ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুই শুধু আমার উন্মাদনা

৫৯তম পর্ব

লেখক: তাবাস্সুম খাতুন

#তুই_শুধু_আমার_উন্মাদনা

#লেখিকা_তাবাস্সুম_খাতুন

#পর্ব - ৫২

রাতের আঁধার কেটে ধরণীতে সূর্যের আগমন ঘটলো। ব্যাস্তটার শহর আজ কুয়াশা ঘিরে আছে। পাখিরা ভোর হতেই কিচির মিচির ডাক দেওয়া শুরু করে দিয়েছে। কিছু কিছু মানুষ এত ভোরে কুয়াশার মধ্যে নিজেদের কর্মস্থলে পৌঁছে যাচ্ছে।

সময়টা সকাল সাতটা বেজে চার মিনিট। চৌধুরী ম্যানশন সেজে উঠেছে যেন বিয়ের আমেজে। রান্নার কাজ এখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে। আত্মীয় স্বজনরাও দুই একজন আশা ধরেছে। ডেকোরেশনের কাজ সম্পূর্ণ শেষ। জোহরের নামাজ শেষে এঞ্জেজমেন্ট হবে। বাড়ির সবাই উঠে পড়েছে গিন্নিরা সকালের নাস্তা তৈরী করছে। সিমিরা একসাথে বসে রুমে আড্ডা দিচ্ছে। নিশান আর জিহান অনেক আগে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেছে। পিহু, মিহু, তাজ নিজেদের রুমে। আর বাড়ির কর্তারা রান্নার দিক সহ স্টেজ দেখছে কোথাও কোন ভুল - টুল হয়েছে কিনা?

,,

জারা মুড অফ করে বসে আছে। যা দেখে সিমি ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞাসা করলো,,

"কি ননদিনী? তুমি ওমন করে বসে আছো কেন?"

জারা দুঃখী ভাব নিয়ে বললো,,

"আমার মতো এতিম দুনিয়াতে একটাও নেই।"

জারার কথা শুনে রাত্রি, সিমি দুইজনের ভ্রু জোড়া কুঁচকে গেলো রাত্রি বলে উঠলো,,,

"এত বড়ো পরিবার, বাবা - মা, ভাই - বোন থাকার সত্ত্বেও তুই নিজেকে এতিম মনে করিস জারা?"

জারা অসহায় মুখ করে তাঁদের দিকে তাকিয়ে বললো,,

"সব আছে তবে জামাই ছাড়া আমি এতিম। এতদিন সিমি আর সামু ম্যারিড ছিলো ওদের জামাই ছিলো। তুই আমার দলে ছিলিস আর এখন তোর ও জামাই হচ্ছে। পোড়া কপাল আমার জামাই টা যে কই লুকাই আছে।"

জারার কথা শুনে ora দুইজন মুচকি মুচকি হাসলো। সিমি জারাকে জড়িয়ে ধরে বললো,,

"ওলেলেলে আমার সুনাটা কত দুঃখ দেখ। রাত আমার সুনার জন্য কোন ছেলে খুঁজে দে।"

রাত্রি মুচকি হেসে বললো,,

"আমি বলেছি তো আমার দেবর খুব ভালো মানে জাউড়া নাম্বার এক। যেহেতু আমাদের জারা ও জাউড়া পাখি দুইজনের মানাবে হেব্বি।"

আয়ানের কথা শুনতেই জারা ছেৎ করে উঠে বললো,,

"অসম্ভব ওর মতো ভীতু কারোর সাথে আমি প্রেম করবো না।"

সিমি জারার মুখটা নিজের সামনে এনে প্রশ্ন করলো,,,

"আয়ান ভাইয়া ভীতু তুই কিভাবে জানলি?"

জারা মেকি হাসার চেষ্টা করে বললো,,

"ওই এমনি জানলাম আরকি।"

রাত্রি ও বললো,,

"এমনি জানলাম মানে?"

সিমি আর রাত্রির প্রশ্নের কি উত্তর দেবে জারা বুঝতে পারলোনা। তাই কথা ঘুরিয়ে বললো,,,

"সামু কই? ওকে তো দেখছিনা।"

সামুর কথা মাথায় আসতে সিমি বলে উঠলো,,,

"আসলেই ও সবার আগে উঠে বসে থাকে। আর আজকে ওর কোন খোঁজ নেই, চল তো গিয়ে দেখে আসি।"

এই বলে তিনজনে রুম থেকে বেড়িয়ে জিহানের রুমের সামনে দাঁড়ালো। জিহান বাড়ি নেই এইটা জানে তাই তারা দরজা নক না করেই ভিতরে ঢুকে গেলো। সামিয়া বেডে হেলাম দিয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়ে ছিলো। হুট করে দরজা খোলার আওয়াজ হতে সামিয়া সেইদিকে তাকিয়ে দেখে তিন বাঁদর আসছে। সিমিরা বেডে গিয়ে বসলো জারা প্রশ্ন করলো,,

"কিরে আজ কি উঠতে ইচ্ছা করছে না তোর?"

সামিয়া হেসে জবাব দিলো,,,

"সকাল হয়েছে জানিনা তাই উঠি নি।"

এইদিকে সিমি সামিয়াকে দেখে মুচকি মুচকি হাসছে যেইটা রাত্রির চোখে পড়লো তাই বলে উঠলো,,

"কিরে সিমি তুই হাসছিস কেন?"

জারা, সামিয়া দুইজনেই তাকালো সিমির দিকে। সিমি নিজের হাসি কন্ট্রোল করে সামিয়ার দিকে সরে গেলো ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বললো,,,

"ফার্স্ট নাইট কি হয়ে গেছে ম্যাম?"

সিমির প্রশ্ন শুনে সামিয়া লজ্জায় পড়লো সে বালিশ নিয়ে সিমির মাথায় মেরে বললো,,

"বেয়াদব মেয়ে সর এই জায়গা থেকে। ছিঃ কি কথা মাইরি তোর আস্তাগফিরুল্লাহ নাউযুবিল্লাহ।"

সামিয়ার এমন রিএকশন দেখে জারা ভ্রু কুঁচকে বললো,,,

"কিরে সিমি তোকে কি বললো? আর কেন এমন রিএকশন করলি?"

"বাল বলেছে বাল। আর শুনবি।"

জারা মুখ ভাঙিয়ে বললো,,

"ছিঃ সামু তোর মুখের ভাষা দিনদিন জাহান্নামের চৌরাস্তায় যাচ্ছে।"

"গেলে যাক এখন দূর হো তোরা আমার রুম থেকে।"

সিমি সামিয়ার দিকে মুখ ভাঙিয়ে বললো,,

"ক্রেডিট দিতে পারতিস আমাকে একটু এইভাবে না তাড়িয়ে। আফটারঅল সবকিছু তো আমার জন্যই হলো। চল বাইরে চল।"

বলে তিনজনে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো। এইদিকে সামিয়া লজ্জায় পারছেনা মাটির নিচে ঢুকে যেতে ইসসস কি লজ্জা!

~~

আত্মীয় - স্বজন কম বেশি সবাই এসে পড়েছে চৌধুরী ম্যানশনে। সকালের নাস্তা শেষ করে আবারো সবাই কাজে লেগে পরেছে। সদর দরজা হয়ে মাত্র চৌধুরী ম্যানশনে প্রবেশ করলো সেলিনা চৌধুরীর চাচাতো বোন/মিষ্টির আম্মু শার্লিন আলম। সাথে তার স্বামী মিজান আলম। শার্লিন এসে নিজের চাচাতো বোনকে জড়িয়ে ধরলো ভালো মন্দ জিজ্ঞাসা করলো সিমিরা ড্রইং রুমের সোফায় বসে ছিলো সবকিছু দেখছে। শার্লিন সেলিনার মুখ সহ হাত পোড়া দেখে অবাক হয়ে বললো,,

"কিরে সেলিনা তোর এই অবস্থা কেন? হাত মুখ কিভাবে পুড়লো? ইসসস!"

সেলিনা হেসে জবাব দিলো,,

"একটা দুর্ঘটনা ঘটেছিলো। তেমন কোন সমস্যা না এখন ঠিকই আছি।"

শার্লিন বলে উঠলো,,,

"আচ্ছা তবে আমার মিষ্টি কই? ওকে দেখছি না তো। কতদিন ওর সাথে কথা না শুধু তুই বলিস ভালো আছে। কিসের এত রাগ ওর জানি? কোথায় সে?"

বলে আশেপাশে তাকাতে লাগলো তার দৃষ্টি ভীড়লো ড্রইং রুমে। সে সেখানে গেলো জারার কাছে গিয়ে বললো,,

"সেলিনা এইটা তোর মেয়ে জারা তাইনা?"

সেলিনা মাথা নাড়লো। তার টেনশন হচ্ছে এখন কি হবে? সে মিষ্টির বাবা- মাকে বলে আসছে সে ভালো আছে তাঁদের সাথে কথা বলবে না কি নিয়ে রাগ করেছে। এখন হুট করে মিষ্টিকে কিভাবে আনবে সে? সে তো বেঁচে নেই মরে গেছে। কিভাবে বলবে এইসব? এইদিকে শার্লিন জারার মুখের দুইপাশে হাত দিয়ে বললো,,

"মাশাআল্লাহ মাশাআল্লাহ খুব সুন্দর দেখতে হয়েছো।"

জারা মাথা নাড়লো জারার পাশে রাত্রি ছিলো শার্লিন বলে উঠলো,,

"এইটা কি মেহেরিমা আফার মাইয়া?"

রাত্রি নিজেই মাথা নাড়ালো শার্লিন আগের মতোই প্রশংসা করলো। আরেক সোফায় থাকা সিমিকে দেখলো সিমি ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। শার্লিন বললো,,

"তুমি সালাউদ্দিনের ছোট মাইয়া তাই তো?"

সিমি চোখ সরিয়ে নিয়ে ভাব দেখিয়ে বললো,,

"সাথে এই বাড়ির বড়ো ছেলে তানভীর চৌধুরী নিশানের লিগ্যালি ওয়াইফ।"

নিশানের বউ কথাটা তার কানে যেতেই তার চোখ ক্রুদ্ধ হলো। তার মেয়ে বলেছিল নিশান বিয়ে করেছে ফোন দিয়ে অনেক কান্না করেছিল। তার মেয়েকে তিলে তিলে মারছে তাহলে এই মেয়ে? শার্লিন রাগানিত্ব কণ্ঠে বললো,,,

"তুই তাহলে নিশানের বউ? আমার মাইয়াটারে তিলে তিলে মারছিস তুই। ছেচড়া বেয়াদব মেয়ে একটা। লজ্জা করে না চাচাতো ভাইয়ের লগে বিয়া করছিস?"

সিমি উঠে দাঁড়ালো হাসলো এরপর বললো,,

"আসলে হয়েছে কি আন্টি। আমার মধ্যে লজ্জার এপ্সটা ডাউনলোড করতে ভুলে গিয়েছি। কি করা যাই বলুন তো?"

"বেয়াদব মেয়ে মুখে মুখে তর্ক কর, তোমার জিভ আমি টেনে ছিঁড়ে ফেলবো।"

"সাহস থাকলে ছিঁড়ে দেখান। আমি প্রস্তুত।"

শার্লিন হুট করে সিমির বাম গালে কোষে একটা থাপ্পড় মারলো। সিমি বুঝতে পারিনি এমন পরিস্থিতি হবে জারা, সামিয়া, রাত্রি এসে সিমিকে ধরলো। সিমির চোখের কোনায় পানি ভীড়লো। সেলিনা এসে শার্লিন কে ধরে বললো,,

"কি করছিস তুই? সিমি কে কেন মারলি?"

শার্লিন রাগে গজগজ করতে করতে বললো,,

"মারলাম কেন? ও আমার মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে। আজ নিশানের বউ হওয়ার কথা ছিলো আমার মেয়ের। আর হয়েছে ওই ছোট লোক। আমার ঘৃণা লাগছে এই মেয়েকে দেখে থু।"

সেলিনা শার্লিন কে ধমকিয়ে বললো,,,

"চুপ কর শার্লিন সিমি প্রেগনেন্ট।"

শার্লিন আবারো নোংরা ভাষায় বললো,,

"পেট তৈরী করাও শেষ? ছিঃ ছিঃ ঘৃণা লাগছে আমার ওয়াক থু চাচাতো ভাইয়ের সাথে প্রেম ভালোবাসা বিয়া ছিঃ ছিঃ একি দিন দেখতে হচ্ছে। এই হারামজাদা আমার মেয়েটার জীবন নষ্ট করেছে ওকে আমি কখনো ক্ষমা করবো না। ক্যারেক্টর লেস মেয়ে একটা।"

এত বাজে বাজে কথা শুনে সিমির চোখের কোন বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো। ছিঃ কি খারাপ ভাষা!সামিয়া সয্য করতে না পেরে বললো,,

"ক্যারেক্টরলেস আমাদের সিমি না আপনার মেয়ে মিষ্টি ছিলো।"

শার্লিন সামিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,,

"এই মাইয়াটারে না সালাউদ্দিন রাস্তা থেকে তুলে আনছিল। দেখছিস সেলিনা রাস্তা থেকে তুলে আনা চাকরানী এখন রাজরানি হতে চাচ্ছে।"

শার্লিন এর কথা শেষ হতেই ভেসে এলো এক রমণীর তেজি কণ্ঠ,,

"চাকরানীকে রানীর মতো রাখা হয়েছে বলেই সে আজ রাজরানী। রাস্তা থেকে কুড়িয়ে আনলেও সে এই বাড়ির সন্মান। আপনার তো না তবে এত ফেঁটে পড়ছেন কেন আন্টি?"

সবাই তাকালো সদর দরজার দিকে। দেখতে পেলো একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে কালো রং এর পাকিস্তানী লং থ্রিপিস পরে। চুলগুলো পাঞ্চ কিলিপ দিয়ে আটকানো গায়ের রং ধবধবে সাদা।মেয়েটা এগিয়ে আসলো শার্লিন ভ্রু কুঁচকে বললো,,

"তুমি কে মাইয়া?"

মেয়েটা হেসে বললো,,

"আমি যেই হয় না কেন? অন্তত অন্যের বাড়ি এসে কুতলামি কাজ টা তো করছি না।"

রাত্রি মেয়েটার কাছে এসে হাত জড়িয়ে ধরে বললো,,

"সিমরান তুই? জানু তোকে এইভাবে দেখবো আমি কল্পনা করিনি।"

সিমরান হাসলো সে এগিয়ে এসে সিমির পাশে দাঁড়ালো সিমিকে নিজের দিকে ফিরিয়ে চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে বললো,,

"আরে বইন এইসব ছোট লোকদের কথা শুনে কেউ কান্না করে নাকি?"

ছোটলোক কথা শুনে শার্লিন তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বললো,,

"এই মাইয়া এই তুই আমারে ছোট লোক কস?"

সিমরান তার দিকে তাকিয়ে সুন্দর একটা হাসি দিয়ে বললো,,

"ইয়েস মাই ডিয়ার ছোটলোক আন্টি।"

শার্লিন আর কিছু বলতে গেলেই সেলিনা ওর হাত টেনে ধরে চুপ করতে বললো। এইদিকে রাত্রি ধীর কণ্ঠে বললো,,

"সিমি কান্না করছে এইভাবে বাইরের কারোর হাতে থাপ্পড় খাওয়ার জন্য।"

সিমরান রাত্রিr দিকে তাকিয়ে বললো,,

"সিমিকে থাপ্পড় মারছে?"

রাত্রি মাথা নাড়লো। সিমরান সিমির মুখ উঁচু করে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বললো,,

"ওই তোকে মারলো, আর তুই সয্য করলি? কেন ভাই? ও কেডা তোকে মারার? তুই আজ পর্যন্ত তোর বাপ - মায়ের হাতেও মার খাস নি। সেখানে এই মহিলা কেডা? "

সিমরানের কথা শুনে সিমি ভ্রু কুঁচকে বললো,,,

"আসলেই কে এই মহিলা? কেন খাবো আমি তার হাতে থাপ্পড়?"

সিমরান হাসি মুখে বললো,,

"ইয়েস মাই ডিয়ার এখন এর প্রতিশোধ নিতে হবে পরপর দুইটা থাপ্পড় মারতে হবে ওই মহিলার গালে। গুরুজন বলে ছাড় দেওয়া যাবে না। মুখের ভাষা যার খারাপ তাকে সব জায়গায় মার খেতে হবে।"

সিমরানের কথাই যুক্তি আছে। এইজন্য সিমি বলে উঠলো,,

"ঠিক। ও আমাকে মারলো আর আমি জবাব না দিয়ে কান্না করলাম? ছিঃ।"

সিমরান সরে দাঁড়ালো সিমি এগিয়ে এলো শার্লিন এর কাছে শার্লিন গলা বাজিয়ে বললো,,

"তুই আমাকে মারতে আসছিস? কত বড়ো সাহস তোর?"

সিমি কোন কিছু তৌক্কা না করে ঠাস করে তার গালে থাপ্পড় মারলো। শার্লিন গালে হাত দিয়ে অবাক নয়নে সিমির দিকে তাকিয়ে রইলো। এইদিকে রাত্রীরা সবাই দাঁড়িয়ে হাসচ্ছে। সেলিনা কিছু বলবে এর মধ্যে সিমি আরো এক গালে থাপ্পড় মেরে বললো,,

"সরি ডিয়ার ছোটলোক আন্টি। আপনি আসতে পারেন এখন, আর যেতে না চাইলে থেকে যান ফকির দের সাথে বসিয়ে খাইয়ে পাঠিয়ে দেবো।"

শার্লিন সিমির দিকে রাগী দৃষ্টি দিয়ে চৌধুরী বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেলো। তার সাথে সেলিনা ও গেলো। এইদিকে ওরা যেতেই পাঁচজন খিলখিল করে হেসে উঠলো। এর মধ্যে সিমি ভ্রু কুঁচকে রাত্রি কে বললো,,

"রাত্রি এই মেয়েটা কে?"

রাত্রি কিছু বলবে এর মধ্যে সিমরান বলে উঠলো,,

"নিজের ইন্ট্রোডাকশন নিজেই দিচ্ছি। আমি সিমরান আহমেদ। এই দুনিয়াতে বাবা - মা, ভাই - বোন, তিন কূলের কেউ নেই। আমি ইতালি তে থাকি। সেখানে এক দাদু আমাকে খাইয়ে পড়িয়ে মানুষ করেছে।এই রাত্রি হলো আমার বেস্ট ফ্রেন্ড তবে দুঃখের বিষয় ওর এঞ্জেজমেন্ট অথচ আমাকে জানাই নি।"

রাত্রি সিমরান কে জড়িয়ে ধরে বললো,,,

"সরি জানু তোর ফোনের নেট অফ অনেক ট্রাই করেছি পারি নি।"

"হয়েছে হয়েছে নাটক অফ।"

এইদিকে সিমি হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো,,

"হাই আমি সিমি..

বাকি কথা শেষ করতে na দিয়ে সিমরান বলে উঠলো,,

"আমি জানি আর তোদের সবাইকেই চিনি। আর আমাকে তুমি না আপনি না অনলি তুই ডাকতে হবে।"

রাত্রি হেসে বললো,,

"এre সবাই মুরগীর রান বলে ডাক দিস।"

সিমরান রাত্রির পিঠে জোরে একটা কিল মেরে বললো,,

"বেয়াদব মাইয়া।"

রাত্রি চোখ মুখ কুঁচকিয়ে বললো,,

"আমি আজকে সবার আলোচনার বিষয় আর তুই আমার পিঠ ভেঙে দিলি।"

"বেশ করেছি।"

জারা বলে উঠলো,,

"এত আলোচনার বিষয় নিচে মানাই না, উপরে যা বইন।"

রাত্রি মুখ ভাঙিয়ে বললো,,

"তোরাও এমন করিস?"

সামিয়া ও বলে উঠলো,,

"হ্যা বেবি মাইন্ড কর না উপরে যাও।"

রাত্রি কিছু না বলে উপরে রুমে গেলো। সবাই সোফায় বসলো সিমরানের সাথে আরো ভালো ভাবে পরিচয় হতে লাগলো। তাঁদের কথার মধ্যে নিশান দ্রুতটার সাথে ড্রইং রুমে এসে সিমিকে তুলে দাঁড় করিয়ে সিমির গাল দেখতে দেখতে বিচলিত কণ্ঠে বলে উঠলো,,

"কোথায় ব্যাথা লাগছে তোর?"

সিমি মাথা দুইপাশে নেড়ে বললো,,

"কোথাও লাগি নি।"

নিশান সিমির হাত ধরলো। সিমি কে টানতে টানতে বাড়ি থেকে বাহির করে নিয়ে গেলো। সিমিকে এইভাবে নিয়ে যাওয়ার পানে ওরা তিনজন হা করে তাকিয়ে আছে। সিমরান বলে উঠলো,,

"নিশান ভাইয়া কে এইভাবে বিচলিত হতে আমি প্রথম দেখলাম।"

সামিয়া বলে উঠলো,,

"আমরা একদিন ছাড়া ছাড়া দেখি।"

সিমরান বলে উঠলো,,,

"হাই আল্লাহ কত ভালোবাসা এদের মধ্যে। আমি জেলাস বইনা।"

জারা মুখের হাসি হারিয়ে ফেলে বললো,,

"আর আমি উগান্ডার বাসিন্দা।"

জারার কথা সিমরান বুঝতে না পেরে বলে উঠলো,,

"মানে?"

"মানে আমার একটা জামাই নেই, আর না আছে কোন প্রেমিক যে এইভাবে ভালোবাসা দিবে।"

সিমরান ফিক করে হেসে বললো,,

"জামাই লাগবে?"

"হো জামাইয়ের অভাবে দিনদিন শুকিয়ে যাচ্ছি।"

"আহারে। আচ্ছা কষ্ট পেয়ো না আমি রাস্তা থেকে ধরে এনে দেবো।"

"কি?"

"একটা প্রেমিক।"

~~

নিশান সিমিকে টানতে টানতে গার্ডেন এ আনলো। যেইখানে মিষ্টির বাবা- মা বসেছিল। নিশান তাঁদের সামনে গিয়ে চিৎকার করে বললো,,,

"আমার ওয়াইফ কে মারার সাহস আপনাকে কে দিয়েছে?"

সিমি নিশানের হাত টেনে বললো,,

"বাদ দেন এইসব আমিও মেরেছি দুইটা চড়।"

নিশান রাগী কণ্ঠে সিমিকে বললো,,

"বেশি বকলে আমি ওই দুটো থাপ্পড় তোকে রিটার্ন করবো।"

সিমি চুপ হয়ে গেলো। শার্লিন বলে উঠলো,,,

"বাবা আমি ওকে ইচ্ছা করে মারি নি। আমার রাগ হয়ে গেছিলো। ওর জন্য আমার মেয়ের জীবন নষ্ট হলো।"

নিশান শার্লিন এর একটু কাছে এগিয়ে আসলো দাঁতে দাঁত চেপে বললো,,

"যে মেয়ে মরে যাই। তার জীবন নষ্ট করার কোন কারন থাকে না। লাস্ট ওয়ার্নিং আমার ইশুকে আজ মেরেছিস খারাপ কথা বলেছিস মেনে নিলাম। দ্বিতীয়বার এমন ভুল করলে জানে মেরে ফেলে দাফন দেবো মাইন্ড ইট।"

বলে নিশান সিমির হাত ধরে টেনে আবারো চৌধুরী বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলো। এইদিকে মিষ্টির মৃত্যুর খবর শুনে শার্লিন এর মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো। পাশে থাকা সেলিনা তাকে ধরলো। শার্লিন বলে উঠলো,,

চলবে,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন