ফন্ট সাইজ:
থিম:
টালমাটাল মনটা , শুধু তোমায় পেতে চায়

২য় পর্ব

লেখক: ঐশী বিশ্বাস

#চলমান

পাঠ : 2
উপন্যাস : টালমাটাল মনটা , শুধু তোমায় পেতে চায় 
লেখিকা : ঐশী বিশ্বাস 
ইসরাত নিজের রুমে দৌড়ে গিয়ে ধপাস করে বিছানায় শুয়ে পড়ল লজ্জায় যেন মরে যেতে ইচ্ছে করছে তার বিয়ের পর তুর্য ভাই আর তার দিনগুলো কেমন হবে ভাবতেই বুকের ভেতরটা কেমন করে ওঠে। নিশ্চয়ই খুব সুন্দর হবে , তাই না ? তাদের সংসার ভরে থাকবে শুধু ভালোবাসায়।
প্রতিদিন রাতে সে তার প্রিয় মানুষটার বুকে মাথা রেখে ঘুমাবে । ঘুমাতে যাওয়ার আগে তারা গল্পে মেতে উঠবে , একে অপরের কথা শুনবে। হঠাৎ করেই তুর্য ভাই তার কপালে ভালোবাসার এক মিষ্টি ছোঁয়া এঁকে দিবে । তখন ইসরাত লজ্জায় লাল হয়ে আবার তার বুকে মুখ লুকিয়ে ফেলবে।
এই মেয়েটা শুধু কল্পনা করেই খুশিতে পাগল হয়ে যাচ্ছে । যে দিন এই ভাবনাগুলো সত্যি হবে , তখন সে কী করবে ? খুশিতে কি তার চোখে জল এসে যাবে ? নাকি ভালোবেসে তুর্য'র বুকে ঝাঁপিয়ে পড়বে ?
ইসরাত হঠাৎ করে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াল । তারপর ধীরে ধীরে তার ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার খুলে ভেতর থেকে একটা ছবি বের করল।
ছবিটায় মেরুন রঙের শার্ট আর সাদা প্যান্ট পরা একজন ছেলেকে দেখা যাচ্ছে। হাতে স্মার্ট ওয়াচ, চুলগুলো পরিপাটি করে সেট করা , চোখে সানগ্লাস , গালে কুচা কুচা দাড়ি । ফর্সা হাতে রগ গুলো স্পষ্ট হয়ে আছে দেখতেই যেন একদম স্মার্ট আর আকর্ষণীয়।
ছবিটার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ইসরাতের বুকের ভেতরটা ধুকপুক করে উঠল হঠাৎই সে দৌড়ে গিয়ে দরজাটা বন্ধ করে দিল যেন কেউ তাকে এই মুহূর্তে দেখে না ফেলে।
ইসরাত রকিং চেয়ারে গিয়ে ধীরে বসে পড়ল চেয়ার টা কে আস্তে আস্তে দোলাতে দোলাতে সে ছবিটা চোখের সামনে তুলে ধরল তার দৃষ্টি যেন ছবির মানুষটার মাঝেই আটকে আছে।
হালকা কাঁপা কণ্ঠে বিড়বিড় করে বলে_
আপনি কবে আমার হবেন ? আমি যে আর অপেক্ষা করতে পারছি না… আমার এই টালমাটাল মনটা শুধু আপনাকেই পেতে চায়।
কথাগুলো বলতেই তার চোখে অদ্ভুত এক আলো ঝিলমিল করে উঠল আর ঠোঁটের কোণে লাজুক এক হাসি ফুটে উঠল।
তারপর ধীরে ধীরে ইসরাত বিড়বিড় করে গেয়ে উঠল_
টালমাটাল...!
মনটা কিছু তোমায় বলতে চায়,
বেসামাল....!
ভাবনাগুলো তোমায় ছুঁতে চায়…
আমি শুধু চেয়েছি তোমায়,
আমি শুধু চেয়েছি তোমায়,
আমি শুধু চেয়েছি তোমায়…
তুর্য ভাই…”
শেষ লাইনটা বলতেই তার কণ্ঠটা কেমন নরম হয়ে এল চোখ বন্ধ করে সে ছবিটা বুকে জড়িয়ে ধরল , যেন এই ছবির মানুষটাই তার সমস্ত পৃথিবী।
হঠাৎ ইসরাতের মনে পড়ল হৃদয় ভাইয়ের কাছ থেকে আনা ফোনটা তো তার কাছেই আছে , তুর্য ভাইকে ফোন দেওয়ার জন্যই এনেছিল ! একটু দ্বিধা নিয়ে ফোনটা হাতে তুলে নিল সে বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে যাচ্ছে । অবশেষে নম্বর ডায়াল করল।
রিং হতেই ওপাশ থেকে কল রিসিভ হলো_
Hello, হৃদয় ?
তুর্যের কণ্ঠ শুনেই ইসরাতের ঠোঁটে মিষ্টি একটা হাসি ফুটে উঠল নরম কণ্ঠে বলে_
না…
শুধু এই একটুকু শব্দেই তুর্য কণ্ঠটা চিনে ফেলল সে যেন কিছু বলার আগেই ফোনটা কেটে দিতে চাইছিল।
তখনই তাড়াতাড়ি করে ইসরাত বলে উঠল 
তুর্য ভাই ফোন কাটবেন না প্লিজ... 
তুর্য একটু থেমে বলে_
কেন ?
ইসরাত ঠোঁট কামড়ে হালকা লাজুক গলায় বলে_ আমার জন্য চকলেট আনবেন প্লিজ ! খুব খেতে ইচ্ছে করছে ।
ওপাশ থেকে সাথে সাথে উত্তর এলো_
পারব না...
ইসরাত মুখ ফুলিয়ে বলে_
না আনলে কিন্তু আপনার খবর আছে ।
কী করবি ?
ইসরাত না ভেবেই ঝট করে বলে ফেলে_
প্রথমে আপনার গাল চেপে ধরব তারপর নিজের দিকে এনে আপনার ঠোঁটে কিস করব ।
কথাটা বলার সাথে সাথেই যেন চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে গেল তুর্যের রাগী কণ্ঠ বলে_
আমি বাড়িতে আসলে তোর খবর আছে ইসরাত ।
এই কথাটা শুনেই ইসরাতের যেন হুঁশ ফিরে এল সে কী বলে ফেলেছে , বুঝতে পেরে মুখ লাল হয়ে উঠল। এক সেকেন্ড ও দেরি না করে তাড়াতাড়ি করে ফোনটা কেটে দিল সে। তারপর বুকের ওপর হাত রেখে হাঁফ ছাড়ল_
হায় আল্লাহ… আমি কী বলে ফেললাম , আজ আমার শেষ দিন।
সন্ধ্যার পর থেকে ইসরাত শারাফাত খান এর কাছে বসে আছে তুর্য'র ভয়ে । শারাফাত খান সোফা থেকে উঠে চলে যেতে গেলে ইসরাত কাতর সুরে বলে_
চাচু প্লিজ যেও না , তোমার ছেলে আমাকে মেরে ফেলবে।
শারাফাত খান বললেন_
আচ্ছা যাচ্ছি না আম্মু , এখন বলো তুমি আমার গুণধর ছেলে কে কী বলেছো ? শুনি তো , যার জন্য ভয়ে আছো ।
ইসরাত মাথা নিচু করে বলে_
আসলে চাচু আমি বলেছি তুর্য ভাই এর গাল চেপে ধরে আমি ওনার ঠোঁটে কিস করব।
শারাফাত খান মাথায় হাত দিয়ে বললেন_
মামণি এটা তুমি কী বলেছ ! এখন আবার আমাকে বলছো তুমি ?
ইসরাত বলে_
চাচু... তুমি ওই তো বললে বলতে তাই তো বললাম , এখন তুমি রাগ করছো।
শারাফাত খান বললেন_
আমি রাগ করছি না আম্মু 
ইসরাত বলে_
এখন আমার কী হবে চাচু ?
বলে বে বে করে কান্না শুরু করে এখানে মানব , হৃদয় , রাখি , শারমিন খান , সুলতানা খান ও আছে ইসরাতের হঠাৎ কান্নায় সবাই ইসরাতের দিকে তাকালো ।
সুলতানা খান অবাক হয়ে বলেন_
কী হয়েছে আম্মু ?
শারাফাত খান তাড়াতাড়ি বললেন_
কিছু হয় নি মশায় কামড় দিয়েছে তাই কান্না করছে।
সবাই অবাক হলো এটা আবার কেমন কথা ? মশার কামড় খেয়ে কেউ কান্না করে ?
মানব বোনের কাছে এসে বলে_
কী হয়েছে বোন ? মশায় বেশি জোরে কামড় দিয়েছে ?
এবার ইসরাত চাচুর কাছ থেকে সরে ভাইয়ের কাছে গিয়ে দুই হাত আলতো করে গলা জড়িয়ে ধরে বলে_
ভাইয়া.....
মানব বলে_
খুব ব্যাথা পেয়েছিস ?
তাদের কান্ড দেখে বাকিরা হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারছে না।
মানব ইসরাত কে টেনে একটু দূরে সরে বলে_
ইসরাত তুই কী করেছিস ?
ইসরাত নাক টানতে টানতে বলে_
আমি কিছু করিনি ভাইয়া
মানব বলে_
সত্যি বল ইসরাত
ইসরাত বলে_
আমি শুধু বলেছি তুর্য ভাইকে ওনার গাল চেপে ধরে তারপর উনার ঠোঁটে কিস করব।
মানব বলে_
তুই কোনো দিন ঠিক হবি না ইসরাত ? তুর্য কী বলেছে ?
ইসরাত মুখ ফুলিয়ে বলে_
তুর্য ভাই বলেছে এসে আমার খবর করবে ।
মানব অবাক হয়ে বলে_
কী বলেছিস তুই এটা ? আমি কত বার বলেছি তুর্য কে বেফাঁস কথা না বলতে নিজে কে কন্ট্রোল করতে শিখ ইসরাত , আমি এসবে নেই তুই আর তর জানেমান যা ইচ্ছা কর ।
ভাইয়া...
ভাইয়া..... ভাইয়া..... করলে হবে না 
বলে চলে যায় তার মধ্যেই তুর্য মেইন দরজা ঠেলে ভেতরে ঢোকে । ঢুকেই প্রথমে তার চোখ পড়ে কান্নারত ইসরাতের দিকে । তুর্য মনে মনে ভাবে ,  ভাবেছিলাম এসে দু - একটা জোরে চড় বসাবো , আর এখন দেখি আগে থেকেই কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে ।
রাগী চোখে ইসরাতের দিকে তাকায় তুর্য । তার সেই দৃষ্টি দেখেই ইসরাত আর ও জোরে শব্দ করে কেঁদে ওঠে। 
তুর্য শারমিন খানকে ডেকে বলে_
চাচি, তোমার আদরের দুলালি কান্না করছে কেন ?
শারমিন খান রান্নাঘর থেকেই উত্তর দেন_
ওকে নাকি মশা কামড় দিয়েছে , তাই কান্না করছে। আমি বুঝি না বাপু , মশা কামড় দিলে আবার কে কাঁদে!
তুর্য হেসে তারপর বলে_
লাঠি এনে ওই মশাটাকে মেরেআধমরা করে দেব! কেন ইসরাতকে মশা কামড় দেবে ? হুম... ইসরাত কে সিংহ কামড় দেওয়ার কথা ছিল ।
ইসরাত চারদিকে তাকায় কেউ নেই সবাই যে যার নিজের কাজে চলে গেছে তারপর আর্তনাদ করে বলে_
ও তুর্য ভাই এবার মতো মাফ করে দাও ! আর এমন করব না প্রমিস !
তুর্য বাইরে থেকে একটা লাঠি এনে ইসরাতকে হুরুম - দুরুম কেলানি দিতে থাকে । ইসরাত মার খেয়ে ও ঠিক হয় না বরং কান্না করতে করতেই গান শুরু করে_
মাইরো মাইরো না গো,
ও তুর্য ভাই মাইরো না,
আমারে...
হাত ধরি, পায়ে পড়ি,
মাইরো না আমারে...
রাখি এই দিক দিয়ে যাচ্ছিল । ইসরাতের এমন মার খেতে খেতে গান গাওয়া দেখে সে হাসতে হাসতে শেষ ! ইসরাতের সেই অবস্থা দেখে তুর্য ও শেষমেশ হেসে ফেলে।
ইসরাত সুযোগ পেয়ে দৌড়ে চলে যায় তুর্য বিরক্ত হয়ে বলে_
দেখেছিস রাখি , তোর বেঙ্গি বোনের কাণ্ড ! ইচ্ছা করে থাপ্পড়িয়ে সব দাঁত ফেলে দেই বেয়াদবের ! কাকে কী বলতে হয় তা এখনো শিখে উঠতে পারেনি।
রাখি বলে_
বাদ দাও ভাই ও আর ঠিক হবে না । তোমার জন্য কি আমি কফি দেব ?
তুর্য বলে_
চা দে , দুধের চিনি কম দিয়ে কফি - টফি ভালো লাগে না।
বলে তুর্য উপরে চলে যায়...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন