#নেশাময়_আসক্তি
#লেখনীতে_বন্যা_সিকদার
#পর্ব— ০৭
দেখতে দেখতে বেশ কয়েকটা দিন কেটে যায়। আহি, মাহি আর মুন—তিনজনেরই এইচএসসি পরীক্ষার বাকি আর মাএ কয়েক মাস। অথচ তাদের পড়াশোনার কোনো চিন্তা নেই। মুন অবশ্য একটু সিরিয়াস, কিছুটা চেষ্টা করে পড়াশোনায় মন দিতে। কিন্তু আহি আর মাহি? পড়াশোনার কথাই শোনার সঙ্গে সঙ্গে যেন তাদের শরীরে জ্বর উঠে আসে।
সোফায় বসে আহি মিষ্টি খাচ্ছে, একে একে মুখে পুড়ে দিচ্ছে। চমচম গুলো মুখে দিতেই কেমন যেন মিলিয়ে যায়, সে তৃপ্তির সঙ্গে খাচ্ছে। তার চারপাশে কী হচ্ছে সেসব তার মাথায় ঢুকছে না। ঢুকছে না বললে ভুল হবে, কারণ খাওয়ার সময় আহি কোনো কথা বলা পছন্দ করে না। অন্যদিকে মাহি কোনো এক কাজের মধ্যে মন দিল। শান্তা শেখ কৌতূহলী চোখে এগিয়ে আসে। মেয়ের দিকে তাকিয়ে মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করে বোঝার চেষ্টা করছে, মাহি আসলে কী করছে।
ধীরে ধীরে তার চোখে স্পষ্ট হয়, মাহি এক সুন্দর রোমাল তৈরি করছে। শান্তা শেখ কখনোই নিজের মেয়ের হাতের কাজ করতে দেখেননি। পড়াশোনায় ডাব্বা হলেও, হাতে কাজের দক্ষতা মোটেই খারাপ নয়। হঠাৎ তিনি চোখ রাঙিয়ে বললেন,
- এটা কার জন্য তৈরি করছিস শুনি?
মাহি লজ্জা মিশ্রিত কণ্ঠে হেসে বলল,
"তোমার মেয়ের জামাইয়ের জন্য!
কথাটা বলেই জিব্বাহে হালকা কামড় দেয় সে। তারপর মায়ের দিকে তাকিয়ে মুখে লজ্জা, গলায় থমথম ভাব নিয়ে ফিসফিস করে—
"আ…আ…আসলে, আম্মা, আমি বলতে চাচ্ছি কি…
- থাক, আর কিছু বলার দরকার নেই। পড়াশোনা তো ঘোড়ার ডিমও পারিস না। এই টুকটাক হাতের কাজ করতে পরলে যদি কপালে একটা জামাই জোটে৷
"জামাই জুটবে নয়, আম্মা। তোমার মেয়ে তো অলরেডি কিউট একটা জামাই নিজের জন্য সিলেক্ট করে ফেলেছে। এখন শুধু তাকে পটিয়ে বিয়ে করে নেওয়ার পালা।
অয়ন দোতলা থেকে আহি'কে খুব মনোযোগ দিয়ে পরখ করছে। তার প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি হাসি, এমনকি তার বাচ্চামো সবই অয়নে'র মনকে বেসামাল করে তুলছে। খুব করে ইচ্ছে হচ্ছে মেয়েটাকে নিজের সাথে আলিঙ্গন করতেন কিন্তু বাবা শাসিয়েছেন, সুতরাং যেতে পারছে না।
আহি’র প্রতিটি দিক, প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি অয়ন'কে যেন ঝড়ের মতো ঝাঁকিয়ে দেয়। হঠাৎ সে টের পায়, দু জোড়া চোখ তার দিকে নজর রাখছে। তার বাবা জাহিদ শেখ ও চাচা মহিবুল শেখ। যদিও চোখ রাখার পেছনে একটি বিশেষ কারণ আছে। এতোদিন মহিবুল শেখ নিশ্চিন্ত ছিলেন— মেয়ের আঠারো বছর হতে আর অনেক দিন বাকি। কিন্তু আর মাএ দু'টো দিন পর মেয়ের আঠারো বছর পূর্ণ হবে, এটাই তার জন্য ভয়।
দীর্ঘ ছয় বছর বিদেশে থেকে, কোনো যোগাযোগ বা কথাবার্তা না করে সেই ছেলে তার মেয়েকে ভুলতে পারেনি। অন্তত এই ছেলে তার মেয়েটাকে নিজের বউ না করে ছাড়বে না। ধীরে ধীরে মহিবুল শেখ অয়নে'র কাছে এগিয়ে আসে। কাঁধে হাত রাখে, গম্ভীর স্বরে বলে…
- ওদিকে তাকিয়ে কি দেখো?
অয়ন এক পলক তার দিকে তাকিয়ে আবারও দৃষ্টি আহি'র দিকে রাখে। ঠোঁটের কোণে এক অদ্ভুত হাসি ঝুলিয়ে সে ফিসফিস করে—
“দেখার মতো তো আপনার ওই একটা মেয়েই আছে। এখন আপনি যদি আরেকটা ডাউনলোড করেন, তাহলে সেটাও দেখবো। আফটার অল, একটা মাত্র শালি হবে কিনা।
তিনি দাঁত খিঁচিয়ে উঠে,
- বেয়াদব ছেলে ভালো হবে না। এই নোংরা ছেলের সঙ্গে আমার মেয়েকে কোনোদিন বিয়ে দেবো না।
“তাতে কি হয়েছে? আপনার মেয়েকে তুলে নিয়ে বিয়ে কর ফেলবো। ওই পায়ে টায়ে আমি ধরতে পারবো না, মেনে নিলে নেবেন নয়তো বছর বছর হালি হালি নাতি নাতনি উপহার দেবো আপনাকে। আমার মধ্যে ভালোবাসার অভাব আছে নাকি!
হঠাৎ বড় বড় পা ফেলে মহিবুল শেখ সেখান থেকে সরে যান। যতবারই তিনি শান্তভাবে ছেলেটার সঙ্গে কথা বলতে আসেন, ততবারই অয়ন এমন কিছু বলে বসে, যাতে তার রাগ চেপে রাখা অসম্ভব হয়ে যায়। মহিবুল শেখ মনে মনে বিরক্ত হলেও আর কিছু না বলে নিজেকে সরিয়ে নেন।
অয়ন এসবের তোয়াক্কা না করে ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে থাকে। তার চোখের দৃষ্টি এক মুহূর্তের জন্যও আহি থেকে সরে না। নিচে নেমে সে ঠিক আহি'র পাশেই গিয়ে বসে পড়ে। আহি তখন একমনে মিষ্টি খাচ্ছে। চামচে করে ঝোলসহ মিষ্টি তুলে মুখে দিচ্ছে, যেন এই দুনিয়ায় এখন মিষ্টি ছাড়া আর কিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়। অয়ন চুপচাপ বসে সেই দৃশ্যটাই দেখতে থাকে।
আহি'র মিষ্টি খাওয়ার ভঙ্গি, ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা সামান্য ঝোল এতে অয়ন যেন নিজের অজান্তেই মুগ্ধ হয়ে যায়।
কিছুক্ষণ পর আহি টের পায়, কেউ একজন ড্যাব ড্যাব করে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। সে বিরক্ত হয়ে মুখ তুলে কর্কশ কণ্ঠে বলে ওঠে—
"অয়ন ভাই, আপনার যদি মিষ্টি খেতে ইচ্ছে হয়, তাহলে গিয়ে কিনে খান। আমার মিষ্টির দিকে একদম নজর দেবেন না। আমি একটা মিষ্টিও কাউকে দেবো না। আর আপনাকে তো নয়ই! আপনি হলেন ইবলিশ শয়তানের বাপ,হু!
অয়ন কোনো উত্তর দেয় না। নিঃশব্দে হেসে ওঠে। ঠোঁটের কোণে একচিলতে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে ধীরে বলে—
“তোর মিষ্টি অনেক ফেভারিট, তাই না ডিয়ার?
আহি চামচে করে মিষ্টির শেষ ঝোলটুকু মুখে পুরে নেয়। তারপর মাথা নাড়িয়ে স্বীকার করে,
"অনেক!
অয়ন সুযোগটা হাতছাড়া করে না। একটু সামনে ঝুঁকে নরম গলায় বলে উঠলো,
“তোর জন্য আমার কাছে একটা অফার আছে।
"কী অফার?
“তুই যদি আমার ছোট্ট একটা কাজ করে দিস, তাহলে আগামী এক মাস তোর যত মিষ্টি, চমচম, রসগোল্লা খেতে ইচ্ছে করবে সব আমি নিজে খাওয়াবো। তাছাড়া তোকে নিজে আমি শপিং করিয়ে দেবো।
মুহূর্তের মধ্যেই আহি'র চোখ দুটো চকচক করে ওঠে। সে খুশিতে গদগদ কণ্ঠে বলে,
"সত্যি?
অয়ন গম্ভীর মুখে মাথা ঝাঁকিয়ে বলে,
“তোর অয়ন ভাই কখনো মিথ্যা বলে না।
আহি তড়িঘড়ি হয়ে জিজ্ঞেস করে,
"তাহলে তাড়াতাড়ি বলুন, আমাকে কী করতে হবে?
“আমার রুমে চল আগে!
আহি একটু থমকে যায়।
"রুমে গিয়ে কী করবো?
অয়ন কাঁধ ঝাঁকিয়ে নির্লিপ্ত স্বরে বলে,
“তোর ইচ্ছে হলে আয়, নইলে অন্য কাউকে খুঁজে নেবো।
"আরে না না! আমি যাবো না কখন বললাম? আপনি উপরে যান, আমি আসছি।
🌸🖤
আহি গুটি গুটি পায়ে অয়নে'র রুমের দিকে হাঁটা দেয়। বুকের ভেতর কেমন একটা অজানা ভয় কাজ করছে, কিন্তু সেই ভয়টাকে ছাপিয়ে গেছে মিষ্টির লোভ। এক মাসের মিষ্টি!, এই চিন্তাটাই তাকে সামনে এগোতে বাধ্য করছে। মাঝপথেই আচমকা আদিলে'র সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। আহি'র মুখের ভীতু ভাবটা এক ঝলকেই চোখে পড়ে তার।
আদিল কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করে,
"বনু, কোথায় যাচ্ছিস? আর এভাবে ভয়ে ভয়ে যাচ্ছিস কেন?
আহি একটু থমকে যায়। চোখ নামিয়ে ভিতু কণ্ঠে বলে,
- না মানে ভাইয়া…অয়ন ভাই তার রুমে যেতে বলেছে।
আদিলে'র ভ্রু যোগল কুঁচকে যায়। গলায় স্পষ্ট সন্দেহ,
"কেন?
- অয়ন ভাই বলেছে, তার ছোট্ট একটা কাজ করে দিলে আগামী এক মাস আমাকে অনেক অনেক অনেক মিষ্টি খাওয়াবে আর শপিং ও করে দেবে।
এই কথা শুনে আদিলে'র চোখের চাহনি এক মুহূর্তেই বদলে যায়। গলা কঠিন হয়ে ওঠে।
"ওর রুমে যাওয়ার দরকার নেই। তোর মিষ্টি খেতে ইচ্ছে হলে আমাকে বললেই পারিস। তোর যা যা লাগে অর্ডার করে দে, আমি পেমেন্ট করে দেবো। কিন্তু একা একা অয়নে'র রুমের ধারে-কাছেও যাবি না। বুঝতে পেরেছিস?
আহি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর এদিক-ওদিক মাথা নেড়ে কোনো কথা না বলেই সেখান থেকে সরে যায়। আহি চলে যেতেই আদিলে'র মুখে গম্ভীর ভাব জমে ওঠে। আর এক মুহূর্ত দেরি না করে সে সোজা অয়নে'র রুমের দিকে পা বাড়ায়।
অয়ন তখন বিছানায় উল্টো হয়ে বসে ছিল। হঠাৎ কারো পায়ের শব্দ পেয়ে সে চট করে উঠে দাঁড়ায়। মূহুর্তেই ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত হাসি খেলে যায়। সে দরজার দিকে তাকিয়ে এক ঝটকায় এগিয়ে আসে। কিন্তু সামনে যাকে দেখে, তাকেই দেখে সে থমকে যায়। ভ্রু কুঁচকে বিরক্ত কণ্ঠে বলে—
“শাউ*য়ার নাতি তুই? ভাঙিস দেখে ফেলেছি। নয়তো তোর উপর দিয়ে কী বয়ে যেত কে জানে! বাই দ্য ওয়ে, আমার দোয়েল পাখি'র জায়গায় তুই কেন?
আদিল বুকের উপর দুই হাত ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে থাকে। ঠান্ডা গলায় বলে উঠলো,
"তোর দোয়েল পাখি নিজের রুমে।
অয়ন যেন বিশ্বাসই করতে পারে না। চোখ বড় করে বলে,
“হোয়াটটট? ওর তো আমার রুমে আসার কথা ছিল! শালা সত্যি করে বল, তুই ওকে চলে যেতে বলেছিস, তাই না?
আদিল ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে অয়নে'র বেডে বসে পড়ে। ঠোঁটের কোণে এক গাল হাসি টেনে নিয়ে বলে,
"হুম!
অয়নে'র চোখে রাগের ঝিলিক।
“কেন?
আদিল এবার হাসিটা একটু চওড়া করে বলে,
"তোর কী মনে হয়, আমি সজ্ঞানে মুরগিকে শেয়ালের কাছে পাঠাবো? আবুলের নাতি, তোর লজ্জা করে না? সামান্য মিষ্টির লোভ দেখিয়ে আমার বোনটার সঙ্গে আকাম করতে চাচ্ছিলি?
অয়ন ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে বলে ওঠে,
“লজ্জা আর আমি? নো ওয়ে! নিজের বউকে একটু ভালোবাসা দেবো তাতে লজ্জা কিসের? ভুলে যাচ্ছিস নাকি, আমি তোর দুলাভাই লাগি। সো সম্মান দিয়ে কথা বল।
আদিল শান্ত, দৃঢ় কণ্ঠে জবাব দেয়…
"দেখ ভাই, এমনিতেই বাসার কাউকে না জানিয়ে একটা আকাম করে বসে আছিস। শুধু বাসার লোকই নয়, আমার বোনটাও জানে না যে তার বিয়ে হয়ে গেছে। আর এখন যদি তুই ভুলভাল কিছু করে বসিস, তাহলে হিতে বিপরীত হবে। এই সহজ কথাটা কেন বুঝতে পারছিস না?
অয়ন হেসে কাঁধ ঝাঁকায়।
“হেই ইয়ার, ভয় পাচ্ছিস কেন? এমনিতেও আর কটা দিন পর তোর বোনকে পবিত্র কালেমা পড়ে নিজের করে নেবো। সো প্যারা না নিয়ে চিল কর। আর তোর কি সত্যিই মনে হয় আমি ভুলভাল কিছু করবো?”
এই বলে অয়ন ধীরে ধীরে আদিলে'র পাশে এসে বসে। এক হাত তুলে তার কাঁধে রাখে। গলার স্বর এবার খানিকটা নরম,
“শোন, দোয়েল পাখি আমার বউ এটা ঠিক। কিন্তু পুরোপুরি পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি তেমন কিছু করবো না। আমি ওকে ভালোবাসি, বুঝলি? নিজের চাহিদা মেটানোর জন্য ওই বাচ্চা মেয়েটার মনে আঘাত দেওয়ার মানুষ আমি নয়। ধীরে ধীরে ওকে বুঝাবো, ধীরে ধীরে আমাকে ভালোবাসতে শেখাবো। তারপর তোকে মামা বানানোর প্ল্যানিং করবো। তাই এত টেনশন নিস না।
কথাগুলো শুনে আদিলে'র ভেতরের জমে থাকা টানটা একটু আলগা হয়। সে একবার গভীরভাবে অয়নে'র দিকে তাকায়, তারপর ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করে—
"তুই বিয়ে করার প্ল্যানিং করেছিস?
অয়ন মাথা নেড়ে দৃঢ় স্বরে বলে,
“হুম! শুধু প্ল্যানিং নয়, কখন, কিভাবে, কেমনে কেমনে করবো সব ঠিকঠাক করে রেখেছি।
আদিল এবার কিছুটা নিশ্চিন্ত হলেও গলায় সতর্কতার ধার বজায় রাখে,
"দেখ ভাই, তুই যা চাচ্ছিস তাই হচ্ছে। কিন্তু আহি'র এইচএসসি এক্সাম দেওয়ার আগে বিয়ের কথা মাথাতেও আনবি না। নয়তো মাথা ফাটিয়ে ফেলবো। আর এই কয়েক মাস ওর থেকে একটু দূরে দূরে থাকার চেষ্টা কর। ওকে পড়াশোনায় মন বসাতে হবে। এক্সাম শেষ হলে তোদের বিয়ের ব্যাপারে আমি নিজেই আব্বা'র সঙ্গে কথা বলবো। কিন্তু পালিয়ে-টালিয়ে বিয়ে করার কোনো চিন্তা মাথায় আনলে, এখনই সেটা বাদ দে।
অয়ন সামান্য হাসে! তার হাসির আড়ালে কি রহস্য আছে আদিল বুঝলো না। শুধু মাথা ঝাঁকিয়ে বলল,
“ওকে!
ঠিক তখনই ফোনটা বেজে উঠলো। ফোনের স্ক্রিনে কাঙ্ক্ষিত নাম দেখে ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি চওড়া হয়। আদিল তার দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলল,
"ভাই এসব ছেড়ে দিলে হয় না? তুই তো জানিস, আমার বোনটা এসব ভয় পায়।
“ভয়'কে সাহসে রুপান্তর করতে জানে অয়ন! আর এসব করা যদি আমি ছেড়ে দেয় তাহলে ওদের বিরুদ্ধে কে দাঁড়াবে হুম? ওই নরপৈশাচদের বুঝতে হবে, টাকার কাছে আইন বিক্রি হলেও এই অয়নে'র কাছে তারা মাফ পাবে না। তাদের করার প্রতিটি অন্যায়ের শাস্তি দেবো আমি, সেটাও রাস্তার কুকুরদের মতো। যাতে কোনো মায়ের বুক খালি করতে না পারে।
এই বলে অয়ন চলে যায়। তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আদিল দীর্ঘ শ্বাস নেয়। সে চায় প্রতিটি পাপিষ্ঠ শাস্তি পাবে, তাদের করা অন্যায়ের শাস্তি তারা পাবেই পাবে। হোক না অয়নে'র হাত দিয়ে, তাতে ক্ষতি কিসের। তবে সব সত্য যখন আহি জানতে পারবে তখন মেনে নিতে পারবে তো?
চলমান—
[ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন]