ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে ছিলো অন্যরকম

৫ম পর্ব

লেখক: পুষ্পিতা মেহরীন তিশা

#সে_ছিলো_অন্যরকম

#পুষ্পিতা_মেহরীন_তিশা

#পর্ব- ৫

চেতনাহীন হিয়াকে পাজাকোলে করে ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করলো রুদ্র। কোনোমতে সোফা পর্যন্ত পৌঁছানো মাত্রই ধপাস করে হিয়াকে ফেলে দিলো সোফার ওপর। এরপর নিজের দু'বাহু সহ বুকে পিঠে হাত ঝাড়া দিয়ে পরিষ্কার করার চেষ্টা করলো। বিরক্তিতে মুখ দিয়ে বের করলো "চ" বর্গীয় শব্দ।

"হিয়া! হিয়া! হিয়া শুনতে পাচ্ছো?" চোয়ালে হাত দিয়ে কয়েকবার হিয়াকে ডাকলো রুদ্র। কিন্তু না হিয়ার কোনো রেসপন্স নেই। অন্যথায় আর কোনো উপায় না পেয়ে রুদ্র একজগ পানি নিয়ে হাজির হলো তার সামনে।

হিয়ার মুখে পানির ছেঁটা দেওয়ার বদলে পুরা জগের পানি টাই ঢেলে দিলো তার মুখে। ধড়ফড়িয়ে উঠার জায়গায় হিয়া আস্তে করে চোখটা খুললো মাত্র।

"এই মেয়ে! কি শুরু করেছো তুমি? আর কতোভাবে হেনস্তা করবে আমাকে?"

হিয়া আস্তে করে উঠে চোখ পিটপিট করতে করতে বলল,

"আমি.. আমি কি করেছি রুদ্র?"

"ওত তেরী! কি করেছো বুঝতে পারছো না তাই না! ছোট খুকি আমার? সারা রাস্তা বমি করে তলিয়েছো কেন? আর তোমার যে এমন যেখানে সেখানে বমি করার অভ্যাস আছে সেটা বলোনি কেন? মান সম্মান কিছু আর থাকলো না আমার!"

শেষ কথাটা মাথায় হাত দিয়ে একটু দুঃখী হয়ে বলল রুদ্র।

"আরে আমি কি জানতাম নাকি যে, আমার এমন হুট করেই শরীরটা খারাপ হবে!"

"ওলে লে লে! আমার ছোট্ট খুকিটা। ওনি কালকে এসেছেন দুনিয়াতে, তাই ওনি জানতেন না ওনার ট্রেনে উঠলে পেট কুরকুর করে। না জেনেই ওনি ট্রেন থেকে শুরু করে বাস পর্যন্ত বমি করতে করতে আমার মান সম্মানের দফারফা করে ছেড়েছেন।"

"আরে আজব তো! এমনভাব করছো যেন আমি জেনেশুনে ইচ্ছে করেই অসুস্থ হইছি। আর লজ্জা মনে হয় তুমি একাই পেয়েছো আমি আর পাইনি?"

"ওহ হো! তো তোমার আবার লজ্জাও আছে? শুনে তো আমার লজ্জাটাই হারিয়ে গেলো।"

হিয়া কিছু বললো না শুধু আড়চোখে তাকালো রুদ্রর দিকে। রুদ্র আবার বলতে শুরু করলো,

" অসভ্য,ছ্যাচড়া,নোংরা নর্দমার মতো মেয়ে একটা।"

হিয়া দাঁত চেপে বলল, "রুডি বয়,তুমি কিন্তু এবার বেশি বেশিই বলছো।"

রুদ্র ঠোঁট কামড়ে চোখ পাকিয়ে বলল, "চুপ ছেমড়ি। তোর মুখে..."

"রুদ্র আবার বমি পাচ্ছে।"

রুদ্র হিয়াকে নামিয়ে ফ্লোরেই হাত পা ছড়িয়ে বসে পড়েছিলো, তবে এবার হিয়ার কথা শুনে তার বসার স্বাদটাই মাটি হয়ে গেলো। সে তড়িঘড়ি করে উঠে এলোমেলো পায়ে ছুটলো কিচেনের দিকে, ফ্রিজ থেকে লেবু বের করতে লাগলো। তাদের বাসার হেল্পিং হ্যান্ড ছকিনা খালা রুদ্রকে দেখে বলল,,

"আরে নীল বাবাজি! কহন আসলা। বৌমা কোথায়?"

রুদ্র লেবু নিয়ে ছুটতে ছুটতে উত্তর দিলো,

"ছকিনা খালা জলদি একটা বালতি নিয়ে এসো।"

রুদ্র লেবু দু'টো এনে দূর থেকে হিয়ার দিকে ছুড়ে দিলো।

"নে এই দুইটা ভালো করে নাকে নে।"

"এই যে নুদ্র তোমার পাতিল।"

রুদ্র ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো ছকিনা খালার দিকে, কোমড়ে হাত দিয়ে ভ্রু কুচকে বলল,

"পাতিল? পাতিল দিয়ে আমি করবো?"

"ক্যান হে! তুমি না কইলা একটা পাতিল নিয়া আইতে।"

"আরে আমি কখন তোমারে.. "

রুদ্রর কথা শেষ করার আগেই হিয়া লেবু দুইটা নাকে নিয়ে শুঁকতে শুঁকতে বলল,

"ছকিনা খালা কানে কম শোনে, তুমি কি কইতে সে কি শুনছে। বালতি আনতে পাতিল আনছে। যাকগে, বাদ দেও, আমার আর বালতি লাগতো না। বমি চলে গেছে গা।"

ছকিনা খালা না বুঝেই বললেন,

"কার বৌ কোথায় চলে গেছে বৌমা?"

রুদ্র : বৌ না বমি.."

"তেমার বৌ পরকীয়া করতে মাঠে চলে গেছে গো খালা।" নাক টানতে টানতে বলল হিয়া।

"আমার আবার বৌ আইবো কোথ্থেকে? আমার তে খালি একখান মাইয়া আছে গো বৌমা।"

"ধূর ছাতার মাথা।" কথাটা বলেই রুদ্র ওপরে যেতে নিলে, হিয়া ফের ডেকে বলল,

"রুদ্র আমি ওপরে যাবো।"

"তো আমি করবো?" পেছন ফিরে কথাটা বলল রুদ্র।

"আমাকে কোলে তুলে নিয়ে চলো।"

"আহারে। ঢং দেখে আর বাঁচি না।" দাঁত চেপে বলল রুদ্র।

"ছকিনা খালা ওই নোংরাটাকে ওপরে ছুড়ে দিয়ে যাও তো!"

"আমাকে কোলে তুলে নিয়ে না গেলে, আমি কিন্তু এখানেই বমি করে ভাসিয়ে দিবো।"

রুদ্র পেছন ফিরে কয়েকপা এগিয়ে আসলে এবার, হিয়ার সামনে দাড়িয়ে ভ্রু কুচকে বলল,

"তোর ওয়াক কি তোর বাপের সম্পত্তি নাকি? যে তুই চাইলেই চলে আসবে।"

"চ্যালেঞ্জ দিচ্ছো নাকি? দেখাবে তাহলে?"

রুদ্র যেন একটু ঘাবড়ে গেলো, এই মেয়ের ওপর ভরসা নেই দেখা গেলো মুখের ভেতরে আঙুল চালিয়ে দিয়ে এবার বমি নিয়ে আসবে। তাই সে আর কথা না বাড়িয়ে হিয়াকে কাঁধে তুলে নিলো।

"তোর শরীর থেকে কি বাজে গন্ধ আসছে রে নোংরা। উহুম, এখনই আমাকে গোসলে যেতে হবে।"

হিয়া রুদ্রর কাঁধে থেকেই জবাব দিলো, "এমন করে বলছেন কেন? আমি তো শুধু, ট্রেনে, এক, দুই চারবার আর গাড়িতে দুবার মোট ছয়বার বমি করছি। চাইলে অবশ্য আরও কয়েকবার করতে পারতাম কিন্তু এটাতে বেশ কষ্ট হয়।"

শেষের কথাটা মুখের ভিতরে রেখে আওড়ালো হিয়া। রুদ্র হিয়াকে রুমে নিয়ে নামিয়ে দিলো। হিয়াকে ওয়াশরুমের কাছে নিয়ে দাড় করিয়ে বলল,

"তুমি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও। আমি অন্য রুমে যাচ্ছি শাওয়ার নিতে।"

"আচ্ছা ঠিক আছে।"

"উমম, তুমি একা পারবে তো? নাকি আমি ছকিনা খালাকে ডেকে দিবো?"

"না না আমি পারবো সমস্যা নাই।"

রুদ্র "ওকে" বলে চলে যেতে নিলেই হিয়া পুনরায় তাকে ডাকলো। আর রুদ্র ঘাড় ফিরিয়ে তার কাছে যেতেই, হিয়া হড়হড় করে বমি করে দিলো রুদ্রর গলা আর বুকে।

রুদ্রর চোখ মুখ অনায়াসেই খিঁচে বন্ধ হয়ে গেলো। কোমরে রাখা হাত দুইটা আরও শক্ত হয়ে উঠলো। আর হিয়া একদফা বমি করার পরেই চোখ বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে একটা শুষ্ক ঢোক গিলে নিলো। হা হয়ে থাকা মুখটা বন্ধ করে ভয়ে ভয়ে আওড়ালো,,

"রু.. রু..রুদ্..র"

"আম্মুউউউউউউউউউউউ" বলে একটা জোরে চিৎকার দিলো রুদ্র। আর সেটা এতো জোরে যে হিয়া তার দু'কান চেপে ধরলো হাতের আঙুল দিয়ে।

-

দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। হিয়া সেই দুপুরে ঘুমিয়ে ছিলো আর কিছুক্ষণ আগেই ঘুম ভাঙলো তার। সে উঠেই ফ্রেশ হয়ে এসে ব্যালকনিতে বসে পড়েছে হাতে একটা উপন্যাসের বই। আর সামনে এককাপ দুধ চা। দুধ চা -টা হিয়ার বেশ পছন্দের।

শরীরটা খারাপ থাকায় আজ আর রান্নাবান্না করার জন্য কিচেনের দিকে এগোয়নি হিয়া। দু'একবার ভেবেছিলো, ছকিনা খালা যাওয়ার আগে তাকে বলবে রাতের রান্নাটা আজ করে দিয়ে যেতে। কিন্তু রুদ্র তার হাতের রান্না খাবে কিনা, সেইভেবে আর বলেনি।

কিন্তু, এখন তো তার বেশ ভালোই চিন্তা হচ্ছে, রুদ্র এসে যদি তাকে মারধর করে রান্না না করার জন্য? তখন? তখন কি হবে? পরক্ষণেই হিয়া ভাবলো, রুদ্র জানে তার শরীর খারাপ। তাহলে হয়তে আজ আর কিছু বলবে না। আর যদি বলেও তাহলে তখন দেখা যাবে। এটা ভেবেই হিয়া আর একটা চুমুক বসালে চা'য়ে। হঠাৎ তার মনে পড়ে গেলো আজ সকালের কথা। আর হেঁসে কুটিকুটি হতে লাগলো সে।

আজ সকালে যখন হিয়া আর রুদ্র খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য ট্রেন ধরে। তখন হিয়া রুদ্রর সাথে কথা বলতে অনেক চেষ্টা করে, কিন্তু রুদ্র এতটাই দেমাগী সে হিয়ার সাথে কেনো কথাই বলতে চায় না। হিয়া কোনো প্রশ্ন করলে তার উত্তরটা দেয় মাত্র।

হিয়াও নাছোড় বান্দী। আচ্ছা তিনঘন্টা জার্নির পথে কোনো মানুষ কি পারবে মুখ বন্ধ রেখে পথ চলতে? আর যদি সে হয়, হিয়ার মতে চঞ্চলময়ী তাহলে? রুদ্র তো নিজের মতো করে ফোন চালিয়ে যাচ্ছে তো যাচ্ছেই। চারপাশে তার কোনো হেলদোল নেই। কিন্তু হিয়ার তো আর সময় যাচ্ছে না। তাই সে রুদ্রকে জ্বালাতে একটা ফন্দি আঁটে।

হিয়া নিজের মাথাটা রুদ্রর কাঁধের ওপর হেলিয়ে দুলিয়ে রাখতে রাখতে বলে,,

"রুদ্র আমার মাথাটা কেমন জানি ভনভন করছে।" চোখ মুখ বন্ধ করে ঝিম ধরানো কন্ঠে বলে সে।

রুদ্র নিজের কাধের ওপর থেকে হিয়ার মাথাটা এক আঙুল দিয়ে ওঠাতে উঠাতে বলে,

"মাথা থাকলেই মাথা ভনভন করে। অসুবিধা হলে মাথাটা কেটে ফেলো।"

"আমি সত্যি বলছি গো! আমার পেটের ভেতর কেমন জানি কুরকুরি করছে!"

"কুরকুরি আবার কি?" ভ্রু কুচকে বলল রুদ্র।

"মোচড় দিচ্ছে পেটের ভেতর। নাড়িভুড়ি উল্টাচ্ছে, মনে হচ্ছে এখনি সব উঠে যাবে।"

এমন কথা শুনে রুদ্র তড়িঘড়ি করে উঠে দাঁড়ালো। চোখ কপালে তুলে বলল,,

"এই দেখো হিয়া! একদম কিছু বমি-টমি করবে না বলে দিলাম।" রুদ্রের কন্ঠে কেমন সর্তকর্তা আর একটু লজ্জাও।

"আমিও তো করতে চাই না, কিন্তু.. "

কথাটা শেষ করার আগেই হিয়া মাথা নিচু করে হাঁটুর কাছে নিলো। ডানহাতের দুইটা আঙুলে পেস্ট লাগিয়ে তা মুখের ভেতর ঢুকিয়ে দিলো। আর মুহুর্তে সে গড়গড় করে বমি করে দিলো। একবার না পরপর কয়েকবার।

রুদ্র অবাক হয়ে একটা "হিয়াাাা" বলে চিৎকার দিলো। আর তারপরই ঠান্ডা হয়ে গেলো। খুব কষ্ট কান্না চেপে বলল,,

"এটা তুমি কি করলে নোংরা মেয়ে!"

হিয়ার হাসি পেলেও সেটা অনেক কষ্টে চেপে রাখলো। মুখে এমন একটা ভাব আনলো যেন সে খুব ক্লান্ত। বর এভাবেই সে পুরা রাস্তায় মোট ছয়বার বমি করলো। আর প্রতিবারই রুদ্রর মুখের রিয়াকশন দেখার মতো ছিলো।

-

এটা ভেবেই হিয়ার হাসি আবারো কয়েকগুণ বেড়ে গেলো। পুরা বাড়িতে প্রতিধ্বনি হলো তার হাসির শব্দ। হিয়া নিজেই নিজেকে বলল,,

"যদিও আমি ইচ্ছা করে করেছি, কিন্তু তাও অনেক বার বমি করেছি। শরীরটা আসলেই দূর্বল লাগছে। কিন্তু শেষবার যখন রুদ্রর ওপর বমি করলাম তখন তো আমি মুখে আঙুল দেয়নি! তাহলে? তাহলে তখন কেন আমার বমি হলো?"

হিয়ার ভাবনায় ছেদ পড়লো তার ফোনের রিংটোনে। সে টি-টেবিলের ওপর থেকে ফোনটা তুলল, তার শাশুড়ী মা ফোন দিয়েছে।

"আসসালামু আলাইকুম! আম্মু কেমন আছো?"

"আলহামদুলিল্লাহ সোনা। আমি ঠিক আছি। তোর কি অবস্থা? যাওয়ার পর থেকে তো কোনো কলও করলি না।"

"আসলে এসেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম গো আম্মু। মাত্রই উঠছি। আচ্ছা মোমো কোথায়? ওর শরীর কেমন আছে?"

"হ্যাঁ, মোমো আমার পাশেই আছে। আমি তেল দিচ্ছি ওর মাথায়।"

মোমো : বাবা! মানুষ এখন ঘুমিয়ে থাকে, কিন্তু আমার খোঁজ নেয় না।"

"ওরে মোমো কি বাচ্চি! অভিমান পরে করিস। আগে একটা মজার কাহিনী শোন। আজকে তোর ভাইয়াকে যেভাবে নাকানিচুবানি খাইয়েছি না।" বলেই হো হো করে হাসতে থাকলো হিয়া।

"কেন রে! কি করেছিস তুই আমার ছেলের সাথে?"

"আম্মু গো! আজকে তোমার ছেলের বুকে মাথা রাখার জায়গায় বমি করি তলিয়ে দিয়েছি।"

হিয়ার হাসি যেন এবার আরও বেড়ে গেলো। হাসির কারণে সে ঠিক মতো কথাটাও বলতে পারছে না। অন্যদিকে, সাবিলা বেগম আর মোমোর মুখ হা হয়ে গেছে।

মোমো : কি বলিস হিয়া! তুই এটা কেমনে করলি?"

"কেমনে আবার মুখের ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে!"

সাবিলা বেগম : হায় খোদা! এসব কি করেছিস তুই?"

"হ্যাঁগো আম্মু! তাও একবার না, ছ' ছ'বার করছি।"

মোমো : কি বলিস! এতবার বমি করছিস তোর নোংরা লাগেনি? কষ্ট হয়নি তোর?"

"হ্যাঁ, লেগেছে তো! কিন্তু তার থেকেও মারাত্মক লেগেছে শশুরের ছেলের রিয়াকশন।"

আবারো অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো হিয়া। কিন্তু এবারে আর তার হাসিটা স্থায়ী হলো না। হঠাৎ একটা পুরুষালি কন্ঠস্বর কানে আসায় তার হাসি মুহুর্তেই গায়েব হয়ে গেলো।

"হিয়া"

হিয়া চোখ বড়ো বড়ো করে ফোনটা একহাতের ভেতরে চেপে পেছন ফিরে তাকালো। তার থেকে ঠিক চার-পাঁচ হাত দূরে দাড়িয়ে আছে রুদ্র।

#চলবে~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন