ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে ছিলো অন্যরকম

৩য় পর্ব

লেখক: পুষ্পিতা মেহরীন তিশা

#সে_ছিলো_অন্যরকম

#পুষ্পিতা_মেহরীন_তিশা

#পর্ব- ৩

সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেছে। সকলেই এখন যে যার রুমে বিশ্রাম নিচ্ছে। শুধু শুভ্রটা বাদে। সে সকালে নাস্তা করেই বেরিয়ে গেছে কাজের উদ্দেশ্য। বিলে অনেক জায়গা-জমি আছে তাদের। সেখানেই লোক দিয়ে কাজ করায় তারা। রুদ্র যেহেতু এ বাড়িতে থাকে না। তাই এসব কাজ শুভ্রকেই দেখতে হয়। সাবিলা বেগম অবশ্য চেয়েছিলেন দু'ছেলেকেই তার কাছে রাখবেন। কিন্তু রুদ্র রাজি হয়নি।

তারমতে, দু'ভাই কেই কেন গ্রামে থাকতে হবে? শুভ্র তো আছেই এখানে দেখাশোনা করার জন্য। আর তাছাড়া রুদ্রর নাকি শহরে অনেক কাজ আছে। যেগুলো গ্রামে থেকে করা যাবে না। তাই সাবিলা বেগম ও আর কথা বাড়াননি, মেনে নিয়েছেন ছেলের মর্জিকে।

"কিগো সাহেব! দম বেড়িয়ে গেলো নাকি?" রুমে ঢুকে রুদ্রকে উদ্দেশ্য করে হাসতে হাসতে কথাটা বললো হিয়া।

"দম? কিসের দম?"

ল্যাপটপে কিছু কাজ করছিলো রুদ্র। হঠাৎ হিয়ার কথা শুনে ল্যাপটব থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ভ্রু কুচকে প্রশ্ন করলো সে।

"এইযে, আমাকে ৫০বছরের বুড়ি বানিয়ে রাখার দম! " আবারও হাসতে হাসতে বললো সে।

"ওরেহ! শালী, নারে দম বের হয়নি শুধু হাওয়া ফুউচচচ হয়ে গেছে।" ডানহাতের আঙুল গুলো গোল করে উপর থেকে নিচে নামাতে নামাতে বলল রুদ্র।

রুদ্রর কথায় হিয়ার হাসি যেন আরো বেড়ে গেলো। এতো সময়ের মুচকি হাসিটা রুপ নিলো উচ্চ হাসিতে। তার এতো হাসিতে রুদ্র হয়তো কিছুটা বিরক্ত হলো। মুখ থেকে "চ" জাতীয় শব্দ বের করে, বিরক্তি গলায় বলল,,

রুদ্র : "এতো হাসছিস কেন ছেমড়ি? যা ভাগ এখান থেকে।"

রুদ্র বিরক্ত হচ্ছে বুঝতে পেরে হিয়া থেমে গেলো ঠিকই কিন্তু চলে গেলো না। হিয়াকে বেশ কিছু সময় সেখানে দাড়িয়ে থাকতে দেখে, রুদ্র ল্যাপটবে কাজ করতে করতে স্বাভাবিক ভাবেই বলল,

"কিছু বলবে?"

"আব্বুর সাথে একটু কথা বলতে চাই।"

রুদ্র : "তো আমি কি তোমার মুখ বেঁধে রেখেছি?" ল্যাপটপের ওপর থেকে দৃষ্টি তুলে কথাটা বলল সে।

হিয়া : "ফোন! তোমার ফোনটা যদি দিতে।"

রুদ্র : "ওয়ারড্রবের ওপরে আছে হয়তো।"

হিয়া "আচ্ছা" বলে পা বাড়াতেই রুদ্র ফের বলে উঠলো,

রুদ্র : "দু'মিনিট। দুই মিনিটের বেশি যেন এক সেকেন্ড ও কথা না হয়। বুঝেছো?"

হিয়া মাথা ঝাঁকিয়ে চলে গেলো ব্যালকনির দিকে। দুনিয়ার উপরে এই বুড়ো বাপটা আর একটা ছোট্ট ভাই-ই আছে হিয়ার। অথচ, সেই বাবার সাথেই একটু বলতে গেলে সময় মেপে কথা বলতে হয় তাকে। হায়রে! কি ভাগ্য তার। অবশ্য ভাগ্যের দোষ দিয়েই বা কি করবে, এসব কিছু তো তারই কাজের কর্মফল। ফাও ভাগ্যকে গালি দিয়ে আর স্রষ্টাকে অসন্তোষ কারার কোনো মানেই হয় না।

-

হিয়া কথা বলার শেষে রুমে আসতেই রুদ্র বললো,

রুদ্র : "রাতে প্যাকিং সেরে নিও। আমরা কাল ঢাকা ফিরছি।"

হিয়া :"কাল? মানে কালই?" একটু অবাক হয়েই বলল হিয়া।

"আমি মনে হয় তেমন কিছুই বলেছি।" কাজ করতে করতে নির্বিকার উত্তর দিলো রুদ্র।

হিয়া : "আরো কিছুদিন থেকে গেলে হয় না?"

রুদ্র :"ঢাকায় ফিরে অনেক কাজ আছে আমার। আর থাকতে গেলে হবে না।"

হিয়া :"তাহলে আপনি যান না! আমি আরও কিছুদিন থাকতে চাই এখানে।" শেষের কথাটা বেশ ইমোশন নিয়েই বলল হিয়া।

রুদ্র :"না বাবা না! বউকে রেখে যাওয়া যাবে না। বউকে ছাড়া আমি আবার এক মুহুর্ত ও থাকতে পারি না।"

কথাটা শেষ করেই রুদ্র ল্যাপটব বন্ধ করে উঠে পড়লো। হিয়া একটু মুখ বেঁকিয়ে বলল,,

"বাব্বাহ! এমন ভাব করছো, যেন বউকে তুমি খুউব ভালোবাসো! চব্বিশ ঘণ্টা বউয়ের সাথে রোমাঞ্চ করো! হুহ"

হিয়ার কথায় রুদ্র তার দিকে এগিয়ে এলো। হিয়ার মুখে একহাতে রেখে স্লাইড করতে করতে ধীর কন্ঠে বলল,,

"আমিও তো চাই আমার বউটাকে খুব করে ভালোবাসতে। সারাদিন তার সাথে সময় কাটাতে, তার সাথে প্রেম করতে। শেষ বিকালে তাকে নিয়ে ঘুরতে যেতে। তার ছোটছোট আবদার গুলো পূরণ করতে, তার সাথে খুনসুটি করতে। কিন্তু...

হিয়ার দু-চোখ পানিতে ভরে গেছে। না না এটা দুঃখের পানি নয়, বরং আনন্দের পানি। ভালোবাসার মানুষকে নিজের করে পাওয়ার আগ মুহূর্তে যে আনন্দের পানিটা ঠিক সেটাই। হিয়ার মুখে থাকা রুদ্রের হাতের ওপর হাত রেখে, একবুক আবেগ নিয়ে হিয়া বললো,,

" কিন্তু কি রুদ্র?"

রুদ্র একটা ছোট্ট হাসি দিলো। যেন সেই হাসিতে লুকিয়ে আছে অনেক অভিমান, অভিযোগ আর অসহায়ত্ব।

"কিন্তু, যখনই আমি আমার বউয়ের কাছে যাই না!। ঠিক তখনই আমার অতীতের কিছু স্মৃতি মনে পড়ে যায়। আর আমার ভেতরে থাকা ভালোবাসা গুলো ঘৃণার আগুনে জ্বলতে থাকে।"

হিয়ার চোখে এতো সময় যে আনন্দের অশ্রুটুকু ছিলো, মুহুর্তেই সেটা চিরচেনা কষ্টের অশ্রু হয়ে চোয়াল বেয়ে গড়িয়ে পড়লো। তার বুকের ভেতরে থাকা কষ্ট গুলো যেন বুক চিরে বের হয়ে আসতে চাইছে। চিৎকার করে কান্না করতে ইচ্ছে করছে তার, আর বারবার একটা কথাই বলতে ইচ্ছে হচ্ছে,,

"একবার! শুধু একবার আমাকে ক্ষমা করে দাও রুদ্র। শুধু একবার অতীত ভুলে আমাকে আপন করে নাও। আরও একবার ঠাই দাও তোমার বুকে। যেখানে আমার আকাশ পরিমাণ শান্তি মিলে।"

কিন্তু আফসোস! কষ্টে হিয়ার বুকটা ফেটে গেলেও, মনের কথাগুলো মুখে বলার সাহস হিয়ার নেই। আর কখনো হবে কিনা, সেটাও হিয়ার জানা নেই।

"যখনই আমি একটু খুশি থাকার চেষ্টা করি! ঠিক তখনি তুমি আমার সামনে দুঃখের পাহাড় এনে দাও! যখনই আমি অতীত ভুলে তোমাকে পেতে চাই, তখনই তুমি আমার সামনে অতীতের আয়না নিয়ে দাঁড়াও। এ তোমার কেমন ভালোবাসা রুদ্র?"

"ভালোবাসা? ভালোবাসা তো অনেক আগেই মরে গেছে হিয়া। আর এখন যেটা বেঁচে আছে সেটা ঘৃণা শুধুই ঘৃণা।"

"তুমি কি কখনো আমাকে আমার অতীত ভুলতে দিবে না?"

"তোমার যে কালো অতীত সারাটাক্ষন আমার পিছু করে বেড়ায়, তুমি কিভাবে ভাবলে সুইটহার্ট– তোমার সেই অতীত আমি তোমাকে কিভাবে ভুলতে দিবো? এক সেকেন্ড তো ছাড়ো এক ন্যানো সেকেন্ড ও আমি তোমাকে তোমার অতীত ভুলে থাকতে দিবো না। প্রতিটা সেকেন্ড আমি তোমার সামনে তোমার অতীতকে নতুন রুপে তুলে ধরবো। তিলে তিলে শেষ করে দিবো তোমাকে। ~আর এটা রুদ্রনীলের প্রমিস!"~

মনের আক্ষেপের একাংশ প্রকাশ করে, রুম থেকে বেরিয়ে গেলো রুদ্র। আর হাটু ভেঙে ফ্লোরে বসে পড়লো হিয়া।

-

সন্ধ্যা থেকেই হিয়া একা হাতে রান্না-বান্না করে চলেছে। যদিও সাবিলা বেগম তাকে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন কিন্তু হিয়া করতে দেয়নি। রাতের রান্নাটা সে একা হাতেই করতে চায়। সব সময় তো আর সে তাদেরকে ভালোবেসে রেধে খাওয়াতে পারে না, বেশির ভাগ সময়ই তো তাকে ঢাকা থাকতে হয়। তাই সাবিলা বেগম ও আর বারণ করেননি তাকে।

হিয়ার রান্না প্রায়ই শেষের দিকে। এদিকে রাতে খাবারের সময়ও হয়ে গেছে। সাবিলা বেগম ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে টিভি দেখছিলেন। ঘড়ির দিকে চোখ যেতেই তিনি উঠে হিয়ার কাছে এগিয়ে গেলেন।

"বাহ! হিয়া। কি সুন্দর গন্ধ বেরিয়েছে তোর রান্নার।"

"যতো ভালো গন্ধই বের হোক! তোমার রান্নার মতো সুঘ্রাণ তো আর হয়নি আম্মু।"

চুলার ওপর থেকে চিংড়ির মালাইকারী টা নামাতে নামাতে ঠোঁট উল্টো কথাটা বলল হিয়া। সাবিলা বেগম দেখে তা দেখে মুচকি হাসলেন।

"আচ্ছা। তোর রান্না তো হয়েই গেছে, এবার তাহলে আমি এগুলোকে টেবিলে সার্ফ করে দেই?"

"না না আম্মু! তোমাকে এতো কিছু করতে হবে না, আমি করে নিবো সমস্যা নাই।"

"রান্নাটা তো আমাকে করতে দিলি না, অন্তত এইটুকু কাজ আমাকে করতে দে। নাকি বুড়ি হয়ে গেছি বলে, কাজ থেকে একেবারেই অব্যহতি দিয়ে দিচ্ছিস?"

"আরেহ! কে বলেছে রে আমার শাশুড়ী বুড়ি? তার ঠ্যাং ভেঙে পায়ে ঝুলিয়ে দিবো আমি।" হুহ..

শুভ্রর হাত ধরে সিড়ি বেয়ে নামতে নামতে কথাটা বললো মোমো। সারাদিনে সে খুব কমই নিচে নামে। তবে রাতের খাবারটা খেতে সে রোজ রাতেই নিচে আসে। রাতের খাবার সবার সাথে নিচে এসে না খেলে নাকি তার বেবি শক্তি পায় না।

সাবিলা বেগম :"ওই, এসে গেছে আমার আরেক পাকনা বুড়ি।"

মোমো :"এই যাহ! আমি আরো কোথায় তোমাকে বুড়ি থেকে যুবতী বলে দিলাম আর তুমি কিনা আমাকে যুবতী থেকে বুড়ি বানিয়ে দিলে! এটা কি করলে আম্মু!!" বাচ্চামো সুরে কথাটা বলল মোমো।

হিয়া : "আম্মু তো ঠিকই বলেছে রে! তুই তো বুড়িই! দেখছিস না কেমন বুড়িদের মতো লাঠির জায়গায় জামাইয়ের হাত ধরে ঠুকঠুক করে হাঁটছিস!"

মোমো :"আমি বুড়ি না রে! বুড়ি হলো তোর আম্মু!" হুহ...

হিয়া :"মোটেই না। আম্মুকে দেখ, দেখলে বোঝাই যায় না, তার এতো দামড়া দামড়া দুটো ছেলে আছে। মনে হয় সে এখনো কিশোরী। অন্যদিকে তোকে দেখ! দেখলেই মনে হয় তুই ৫০ বাচ্চার জননী।"

মুখ টিপে হেঁসে কথাটা বলল হিয়া। অন্য দিকে মোমো চেয়ারে বসে একটা আপলে কামড় দিতে দিতে বলল,,

মোমো : "হ্যাঁ, আমাকে দেখলে তো ৫০ বাচ্চার জননী মনে হয়। আর তোকে দেখলে মনে হয়, বাংলাদেশের অর্ধেক জনসংখ্যা তুই আর রুদ্র ভাইয়াই বাড়িয়েছিস।" বলেই অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো মোমো।

হিয়া : "মোমোর বাচ্চা....! " দাঁতে দাঁত চেপে চোখ পাকিয়ে বলল হিয়া।

মোমো : "হয়নি এখনো, তবে হবে কয় মাস পর।" কথাটা বলেই আবারো জোরে হাসতে লাগলো মোমো।

"উফফ! তোরা থামবি! সারাক্ষণ দু’টোই মিলে শুধু খুনসুটি আর পেছনে লাগালাগি।" বিরক্তি নয় কিছুটা আদরে মাখা শাসনের সুরেই বললেন সাবিলা বেগম।

মোমো : থামবো! কিন্তু তার আগে তোমার ওই কুটনী হিয়াকে থামতে বলো ছাচুমা!"

"এই! হিয়া কুটনী হলে তুই কি রে?" সাবিলা বেগম সোফায় বসতে বসতে কথাটা বললেন।

মোমো : "আমি তো কিশোরী গো আম্মু। কিশোরী আমি।"

হিয়া : হ, এক্কেরে যারে কয় গর্ভবতী কিশোরী মহিলা।"

-

পরিবারের সবাই এখন একসাথে ডিনার করতে বসেছে। এটাই মুখ্যম সুযোগ কথাটা বলার। এমন চিন্তা ধারণা মাথায় আসতেই রুদ্র বলল,,

"আম্মু! আমরা কাল ঢাকা ফিরে যাচ্ছি।"

এতো সময় সবাই খুব আনন্দের সাথেই খাবার খাচ্ছিলো, তবে রুদ্রর কথাটা পড়া মাত্রই সবার মুখটা কেমন জানি মলিন হয়ে গেলো। এইতো সেদিন হলো, তারা মেমোর সাধের জন্য বাড়িতে এসেছে। কালকই আবার চলে যাবে। তাহলেই তো বাড়িটা আবার আগের মতো মরে পড়ে থাকবে। এই তিন-চারদিনের হৈ-হুল্লোড়, হাসি-তামাশা সব কিছুই আবার স্মৃতি হয়ে পড়ে থাকবে।

"সবে তো চারদিনই হলো এলে। এরই মাঝে চলে যাবে? আর কিছুদিন থেকে গেলে কি হয়না?" খুবই ধীর গলায় বললেন সাবিলা বেগম।

"নাগো আম্মু! ঢাকায় আমার অনেক কাজ পড়ে আছে। কলের ওপর কল আসছে। কাল ফিরে না গেলে হয়তো আমার আর চাকরি টাই থাকবে না।"

"না থাহে না থাকুক গা। ওমন চ্যাকরি করার কি দরকার গা দাদুভাই! যে চ্যাকরিতে পুরিবারের হগলের সাথে সময় কাটোন যায় না।"

"কে বললো সময় কাটানো যায় না নানী। এইতো কতোদিন থেকে গেলাম তোমাদের সাথে।"

মোমো : "হিয়াকে কিছুদিন রেখে যান না ভাইয়া। ওকে ছাড়া বাড়িটা ফাঁকা ফাঁকা লাগে।"

"আমার বেডটা ও তো আমার বউকে ছাড়া খালি খালি লাগে বনু।" ন্যাকা সুরে বলল রুদ্র।

সাবিলা বেগম : হ্যাঁ, মোমো ঠিকই বলেছে। তোমার যদি খুব দরকার থাকে তাহলে তুমি যাও। হিয়া আরও কিছুদিন থাকবে এখানে।

শাশুড়ীর কথায় হিয়া সন্তোষ হলেও,খুশি হতে পারলো না। কারণ, সে জানে। যা কিছু হয়ে যাক রুদ্র তাকে রেখে ঢাকা যাবে না।

রুদ্র : "উফফ! আম্মু। তোমার কি আর দাদীমা হওয়ার শখ নেই? নাকি একজন আসছে বলে আরেক জনের দরকার নেই?

কোথায় তুমি আরও বলবে, যা খোকা যা। বউমাকে নিয়ে একটু একা থাক, ওর সাথে একটু সময় কাটা। আমাকে আরও একটা নাতিপুতির মুখ দেখার সুযোগ করে দে। তা - না তুমি দজ্জাল শাশুড়ীদের মতো কাবাব নে হাড্ডি হয়ে, আমার বউকে আমার থেকে দূরে করে দিতে চাইছো? এটা তোমার কেমন বিচার আহনাফের বউ! কেমন বিচার তোমার?

সাবিলা বেগমের উদ্দ্যেশে– রুদ্রর এমন কথা শুনে সবাই ভীষম খাওয়ার উপক্রম হলো। তবে, রুদ্রর মুখে হাসি থাকলেও হিয়ার মুখ লজ্জায় লাল হওয়ার বদলে দু-চোখ ভরে উঠলো পানিতে।

হিয়া খুঁজে পায় না, রুদ্র সব সময় এই কথাগুলো কেন বলে, শুধুই কি তার অতীত মনে করিয়ে তাকে সবার মাঝে অপমান করার জন্য? নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য পূরনের জন্য!!

সাবিলা বেগম : " নির্লজ্জ! ছেলে একটা। কোথায় কি বলতে হয় সেটাও এখনো শিখতে পারিনি।" দাঁতে দাঁত চেপে কথাটা বলে টেবিল ছাড়লেন সাবিলা বেগম।

"কি লা! ন্যাতবউ, খুশির খবরটা তাইলে কবে পাচ্ছি গা?" রুদ্র কথার পরিপেক্ষিতে হিয়াকে উদ্দেশ্য করে কথাটা বলল রুদ্রর নানী। তবে হিয়ার কিছু বলার আগেই রুদ্র জবাব দিলো,,

রুদ্র :"প্রসেসিং চলছে গো নানী! আশা করি খুব দ্রুতই তোমাদের সবাইকে মিষ্টি খাওয়াতে পারবো।"

"এসব পুসেচিং ফিং আবার কি লা?"

"ও ওসব তুমি বুঝবে নাগো নানী। তুমি খাও পিডার! না মানে ভাত, ভাত খাও তুমি।"

নানীকে উদ্দেশ্য করে কথাটা বলল শুভ্র। এবার শুভ্রকে উদ্দেশ্য করে রুদ্র বললো,,

"কিরে শুভ! তুই কি চাস না চাচ্চুত্বের স্বাদ গ্রহণ করে দু'খানা ঝোলওয়ালা চমচম খেতে?"

"আরে! কি বলো ভাইয়া। শুধু দু'খানা কেন? চাচ্চু হওয়ার খুশিতে, আমি তো সেই কবে থেকেই দাঁতে পাথর বেঁধে আছি মোখলেস মিয়ার পুরো দোকানটা খাবো বলে।" কথাটা বেশ উদগ্রীব হয়েই বলল শুভ্র।

"দ্যাট'স গুড! এই না হলে আমার ভাই।"

#চলবে~

সবাই গঠনমূলক মন্তব্য করবেন আশা করি! 🫶🏼

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন