ফন্ট সাইজ:
থিম:
নেশাময় আসক্তি

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: বন্যা শিকদার

#নেশাময়_আসক্তি

#লেখনীতে_বন্যা_সিকদার

#পর্ব— ০৬

“আব্বা, আমি বিয়ে করবো!

অয়ন কথাটা বলার সঙ্গে সঙ্গেই রুম জুড়ে নেমে এলো অদ্ভুত এক নীরবতা। যেন হঠাৎ করে কেউ সময় থামিয়ে দিয়েছে। উপস্থিত সবাই বিস্মিত চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইল। কেউ এমন ঘোষণার জন্য প্রস্তুত ছিল না। সদ্য আহি মুখে এক লোকমা ভাত তুলেছে, ঠিক তখনই অয়নে'র কথা কানে যেতেই সে হকচকিয়ে যায়। ভাত গলায় আটকে কাঁশতে শুরু করে। পরিস্থিতি মুহূর্তেই বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। অয়ন আর এক সেকেন্ড দেরি না করে তড়িঘড়ি করে আহি'র সামনে পানির গ্লাস এগিয়ে দেয়।

“পানিটা খেয়ে নে পাখি!

আহি ঢকঢক করে পুরো গ্লাস পানি শেষ করে। চোখ দুটো লাল হয়ে আছে, শ্বাস এখনো ঠিকমতো স্বাভাবিক হয়নি। সে ধীরে ধীরে অয়নে'র দিকে তাকায়। কিন্তু অয়ন তখন অন্য কিছু দেখছে, আহি'র দিকেই তার সমস্ত মনোযোগ, সমস্ত দৃষ্টি আটকে আছে। হঠাৎ জাহিদ শেখ গম্ভীর স্বরে বললেন,

- কি বললে তুমি?

অয়ন এবার নিজের বাবার দিকে তাকায়। চোখে বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই। গলায় আত্মবিশ্বাসের স্পষ্ট ছাপ।

“বললাম আমি বিয়ে করবো। বয়স তো আর কম হলো না আব্বা। অলরেডি থার্টি প্লাস। অথচ এত বড় ছেলেকে বিয়ে না করিয়ে আপনি দিব্যি হাত গুটিয়ে বসে আছেন!

জাহিদ শেখ ভ্রু কুঁচকে তাকান। ঠোঁটের কোণে হালকা বিরক্তির রেখা।

- তো আমি কি করবো?

অয়ন চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে, একরকম নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলে ওঠে,

“বউ চাই আমার! সেটাও আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে!

মূহুর্তেই সবাই স্তদ্ধ হয়ে যায়, জাহিদ শেখ চোখ পাকিয়ে তাকান ছেলের দিকে। তারপর ধীর এবং চাপা রাগে ভরা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করেন,

- এতো তারাতাড়ি বউ লাগার কারণ?

অয়ন ভ্রু কুঁচকে বাবার দিকে তাকায়। ঠোঁটের কোণে দুষ্টু, কিন্তু নির্ভীক এক হাসি।

“এই শীতে যে কারণে আপনার আম্মাকে, শ্বশুর আব্বার শাশুড়ী আম্মাকে, ছোট চাচ্চুর ছোট আম্মাকে প্রয়োজন হয়। ঠিক সেই কারনে আমারও বউ প্রয়োজন!

কথা শেষ করতেই পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। হঠাৎ করেই অয়নের দিকে উড়ে আসে এক জোড়া উরন্ত জুতা। ঠিক নিশানায় না লাগলেও উদ্দেশ্য পরিষ্কার, এটা সতর্কবার্তা।

জুতা ছুড়েছেন শান্তা শেখ। তার চোখ-মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট। রাগে তাঁর নাসারন্ধ্র ফুলে আছে। তিনি এক পা এগিয়ে আসতেই অয়ন মুহূর্তের মধ্যে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়।

“আম্মা! আপনি এত বড় ছেলের গায়ে জুতা ছুড়ে দিলেন কেন? আমি কি কোনো অপরাধ করেছি? শুধু বিয়ে করতে চাইছি বলে এভাবে নির্যাতন করবেন? আমি কিন্তু পুলিশের কাছে আপনার নামে মামলা করবো!

শান্তা শেখ এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট করেন না। দাঁতে দাঁত চেপে তীক্ষ্ণ স্বরে বলেন,

- গোলামের পুত, কাছে এসে বল।

অয়নে'র মুখের রঙ সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টে যায়। সে দুই কদম পেছনে সরে গিয়ে দ্রুত মাথা নাড়ায়।

“আমাকে কি গাধা পেয়েছেন নাকি? ছোটবেলায় ভালো করে কাছে ডেকে কী যে মাইর দিতেন! ও খোদা, সেই কথা ভাবতেই এখনো গা শিউরে ওঠে। আম্মাজাত এত ডেঞ্জারাস কেন হয় কে জানে!

শান্তা শেখ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। চোখে আগুন জ্বলে।

- গোলামের পুত, দূরে যাচ্ছিস কেন? সাহস থাকলে কাছে এসে বল!

তিনি কয়েক কদম অয়নে'র দিকে এগিয়ে যেতেই অয়ন আর দেরি করে না। এক দৌড়ে সিঁড়ির কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। দূরত্বটা এমনভাবে রাখে যেন প্রয়োজনে এক লাফে পালানো যায়।

“আম্মা, আমি কিন্তু একদমই আপনাকে ভয় পাই না। আর শুনেন আমি যত তাড়াতাড়ি বিয়ে করবো, আপনারা তত তাড়াতাড়ি দাদা-দাদি হবেন। ছোট্ট ছোট্ট নাতি নাতনিদের কোলে নিয়ে হাঁটবেন, আর তা না করে ছেলেকে বিয়ে করাতে চায় না৷ আর আব্বা, শুনে রাখেন। আমি কিন্তু আপনার মেঝ ভাইয়ের মেয়েকেই বিয়ে করবো। সেটাও খুব তাড়াতাড়ি!

এই কথা বলেই আর এক মুহূর্তও না দাঁড়িয়ে সে নিজের রুমের দিকে হাঁটা দেয়। পেছনে আর একবারও তাকায় না। রুমে তখন থমথমে পরিবেশ। আহি চুপচাপ নিজের খাবার কোনোমতে শেষ করে উঠে পড়ে। বুকের ভেতর অজানা ভয় জমে আছে। পরিস্থিতি যে কোন দিকে মোড় নেবে, সে নিজেও বুঝতে পারছে না। অয়ন বরাবরই নিজের মনের কথাই শোনে। সে যখন কিছু একটা ঠিক করে ফেলে, তখন তাকে থামানো কারও পক্ষেই খুব একটা সহজ নয়।

_

_

আদিল রুমে ঢুকেই মুহূর্তের মধ্যে থমকে যায়। চোখের সামনে যে দৃশ্যটা ধরা পড়ে, তাতে সে একেবারে হতবিহ্বল হয়ে যায়। পুরো রুমটা নিখুঁতভাবে গোছানো। তার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জামাকাপড়, বই, কাগজপত্র—সবকিছুই যেন অদৃশ্য কোনো নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা। এই রুম কি সত্যিই তার? কয়েক সেকেন্ড সে বিশ্বাসই করতে পারে না।

কারণ আদিল বরাবরই অগোছালো মানুষ। তার জীবনে কোনো কিছুই নিয়ম মেনে চলে না, রুম তো দূরের কথা। নিজের রুমের কোনো জিনিসেরই স্থায়ী ঠিকানা নেই। যা যেখানে পড়ে থাকে, সেখানেই পড়ে থাকে। মেঝে জুড়ে ছড়িয়ে থাকা কাপড়, টেবিলের উপর এলোমেলো কাগজ, বিছানার পাশে পড়ে থাকা বই, এই বিশৃঙ্খলাই ছিল তার স্বাভাবিকতা। এমনকি তার মা যখনই রুম গোছাতে চাইতেন, আদিল স্পষ্ট আপত্তি জানাত। সে বলত, এই এলোমেলো জীবনটাই তার ভালো লাগে।গোছানো-ছকবাঁধা জীবন তার ধাতে নেই। সে নিজেই নিজের যত্ন নেয় না, সেখানে রুম গোছানোর কথা ভাবাও তার কাছে হাস্যকর ছিল।

