#চারু-বৃত্ত
#তোমাদের আদুরিনী
#পর্ব 11
~~~
----------
"চারু ।"
"কি লাগবে বলুন ?"
"তুমি কি ব্যস্ত? "
চারু সকালে বাজার থেকে ফিরে রান্না ঘরে পানি খাচ্ছিল, বৃত্তের আওয়াজ পেয়ে ভরকে গেল । চট করে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলো কেউ আছে কি না ।
"হুমম রান্না করছি । কি খাবেন বলুন বানিয়ে দিচ্ছি।"
বৃত্ত রান্না ঘরে ঢুকে সবজি হাতে নিয়ে বলল,
"হেল্প করি ?"
"না না আপনি যান তো এখান থেকে , কি লাগবে মুখ ফুটে বলুন বানিয়ে দিচ্ছি ।"
" কিছু লাগবে না , শুধু হেল্প করতে আসছি ।"
"লাগবে না হেল্প । আর যদি সত্যিই হেল্প করতে চান তাহলে এখান থেকে যান তাতেই হবে ।"
বৃত্ত কপালে ভাঁজ ফেলে তাকিয়ে বলল,
"আমি থাকলে কি সমস্যা? "
"অনেক সমস্যা ।"
"যেমন ।"
গভীর শ্বাস নিল চারু । তার পর রয়েসয়ে ধীরে জবাব দিল,
"আপনি শুধু আমার থেকে দূরে থাকুন এতে আপনার আমার দুজনেরই ভালো । পাল্টা প্রশ্ন করবে না ।"
"ঠিক আছে পরীক্ষা শেষে জমিয়ে কথা হবে ।"
বৃত্ত যেতেই হাফ ছেড়ে বুকে হাত রেখে ধীরে শ্বাস নিল । বৃত্ত সিড়ি বেয়ে ওঠতে গিয়ে থেমে ঘার ঘুমিয়ে চারুকে ডাকলো ,
"চারু শুনছো? "
চারু আচমকা তাকাল , বৃত্ত হাত নেড়ে বাই বলে হেসে উপরে চলে গেল । চারু আনমনেই ঠোট এলিয়ে হাসলো । নিজের এমন কাণ্ড খেয়ালে আসতেই মাথা ঝাকিয়ে হাসি থামিয়ে বলল,
"আমি হাসছি কেন ?
______
দিন যায় তো রাত যায় , এভাবেই দিন যাচ্ছিল । চারুর পরীক্ষা এসেই গেলো, দিনে পড়ার সময় হয়ে ওঠে না দেখে রাত জেগে প্রেপারেশন নিচ্ছে । ইদানিং বৃত্তের মুখোমুখি খুবই কম হয় । পরীক্ষার জন্য বৃত্ত ও তেমন একটা জালাতন করে না । শুধু দূর থেকেই দেখে চোখের শান্তি মেলায় ।
কাল থেকে পরীক্ষা শুরু হবে চারুর ,তাই রাতে পড়ছিল চারু ,বৃত্ত চারুর ঘরের কাছে এসেও বারবার ফিরে যাচ্ছে । হাত বাড়িয়ে দরজায় টোকা দিতে গিয়েও থেমে যাচ্ছে । ফের হাত বাড়িয়ে টোকা দিবে তার আগেই দরজা খুলে গেল । চারুও চমকাল , বৃত্ত কে এমন সময় আশা করে নি । রাত তখন দুইটা , চারু চোখ ঘুরিয়ে চারপাশটা দেখে নিল । কাউকে নজরে এলো না । চারু ভারি সরে প্রশ্ন ছুড়লো ,
"এতো রাতে আপনি এখানে ?"
হিমসিম খেল বৃত্ত , কি যে বলি । মাথা চুলকে বলল,
" ওই আসলে ,তুমি কি পড়ছিলে ?"
"হুমম । "
"ওহ , খেয়েছ ?"
" হুমম ।"
" কাল থেকে তো পরীক্ষা, পড়তে কোনো প্রবলেম হচ্ছে না ?"
" না ।"
বৃত্ত হাসফাস করলো । আর কি বলা যায় । কিছুখন চুপ থেকে চারুকে দেখলো , চারু নীরবতা কাটিয়ে বলল,
" আর কিছু বলবেন ?"
"কেন ।"
"আমি একটু রান্না ঘরে যাব পানি খেতে ।"
"ওহ যাও ।"
বৃত্ত সরে দাঁড়াল । চারু যেতেই বৃত্ত মাথা চুলকে হাসলো ।
--------'---
আজ চারুর পরীক্ষা দুপুর দুইটা থেকে শুরু । একমাস হবে । বৃত্ত সকালে কলেজে গেছে তার সকাল বিকাল দু বেলায় ডিউটি আছে । চারু যাবে অন্য কলেজে , অন্য কলেজে সিট পরেছে । পরীক্ষা হোক আর যাই হোক , তার রান্না বান্না করে বাড়ির সব কাজ করে পড়তে বসেছিল এমন সময় ফোনটা বেজে উঠল,হাতে নিয়ে দেখলো বৃত্ত লেখা । ফোনটা ধরলো না , কয়েক বার বেজে উঠল তবুও ধরলো না কেবল পড়াতে তার মনোযোগ আটকাল ।
বিকাল পাঁচটায় পরীক্ষা শেষ হতেই চারু সোজা বাড়ি ফেরার পথ ধরলো , অনেকটা দূরে গাড়ির জন্য দাড়িয়ে ছিল , এমন সময় পাশ থেকে কেউ ডাকলো ,
" চারু ।"
চারু তাকালো, বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল,
" আপনি ?"
" হুমম, বাড়ি ফিরছিলাম , ওই খানে গাড়ির জন্য দাড়িয়ে ছিলাম তোমায় দেখে এখানে এলাম । পরীক্ষা কেমন হলো ?"
" আলহামদুলিল্লা ভালো ।"
" ওহ ।"
বৃত্ত আর কিছু না বলে সোজা দাঁড়িয়ে থাকলো , চারু আড় চোখে তাকাল, কিছু বলছে না দেখে , চুপিচুপি ফের তাকাল । কেমন দেখাচ্ছিল, বড্ড ক্লান্ত, শার্ট টা ও হালকা ঘামে ভিজে গেছে । চারু চোখ সরিয়ে নিচের ঠোঁট কামরে ধরে এদিক ওদিক চোখ ঘোরাচ্ছিল । একটা রিকশা আসতেই বৃত্ত হাত উঠিয়ে থামাল , তারপর চারুর দিক তাকিয়ে বলল,
" চলো যাওয়া যাক ।"
চারু মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল । রিকশাতে বসতেই বৃত্ত পাশে বসতে চাইলে চারু হালকা চেঁচিয়ে বলল,
" না , মানে আপনি অন্য গাড়িতে আসুন ।"
বৃত্ত পাল্টা কোনো প্রশ্ন না করে মামাকে বলল,
" ও সেখানে বলবে ওখানে নামিয়ে দিবেন ।কেমন ?"
" আইচ্ছা ।"
ভারা টা বৃত্ত দিয়ে দিল । চারু আর ফিরে তাকালো না , কেবল বৃত্ত একাই তাকিয়ে ছিল ।
---------------
রাতে বাড়িতে খুশি ঝলক দেখা গেল । বেশ লোকজন এসেছে । বিন্দু আর বিন্তির এক বাড়িতেই বিয়ের প্রস্তাব এসেছে । পনেরো দিন পর এ বাড়ির দুই মেয়ের ধুমধাম করে বিয়ে । আজ রাতে এসে বিয়ের তারিখ পাকা করে গেল । এতে বাড়ির সবাই বেশ হাসি খুশি ।
চারুর কাল পরীক্ষা নেই , তাই সে রান্না ঘরে এটা ওটা রান্না করে সবার সামনে এনে দিচ্ছে । বৃত্ত ও সবার সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছিল ঠিকি তবে তার চোখ দুটো বার বার চারুর দিকে আটকাচ্ছিল । আজ কয়েক দিন হলো মেয়েটার সাথে কথা হয় না তেমন । দৃঢ় শ্বাস ছেড়ে অনুভুতি গুলোকে কিছু দিনের জন্য চাপিয়ে রাখলো ।
খাবার টেবিলে হইচই পড়লো । বৃত্ত চুপচাপ কোন কথা না বলে কোন দিক না তাকিয়ে খেয়ে ঘরে চলে গেল । চারু একবার তাকাল , আজ বৃত্তকে বড্ড কেমন কেমন দেখাচ্ছে ।
কাজ শেষ করে ঘরে গেল চারু , মায়ের কাছে বসে মাথায় তেল নিতে নিতে বলল,
" মা "
"হুমম ।"
"আর কিছুদিন পর এবাড়ির ঋন শোধ হবে । তারপর আমি আর তুমি অনেক দূরে চলে যাব , তখন তোমায় কাজ করতে হবে না আমিই সব করবো। "
" হ আমিও তাই ভাবলুম । "
" হুমমম ।"
ছোট্ট একটা দায়িত্বে যেন চারু ভীষণ ক্লান্ত । মুখ ফুটে কাউকে বলতে পারে না । কেবল নিজের মাঝে লুকিয়ে রেখে মন ভারি করে । সেও তার মনকে বুঝতে পেরেছে , মন যে তার ডাকে সাড়া দিতে চাচ্ছে । বার বার মনকে বোঝাচ্ছে, মন বুঝছে কই ।
ভাবনার মাঝে ফোনে টুং করে একটা মেসেজ এলো , তাতে লেখা ,
" ফ্রি থাকলে একটু ছাদে এসো ।"
অনেকক্ষণ ফোনের দিক তাকিয়ে থেকে , ফোনটা রেখে পড়তে বসলো ।
ওদিকে ছাদে বৃত্ত অপেক্ষা করছিল । বেশ কিছুক্ষণ পর আরেকটা মেসেজ দিল ,
" আসবে না ?"
এতেও কোন জবাব এলো না । এখনকার মত হাল ছেড়ে একাই ছাদে বসলো । আকাশে চাঁদ নেই মেঘে ঢাকা পরেছে । বৃত্ত আনমনে হাসলো ।
---------------
"কাকিমা এখন কি কিছু করতে হবে ?"
" হ্যা রে চারু , নাড়কেল গুলো কুড়ে দে নাড়ু বানাতে হবে । "
"আমি করে দেই আপা , আমার মাইডার কাইল পরীক্ষা আছে , একটু পড়ুক ।"
" আচ্ছা তুই যা ।"
সকালে খাওয়া দাওয়া শেষ করে বৃত্তের মা চারুর হাতে হাতে কাজ করছিল । মেয়ের বিয়ে বলে কথা অনেক কাজ । তবে সেদিন চারুকে কটা কড়া কথা শুনিয়ে এখন ভালো ব্যবহার করছে । চারু রুমে চলে গেল । চারুর আজ পরীক্ষা না থাকলেও অন্য গ্রুপে পরীক্ষা আছে তাই বৃত্ত কলেজে গেছে । বিন্দু আর বিন্তি পার্লারে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে । যাওয়ার আগে চারুকে ডাকলো কিন্তু চারু গেল না ।
বৃত্তের মা আর চারুর মা এক সাথে কাজ করছিল । তখন রুহি আবার এলো । বিন্দু আর বিন্তি পার্লারে গেছে শুনে সেও চারুকে জোর করে নিয়ে গেল একাএকা যাবে না বলে ।
"কিরে তুই এখানে ?"
"আরে তোর বিয়ে আর আমি আসবো না ?"
# চলবে..............