো না লাগলে পরের পর্ব গুলা পড়বেন না।গল্প স্কিপ করে দিয়েন । প্রিয় পাঠক গল্পের মধ্যে কোনো ভুল থাকলে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন। আর বলবেন কেমন লাগলো। ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক করতে ভুলবেন না কিন্তু। )