তবে সত্যি বলতে কি, আদিল সব সময় এমন ছিল না। মাস কয়েক আগে পর্যন্তও সে এতটা বেখেয়ালি ছিল না। ধীরে ধীরে যেন তার ভেতরে কিছু একটা ভেঙে পড়েছে। অজান্তেই সে নিজের প্রতি উদাসীন হয়ে গেছে, চারপাশের সবকিছু এলোমেলো করে ফেলেছে।

কেন এমন করছে? এর উত্তরটা শুধু আদিল'ই জানে। অয়ন আর রাকিব তার বেস্ট ফ্রেন্ড হওয়া সত্ত্বেও সে কাউকে কিছু বলেনি। অয়ন বহুবার তার এই পরিবর্তনের কারণ জানতে চেয়েছে। চিন্তিত কণ্ঠে প্রশ্ন করেছে, বারবার বোঝার চেষ্টা করেছে। কিন্তু প্রতিবারই আদিল বিষয়টা এড়িয়ে গেছে। কিছু কথা এমনই থাকে, যেগুলো শব্দে প্রকাশ করা যায় না। হঠাৎ করেই তার মনে পড়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু একটা। বুকের ভেতর অদ্ভুত শূন্যতা নিয়ে সে দ্রুত ড্রয়ারের দিকে এগিয়ে যায়। তাড়াহুড়ো করে খুঁজতে থাকে। একটার পর একটা কাগজ সরিয়ে অবশেষে সে পেয়ে যায় সেই ইম্পোর্ট্যান্ট কাগজগুলো। কাগজগুলো হাতে নিয়ে আদিল দীর্ঘ একটা শ্বাস ফেলে।

বুকের ভেতরের চাপটা যেন একটু হালকা হয়। সে নিজেকে সামলে নিয়ে রুমের চারপাশে একবার তাকায়—নিশ্চিত হতে চায় কেউ কিছু দেখেনি। তারপর খুব যত্ন করে কাগজগুলো একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে তালা বদ্ধ করে দেয়। এই কাগজগুলোতে লুকিয়ে আছে তার জীবনের এমন এক সত্য, যা সে ছাড়া আর কেউ জানে না। হয়তো কোনোদিন কাউকে জানানো হবে না। কিছু সত্য শুধু নিজের ভেতরেই বন্দি থাকাই ভালো।

আদিল বারবার ভাবছে, তার রুমটা আসলে কে গুছিয়ে দিল? যতই মাথা খাটায়, ততই উত্তরহীন হয়ে পড়ে। পরিচিত কারও কাজ বলেও মনে হয় না, আবার অচেনা কারও পক্ষে এমন নিখুঁতভাবে সবকিছু গুছিয়ে দেওয়াও অসম্ভব। ভাবনার ভেতরেই সে অস্থির হয়ে ওঠে। মাথাটা তার ভীষণ ঝিমঝিম করছে। যেন কেউ মাথার ভেতরে ধারালো কিছু দিয়ে একের পর এক আঘাত করছে। চোখের পাতা ভারী হয়ে আসে, কপালের শিরাগুলো টনটন করে ওঠে। এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবার শক্তি নেই তার অগত্যা আদিল সব চিন্তা আপাতত দূরে ঠেলে দিয়ে ধীরে ধীরে নিজের বিছানার দিকে এগিয়ে যায়। শরীরটা ভেঙে পড়ার মতো ক্লান্ত। কোনো কিছু না ভেবেই সে বিছানায় উঠে পড়ে। অভ্যাসবশত কোলবালিশটা শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ে, এই অভ্যাসটা তার বহুদিনের।

রুমটা নিস্তব্ধ। শুধু ঘড়ির কাঁটার টিকটিক শব্দ। ঠিক তখনই হঠাৎ করে তার কানে এসে লাগে এক অদ্ভুত আওয়াজ। নরম, চাপা, কিন্তু স্পষ্টভাবে মেয়েলি কণ্ঠ,

- ওম…ওম…ওম…

আদিল চমকে উঠে। চোখ দুটো বড় বড় করে সে চারপাশে তাকায়। রুমে কেউ নেই। দরজা বন্ধ, জানালা বন্ধ। তবু সেই শব্দ যেন ঠিক তার কাছ থেকেই আসছে। বুকের ভেতর হালকা কাঁপুনি খেলে যায়। কে এমন অদ্ভুতভাবে শব্দ করছে? কেনই বা করছে? কিছুই বুঝতে পারে না সে।

ভয় আর বিভ্রান্তির মাঝেই আদিল আবার কোলবালিশটাকে নিজের বুকে আরও শক্ত করে চেপে ধরে।

ঠিক তখনই সে টের পায়,

কোলবালিশটা যেন অস্বাভাবিকভাবে শক্ত। যেন শুধু তুলোর নয়, ভেতরে কোনো শক্ত কাঠামো আছে। আদিলে'র ভ্রু কুঁচকে যায়। গলায় অবাক আর অস্বস্তির মিশ্র সুর নিয়ে নিজেই আনমনে বলে ওঠে,

"এই কোলবালিশটা এমন কেন? যাহ্ বাবা…কোলবালিশের হাতও আছে নাকি?

কোলবালিশের উপর থেকে চাদরটা সরাতেই আদিল এক ঝটকায় সরে যায়। ভয় আর বিস্ময়ের মিশ্রণে সে চিৎকার করে ওঠে—

"মা মা মাহি'র বাচ্চা তুই এখানে? তাহলে আমার বউ কই?

হঠাৎ এই চিৎকারে মাহি তড়িঘড়ি করে বসে। চোখে ঘুমের ছাপ, মুখে বিস্ময়। থমথমে গলায় সে জিজ্ঞেস করে,

- বউ মানে?

আদিল রীতিমতো হতভম্ব। চারপাশে তাকিয়ে আবার বিছানার দিকে নজর দেয়। বিরক্তি আর বিস্ময় মিশিয়ে সে চিৎকার করে,

"আরে, আমার কোলবালিশটা কই? যে আমার বউ'টার মতো আমার খেয়াল রাখে! শালি, তুই এই রাতের বেলায় আমার রুমে কী করিস?

মাহি কিছুটা লজ্জা মিশ্রিত কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,

- আদিল ভাইয়া, মানে আপনি আমাকে আপনার বউ ভাবছেন? আমি তো আপনাকে সব সময় খেয়াল রাখি, তাই না?

আদিল চোখ কচটানিয়ে, বিরক্ত কণ্ঠে গর্জন করে…

"চুপ কর, বেডি! তোর লজ্জা করে না তো? এতো বকাঝকা করার পরেও তুই আমার রুমে পা রেখেছিস? এমন বেহায়া কেন তুই?

মাহি একটু উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে, নির্ভীক কণ্ঠে ফিসফিস করে,

- শুনেন, ভালোবাসার জন্য বেহায়া হওয়া কোনো পাপ নয়। তাছাড়া আমি তো আপনাকে অনেক অনেক অনেক ভালোবাসি। আপনার জন্য একটু বেহায়া হলে ক্ষতি কি? বিয়ের আগে আমি বেহায়া, আর বিয়ের পর আপনি বেহায়া হবেন সেম সেম, বাট ডিফারেন্ট।

আদিল মাথা চেপে ধরে,

"ওহ্ শীট, এই মেয়েটা আমাকে পাগল করে দেবে।

মাহি সাবলীল কণ্ঠে বলল,

- আদিল ভাইয়া, আপনার মাথা ব্যথা করছে? আপনি এখানে শুয়ে পড়ুন, আমি টিপে দিচ্ছি।

আদিল রাগান্বিত কণ্ঠে আওরায়,

"আমার মাথা না টিপে একদম গলা টিপে দে! তোর এসব কাজ-কর্ম আমাকে পাগল করে দিচ্ছে।

মাহি একটুও দম না নিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে ওঠে,

- এক আমিতেই যদি আপনি পাগল হয়ে যান, তাহলে আমাদের বাচ্চাদের কে সামলাবে শুনি?

আদিল চোখ বড় করে তাকায়। গলা চড়িয়ে বলতে যাবে,

"মাহি…

কিন্তু মাহি সঙ্গে সঙ্গেই তার কথা কেটে দেয়। বিরক্তির সাথে বালিশটা ঠিক করতে করতে বলে,

"এই, চিৎকার করবেন না একদম। কত শান্তিতে একটু ঘুমাচ্ছিলাম, আর আপনি সব নষ্ট করে দিলেন। একটা রাত তো আমাকে শান্তিতে ঘুমাতে দিতে পারতেন, না কি?

আদিল দাঁতে দাঁত চেপে রাগ সামলে বলে,

"নিজের রুম রেখে আমার রুমে এসে শান্তিতে ঘুমাতে এসেছিস?

মাহি চোখ কুঁচকে তাকায়, তারপর নিরীহ ভঙ্গিতে বলে…

- এই দেখুন, ওইভাবে তাকাবেন না। আমি কি ইচ্ছে করে ঘুমিয়ে পড়েছি নাকি? রুমটা তো গরুর ঘরের মতো করে রেখেছিলেন। সেই গরুর ঘরকে মানুষের ঘর বানাতে বানাতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি, নিজেই বুঝিনি।

আদিলের কপালের শিরা ফুলে ওঠে।

"তোকে বলেছি এসব করতে?

"আমাকে বলতে হবে কেন? বউ হিসেবে আমার তো একটা দায়িত্ব আছে, তাই না?

"ইডিয়েট!

মাহি একচুলও দমে না। বরং একটু কাছে এগিয়ে এসে বলে,

- একটা কথা বলি?

আদিল খোঁচা দিয়ে উঠলো,

"কত কথা তো বলছিস! এখন আবার অনুমতি চাচ্ছিস কেন?

মাহি গম্ভীর হয়ে যায়। কণ্ঠটা একটু নরম করে বলল,

- না মানে…আপনি ওইদিন বলেছিলেন না, আপনি জুঁই আপুকে বিয়ে করবেন। তো আমি জেনে ফেলেছি, আপনার জীবনে কোনো জুঁই-টুঁই নেই। আপনি আমাকে মিথ্যা বলেছিলেন।

"হোয়াটটট?

মাহি ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি টেনে নেয়।

- আরেকটা কথা আছে, যেটা আপনি জানেন না।

আদিল সন্দেহভরা চোখে তাকায়—

"কী?

মাহি শান্ত গলায় বলে,

- জুঁই আপু কনসিভ করেছে।

"তুই…

মাহি তাকে থামিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে বলে,

- আমি সব জানি, বাচ্চাদের পাপ্পা। আপনি যদি ডালে ডালে চলেন, আমিও তাহলে পাতায় পাতায় চলি হুম। যান আজকের রাতের জন্য আপনাকে মুক্তি দিলাম। আগামীকাল বিরক্ত করবো, আর শুনেন মেহেরুন শেখ মাহি'র ভালোবাসা এতোটাও ঠুনকো নয়৷ তাকে আপনি যা বলবেন তাই বিশ্বাস করবে, মাঝে মাঝে একটু রাগ হয় তবে সময়ের সাথে আবারও আপনার কাছে চলে আসবো হু! গুড নাইট বাচ্চাদের পাপ্প।

মাহি ছোট্ট ছোট্ট পা ফেলে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। আদিল তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বিরবির করে উঠে,

"এমন পাগলামো করিস না মাহি! অনেক কষ্ট হয় আমার, কেন বুঝিস না। একটু তো ভালো থাকতে দে আমায়।

চলমান—

[ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন