"সবাইকে দেখানো শেষ হলে, আমার জন্যও কিছু তুলে রাখবেন ম্যাডাম! আফটার অল স্বামী হই তো আপনার।"
ভরা মজলিসে, কারো কঠোর তির্যক কন্ঠে এমন অপ্রত্যাশিত কথা শোনায় খিঁচে দুচোখ বন্ধ করে পড়লো হিয়া। কিন্তু, পেছন ফিরে লোকটার দেখার ইচ্ছা বা প্রয়োজন কোনোটাই সে মনে করলো না। কিন্তু আশেপাশের মানুষ? তারা তো হিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে ভুললো না!
"আরেহ! সবাই এভাবে আমার বউয়ের দিকে তাকিয়ে আছেন কেন? আমি তো আমার বউয়ের গহনা দেখানোর কথা বলছি।"
কথাটা বলতে বলতে লোকটা ধীরে গিয়ে হিয়ার পাশে বসে পড়লো। হিয়ার ডান হাত তার হাতের মাঝে নিয়ে একটা চুম্বন একেঁ দিয়ে, পুনরায় বললো,
"তাই না বউ!"
হিয়া কোনো উত্তর দিলো না, সে উঠে সোজা চলে গেলো নিজের রুমের দিকে। লোকটা এবার সোফায় নিজের গা এলিয়ে আয়েশ করে বসলো। এমন সময় তার পাশে থেকে একজন মধ্য বয়স্ক মহিলা বলে উঠলেন,,
"তুমি কে বাবা"
"ওপস! আমাকে চিনতে পারলেন না আট বাচ্চার মা কাকীমা।" বলেই মুখ দিয়ে একটা "চ" জাতীয় শব্দ করলো সে। পুনরায় আবার বললো,
"এতো সময় আপনারা, বাচ্চা না হওয়া যে বউকে নিয়ে চর্চা পরচর্চা করছিলেন, মিসেস মাহজাবীন রাহমান হিয়া! আমি হলাম সেই বাচ্চা না হওয়া নারীর এক আর একমাত্র স্বামী মি. রুদ্রনীল চৌধুরী।"
কথাটা শোনা মাত্রই যেন, মহিলাটার মুখ চুপসে গেলো। সে একবার তার বাকি সহচারীর দিকে তাকালো, দেখলো তারাও বোতা মুখ থোতা করে নিয়ে বসে আছে। মহিলাটা উঠে যেতে নিলেই রুদ্র স্বাভাবিক গলায় বলল,
"আরে, ওই চার কম ফুটবল টিমের মা কাকীমা কোথায় যাচ্ছেন আপনি? বসুন বসুন আমিও একটু গপ্পো সপ্পো করি আপনাদের সাথে।"
মহিলাটা পুনরায় নিজের স্থানে বসতেই রুদ্র বলল,,
"তা কি যেন বলছিলেন কাকী মায়েরা, পরিবারের ছোট বউয়ের সাধ হয়ে যাচ্ছে অথচ, বড় বউ এখনো মা হওয়ার সংবাদই দিতে পারলো না। মনে হয় বউয়ের দোষ আছে? বাচ্চা কাচ্চা হবে না। আরও জানি কি ছিলো? ওহ হ্যাঁ, মনে হয় স্বামীর সাথে সম্পর্ক ভালো না।
রুদ্র এবার একটু উঠে বসে, এরপর তার সামনের চার মহিলাকে উদ্দেশ্য করে বলে,
" ওই চার কম ফুটবল টিমের মাম্মাম, আপনি কি আমার আর আমার বউয়ের পেছনে সিসিম্যান লাগাইছেন নাকি?"
"সিসিম্যান আবার কি?" বলল পাশের অন্য একটি মহিলা।
"আরে! নিজেদের প্রজাতির নাম নিজেরাই ভুলে গেলেন খালাম্মা। ইটস নট ফেয়ার।" শেষ কথাটা নাক কুচকে বললো রুদ্র।
" সিসিটিভির মহিলা বা পুরুষ ভার্সন হলো সিসিম্যান বা সিসিওম্যান।" এবার বুঝছেন আন্টি?"
মহিলাটি নিচের দিকে তাকিয়ে চোখ বারবার এদিক ওদিক ঘোরাতে লাগলো। তা দেখে রুদ্র এবার গম্ভীর গলায় বলল,
"আমার কথার উত্তর দিন। লাগিয়েছেন নাকি কোনো সিসিম্যান?"
মহিলাটি আওড়াতে আওড়াতে বলল,
" নান না, আমি কেন এসব সিসিম্যান লাগাতে যাবো?"
"তাহলে কি রাতে আমাদের রুমের জানালা দিয়ে উকি দিয়ে আমাদের প্রসেসিং দেখছেন নাকি?"
" নাউজুবিল্লাহ! এসব তুমি কি বলছো বাবা। আমরা কেন..
মহিলাটি তার কথা শেষ করার পূর্বেই রুদ্র কঠিন কন্ঠে বলে উঠলো,
"তাহলে আপনারা কিভাবে জানলেন, আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সম্পর্ক স্বাভাবিক নাকি অস্বাভাবিক? আমার ওয়াইফের কোনো সমস্যা আছে নাকি দোষ আমার মাঝে আছে?"
সবাই চুপ। কারো মুখে কোনো কথা নেই।
"কি হলো বলুন। কিভাবে জানলেন আপনারা?" টেবিলে আস্তে করে থাপ্পড় দিয়ে কথাটা বলল রুদ্র।
"আমরা প্রতিবেশী, এক পাড়ায় থাকি। আমরা মহিলারা এসব অনেক কথাই বলে থাকি। তা নিয়ে তুমি আমাদের সাথে এমন খারাপ ব্যবহার কেন করছো? বাড়ি বয়ে ডেকে এনে অপমান করে কি ভাবছো নিজেদের?
" প্রতিবেশী না বলে, নিজেদের কুটনীবেশী বলে পরিচয় দিন মিসেস তাহসান। আর হ্যাঁ, বাড়িতে মেহমান হয়ে এসেছেন বলেই এখনো যথেষ্ট সম্মান দিয়ে কথা বলছি। নয়তো এতো সময়...
"এতো সময় কি করতে তুমি শুনি?"
প্রশ্ন করা মহিলাটির দিকে তাকিয়ে, ঠোঁটের এক কোণা কামড়ে একটা অদ্ভুত হাসি দিলো রুদ্র। মহিলার দিকে দৃষ্টি দিয়ে গম্ভীর কিন্তু ধীর গলায় বলল,
"আপনার কোনো ধারনাই নেই খালাম্মা, আমি ঠিক কি কি করতে পারি।" বলেই উঠে দাড়ালো সে। যেতে নিয়ে থেমে আবার বলল,
"হিয়া আমার বউ, আমার সম্মান। তাই ওর ব্যাপারে কোনো কথা বলার আগে ১০০বার ভেবে নিবেন। নয়তো কে বলতে পারে, পরের হয়তো কথা বলার জন্য আপনাদের মুখটাই থাকলো না।"
এটা বলে গটগট করে চলে যেতে নিলো রুদ্র, কিন্তু কয়েক পা এগোনোর পরই তার সামনে এসে হাজির হলো তার আম্মু।
"কি হচ্ছে এখানে? এতো চেঁচামেচি কিসের?" বললেন রুদ্রর মা মিসেস সাবিলা নূর বেগম।
"মিস্টার শুভ্রনীল চৌধুরীর একমাত্র ওয়াইফ মিসেস পুষ্পিতা আহসান মোমো চৌধুরীর সাত মাসের অন্তঃসত্তার সাধ অনুষ্ঠান হচ্ছে আম্মু। তুমি কি এ ব্যাপারে অবগত নও? মেরি মা।"
মায়ের কাঁধে হাত রেখে, এক দমে কথাগুলো বললো সে। একহাতে ছেলের কান ধরে টেনে তাকে সম্মুখে এনে সাবিলা নুর বললেন,
"ওরে ফাজিল! মায়ের সাথে মামা বাড়ির গল্প দিচ্ছিস তুই?"
"আহহ! আম্মু লাগছে তো!" ছোট বাচ্চার মতো করেই বলল রুদ্র।
"তাহলে বল কি হচ্ছিল এখানে? তোর চেচামেচির আওয়াজ কেন পেলাম আমি?"
"আরে আম্মু! অনুষ্ঠান বাড়ি বলে কথা, চেঁচামেচি তো একটু হবেই। তাই না?
সাবিলা নূর কিছু বলবেন তার আগেই রুদ্র মাথায় হাত দিয়ে আফসোসের সুরে বলল,
"এই যাহ! এত কিছুর মাঝে আমার ছোট বোনটার সাথে দেখা করতেই ভুলে গেছি আম্মু। এবার তো মনে হয় আমার অনাগত চাচ্চু আমার ওপর অভিমান করবে।" বলেই এক দৌড় দিল সে।
-
স্টেজের ওপরে ফুল দিয়ে সাজানো একটি চেয়ারে পরিপাটি ভাবে বসে আছে, চৌধুরী বাড়ির ছোট বউ মিসেস পুষ্পিতা আহসান মোমো। কিছু সময় আগেই তার সাধের খাওয়া দাওয়া শেষ হলো। এখন সে বসে বসে সবার সাথে কুশল বিনিময় করছে। একে একে সবাই তাকে ও তার অনাগত বেবিকে দোয়া ও ভালোবাসার সাথে উপহার দিয়ে যাচ্ছে। সেগুলোই গ্রহণ করছে সে এখানে বসে বসে। কিন্তু এভাবে আর কতো সময়?
এই প্রেগনেন্সির সময় এতো ভারী পেট নিয়ে কেউ কিভবে এতো সময় পুতুলের মতো বসে থাকতে পারে? এবার তো খুবই বিরক্ত লাগছে, ইচ্ছে করছে এক ছুটে রুমে চলে যাই। কিন্তু সেটাও তো সম্ভব না। আবার কাউকে যে বলবে তার অস্বস্তি হচ্ছে কিন্তু কাকেই বা বলবে। তার বরটা যে কোথায় কি করে বেড়াচ্ছে কে জানে? এখানে বসানোর সময় মনে হয়ে সাহেবকে দেখেছিলো, কিন্তু তার পর থেকে তার আর কোনো হদিস নাই। কোথায় বউয়ের এই সময়, বউয়ের পিছে পিছে থাকবে তা-না তিনি এখানে-ওখানে ছুটছেন। আজকে শুধু একবার অনুষ্ঠান টা শেষ হোক, তারপর মোমো তাকে বোঝাবে কতো কতো ধানে কতো চাল।
"অভিনন্দন! অভিনন্দন! অভিনন্দন! আমার ছোট্ট বনুটাকে জানাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা আর এক বালতি ভালোবাসা, সাথে এক আকাশ দোয়া ও আশীর্বাদ ফ্রি।"
মোমোর দিকে এগিয়ে যেতে যেতে কথাটা বলল রুদ্র। মোমো তাকে দেখা মাত্রই খুবই খুশী হলো। সে হাসিমুখে ভাইয়া ডাকতে গিয়েও হঠাৎ কি মনে করে মুখ গোমড়া করে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে বসে রইলো। রুদ্র মোমোর নাক টিপে দিয়ে বলল,
"বনুটা কি আমার ওপর রাগ করেছে?"
"ভাইয়ার সাথে রাগ করেছি। ভাইয়ার সাথে কথা নেই।" অন্য দিক মুখ ঘুরিয়ে বলল মোমো।
"প্রেগনেন্সির সময় মুড সুইং হয় জানতাম, কিন্তু এতো বেশি রাগ হয় সেটা তো জানতাম না।"
"হয়েছে তো খুব বেশি রাগ হয়েছে তোমার ওপর। আর শুধু আমি না আমার বেবিও তোমার ওপর রাগ করেছে।" হুহ!
"এইরে! একজনের রাগই কমিয়ে পারলাম না, এখন আবার দুজন?"
"তুমি এতো দেরী করে কেন এলে ভাইয়া? আমি সেই কখন থেকে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি আর তুমি এখন এলে।"
"কি করবে বল, খুব দরকারী একটা কাজে আঁটকে গেছিলাম তো তাই এতো লেট হলো।"
"আচ্ছা? তো কাজটা কি আমার আর আমার বেবির থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিলো?"
"একদমই না। আর তাই তো কাজটা মাঝ পথে ফেলেই চলে এলাম।" কথাটা একটু ফানিভাবে বলল রুদ্র। যা দেখে মোমো হেঁসে দিলো।
"আচ্ছা, ভাইয়া হিয়া কোথায়? ও কে তো অনেক সময় হলো দেখছি না।"
মোমোর কথায় হিয়াকে রুদ্রর স্মরণে এলো। আসলে তো বউটা তার কখন সেই রাগ করে উপরে গেছে, এখনো তার কোনো হদিস নেই। নিশ্চিত কেঁদে কেঁদে বালিশ ভেজাচ্ছে সে।
"আছে হয়তো কোথাও। আচ্ছা মোমো তুই একটু বস আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি। কেমন!"
"আচ্ছা ভাইয়া।"
রুদ্র চলে যেতে নিলেই মোমো আবারো হুট করে ডেকে ওঠে, "ভাইয়া"
রুদ্র পিছনে ফিরে বলল, "কিছু বলবে?"
"না মানে আসলে, ইয়ে..
ওহ বুঝেছি! শুভকে লাগবে তাই তো? ওয়েট করো সাহেবকে পাঠাচ্ছি।" ঠোঁট চেপে হেসে বললো রুদ্র।
-
রুমের সব লাইট অফ করে, রুমটাকে অন্ধকার করে চোখের ওপর একহাত দিয়ে শুয়ে আছে হিয়া। চোখের কার্নিশ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে পানির ফোঁটা। এই কান্নাই যে তার একমাত্র সম্বল। তার সকল অভিমান, অভিযোগ, রাগ, ক্ষোভ সবই যে মিশে আছে এই কান্নার মাঝেই। তার সকল অপূর্ণতা যেন তার কান্নার মাঝেই পূর্ণতা খুঁজে চলে। পৃথিবীতে এই চোখের পানিই হয়তো তার সবচেয়ে বেশি আপন, বাকি সবাই তো মুখোশধারী মাত্র।
"রুমটা এভাবে অন্ধকার করে রেখেছো কেন?" রুমে প্রবেশ করে কথাটা বলল রুদ্র।
রুদ্র রুমের লাইটগুলো অন করলো। ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে কয়েকবার ডাকলো হিয়াকে তবে হিয়ার কোনো উত্তর না পেয়ে সে ফ্রেশ হতে চলে গেলো।
ওয়াশরুম থেকে বের হয়েও রুদ্র দেখলো, হিয়া আগের মতোই শুয়ে আছে। কোনো নড়চড় নাই। এবার যেন রুদ্রর একটু রাগ হলো, সে হিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে তার হাত ধরে টানতে টানতে বলল,,
"হিয়া উঠো ফাস্ট। কি হলো কথা কানে যাচ্ছে না?"
"হিয়া"বলেই সে জোরে হিয়ার হাতে টান দিলো, যাতপ হিয়া না চাইতেও উঠে পড়লো। তার চোখ দু'টো লাল হয়ে ছলছল করছে। ছলছলে চোখে সে রুদ্রর দিকে তাকালো। রুদ্র এক গ্লাস পানি হাতে নিয়ে বলল,
" পানিটা খেয়ে নাও। একটু ফ্রেশ লাগবে।"
"লাগবে না। আমি পানি খাবো না।"
"কি লাগবে কি না লাগবে সেটা কি এখন তুমি ঠিক করবে?" দাঁতে দাঁত চেপে কথাটা বলল সে।
হিয়া যেইনা রুদ্রর দিকে হাত বাড়ালো গ্লাসটা নেওয়ার জন্য, রুদ্র গ্লাসটা উপুড় করে দিলো। হিয়ার হাতটা তখনো রুদ্রর দিকে বাড়ানো, অথচ রুদ্র ধীরে ধীরে গ্লাসের সব পানি ফেলে দিলো ফ্লোরে। সব শেষে কাচের গ্লাসটা ছেড়ে দিলো ফ্লোরে, আর মুহুর্তেই কাঁচের টুকরোয় ফ্লোরটা ভরে গেলো।
রুদ্র চলে গেলো আলমারির কাছে। আর হিয়া হাতটা ফিরিয়ে নিয়ে এক অবহেলাময় হাসি দিয়ে আপন মনে আওড়ালো, "আফসোস!"
-
"এটা পড়ে নাও।" হিয়ার মুখে একটা সুতি শাড়ি ছুড়ে দিয়ে বলল রুদ্র।
"এই বয়স্ক মহিলাদের শাড়ি আমি কেন পড়বো?" শাড়িটা হাতে নিয়ে বলল হিয়া।
"কৈফিয়ত চাইছো নাকি?" একভ্রু কুচকে বলল রুদ্র।
"এই বয়স্ক মহিলাদের শাড়ি আমি পড়তে পারবো না।"
"না" শব্দটা শুনেই যেন রুদ্রর মগজ গরম হয়ে গেলো, সে হিয়ার ধরে একটানে তাকে বেড থেকে নামিয়ে নিলো। কোনো রকম পূর্বাভাস ছাড়াই হিয়ার শরীরে জড়িয়ে থাকা জরজেটের শাড়িটা টেনে খুলতে শুরু করলো। এরপর শাড়িটা নিয়ে চলে গেলো ব্যালকনিতে, সেখানেই পুড়াতে লাগলো হিয়ার সবচেয়ে প্রিয় শাড়িটা,যেটা তাকে রুদ্রই গিফট করেছিলো কিছু বছর আগে।
হিয়া এখনো ঠায় রুমের মাঝে দাড়িয়ে আছে। পরনে শুধু ব্লাউজ আর পেটিকোট জড়ানো তার। রুদ্র হিংস্র বাঘের মতো ছুটে এলো তার দিকে, শরীরের সবটুকু শক্তি দিয়ে হিয়ার হাতটা চেপে ধরলো সে। ব্যাথ্যায় হিয়ার চোখে পানি এলে সে চোখ বন্ধ করে নিলো।
"খুব শখ না তোর, পরপুরুষ কে নিজের সাদা কোমর দেখানোর? খুব শখ? হাহ,, কথাটা বলেই সে হিয়ার হাত ঝটকা দিয়ে সরিয়ে দিলো। টুপ করে এক ফোটা পানি পড়লো হিয়ার চোখ দিয়ে।
" আজ থেকে তুই এসব বয়স্ক মার্কা শাড়িই পড়বি, যেটাতে তোকে ২০বছরের যুবতী নয় বরং ৫০বছরের বুড়ি দেখা যাবে। মাইন্ড ইট!"
রুদ্র চলে যাওয়ার জন্য সামনে পা বাড়াতেই হিয়া এলোমেলো অবস্থায় নির্বাক কন্ঠে বলল,
"তোমার খুব ভালো লাগে না? আমাকে কেউ অপমান করলে?" কথাটা বলতেই আরও এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো। রুদ্র ফের পিছনে ফিরে আসলো। হিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে রাগী তবে হেয়ালি গলায় বলল,,
"ঠিক ধরেছিস! একদম ঠিক ধরেছিস তুই। তোকে কেউ অপমান করলে আমার খুব খুব ভালো লাগে রে। আর যখন কেউ তোকে বেবি না হওয়া নিয়ে অপমান করে, তখন তো আমার এতোটা ভালো লাগে যে, ইচ্ছে করে আরেকটা বিয়ে করে ফেলি।"
"তোমার এই খেলা কি কোনোদিন শেষ হবে না?"
" হবে তো জান! যেদিন তুমি শেষ হবে, সেদিন আমার প্রতিশোধ ও শেষ হয়ে যাবে।" কথাটা বলে বেরিয়ে রুদ্র বেরিয়ে যেতেই, হিয়া আওড়ালো,,
"আমি তো শেষ হয়েই গেছি রুদ্র! অনেক আগে শেষ হয়ে গেছি আমি। শুধু তুমি বুঝতে পারোনি।"
#সে_ছিলো_অন্যরকম
#পুষ্পিতা_মেহরীন_তিশা
#পর্ব- ১