ফন্ট সাইজ:
থিম:
অন্তহীন প্রেম আমার

১৩তম পর্ব

লেখক: Afifa Afnan

#অন্তহীন_প্রেম_আমার

#আফীফা_আফনান

#পর্ব_১৩

[কপি করা নিষিদ্ধ]

আষাঢ়ের বিকেলটি যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব রণসজ্জা নিয়ে হাজির হয়েছে। বর্ষার শুরুটা যে এতটা মায়াবী আর একইসাথে প্রলয়ঙ্করী হতে পারে, তা খন্দকার বাড়ির ছাদ থেকে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগেই আকাশটা গাঢ় নীলাভ-কালো মেঘে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। সকাল থেকেই মেঘলা আকাশের যে থমথমে ভাব ছিল, তা চিরে হঠাৎ করেই বইতে শুরু করল মিষ্টি শীতল বাতাস। সেই বাতাসে ছিল ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ আর কদমের রেণুর ঘ্রাণ। চারপাশের গাছগাছালিগুলো যেন প্রবল তৃষ্ণায় চাতকের মতো আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। মনোরম এক নিস্তব্ধতা যেন চারপাশকে আষ্টেপৃষ্টে ঘিরে ধরেছে, যা কেবল এক ঝুম বৃষ্টির আগমনের সংকেত দিচ্ছিল।

​

হঠাৎ করেই সেই মেঘলা আকাশ চিরে নামল বৃষ্টির অবাধ্য ধারা। কোনো হালকা ঝিরঝিরে বৃষ্টি নয়, বরং আকাশের বুক চিরে যেন সহস্র ঝর্না একসাথে পৃথিবীর বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ল। বৃষ্টির সেই বারিধারা যেন নিমিষেই ধরণীর তপ্ত বুককে শীতল করে দিল। কাঠের গোল ঘরের টিনের চালে বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ আর ছাদের ফ্লোরের ওপর বড় বড় ফোঁটার পতনের শব্দ মিলেমিশে এক অদ্ভুত জলতরঙ্গ সৃষ্টি করল। খোলা আকাশের দিকে তাকালে মনে হচ্ছিল, পুরো পৃথিবীটা এক ঝাপসা ধোঁয়াটে পর্দার আড়ালে ঢাকা পড়ে আছে।

​খন্দকার বাড়ির উঠোনে বৃষ্টির পানি জমে আয়নার মতো হয়ে উঠল, যেখানে মেঘলা আকাশের বৃষ্টির ফোটার প্রতিচ্ছবিটি দৃশ্যমান। ছাদের কেনায় দাঁড়িয়ে থাকা রুহি দেখছিল, কীভাবে বর্ষার প্রথম ধারা ধরণীর বুক থেকে জমেথাকা ধুলিকণা সরিয়ে গাছগুলোকে গাঢ় সবুজ সতেজতায় ভরিয়ে দিচ্ছে। এই শীতল বাতাস রুহির মনের ভেতরের সেই বিকেলের তপ্ত ক্ষোভটাকেও যেন কিছুটা জুড়িয়ে দিচ্ছিল।

​বর্ষার এই উদ্দামতা যেন বার্তা দিচ্ছির—পুরনো যা কিছু ধুলোবালি আর গ্লানি, সব ধুয়ে মুছে নতুন এক গল্পের সূচনা হতে চলেছে কারো জীবনচক্রে।

আষাঢ়ের সন্ধ্যাটিতে খন্দকার বাড়ির ইতিহাসে যেন এক নতুন মায়াবী কাব্যের সূচনা করল। নিচে যখন পিয়াসের ফেরার খবরে বাড়ির প্রতিটি মজনুষের মনে আনন্দের হিল্লোল বইছে, রুহি তখন নিজেকে আড়াল করে নিল ছাদের নির্জনতায়।

​

সন্ধ্যা নামার পরে রুহি যখন নাস্তা করতে ডাইনিংএ ছিলো তখনই পিয়াসের আগমনী বার্তার খবর ভেসে আসে ,পিয়াসের ফেরার খবরে সে কি আনন্দ উল্লাস! মেজো মার ছেলে, বাড়ির আদরের সন্তান ফিরছে দীর্ঘ কয়েক বছর পর। কিন্তু রুহির মধ্যে এর কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া নেই। পিয়াসের আসার খবরে রুহির ভেতর তেমন কোন ভাবাবেগ হলো না।পিয়াস ফিরবে, এতে তার কি আসে যায়? তার কাছে পিয়াসের চ্যাপ্টার বহু আগেই সারা জীবনের মতো বন্ধ হয়ে গেছে। পিয়াস এখন তার কাছে স্রেফ মেজো মা আর মেঝ আব্বুর ছেলে আর কাব্যের মতোই ভাই—এর বেশি কোনো পরিচয় রুহির মনের কোণে অবশিষ্ট নেই। রুহি আপনমনে নাস্তা সেড়ে চুপচাপ সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলো, কিন্তু সে আর রুমে না ফিরে উল্টো ছাদের দিকে পা বাড়ালো!

​রুহি যখন ছাদে পা রাখল, চারপাশের তখন বৃষ্টির আগমনী বার্তা নিয়ে মৃদু ঠান্ডা বাতাসের ছড়াছড়ি। রুহি ছাদে ঢুকেই চারদিকে একবার নজর বুলালো, ছাদের পরিবর্তনগুলো এখন যে কারও চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। আগের সেই চেনা ছাদ থাকলেও এখন সেখানে যুক্ত হয়েছে অসংখ্য নাম জানা ও অজানা ফুলের গাছ। বলতে গেলে, ছাদের অর্ধেকেরও বেশি এখন রুহির দখলে। শুধু ছাদ কেন, বাড়ির উঠানেও এখন রঙ্গন, হরেক রকম বাগান বিলাশ ও পাতাবাহার আর দৃষ্টিনন্দন আউটডোর গাছের মেলা। সবগুলো রুহির নিজ হাতে রোপন করা। রুহির সংগ্রহে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির রং বেরঙের গোলাপগুলো যেন এই বাগানের মূল্যবান অলঙ্কার। বাড়ির সদর গেইটের পাশে থাকা বর্ষায় ফোটা কামিনী আর হাসনাহেনার সুগন্ধে পুরো বাড়ি সহ ছাদ এখন যেন মাতোয়ারা। এই বিশাল সংগ্রহের বেশিরভাগই তাকে ভালোবেসে এনে দিয়েছেন বড় আব্বু মোস্তফা কামাল ও কিছু কাব্য আর রিমু-রুবির দেওয়া, আর বাকিটা এই ক'বছরে সে নিজের জমানো পকেট খরচ দিয়ে তিল তিল করে গড়ে তুলেছে। ফুলের প্রতি তার এই মারাত্মক আসক্তির কথা বাড়ির সবাই জানে; তাই তো সপ্তাহখানেক আগে ছোট্ট মুগ্ধ তার স্কুলের পাশের বাগান থেকে নিজের জমানো টাকায় বোনের জন্য দুটো ছোট চারা কিনে এনেছিল। রুহি সেদিন ভাইয়ের কাণ্ড দেখে অবাক আর খুশি দুই-ই হয়েছিল, পরে দুই ভাইবোন মিলে পরম মমতায় চারাগুলো টবে লাগিয়েছে। রুহির মনে হলো নিচের ওই হইচইয়ের মাঝে নিজেকে না রেখে সে ছাদের এই শান্তি বেছে নিয়েই ঠিক করেছে।

​

বছরখানেক আগে ছাদের কিনারা ঘেঁষে একটি কাঠের গোল বৈঠকঘর তৈরি করে দিয়েছেন মোস্তফা কামাল। যেখানে আগে শুধু দোলনা ছিল, এখন সেখানে কাঁচ আর কাঠের আভিজাত্য। রুহির এস.এস.সির সময় প্রায় রুহি, রুবি আর রিমু রাতে পাটি বিছিয়ে ছাদে পড়তে বসতো, তাই আদরের মেয়েরা যেন রাতে ছাদে নিরিবিলিতে পড়াশোনা করতে পারে, সেই সুবিধা নিশ্চিত করতেই মোস্তফা কামাল সাহেব এটি বানিয়ে দিয়েছেন। এখন গ্রীষ্ম, বর্ষা বা শীত—যাই হোক না কেন, এই ঘরটি তাদের আড্ডার এক সুরক্ষিত স্থান ।

​

রুহি যখন মনোযোগ দিয়ে তার গাছগুলো এক নজর পরিদর্শন করছিল, ঠিক তখনই আকাশে বিদ্যুৎ চমকে উঠল। মেঘের গর্জন ছাপিয়ে শুরু হলো ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। রুহি কোনোমতে দৌড়ে সেই গোল ঘরের ভেতর গিয়ে ঢুকল। কিন্তু বৃষ্টির তোড় এতই বেশি ছিল যে, তার ঢোলাঢালা পোশাকের কিছুটা অংশ ভিজে গেল। রুহি হাত দিয়ে নিজের শরীরে ছড়িয়ে থাকা বৃষ্টির জলকণাগুলো আলতো করে মুছে নেওয়ার চেষ্টা করল।

​রুহি শরির ঝেড়ে সেই গোল বৈঠকখানার একদম কোণায় গিয়ে দাঁড়াল। ঘরের চারপাশ ঘিরে ছোট ছোট টবে সাজানো রঙ-বেরঙের পর্তুলিকা ও রেইন লিলি ফুলগুলো বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটায় যেন মাতাল নৃত্যে মেতেছে। এই বৃষ্টি যেন কেবল জল নয়, বরং অতীতের সকল গ্লানি, বিকেলের সেই বখাটে ছেলের অসভ্য স্পর্শ আর দীর্ঘদিনের জমে থাকা দুঃখ-কষ্ট ধুয়ে মুছে সাফ করে দেওয়ার এক মহৌষধ।

​আঠারো বছরের এই পূর্ণ যুবতী যখন হাত বাড়িয়ে বৃষ্টির প্রথম শীতল জলকণা ছুঁয়ে দেখল, তার মনের গহীনে এক অদ্ভুত আলোড়ন সৃষ্টি হলো।

বৃষ্টি এবং ভালোবাসা যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। আষাঢ়ের এই প্রথম বৃষ্টি যখন রুহির মতো কোনো যুবতীর মনে নাড়া দেয়, তখন প্রকৃতি যেন নিজের ভাষায় কিছু প্রেমের কথা বলে ওঠে।

"বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা যেন এক একটি গোপন প্রেমের বার্তা, যা আকাশ থেকে ঝরে পড়ে ধরণীর তৃষ্ণা মেটাতে।"

প্রথম বৃষ্টির সেই স্পর্শে রুহির চোখ দুটি বুজে এল। সে অনুভব করল, তার জীবনের রুদ্ধ দ্বারে যেন কোনো নতুন অতিথি কড়া নাড়ছে। এই বৃষ্টি কেবল ধরণীকে ভেজাচ্ছে না, বরং রুহির মতো এক দৃঢ়চেতা তরুণীর মনেও নতুন কিছুর অঙ্কুরোদগম ঘটাচ্ছে।

​বাইরে ঝমঝম শব্দে প্রকৃতি গাইছে নতুনের গান। রুহি মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে রইল সেই বৃষ্টির দিকে প্রতিটি ফোটার তরঙ্গে —যেখানে মুছে যাচ্ছে সব পুরনো স্মৃতি, আর জন্ম নিচ্ছে এক অদেখা রোমাঞ্চের হাতছানি।

এই আষাড়ের প্রথম বারিধারাতে রুহি বৃষ্টি বিলাশ করতে করতেই আনমনেই মুচকি হাসলো, অতপর বলে উঠলো,

"খোলা আকাশ গাইছে বৃষ্টির একলা গান,

হৃদয় জুড়ে বইছে কোনো অজানার টান।

সবটুকু গ্লানি আজ হয়ে যাক শেষ,

বৃষ্টির ছোঁয়ায় জাগুক প্রণয়ের রেশ।"

ছন্দটি আওড়ানোর পর রুহির মুখে যে প্রশান্তি ফুটে উঠল, তা যেন আষাঢ়ের মেঘমুক্ত চাঁদের মতো স্নিগ্ধ। এই ১৮ বছরের পূর্ণ তরুণীর রূপ বৃষ্টির আবহে এক অন্যমাত্রায় পৌঁছেছে। ছন্দটির প্রতিটি শব্দ উচ্চারণ করার সময় রুহির টানা টানা ডাগর চোখ দুটি আধো-বোজা ছিল। ঘন কালো পাপড়িগুলো বৃষ্টির ছাঁটে সামান্য ভিজে একে অপরের সাথে লেপ্টে আছে। যখন সে চোখ খুলল, সেই গভীর বাদামী মণি দুটোতে এক অদ্ভুত মায়া আর অজানার প্রতি এক নিঃশব্দ আহ্বান ফুটে উঠল।

রুহি যখন গোল ঘরের কোণায় দাঁড়িয়ে বাইরের বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ছিল, তখন তাকে দেখে মনে হচ্ছিল কোনো দক্ষ শিল্পীর আঁকা এক জীবন্ত ক্যানভাস। তার চেহারায় এখন আর সেই বিকেলের রাগ বা ঘৃণা নেই, বরং সেখানে জায়গা করে নিয়েছে এক শান্ত গম্ভীরতা আর আসন্ন কোনো প্রেমের অদেখা স্পন্দন। খন্দকার বাড়ির এই ‘অগ্নিকন্যা’যেন মুহূর্তের মাঝেই এক ‘স্বপ্নসুন্দরী’তে রূপান্তর হয়েছে।

********

আষাঢ়ের সেই ঝমঝম বৃষ্টির মাঝে গোল বৈঠকখানায় দাঁড়িয়ে থাকা রুহির ধ্যান ভাঙল ছোট ভাই মুগ্ধর ডাকে। বৃষ্টির বেগ এখন কিছুটা কমলেও বারিধারা তখনো শান্ত হয়নি।

রুহির আদরের ছোট ভাই মুগ্ধ, সে যেন রুহির ছায়াসঙ্গী। মুগ্ধ হন্তদন্ত হয়ে ছাদে উঠে এলো, হাতে তার রুহির দেওয়া চলকেটের বাকি অংশ যা না খেয়ে পকেটে যত্নে রেখেছিলো। মুগ্ধ দরজার আড়াল থেকে চেঁচিয়ে উঠল,

"আপুই! ও আপুই!"

রুহি বৃষ্টির শব্দে প্রথমে খেয়াল না করলেও মুগ্ধ যখন জোর গলায় বলল, "রুহিপু, কখা বলছো না কেন, শাহাজ ভাইয়া মেছেজ করেছে, জলদি এসো!"—শাহাজ ভাই শব্দটি কর্নগোচর হতেই রুহি পুরো পৃথিবী যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।

​সে বিদ্যুৎবেগে পেছন ফিরে তাকাল। মুগ্ধ হাত নেড়ে ইশারা করছে নিচে যাওয়ার জন্য। রুহি বৃষ্টির তোড় উপেক্ষা করেই দৌড়ে ছাদের দরজার কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, "তুই কী করে জানলি যে শাহাজ ভাই মেসেজ করেছে?"

​মুগ্ধ বোকা বোকা হাসি দিয়ে বলল, "আমি কম্পিউটারে গেম খেলছিলাম, তখনই দেখলাম মেসেজ এসেছে।" রুহি ছোট ভাইয়ের ওপর মেকি রাগ দেখিয়ে বলল, "পড়তে না বসে গেমস খেলছিলি? মা দেখলে আজ তোর পিঠের ওপর কিল মেরে আলু গজিয়ে দিত!" কথাটি বলেই রুহি আর এক মুহূর্ত দাঁড়াল না; ভিজে কাপড়েই বড় বড় পা ফেলে প্রায় দৌড়েই নিচে নিজের স্টাডি রুমে চলে এল।

​

রুহি স্টাডি রুমে ঢুকে ধপ করে কম্পিউটারের সামনের চেয়ারে বসল। এই কম্পিউটারটি আগে শাহাজের রুমে ছিল, কিন্তু সে চলে যাওয়ার কিছুদিনপর একদিন হঠাৎ কাব্য এটি রুহিদের রুমে শিফট করে দেয়। শুধু রুহি নয়, রুবি রিমু সবাই এটি ব্যবহার করে, আর শাহাজ দিনের বিশেষ একটি সময়ে নিয়ম করে এর মাধ্যমেই রুহির সাথে যোগাযোগ রাখে। একে তো সন্ধ্য্য় গোসল করেছে তার ওপর ভিজে কপড়ে রুহির শরির কাপছে, কাঁপাকাঁপা হাতে মেসেজ অপশন অন করতেই রুহির চোখ দুটি খুশিতে চিকচিক করে উঠল।

​"আমার শহরে বদলি হয়েছে। খুব শীঘ্রই আমি ফিরছি।"

​রুহি বিশ্বাস করতে পারছিল না। রুহি মেছেজটি পড়লো একবার, দুবার তিনবার, বারবার মেসেজটি পড়ল। তার কল্পনাও ছিল না শাহাজ ভাই এত তাড়াতাড়ি শহরে ফিরবেন।

সে দ্রুত কিবোর্ড টাইপ করল, "আপনি সত্যি বলছেন শাহাজ ভাই? আপনি কি সত্যিই শহরে ফিরছেন?"

​ওপাশ থেকে ছোট কিন্তু অকাট্য উত্তর এল, "হুম।"

​রুহির ঠোঁটের কোণে জয়ের হাসি ফুটে উঠল। সে জানে শাহাজ ভাই কোনোদিন মিথ্যে বলেন না। সে আবার টাইপ করল, "আমি এখনই বড় আম্মুকে জানাচ্ছি যে আপনি আসছেন!"

​মেসেজ পাঠানোর এক সেকেন্ডের মাথায় ফিরতি বার্তা এল—"দরকার নেই।"

রুহি উঠতে গিয়েও থমকে বসল। ওপাশ থেকে আবার লেখা উঠল, "আমি তোকে মেসেজ দিয়েছি ঠিক ৭ মিনিট আগে। তোকে মেসেজ দেওয়ার পরপরই আমি মাকে ফোনে সব জানিয়ে দিয়েছি। ইতিমধ্যে হয়তো বাসার সবাই আমার শহরে ফেরার কথা জেনে গেছে।"

​রুহি একটু লজ্জিত হয়ে রিপ্লাই করল, "আসলে আমি ছাদে ছিলাম, বৃষ্টি নামায় নিচে নামতে পারিনি।"

রুহি একটু ভাবলো, তারপর ঠোটের কোনে মিষ্টি হাসি ঝুলিয়ে অনেক আশা নিয়ে টাইপ করল, "শাহাজ ভাই, আপনি কি এবার বাড়ি ফিরবেন?" রুহি একবুক আশা নিয়ে উত্তরের অপেক্ষায় ছিলো।

​কিন্তু ওপাশ থেকে নিমেষেই উত্তর এল—"না।"

মুহূর্তেই রুহির হাসিটা মিলিয়ে গিয়ে সেখানে বিষণ্ণতার কালো মেঘ জমে উঠল। সে ভাঙা মনে আবার লিখল, "কেন শাহাজ ভাই? আপনার কি আমাদের দেখতে মন চায় না? বড় আম্মু আপনার কথা ভেবে সবার আড়ালে কাঁদে, আপনি জানেন? সবাই আপনাকে কতটা মিস করে!"

​রুহির মেসেজ পাঠানোর ঠিক পরেই স্ক্রিনে ভেসে উঠল এক অকল্পনীয় প্রশ্ন—"সবাই মিস করে, আর তুই?"

​রুহি স্থবির হয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল। তার হৃদপিণ্ড যেন পাঁজরের হাড় ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইছে। সকল জড়তা কাটিয়ে সরল মনেই সে উত্তর পাঠাল, "আমিও মিস করি তো।"

মেসেজটি পাঠিয়েই সে কৌতূহলী হয়ে আবার লিখল, "আচ্ছা শাহাজ ভাই, আপনি কি চেহারা পরিবর্তন করেছেন? কোনো সার্জারি করে কি চেহারা চেঞ্জ করে নিয়েছেন? যদি না করেন, তবে কেন বাড়ি আসেন না?"

​ওপাশ থেকে রহস্যময় উত্তর এল, "তোর যা খুশি মন চায় ভেবে নিতে পারিস।"

​ব্যাস! এরপর আর কোনো বার্তা এল না। শাহাজ অফলাইনে চলে গেছে। রুহির প্রচণ্ড অভিমান হলো। সে গাল ফুলিয়ে বিড়বিড় করে বলল, "যাও, আর কোনোদিন কথা বলব না তোমার সাথে!" কিন্তু সে নিজেও জানে, এই প্রতিজ্ঞা কতটুকু ভঙ্গুর। প্রতিবারই শাহাজের ওপর রুহি এমনই অভিমান করে, নিজেরর সাথে প্রতিজ্ঞা ও করে কথা না বলার, কিন্তু আবার যেই না শুনেছে শাহাজের মেসেজ এসেছে, সেই খবরে সব মান-অভিমান ভুলে বেহায়ার মতো কম্পিউটারের সামনে এসে বসে।

**********

আজকের রাতের পরিবেশটা খন্দকার বাড়িতে একদম ভিন্ন। সাধারণত রুহিকে খাবার টেবিলে খেতে বসার জন্য দু-তিনবার ডাকতে হয়, কিন্তু আজ সে সবার আগেই উপস্থিত। তার চোখেমুখে এক অপার্থিব দ্যুতি। বাড়ির সবার মাঝে খুশির খবরটা ছড়িয়ে পড়েছে—একই দিনে পিয়াস আর শাহাজ দুজনই শহরে ফিরছে। পিয়াসের আসার খবরে রুহির মনে কোনো ঢেউ না খেললেও, তার শাহাজ ভাই ফিরছে—এই একটি সংবাদই তাকে খুশির সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে।

​রুহি ঠিক এতটাই খুশি হয়েছিল আজ থেকে তিন বছর আগে। সেই দিনটির কথা মনে পড়লে আজও রুহির ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে ওঠে।

​

​সেদিন ছিল তপ্ত এক কাঠফাটা দুপুর। বাড়ির গিন্নিরা যখন দুপুরের খাবারের তোড়জোড় করছিলেন, ঠিক তখনই মিষ্টির হাঁড়ি হাতে বাড়িতে প্রবেশ করেন মোস্তফা কামাল ও শাহাবুদ্দিন সাহেব। মোস্তফা কামালের চেহারা স্বাভাবিক থাকলেও শাহাবুদ্দিনের মুখে ছিলো বিজয়ের হাসি। শাহাবুদ্দিন সাহেব মিষ্টির প্যাকেট গুলো বড় ভাবি তানজিনা বেগমের হাতে দিয়ে বললেন, "ভাবি, জলদি সবাইকে মিষ্টি মুখ করান!"

​তানজিনা বেগম অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "এত মিষ্টি কেন শাহেব? ব্যবসায়ে কি কোন লাভ হলো কি? নাকি কোনো বড় খুশির খবর আছে?"

​শাহাবুদ্দিন সাহেব বড় ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে সহাস্যে বললেন, "খুশির খবর নয় ভাবি, বলো মহা খুশির খবর! আমাদের শাহাজের চাকরি হয়েছে। আজই তার জয়েনিং, সে এখন বড় ভার্সিটিতে লেকচারার হতে চলেছে। ও আমাদের সকলকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিল তাই আগে জানায়নি , আজ জয়েন করে আমায় ফোন করেছে, আর বলেছে মিষ্টি নিয়ে খবরটা তোমার কাছে পৌঁছে দিতে।"

​সেদিন খন্দকার বাড়িতে যেন খুশির বন্যা বয়ে গিয়েছিল। রুহি সেসব কথা ভেবেই আপন মনে মুচকি হাসলো।বাড়ির অন্য সদস্যরা যখন খুশিতে গদোগদো, তখন সবার হাসির আড়ালে তানজিনা বেগমের মুখটা কেমন যেন একটু ম্লান হয়ে গিয়েছিল। রুহির তীক্ষ্ণ নজর সেটা এড়ালো না।

মমতাজ বেগম, মোস্তফা কামাল, শাহরিয়ার কবির ও শাহাবুদ্দিন সহ বাকি ​সবাই যখন খেতে বসলেন, রুহি তখন তানজিনা বেগমকে সরাসরি প্রশ্ন করে বসল, "বড় আম্মু, তোমার চেহারা এমন কেন? "শাহাজ ভাই শহরে ফিরছে, তোমার কাছে আসছে, তুমি কি খুশি হওনি?"

​তানজিনা বেগম নিজেকে সামলে নিয়ে মুচকি হেসে বললেন, "খুশি হবো না কেন রে মা? আমার ছেলে ফিরছে, বড় ভার্সিটির লেকচারার হয়ে, আমি তো ভীষণ খুশি।" এরপর স্বামীর দিকে একবার আড়চোখে তাকিয়ে গভীর আবেগে বললেন, "কিন্তু এর চাইতেও বেশি খুশি আমি সেদিন হব, যেদিন আমার নাড়ি ছেঁড়া ধন এই বাড়িতে ফিরে এসে নিজের রুমে ঘুমাবে।"

​মোস্তফা কামাল সাহেব খাওয়া থামিয়ে দিলেন। তিনি স্ত্রীর দীর্ঘদিনের জমে থাকা অভিমানটা বুঝতে পারলেন। তখনই পাশ থেকে নাসরিন বেগম এগিয়ে এসে বড় জাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, "আমাদের শাহাজ খুব শীঘ্রই বাড়ি ফিরে আসবে ভাবি, দেখে নিও। শহরে যেহেতু ফিরেছে, আল্লাহ চাইলে বাড়িতে ফিরতে আর কতক্ষণ!"

​তানজিনা বেগম একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আবার সবার পাতে খাবার বেড়ে দিতে লাগলেন। রুহির কাছে আসতেই মাংসের সবচাইতে বড় পিসটা পরম মমতায় তার পাতে তুলে দিলেন। রুহিও বড় আম্মুর দিকে তাকিয়ে এক চিলতে মিষ্টি হাসি দিল।

​আসলে তানজিনা বেগম আর রুহিকে হঠাৎ দেখে, কখনোই কেউ বিশ্বাস করবে না যে রুহি তার জা-য়ের মেয়ে। তাদের এই মা-মেয়ের বন্ধনটা রক্তের সম্পর্কের চেয়েও গভীর। রুহির ছোট ছোট সব খুশি আর অভিমান যেন তানজিনা বেগমের আঁচলেই বাঁধা।

​

***********

রাতের নিস্তব্ধতা খন্দকার বাড়িতে জেঁকে বসেছে। ডাইনিং রুমের সেই হইচই শেষে সবাই এখন নিজ নিজ কক্ষে বিশ্রামে। কিন্তু তিন বোনের ঘরে ঘুমের লেশমাত্র নেই। পড়াশোনা আর শাহাজ-পিয়াসের ফেরার খবর যেন তাদের চোখে ঘুম কেড়ে নিয়েছে।

রুহির রুমে ​বিছানার এক কোণে শুয়ে শুয়ে রুবি মগ্ন হয়ে ফোন চালাচ্ছে। ভার্সিটিতে ওঠার পর ছোট চাচা শাহাবুদ্দিন সাহেব নিজে সাথে করে নিয়ে গিয়ে রুবি আর রিমুকে তাদের পছন্দমতো লেটেস্ট মডেলের স্মার্টফোন কিনে দিয়েছিলেন। রুবি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুদের সাথে পিয়াসের ফেরার খবর শেয়ার করতে ব্যস্ত। অন্যদিকে, রিমু তার স্বভাবজাত গাম্ভীর্য নিয়ে চোখের চশমাটা নাকের ডগায় এঁটে গভীর মনোযোগে টেক্সট বইয়ের পাতায় চোখ বুলিয়ে যাচ্ছে; পড়াশোনার ক্ষেত্রে সে বরাবরই আপসহীন।

​

​তবে সবার চেয়ে আলাদা মেজাজে আছে রুহি। সে বিছানায় পিঠ ঠেকিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী উপন্যাস **'শেষের কবিতা'**র পাতায় ডুবে আছে। রুহির পড়ার ধরনটাই এমন—সে বই পড়ে না, বরং বইয়ের চরিত্রগুলোর সাথে মিশে যায়। উপন্যাসের প্রতিটি ছন্দের সাথে সাথে রুহির মুখাবয়বে যে পরিবর্তন আসছিল, তা ছিল দেখার মতো:

​যখন সে অমিত আর লাবণ্যের প্রথম দেখার বর্ণনা পড়ছিল, রুহির দুই ঠোঁটের কোণে এক চিলতে মায়াবী হাসি ফুটে উঠল। তার চোখের মণি দুটো উজ্জ্বল হয়ে গেলো , যেন সে নিজেই সেই মেঘশৈল পাহাড়ের বাঁকে দাঁড়িয়ে আছে।

​অমিত যখন বলছে—"যাকে পাওয়ার তাকে ছেড়ে দেওয়াই বড় পাওয়া", তখন রুহির ভ্রু দুটো কুঁচকে এল। সে বইটা বুকের ওপর চেপে ধরে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ ভাবল। হয়তো তার অবচেতন মন কিছু নিয়ে ভাবনায় মত্ত।

​উপন্যাসের শেষ দিকে যখন লাবণ্য বলছে—"মোর লাগি করিও না শোক, আমার রয়েছে কর্ম, আমার রয়েছে বিশ্বলোক", তখন রুহির চোখে জল চিকচিক করে উঠল, আবেগে মজে গিয়ে সে শুধু এক দীর্ঘশ্বাস ফেললো।

​বাইরে তখন আবারও ঝিরঝিরে বৃষ্টি হচ্ছে। বইয়ের পাতা উল্টানোর শব্দের মাঝে রুহি একনজর জানালা ভেদ করে বাহিরে তাকালো, যেখানে আকাশের বিজলি স্পষ্ঠ, রুহি বিড়বিড় করে অমিতের সেই বিখ্যাত লাইনটি আপন মনে আওড়ালো—"পথের শেষে যার সাথে দেখা হবে, সে তো আমি নই।"

*********

রাতের নিস্তব্ধতা বাড়তে বাড়তে একসময় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হলো খন্দকার বাড়ি। উপন্যাসের পাতায় অমিত-লাবণ্যের প্রেম আর বিরহের ছন্দে ডুব দিতে দিতে রুহি কখন যে বইটা বুকের ওপর রেখেই ঘুমিয়ে পড়েছে, সে নিজেও জানে না। রিমুর পড়াশোনা শেষ হতে হতে প্রায় রাত একটা। রুবিও বোনের জন্য জেগে ছিল। রুম থেকে বের হওয়ার আগে রুবি আর রিমু দেখল রুহি অঘোরে ঘুমাচ্ছে। রিমু পরম মমতায় রুহির গায়ের ওপর একটি পাতলা চাদর টেনে দিল, আর রুবি সন্তর্পণে লাইটটা অফ করে দিয়ে বাইরে থেকে দরজা আটকে তারাও নিজেদের রুমে চলে গেল।

​পরদিন সকালে এক মিষ্টি রোদেলা আকাশ দেখা দিল। সারাটা সকাল বাড়িতে বয়ে গেল খুশির আমেজ। পিয়াসের ফিরে আসার খবরে ইুাছমিন বেগম নাসরিন বেগম আর তানজিনা বেগমের ব্যস্ততার শেষ নেই। বিভিন্ন ধরনের পিঠার আয়োজন চলছে, সেই সাথে পিয়াসের নানাবাড়িতেও খবর পৌছানো হলো। সবার হাসিখুশি মুখের ভিড়ে রুহিও নিজের আনন্দটুকু লুকিয়ে রেখে স্বাভাবিক কাজকর্ম করে গেল। সারাটা সকাল এভাবেই কাটলো।

​

​বিকেল হতে হতে রুহি কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়ল। রাস্তার মোড়ে আগে থেকেই বিন্তি তার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল। প্রতিদিনের মতো দুজন একে অপরের হাত ধরে গল্প করতে করতে হাঁটতে শুরু করল। কিছুদূর যাওয়ার পর বিন্তি নিচু স্বরে রুহিকে বলল, "দোস্ত, কালকের ওই ছেলেগুলো যদি আজকেও কোনো ঝামেলা করে? আমার কিন্তু খুব ভয় করছে।"

​রুহির মনেও কালকের সেই হুমকির কথা বারবার বাজছিল—ছেলেটা শেষের দিকে বলেছিল তাকে দেখে নেবে। কিন্তু রুহি বাইরে ভয় প্রকাশ করল না। সে ব্যাগটা কাঁধে ঠিক করে নিয়ে বলল, "হাঁটতে থাক, যা হওয়ার দেখা যাবে।"

হাটতে হাটতে দুজনই ​কোচিংয়ের প্রায় কাছাকাছি পৌঁছাতেই রুহির বুকটা ধক করে উঠল। গতকালকের সেই বখাটের দলটা ঠিক সেখানেই রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের মাঝে সেই বড় ভাইটিও উপস্থিত। রুহি রাগে দাঁতমুখ শক্ত করে নিল; কালকের সেই অপবিত্র স্পর্শের কথা মনে পড়তেই তার ঘেন্না লাগছে। বিন্তি আতঙ্কে রুহির হাত শক্ত করে চেপে ধরল এবং চারপাশে দেখতে লাগলো, কারন যদি কোন সমস্যা হয় যাতে অন্তত পালানোর রাস্তা পায়।

রুহিও বিন্তু টমচু করে দাড়িয়ে আছে, রুহি তার ব্যাগটা আলতো খুলে পেপার স্প্রে হাতে তৈরী, ততক্ষনে ​ছেলেগুলো এগোতে শুরু করল। রুহি যখন কঠিন কিছু বলার জন্য তৈরি হচ্ছে, ঠিক তখনই সেই পাতি নেতা বড় ভাইটি রুহির সামনে এসে একদম নরম হয়ে দাঁড়াল। রুহিকে অবাক করে দিয়ে সে ভয়ার্ত গলায় বলে উঠল, "আসসালামু আলাইকুম আপুমনি! কেমন আছেন?"

​রুহি আর বিন্তি একে অপরের দিকে তাকাল। তারা ভেবেছিল হয়তো কোনো অসভ্যতামি হবে, কিন্তু ছেলেটার এই ভোলবদল যেন অবিশ্বাস্য! ছেলেটি আবার কাঁচুমাচু হয়ে বলল, "কালকের আচরণের জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত আপু। আসলে আমি বুঝতে পারিনি আপনি কে।

বিন্তি যেন স্তব্ধ, সেই সাথে রুহিও, ছেলেটি তাদের আরেকদফা অবাক করে বলে উঠলো আপনিও মুসলমান, আমিও মুসলমান—আজ থেকে আপনি আমার ধর্মের বোন। এই এলাকায় কেউ যদি আপনাদের দিকে আঙুল তোলে বা বেয়াদবি করে, এই ভাইকে একবার স্মরণ করবেন; জন্মের মতো শিক্ষা দিয়ে দেব।"

​রুহি আর বিন্তি যেন আকাশ থেকে পড়ল। হঠাৎ এই ‘ভাই’ সম্বোধন আর এতো নমনীয়তা কেন? রুহি সূক্ষ্ম নজরে ছেলেটার আপাদমস্তক পর্যবেক্ষণ করতেই দেখল—ছেলেটির সেই হাতটিতে, যা দিয়ে সে গতকাল রুহিকে ধরেছিল, সেখানে অদ্ভুৎ ভাবে এখন সাদা প্লাস্টার করা!

​রুহি কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল, "আপনার হাতে কী হয়েছে? কালকে তো ঠিকই ছিল।"

​ছেলেটি অপ্রস্তুত হয়ে হাতটি পেছনে আড়াল করার চেষ্টা করে বলল, "আসলে আপু... ওই গোবরের ওপর পাড়া দিয়ে পিছলে পড়ে গিয়েছিলাম তো, তাই একটু চোট পেয়েছি।"

​বিন্তি অবাক হয়ে বলল, "শহরের পিচঢালা রাস্তায় আপনি দিনদুপুরে গোবর কোথায় পেলেন? আর কালকের বৃষ্টিতে তো গোবর থাকার কথা না!"

​ছেলেটি শুকনো ঢোক গিলে দাঁত কেলিয়ে বলল, "মাটি... মানে ভেজা মাটি ছিল তো, ওখানেই পড়ে গেছি।"

​রুহি কিছু বলার আগেই ছেলেটি তার সাঙ্গোপাঙ্গদের আদেশ দিল, "এই! তোরা আপামণিদের সসম্মানে কোচিং পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আসবি, যাতে পথে কোনো অসুবিধা না হয়।"

​রুহি অনেক বাধা দিল, "আমাদের কারো প্রয়োজন নেই, আমরা একা যেতে পারব।" কিন্তু তারা যেন আজ রোবটের মতো আজ্ঞাবহ। ছেলেগুলো রুহি আর বিন্তির থেকে বেশ কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে একদম বডিগার্ডের মতো কোচিং পর্যন্ত সাথে গেল এগিয়ে দিতে।

​কোচিংয়ের গেটে পৌঁছে বিন্তি বিস্ময়ভরা চোখে রুহিকে জিজ্ঞেস করল, "কিরে দোস্ত, এটা কী হলো? কী ভাবলাম আর হলোটা কী!"

​রুহিও ঘোরের মধ্যে ছিল। সে শুধু বিড়বিড় করে বলল, "আমিও বুঝতে পারছি না। এক রাতে মানুষের এত বড় পরিবর্তন হয় কীভাবে?"

চলবে_______

রেসপন্স করবেন 😊

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন