ফন্ট সাইজ:
থিম:
পুতুল বউ

৯ম পর্ব

লেখক: Binti Fariya islam

 পুতুল বউ

পর্ব—৯
বিয়ের সকাল
দেখতে দেখতে সেই কাঙ্ক্ষিত দিনটাও চলে এলো।
আজ মেরিন খান আর সাকিলের বিয়ে।
সকাল থেকেই পুরো খান বাড়ি যেন উৎসবের বাড়িতে পরিণত হয়েছে। বাড়ির প্রতিটি কোণে মানুষের ব্যস্ততা, হাসি-আনন্দ আর বিয়ের গানের শব্দ।
কেউ ফুল সাজাচ্ছে, কেউ অতিথিদের দেখাশোনা করছে, কেউ আবার বিয়ের খাবারের ব্যবস্থা নিয়ে ব্যস্ত।
খান বাড়ির মেয়েদের ব্যস্ততা যেন সবচেয়ে বেশি।
মেহরিন, নাওরিন, জারিন, ফারিয়া, অনামিকা আর নিহা—সবাই মিলে আজ একে অপরকে সাজিয়ে তুলছে।
---
ফারিয়ার সাজ
ফারিয়াকেও আজ অন্যদিনের চেয়ে একটু বেশি সুন্দর করে সাজানো হয়েছে।
অনামিকা আর নিহা সকাল থেকেই তাকে নিয়ে বসেছে।
ফারিয়া আয়নার সামনে বসে ছিল।
চুলগুলো সুন্দর করে গুছিয়ে দেওয়া হলো। মুখে হালকা মেকআপ, চোখে মায়াবী কাজল আর ঠোঁটে হালকা রঙ।
এরপর অনামিকা একটা মেরুন রঙের সুন্দর গোল ঘেরের গাউন এনে ফারিয়ার সামনে ধরল।
—“এইটা পর।”
ফারিয়া গাউনটার দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হয়ে বলল,
—“অনামিকা, এটা অনেক সুন্দর!”
নিহা হেসে বলল,
—“আজকে তোর জন্যই রাখা হয়েছে।”
ফারিয়া গাউনটা পরে আয়নার সামনে দাঁড়াতেই দুজন কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে রইল।
মেরুন গাউনের গোল ঘেরটা মেঝেতে ছড়িয়ে আছে।
তার লম্বা কালো চুলগুলো পিঠ বেয়ে নেমে এসেছে।
চোখে কাজল, কানে সুন্দর দুল আর মুখে মিষ্টি একটা হাসি।
অনামিকা মুখ হাঁ করে বলল,
—“ও মা! আজকে তোকে দেখে মনে হচ্ছে বিয়েটা তোর!”
নিহা হেসে বলল,
—“সত্যি! আজকে কিন্তু অনেকের চোখ আটকে যাবে।”
ফারিয়া লজ্জা পেয়ে বলল,
—“তোরা আবার শুরু করলি!”
---
মেরিনের সাজ
অন্যদিকে মেরিনকে আজ একেবারে রাজকন্যার মতো সাজানো হয়েছে।
পার্লারের লোকেরা মেরিনকে সাজিয়ে তুলেছে।
লাল বেনারসি শাড়ি, ভারী গয়না, কপালে টিকলি, হাতে চুড়ি আর সুন্দর করে সাজানো চুলে ফুল।
সব মিলিয়ে মেরিনকে আজ অসম্ভব সুন্দর লাগছে।
কিন্তু তার প্রবেশটাই ছিল সবচেয়ে বিশেষ।
কিছুক্ষণ পর মেরিনকে সুন্দর করে সাজিয়ে স্টেজই  নিয়ে আসা হলো।
স্টেজ  চারপাশ ফুল দিয়ে সাজানো।
মেরিন ভেতরে বসে আছে মাথা নিচু করে।
মুখে লাজুক হাসি।
কপালে টিকলি, কানে ঝুমকা, গলায় ভারী হার আর লাল বেনারসিতে তাকে যেন সত্যিই রাজকন্যার মতো লাগছে।
এরপর সবাই স্টেজ সামনে মেরিন কে দেখতে আসে
নাসরিন সুলতানা আবেগভরা চোখে বললেন,
—“মাশাআল্লাহ! আমার মেয়েটাকে আজ কত সুন্দর লাগছে!”
মায়া ছুটে গিয়ে মেরিনের হাত ধরে বলল,
—“মেরিন আপু, আজকে আপনাকে একদম রাজকন্যার মতো লাগছে!”
নাওরিন বলল,
—“আপু, সত্যি বলছি, চোখ ফেরানো যাচ্ছে না।”
জেরিনও মুগ্ধ হয়ে বলল,
—“আপু, আজকে তোমাকে একদম চিনতেই পারছি না!”
ফারিয়া মেরিনের কাছে গিয়ে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে বলল,
—“আপু, তোমাকে আজ সত্যিই অনেক সুন্দর লাগছে।”
মেরিন লজ্জায় হেসে ফারিয়ার হাত ধরে বলল,
—“তুইও কিন্তু আজ অনেক সুন্দর লাগছিস।”
ফারিয়া হেসে বলল,
—“আজকে শুধু তোমার দিন আপু।”
চারপাশে সবাই মেরিনের সৌন্দর্যের প্রশংসা করতে লাগল।
বর আসার সময় হয়ে আসছে.
আজকের এই সাজে মেরিনকে দেখে যেন তার চোখও আটকে গেছে।
---
জাহিদের সাজ
অন্যদিকে ছেলেদের ঘরেও কম ব্যস্ততা নেই।
জাহিদ আজ একটা সুন্দর কালো স্যুট পরেছে।
পরিপাটি চুল, সুন্দর করে গুছানো পোশাক আর মুখে আত্মবিশ্বাসী ভাব—আজ তাকে অন্য দিনের চেয়ে আরও বেশি আকর্ষণীয় লাগছে।
সাওন জাহিদের দিকে তাকিয়ে বলল,
—“ভাই, আজকে তোকে দেখে মনে হচ্ছে বর তুই!”
সাব্বির হেসে বলল,
—“বর না হলেও আজকে অনেকের হার্টবিট বাড়ানোর দায়িত্ব তোর।”
জাহিদ বিরক্ত হয়ে বলল,
—“তোরা চুপ করবি?”
সাওন হেসে বলল,
—“আচ্ছা, চুপ।”
কিন্তু জাহিদের চোখ তখন অন্য কাউকে খুঁজছিল।
ফারিয়া।
সে জানে আজ ফারিয়াও সাজবে।
আর সেই চিন্তাটাই তার ভেতরে অদ্ভুত একটা উত্তেজনা তৈরি করছিল।
---
জাহিদের সতর্কতা
জাহিদ জেরিনকে এক পাশে ডেকে বলল,
—“জেরিন, একটা কাজ করবি?”
জারিন বলল,
—“কী কাজ ভাইয়া?”
জাহিদ একটু গম্ভীর হয়ে বলল,
—“তোর ফারিয়া আপুকে বলে দিবি, যাতে বিয়ের গেটের আশেপাশে ওকে দেখা না যায়।”
জেরিন অবাক হয়ে বলল,
—“কেন?”
জাহিদ বলল,
—“এমনিই। গেটের ওখানে অনেক ভিড় হবে।”
জেরিন মুচকি হেসে বলল,
—“ভাইয়া, সত্যি করে বলতো—তুৃমি ফারিয়া আপুকে গেট থেকে দূরে রাখতে চাচ্ছেন কেন?”
জাহিদ চোখ রাঙিয়ে বলল,
—“বেশি কথা বলিস না। যা বললাম, সেটা কর।”
জেরিন হেসে চলে গেল।
কিন্তু ফারিয়া এসবের কিছুই জানল না।
---
বিয়ের গেট
বিকেলের দিকে বরযাত্রী আসার সময় হয়ে গেল।
খান বাড়ির গেট সুন্দর করে সাজানো হয়েছে।
ফুল, লাইট আর রঙিন কাপড়ে পুরো গেটটা একেবারে জমকালো হয়ে উঠেছে।
ফারিয়া, , নাওরিন, জেরিন, অনামিকা আর নিহা মায়া সবাই মিলে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে গেল।
তাদের উদ্দেশ্য একটাই—
বরপক্ষকে সহজে ঢুকতে দেওয়া যাবে না!
বরযাত্রী আসতেই মেয়েরা সবাই একসঙ্গে পথ আটকে দাঁড়াল।
জেরিন বলল,
—“আগে টাকা, তারপর গেট!”
বরপক্ষের সবাই হেসে উঠল।
সাকিলও হাসতে হাসতে বলল,
—“আচ্ছা, কত টাকা লাগবে?”
নাওরিন বলল,
—“কম টাকা দিলে কিন্তু গেট খুলব না।”
ফারিয়া হেসে বলল,
—“একদম ঠিক বলেছিস।”
সবাই মিলে টাকা নিয়ে দরদাম শুরু করল।
বরপক্ষও কম যায় না।
কেউ বলছে কম দেবে, কেউ বলছে বেশি দেবে।
শেষ পর্যন্ত বেশ ভালো অঙ্কের টাকা আদায় করে মেয়েরা হাসতে হাসতে গেট ছেড়ে দিল।
ফারিয়া তখনও সবার সঙ্গে দাঁড়িয়ে মজা করছে।
আর একটু দূরে দাঁড়িয়ে জাহিদ পুরো দৃশ্যটা দেখছিল।
তার চোখে শুধু একজনই—
মেরুন গাউনে ফারিয়া।
জাহিদ কিছুক্ষণ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
তারপর নিজের অজান্তেই মুচকি হাসল।
---
সাফিনের প্রথম দেখা
সাকিলের সঙ্গে তার ভাই সাফিনও এসেছিল।
গেটের সামনে দাঁড়িয়েই সাফিনের চোখ প্রথমবার ফারিয়ার ওপর পড়ল।
সে যেন মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।
ফারিয়ার মেরুন গাউন, খোলা লম্বা চুল আর মায়াবী মুখ দেখে সাফিনের চোখে স্পষ্ট মুগ্ধতা ফুটে উঠল।
সে পাশের একজনকে আস্তে করে বলল,
—“মেয়েটা কে?”
উত্তর পেল,
—“ফারিয়া। খান বাড়ির  নাতনী।”
সাফিন মুচকি হাসল।
তারপর সুযোগ পেলেই ফারিয়ার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করতে লাগল।
—“আপনি কি খান বাড়ির?”
ফারিয়া স্বাভাবিকভাবে বলল,
—“জি।”
—“আপনাকে আগে তো দেখিনি।”
—“আমি অনেক বছর পর এসেছি।”
সাফিন হেসে বলল,
—“তাই তো! এত সুন্দর একজন মানুষকে আগে দেখলে মনে থাকত।”
ফারিয়া একটু অস্বস্তি পেয়ে শুধু মুচকি হাসল।
সাফিন আবার বলল,
—“আপনার নামটা আবার বলবেন?”
—“ বিন্তি ফারিয়া ইসলাম"
—“ফারিয়া... নামটাও আপনার মতো সুন্দর।”
ফারিয়া এবার আর কিছু না বলে অনামিকার কাছে চলে গেল।
দূর থেকে জাহিদ পুরো ব্যাপারটা দেখছিল।
তার মুখের হাসি ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।
চোখে স্পষ্ট বিরক্তি।
---
রাফিদ আর ফারিয়া
এদিকে রাফিদও ফারিয়ার কাছে এসে দাঁড়াল।
—“ফারিয়া, আমাকে চিনতে পারছিস?”
ফারিয়া একটু তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল,
—“রাফিদ ভাইয়া?”
রাফিদের মুখে হাসি ফুটে উঠল।
—“হ্যাঁ! এতদিন পরেও চিনতে পারলি?”
—“ছোটবেলার কথা কিছু কিছু মনে আছে।”
রাফিদ হেসে বলল,
—“তুই তো একদম বদলে গেছিস।”
—“আপনিও তো অনেক বড় হয়ে গেছেন।”
রাফিদ ফারিয়ার সঙ্গে গল্প করতে লাগল।
দূর থেকে জাহিদ এবার আরও অস্বস্তিতে পড়ল।
একদিকে সাফিন।
অন্যদিকে রাফিদ।
দুজনেই ফারিয়ার সঙ্গে কথা বলছে।
জাহিদের চোখেমুখে বিরক্তি স্পষ্ট।
সাওন আর সাব্বির একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসল।
সাওন আস্তে করে গুনগুন করে উঠল,
—“পরান যায় জ্বলিয়া রে...”
সাব্বির সঙ্গে সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলল,
—“পরান যায় জ্বলিয়া রে...”
জাহিদ ঘুরে তাদের দিকে তাকাল।
—“তোরা দুজন চুপ করবি?”
সাব্বির হেসে বলল,
—“কী হয়েছে ভাই? গান শুনলেই এত রাগ?”
সাওন আবার গাইতে শুরু করতেই জাহিদ আর সহ্য করতে না পেরে সাব্বিরের পিঠে একটা হালকা চাপড় মেরে দিল।
—“চুপ!”
সাব্বির পিঠে হাত দিয়ে বলল,
—“সালা! তুই তোর সব রাগ কি আমার ওপরই নিঃস?”
সাওন হেসে কুটিকুটি।
জাহিদ গম্ভীর মুখে বলল,
—“তোরা দুজন আমাকে আর জ্বালাস না।”
---
ফারিয়ার দিকে সবার নজর
এদিকে ফারিয়া তখনও বুঝতে পারছে না যে আজ তাকে নিয়ে কতজনের নজর আটকে আছে।
মেরুন গাউনের গোল ঘের, লম্বা কালো চুল আর মায়াবী চোখ—সব মিলিয়ে আজ তাকে সত্যিই অসাধারণ লাগছে।
সাফিন সুযোগ পেলেই ফারিয়ার কাছে আসছে।
রাফিদও তার সঙ্গে গল্প করছে।
আর একটু দূরে দাঁড়িয়ে জাহিদ সবকিছু দেখছে।
তার ভেতরে অদ্ভুত একটা অস্বস্তি।
সে নিজেই বুঝতে পারছে না—
ফারিয়ার সঙ্গে অন্য কোনো ছেলে কথা বললে তার এত খারাপ লাগছে কেন।
---
বিয়ের অনুষ্ঠান
সব হাসি-ঠাট্টার পর অবশেষে বিয়ের মূল অনুষ্ঠান শুরু হলো।
মেরিনকে আবার সুন্দর করে বিয়ের আসরের দিকে আনা হলো।
লাল বেনারসি, ভারী গয়না আর মাথায় ঘোমটা—আজ তাকে যেন সত্যিই রাজকন্যার মতো লাগছে।
সাকিলও মেরিনকে দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল।
দুই পরিবারের বড়রা উপস্থিত।
কাবিনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো। ১৫ লাখ টাকা 
মেরিন আর সাকিল আজ থেকে স্বামী-স্ত্রী। বিয়ে শেষ হলে সবাইকে মিষ্টি মুখ করানো হলো একে অপরকে মিষ্টি হাকিম খান অনেক খুশি তার বড় নাতনীর আজকে বিয়ে বলে কথা সে সবার সাথে হেসে হেসে মিষ্টি খাচ্ছে 
চারপাশে আনন্দের হাওয়া।
সবাই একে অপরকে অভিনন্দন জানাতে লাগল।
---
খাওয়া-দাওয়া আর জুতা চুরি
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পর শুরু হলো খাওয়া-দাওয়া।
বিরিয়ানি, রোস্ট, কাবাব, মিষ্টি—সবকিছুতেই ছিল রাজকীয় আয়োজন।
ফারিয়া, অনামিকা, নিহা আর বাকি মেয়েরা মিলে খেতে বসে গল্প করতে লাগল।
কিন্তু তাদের আসল মিশন তখনও বাকি।
সাকিলের জুতা!
জুতা খুলে রাখতেই ফারিয়া আর জেরিন সুযোগ বুঝে জুতাটা সরিয়ে ফেলল।
মেহরিন হেসে বলল,
—“এই যে! জুতা কোথায় গেল?”
ফারিয়া নিরীহ মুখ করে বলল,
—“আমরা কিছু জানি না।”
সাকিল বুঝে গিয়ে বলল,
—“ওহ! জুতা চুরি হয়েছে?”
অনামিকা হেসে বলল,
—“হ্যাঁ। এখন টাকা না দিলে জুতা ফেরত নেই।”
সাকিল হাসতে হাসতে বলল,
—“কত টাকা?”
নিহা বলল,
—“অনেক!”
সবাই হাসিতে ফেটে পড়ল।
অনেক দরদামের পর অবশেষে সাকিল টাকা দিয়ে জুতা উদ্ধার করল।
ফারিয়া আর জারিন টাকা হাতে নিয়ে আনন্দে একে অপরকে হাই-ফাইভ দিল।
---
মেরিনের বিদায়
কিন্তু এত আনন্দের পরেই খান বাড়িতে নেমে এলো বিষাদের ছায়া।
মেরিনের বিদায়ের সময় হয়ে গেছে।
যে মেয়েটা এতদিন এই বাড়ির প্রতিটি কোণে হাসি ছড়িয়ে বেড়িয়েছে—
আজ সে অন্য বাড়িতে চলে যাবে।
মেরিন তার বাবা আবদুল হাকিম খানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল।
তার চোখে পানি।
নাহিদ খান মেয়ের মাথায় হাত রাখলেন।
তার নিজের চোখও তখন অশ্রুসিক্ত।
কাঁপা গলায় বললেন,
—“আমার অনেক আদরের মেয়ে, আজ আমি তোমাকে দিয়ে দিলাম।”
মেরিন আর নিজেকে সামলাতে পারল না।
বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল।
—“আব্বু...”
 নাহিদ খান মেয়েকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললেন,
—“সবসময় ভালো থাকিস মা। সুখে থাকিস। আর মনে রাখিস, এই বাড়ির দরজা সবসময় তোর জন্য খোলা।”
সাকিলের হাতে মেয়ের হাত তুলে দিয়ে তিনি বললেন,
—“সাকিল, আমার মেয়েটা আমার কাছে খুব আদরের। আজ থেকে ওর দায়িত্ব তোমার।”
সাকিল মাথা নত করে বলল,
—“বাবা, আমি ওকে সবসময় ভালো রাখার চেষ্টা করব।”
চারপাশে কান্নার শব্দ ছড়িয়ে পড়ল।
নাসরিন সুলতানার চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছে।
মিথিলা, তাহমিনা, জফিরা—সবাই চোখের পানি মুছছেন।
জেরিন মেরিনকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল।
নাওরিন আর কান্নায় ভেঙে পড়ল।
ফারিয়া মেরিনকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
—“আপু, আমাকে ভুলে যেও না।”
মেরিন ফারিয়ার মাথায় হাত রেখে বলল,
—“তোকে কীভাবে ভুলব বল?”
রাফিদও এক পাশে দাঁড়িয়ে চোখ মুছছিল।
জাহিদ চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল।
সেও মেরিনকে খুব ভালোবাসে।
বোনকে বিদায় দেওয়ার কষ্টে তার চোখেও পানি জমে উঠল।
মেরিন গাড়িতে উঠে বসার আগে শেষবারের মতো পুরো খান বাড়ির দিকে তাকাল।
তারপর সবার দিকে হাত নাড়ল।
গাড়ি ধীরে ধীরে গেট পেরিয়ে চলে গেল।
সবাই অনেকক্ষণ গেটের দিকে তাকিয়ে রইল।
যে বাড়িটা কিছুক্ষণ আগেও হাসি আর আনন্দে মুখর ছিল—
সেই বাড়িতেই এখন শুধু কান্নার রেশ।
ফারিয়া চোখের পানি মুছতে মুছতে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।
আর একটু দূরে জাহিদও তাকিয়ে ছিল তার দিকে।
আজকের দিনে কত হাসি, কত আনন্দ, কত নতুন সম্পর্কের শুরু হলো।
কিন্তু তাদের দুজনের গল্প?
সেটা এখনও শুরুই হয়নি।
শুধু দুজনের চোখে চোখে জমে উঠছে এক অদ্ভুত অনুভূতি—
যার নাম কেউ এখনও মুখে আনেনি।
চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৯ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন