আসসালামু আলাইকুম। আমি ইসরাখ জাহান। শুরু করছি দ্বিতীয় বিয়ে গল্পের ১ম পর্ব।
লেখিকা- ইরা ইসলাম
গল্প চলমান
এই সমাজে দ্বিতীয় বিয়েকে সবাই ভালো চোখে দেখে না। যারা দ্বিতীয় বিয়ে করে তাদের সমাজে সবচেয়ে জঘন্য মনে করা হয়। বিশেষ করে আরো সেটা যদি হয় মেয়েদের ক্ষেএে। তবে বাস্তবে বরং তার উল্টো। আসলে জঘন্য সেই মানুষ গুলো যারা পরিস্থিতি না যেনে তাদের অবস্থান না দেখে না বুঝে তাদের দোষারোপ করে। এরা একটু একটু করে মানুষকে তাদের কথার অপমানে মানুষকে ভিতর থেকে শেষ করে দেয়।
আজ হাওলাদার পরিবারের ছোট মেয়ে তুলির দ্বিতীয় বিয়ে। দ্বিতীয় বিয়ে হলে ও তার বিয়েতে কোনো জাকজমক এ বাদ রাখেনি তুলির মামা আর বাবার। তুলিদের পরিবার মধ্যবিও হওয়ায় তার মামা সবুজ মিয়া সবসময় তুলিদের পরিবারের পাশে ছিল। তুলি আজকে বিয়ে হওয়াতে তুলিকে সেই সকালে তার মামা খায়িয়ে পার্লারে পাঠিয়ে দিয়েছে তার বড় মেয়ে খাদিজার সাথে। এইদিকে তুলির মামা আর বাবা বরজাত্তি আসার সময় হয়ে গেছে বলে বার্বুরচিদের তাড়া দিচ্ছেন বারবার। তুলি পার্লার থেকে রেডি করে নিয়ে আসে খাদিজা মনি। তুলিকে তার রুমে বসিয়ে দিয়ে সে তার কাজে চলে যায়। এমন সময় বাড়ি পাশে কিছু মহিলারা আসে তুলির রুমে তাকে দেখতে। প্রথমে সবাই ভালো কথা বললে ও তারা আস্তে আস্তে তুলির অতীত নিয়ে কথা বলা শুরু করে। যা তুলির মোটোও পছন্দ না। তুলি বরাবর শান্তশিষ্ট স্বভাবের। তাই সে সব শুনে ও চুপ করে থাকে। এক মহিলা বলে উঠে, হ্যাঁ রে তুলি শুনলাম এই ছেলে নাকি তোরে বিয়ার আগে ও পছন্দ করতো। তা এই ছেলের সাথে কি আগের বিয়ের পরে তুই নষ্টামি করেছিলি বলে তোর আগের স্বামী তোকে রেখে আরেকটা বিয়ে করেছে। তা এই ছেলের জন্য সংসার টা নষ্ট করলি। পাশ থেকে আরেক মহিলা বলে উঠে তাই নাকি গো ভাবি। তা আগে তো শুনিনি। তাহলে এই মেয়ে চুপ চাপ করে ভদ্র মানুষের মুখোশ পড়ে থাকতো নাকি। আরেক বৃদ্ধা মহিলা পাশ থেকে বলে, এই যুগের মেয়েরা এমনি বুঝি। এই যে তুলি ও যে কত ভদ্র দেখতে কত চুপচাপ শান্ত ও কিনা শেষে এমন কাজ করছে ছিঃ ছিঃ। এদের কথায় তুলির শুনতে খুব কষ্ট হচ্ছিল তাই সে চিৎকার দিয়ে বলে আমি কি করেছি না করেছি এটা আমার আর আমার পরিবারের ব্যাপার। চুপ করেন সবাই। বের হয়ে যান এখান থেকে। তুলি চিৎকার শুনে ওর মামাতো বোন মেঘলা রুমের বাইরে দাঁড়িয়েনে ছিলো দৌড়ে ঘরে আসে। এসে শুনে মহিলারা তুলিকে বলছে তুই নষ্টামি করবি আর আমরা বলতে পারবে না বুঝি। তুই করেছিছ আর আমরা বললেই দোষ তাই না। এই কথা শুন মেঘলা বুঝতে পারে কি হয়েছে সে বলে আমাদের বাড়ি মেয়ে কি করবে না করবে এটা আমাদের ব্যাপার আমাকে বুঝতে দেন কাকি। আপনারা এখন এখান থেকে যায়। দাওয়াত দেওয়া হয়েছে চুপচাপ খেয়ে চলে যাবেন আশা করি আর কিছু বলা লাগবে না। মেঘলার কথা শুনে সবাই তুলির চরিত্র নিয়ে বাজে কথা বলতে বলতে বের হয়ে যায় রুম থেকে। তুমির কাছে এসে মেঘলা জিজ্ঞেস করে মন খারাপ করিস না এরা যা বলার বলুক আমরা তো জানি সত্যি টা আমরা তো কিছু বলছি না তাহলে বাইরের মানুষ কি বলছে সেটা তুই কেন শুনিছ। তুলি চোখ মুছতে মুছতে বলে আমি কেন দোষ না করে ও এতো কষ্ট পাচ্ছি বলতে পারিস মেঘলা। কষ্ট পাছ না তামিম ভাই তো তোকে ভালোবাসে সে তো কিছু বলছে না তার তো কোন সমস্যা নাই তাহলে কেন কাঁদছিস। মেঘলার আর কিছু বলার আগে মেঘলার ডাক পড়ে বলে বর এসে গেছে মেঘলা তাড়াতাড়ি আয়। আসছি! বলেই মেঘলা তুলিকে বলে কাঁদিস না মেকআপ নষ্ট হয়ে যাবে আবার মেকআপ করাতে নিয়ে যাবো না কিন্তু মনে রাখিস। বলেই মেঘলা চলে যায়। মেঘলা যেতেই তুলি মনে করে পুরনো দিন গুলির কথা। তুলিরা ছিল তিন ভাই দুবোন। তুলির বড় বোন সবার বড় ডলি বেগম তার পরে তুলির বড় ভাই সুমন হাওলাদার এর পরে মেজো ভাই সুজন হাওলাদার তারপরে তুলি আর তুলির ছোট একটা ভাই ছিল সওকাত হাওলাদার । তার ছোট ভাই জন্মের আগে তুলি ছিলো দুভাই আর তার বড় বোনের আদেরর বোন। সবাইর চোখে মনি ছিলো সে। তারপরে তার ছোট ভাই হওয়ার পড়ে যেন এরা দুজন ছিলো সবার দু চোখের দুইমনি তুলির দাদা ছিলো না দাদি আছে। তুলির দাদা ফুলমনি বেগম। বয়স বেশি হওয়া এখন আগের মতো চলাচল করতে পারে না বেশি। তুলির বাবা ইকবাল হওলাদার পেশায় একজন উকিল। আর তুলির মা মনোয়ারা বেগম। তুলি ছিলো চুপচাপ শান্ত স্বভাবের মেয়ে তাই সবাই তাকে ভালেবাসতো তুলি যখন যা চাইতো তা এই পেতো। তুলির স্বাভাবের জন্য তার ছোট ভাই ও তাকে বেশ পছন্দ করতো। এমনি কি তুলির মামা ও তার বাকি ভাগনিদের ভিতর তুলিকে বেশ ভালোবাসতেন। তুলির মা সবার বড়। তুলির মায়ের আরো ৪ জন বোন আছে।তবে তার ভাই আর বোনেদের মাঝে সবচেয়ে শান্ত ছিলো তুলি আর সবচেয়ে রাগী হলো তুলির মামা সবুজ চৌধুরীর মেয়ে মেঘলা চৌধুরী। মেঘলার সাথে ভয়ে অনেকেই কথা বলে না। ছোটরা সবাই মেঘলাকে ভয় পায়। এমনিকি মেঘলার চেয়ে যারা বড় তারা ও এই ভয়ে থাকে যেন কখন আবার মেঘলা রাগ করে। তবে মেঘলা রাগী হলে ও তার মনটা বেশ ভালো তাই সবাই তাকে ভালোবাসে। তুলির নিজের ও মেঘলাকে ভালোলাগে। মেঘলা সব সময় সবাইকে তার মুখের উপর উচিত জবাব দিয়ে দেয়। সে পিছনে লুকোচুরি করে কথা বলা পছন্দ করে না। সে বরাবর স্পষ্টবাদী। তুলিদের পরিবারের খরচের প্রায় অনেক টা অংশ এই সবুজ চৌধুরী দেন। তুলির মামি শিউলি বেগম। শিউলি বেগম আগে বেশ রাগ করতো সবুজ চৌধুরীর সাথে। কারন তিনি তার পাঁচ বোনের পিছনে আর ইনকামের বেশ বড় একটা অংশ দিয়ে দেন। তাদের ভবিষ্যতের জন্য কিছু সঞ্চয় করার কথা বলেন তিনি। কিন্তু সবুজ মিয়া শুনে না। সবুজ চৌধুরীর তিনটি মেয়ে ছেলে নেই তাই বৃদ্ধ বয়সে যেন তাদের সমস্যা না হয় সেই জন্য বলে। কিন্তু সবুজ চৌধুরীকে তিনি কখনো বুঝাতে পারেনি। এই যেমন এখনো পারে না। তুলি প্রায় দেখতে এই নিয়ে তার মামা মামির সাথে ঝগড়া ঝামেলা করতে। একবার তুলি তার মামা বাড়ি থেকে ফেরার পথে দেখতে পায় তামিমকে। তামিম তাকে ভালোবাসে এটা সে জানে। কিন্তু কেন জানি ছেলেটাকে দেখলে তুলির লজ্জা পায় কথা বলতে পারে না। তামিম অনেক বার চেষ্টা করছে তুলির সাথে কথা বলতে কিন্তু বারবার ব্যর্থ হয়। এই যে শুনছেন? একটা মেয়ের কন্ঠ শুনে তুলি পিছন ফিরে দেখে -
চলবে