একগুচ্ছ শুকতারা
শারমিন ইরান
৩৫.
স্বাভাবিক জীবন আসলে কী — তার সংজ্ঞা মাহাথির জানে না। জানতেও চায়না। স্বাভাবিক জীবন দিয়ে তার কী কাজ? সে ব্যস্ত নিজের জীবন নিয়ে। এখন তার জীবন স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক সেটা আল্লাহ জানে। মাহাথির নিজের জীবন নিয়ে ভাবতে লাগল। নিজের জীবন বলতে সে বুঝে, বাড়ি থেকে অফিস আর অফিস থেকে বাড়ি। এর বেশি কিছুই নয়। আগে তার দুনিয়া ছিল আম্মা, আব্বা, তার ভাই, বন্ধু আনাস কে নিয়ে। এখন তার দুনিয়াতে তার ভাই নেই। নেই? আছে। আছে হয়তো কোথাও। তার কথা সে ভাবে না। যে ভালো আছে তাকে নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করে লাভ নেই। তবে তার দুনিয়ায় মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন তার দুনিয়া বলতে সে বুঝে - আম্মা, আব্বা, বিভা, শ্রুতি, পার্থিব, হামিম, আনাসকে।
মাঝে পেরিয়ে গেছে ১০/১২ দিন। বর্তমানে সে বসে আছে অফিসে। তার আরেক বাড়িতে। কাজ করতে একটুও ইচ্ছে, শক্তি কোনোটাই নেই। বিরক্তিগুলো স্যালাইনের মতো করে প্রবাহিত হচ্ছে শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। মাহাথির আনাসের দিকে চাইল। আনাস অফিসে আসছে কিছুদিন হলো। ৭ দিনের ছুটি নিয়েছিল। আবারো সামনে নিবে তার বউয়ের ডেলিভারির সময়ে। তবে এখন সে হাসতে হাসতে ফোনে কথা বলছে। মাহাথির চোখ ঘুরিয়ে নিল। নিশ্চয়ই ভাবির সাথে কথা বলছে। মাহাথির ফের ঘুরে চাইল আনাসের দিকে। সুখী দম্পতি। মাহাথির ভ্রু কুঁচকে আবারো চোখ ফিরিয়ে নিল। এমন একটা মূহুর্ত কী তার আর বিভার মাঝে আসতে পারেনা? মস্তিষ্ক থেকে উত্তর এলো, ‘ না। পারেনা। কারণ তুই আসতে দিসনা।’ মাহাথিরের মন মস্তিষ্কের বিরুদ্ধ নিল। মন উত্তর দিল, ‘ আমি কই আসতে দিইনা? বিভা আসতে দেয়না। ও আমার সাথে ভালোভাবে কথা বলেনা তাই এমন মূহুর্ত আসেনা। ও কথা বললে আমি কী না করি?’
মাহাথির হাপ ছাড়ল। তাকিয়ে থাকতে ভালো লাগছেনা। গত দিনগুলোতে সে নিজের বিষয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপলব্ধি করে ফেলেছে। আর তা হলো — বিভাকে ছাড়া তার চলেনা। একদমই চলেনা। বিভা কাছে থাকলে তার ভালো লাগে, কথা বললে ভালো লাগে, ওর দিকে তাকিয়ে হাসলে ভালো লাগে — এই যা। ওসব ভালোবাসা টালোবাসা কিচ্ছু নয়। নয়? আসলেই নয়?
মাহাথির গতকালের কথা ভাবল। গতকাল সে আনাসকে নিজের অনুভূতি বলেছে। নিজের অস্বস্তি বলেছে। অফিস থেকে বেরিয়েই মাহাথির অনুরোধ করেছে কোনো নিরিবিলি জায়গায় গিয়ে বসতে। আনাস-মাহাথির নিরব কোনো জায়গায় বসতেই মাহাথির গম্ভীর মুখে বলে উঠে,
‘ আমি ভীষণ সিরিয়াস, আনাস। আশাকরি তুই আমার কথার মজা নিবিনা।’
‘ এই নিয়ে এক কথা চারবার বলে দিলি। কিন্তু সিরিয়াস কথাটা আর বললি না। কী হয়েছে বলবি, প্লিজ?’
‘ আমি মানসিক রোগী হয়ে গেছি আনাস। আমার কিছু ভালো লাগেনা।’
‘ মানে? কী ভালো লাগেনা তোর? তুই দেখি আমার বউয়ের মতো কথা বলছিস! কিছু ভালো না লাগা মেয়েদের স্বভাব। তোর মধ্যে এলো কীভাবে?’
মাহাথির গম্ভীর মুখে তাকিয়ে রইল। তার দৃষ্টির অর্থ - সে বলেছিল সে সিরিয়াস, তাহলে আনাস মজা করছে কেন?
আনাস হাসল। বলল, ‘ বল। বল। আমি শুনছি। কন্টিনিউ প্লিজ?’
মাহাথির উশখুশ করে বলল, ‘ আমি মানসিক রোগী হয়ে গেছি। সারাটাদিন বিভার কথা মাথায় ঘোরে। ওকে নিয়ে চিন্তা করি। এইসব কী স্বাভাবিক বল? তুই আমাকে কোনো ডাক্তারের নাম্বার দিতে পারবি?’
আনাস নিজের মুখ স্বাভাবিক করে বলল,
‘ আর?’
‘ কী আর? সমস্যা বললাম তো। আমার রোগের নাম বিভা। সারাদিন বিভা সম্পর্কিত কথা ঘোরে মাথায়। বিভা কিছু করে না দিলে সেই জিনিস করিনা। বিভা আমাকে শার্ট আজকে আয়রন করে দেয়নি। বলেছিল আমাকে করে নিতে। করিনি আমি। আমি কেমন যেন হয়ে গেছি আনাস। আমি দিনে দিনে বিভা কেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছি। এমনটা কী উচিত হচ্ছে বল? মাথা আমার, অথচ ঘোরে বিভার কথা। কী হচ্ছে এইসব?’
আনাস সুন্দর হেসে তাকিয়ে রইল মাহাথিরের দিকে। মাহাথিরকে তার কাছে ভীষণ অসহায় আর বাচ্চা মনে হলো। রাস্তা খুঁজে না পাওয়া বাচ্চা যেভাবে অস্থির হয়ে কাঁদে, আনাসের মনে হলো তার সামনেও একটা বাচ্চা দাঁড়িয়ে যে নিজের জীবনের রাস্তা খুঁজে পাচ্ছেনা। একা একা থাকা মাহাথির সম্পর্কে জড়িয়ে কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে। যে মাহাথির নিজের বউকে কষ্ট দিত, এখন সে সেই বউয়ের জন্যই কষ্ট পাচ্ছে। আনাস মাহাথিরের কাঁধে হাত রেখে বলল,
‘ তুই মানসিক রোগী না, প্রেমের রোগী হয়ে গেছিস। তোর রোগের ঔষধ ডাক্তার নয়। বিভা।’
‘ বিভা?’
‘ জ্বী, ওর কাছে যা। ওর কাছে গিয়ে নিজের সমস্যা বললেই সমাধান পেয়ে যাবি।’
‘ আমি ওকে এইসব বলতে পারব না আনাস।’
‘ কেন পারবি না?’
‘ আমি জানিনা।’
‘ আমাকে যে বলে দিলি?’
‘ এতো সহজে বলিনি। গত ১ সপ্তাহ ধরে তোকে ফোনে বলার ট্রাই করেছি। শেষে আজ বললাম।’
‘ তুই এমন কেন দোস্ত? নিজের অনুভূতি এক্সপ্রেস করতে তোর কীসের এতো সংকোচ? তুই কী বুঝতে পারছিস না তুই ভালোবাসিস ওকে?’
‘ ভালোবাসা এমন?’
‘ জী, এর থেকেও ভয়ংকর। সবে মাত্র অনুভূতি শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে বুঝবেন ভালোবাসা হলো চোরাবালির মতো। উঠতে গিয়েও পারবেন না। আটকে যাবেন শুধু।’
মাহাথির অস্থির হয়ে উঠে গেল। মাথার চুল টেনে তাকিয়ে রইল পঁচা ডোবার দিকে। আনাস বলল, ‘ বিভাকে বল, শান্তি পাবি।’
‘ বিভা হাসবে আমাকে নিয়ে।’ করুণ গলায় বলল মাহাথির।
আনাস অবাক হলো বন্ধুর এমন কথায়। কতোটা অসহায় দেখাচ্ছে তার রগচটা, দাম্ভিক বন্ধুকে! আনাস মাহাথিরকে বুঝালো। মাহাথির বুঝলো কিনা কে জানে শুধু মাথা নাড়ল হ্যাঁ বোধক। এরপর দু'জন চলে গেল নিজেদের গন্তব্যে।
মাহাথির নিজের চিন্তা থেকে বের হলো। আনাস তাকে জানিয়েছে সে বিভাকে ভালোবাসে, সে যতো তাড়াতাড়ি বিভার সাথে কথা বলবে ততোই ভালো। মাহাথির ভেবেছিল সে অতি দ্রুতই বিভার সাথে কথা বলবে। তবে পারেনি। হেরে গেছে। কথা সাজিয়েও সে বিভাকে কিছু বলে উঠতে পারেনি। এখানে অবশ্য বিভারও কৃতিত্ব আছে। মেয়েটা তাকে এড়িয়ে চলছে। এড়িয়ে চলছে কিনা জানেনা, তবে অনেককিছুই আগের মতো নেই। বিভা এখন তার সামনে আসেনা বললেই চলে। শুধুমাত্র দেখা যায় রাতে। তাও মাঝেমধ্যে দেখা পাওয়া যায়না। আবার গতো ৩/৪ দিন যাবত তার হাতে দুপুরের খাবার দিচ্ছে তার আম্মা। সে তার আম্মাকে কিছু বলতে পারেনি। তাকে তো আর জিগ্যেস করা যায়না যে, বিভা কেন দিলোনা? এরপর আরোও ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে। বিভা তাকে সূরা পড়ে ফুঁ দিতেও আসেনি। এইতো সে গতকাল, আজ কতোক্ষণ টিফিন হাতে বসে রইল। অথচ মেয়েটা এলোনা। শেষে অফিসের টাইম হয়ে যাওয়ার বাধ্য হয়ে তাকে বের হতে হলো। কিন্তু কেন এলোনা? মাহাথির মুখ ফুলালো। স্বামীর সাথে বেয়াদবি? জানে না যে স্বামীর সুরক্ষার জন্য সূরা পড়তে হয়? নাকি মাহাথিরের সুরক্ষা তার উপর কোনো প্রভাব ফেলে না? সত্যিই ফেলে না? তবে কী বিভা তার থেকে দূরে চলে যাচ্ছে? বদলে যাচ্ছে? নাকি সব স্বাভাবিক? মাহাথির মাথা হেলিয়ে দিল। মাথার মধ্যে জট পাকিয়ে দলা ধরে আছে সব। সে কিছুরই সমাধান করতে পারছেনা। মাথা ব্যথা করছে। বিভা চুল টেনে দিলে ভালো লাগত। মাহাথির ভাবল — বিভা একবার তার সাথে স্বাভাবিকভাবে কথা বললেই সে বিভাকে অফিসেও নিয়ে আসবে। সামনে বসিয়ে রাখবে। মাহাথিরের মাথা ব্যথা করলে চুল টেনে দিবে। আর কী চাই জীবনে? জীবন তো এতেই সুন্দর। মাহাথির নিজের অজান্তেই হেসে ফেলল।
.
মাহাথির ঘরে ফিরে ফ্রেশ হয়ে নিল। আজ হামিমের সাথে দেখা হবেনা। বাচ্চাটা ঘুমিয়ে পড়েছে। আজ বুকের সুতো কেটে এনেছে বিভা। সাথে পার্থিব, শ্রুতি ছিল। মাহাথির থাকতে পারেনি। তার জ/ল্লাদ ম্যানেজার ছুটি দেয়নি কিছুদিন আগে নেওয়ার কারণে। হামিমের ব্যথায় জ্বর এসেছে শুনে মাহাথিরও ব্যথিত হলো। হামিমের সাথে তার রক্তের সম্পর্ক নেই। তবুও… তবুও কেন জানি বাচ্চাটার প্রতি তার অসীম মায়া, অগাধ স্নেহ বুকের ভেতর। কিন্তু কেন? যাই হোক, বাচ্চাটা সুস্থ থাকুক তাই চাওয়া। ভীষণ সুন্দর ছবি আঁকে বাচ্চাটা। সে দেখেছে। একদিন তো মাহাথিরকে বলল, ‘ একটা ছবি লিখেছি। দেখবে?’
মাহাথির হ্যাঁ বোধক জবাব দিতেই হামিম তার ক্যানভাস ঘুরিয়ে দিল মাহাথিরের দিকে। মাহাথির দেখল একটা বড় ছেলে আর একটা ছোট ছেলে দৌড়াচ্ছে। ছোট ছেলেটা বড় ছেলের হাত ধরা। সামনে বড় বড় কয়েন। মাহাথির হেসে ফেলল। হামিম বলল, ‘ ফোনে তো তুমি আর আমি নেই। তাই এখানে আছি। এটা তুমি, আর এটা আমি। আমার তো পা নেই। আমি গাড়িতে চলি। তাই তোমার হাত ধরে দৌড়াচ্ছি। যাতে পড়ে না যাই। আর এইগুলা হলো কয়েন। তুমি আর আমি খাব। খেয়ে ভুট্টু হয়ে উড়ে যাব।’
মাহাথির আশ্চর্য হয়ে সেই সুন্দর ছবিটা দেখেছিল। এতো নিঁখুত ছবি! ছেলেটাকে পেছন থেকে দেখেও মাহাথিরের মতোই মনে হচ্ছে। মাহাথিরের সেই এ্যাশ কালারের শার্ট, আবার ডিটেইলসে শার্টের ওপর ঘর ঘর করা। ছোট ছেলেটার ঝাপড়ি ধরা চুল। সব কী সুন্দর! ভালো লাগার সাথে হামিমের কথায় ভীষণ মায়া হয়েছিল। মায়া থেকে হামিমকে উত্তর দিয়েছিল, ‘ কে বলেছে তোমার পা নেই? এই যে তোমার পা। তোমার পা আছে ব্রাদার। জাস্ট কয়েকটা দিন, এরপর থেকেই তুমি হাঁটতে পারবে। বুঝেছো?’ হামিম বুঝেছিল কিনা কে জানে। ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কান্না জুড়ে দিল। মাহাথির অবাক হয়ে দেখল বাচ্চাটার কান্না। শেষে তার কান্না থামল মাহাথিরের কোলে উঠে।
ঘটনা মনে হতেই মাহাথির হেসে ফেলল। ভাই-বোন দুটো আসলেই পাগল।
হামিমকে থেকে চিন্তা গিয়ে ঠেকল বিভার দিকে। ঘরে ঢুকার সময় বিভাকে বলে এসেছে, ‘ শরবত দিও বিভা। গরম লাগছে।’
অথচ বিভা এখনো আসেনি। আসবে না নাকি? হঠাৎ বাহিরের ঠান্ডা বাতাসে মাহাথিরের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। এতো ঠান্ডা বাতাস! কোথাও বৃষ্টি হচ্ছে নাকি? আজ মোটেও গরম ছিল না আবহাওয়া। তবুও সে শরবত চেয়ে এসেছে, অথচ তার চাওয়া উচিত ছিল চা। ঠান্ডা আবহাওয়ায় চা খেতে পারলে শান্তি লাগতো। কী আশ্চর্য! সে এমন গাঁ জাখোরের মতো ব্যবহার কেন করছে? সে কী গাঁ জা খায় নাকি? বিভাকে জিগ্যেস করতে হবে বিভা রান্নায় কিছু মেশায় নাকি। সারাদিন একজন মানুষকে ঘিরে চিন্তা, চায়ের বদলে শরবত চাওয়া - এইগুলো অবশ্যই গাঁ জাখোরের লক্ষণ। মাহাথির ফোন বের করে সার্চ করতে নিল - ‘ গাঁ জা খোরের লক্ষণ কী….’
‘ মাহ্ থির, আপনার শরবত।’
বুকটা ধ্বক করে উঠল। মাহাথির পিছন ফিরে চাইল। সাধারণ মুখে বিভা দাঁড়িয়ে। মাহাথির ফোন বিছানায় ছুঁড়ে দিল। বিভা এগিয়ে এলো গ্লাস নিয়ে। মাহাথির এর দিকে বাড়াতেই মাহাথিরের ইচ্ছে হলো বিভার হাত ধরতে। ধরল না। গ্লাস নিল। বিভা ঘুরতেই মাহাথির ডেকে ফেলল,
‘ বিভা?’
এমন ডাকে বিভাকে আবারো ঘুরতে হলো মাহাথিরের দিকে।
মাহাথির মনে মনে আওড়াল, ‘ আসো, দু’জনে একটু গল্প করি। তোমার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে।’ আওড়ানো শেষ। এখন সে এই কথাটাই বিভাকে বলবে। রেডি…ওয়ান…টু….থ্রি…,
‘ আসো….কথা…বলো?’
বিভা বুঝল না মাহাথিরের অস্পষ্ট সুর। বিভ্রান্তি নিয়ে উত্তর দিল, ‘হ্যাঁ?’
মাহাথির অন্যদিকে ফিরল। মাহাথির নিজের ওপর অবাক হয়ে লক্ষ্য করল, তার ভীষণ কান্না পাচ্ছে। সে বিভাকে কষ্ট দিত অনায়াসে, তাহলে ভালো কথা বলতে এতো দ্বিধা কীসের? মাহাথির বিভার দিকে ফিরল করুণ মুখে। বিভা তখনো হতবাক হয়ে দাঁড়ানো। বলল, ‘ কিছু বলতেন?’
করুণ মুখের ‘না’ বোধক মাথা নাড়ল মাহাথির। বিভা হাপ ছেড়ে চলে গেল। মাহাথির বিছানায় বসল ধপ করে। ভীষণ রাগ হলো বিভার ওপর। মাহাথিরের মন মস্তিষ্ককে ধমক দিল, ‘ খুব তো বড় বড় কথা। ভালোবাসি। ভালোবাসি। ভালোবাসি। তুমি আমাকে মোটেও ভালোবাসো না বিভা। ভালোবাসলে আমার চোখ দেখেই সব বুঝে যেতে। বুঝতে পারতে আমি কী চাই। তুমি একটা মিথ্যাবাদী, বিভা।’
মনের কথা শেষ হতেই মস্তিষ্ক মনকে চড় বসাল। বলল, ‘ বিভা কোনো কবিরাজ-জ্যোতিষী নয়। ওর কোনো আধ্যাত্মিক ক্ষমতাও নেই যে তোর মনের খবর ও জানবে। তুই মুখ ফুটে না বললে বুঝবে কীভাবে? আগে নিজে ঠিক হ।’
মাহাথির নিভে গেল। মন-মস্তিষ্কের যুদ্ধ আর হচ্ছেনা। ক্লান্তিতে শরীর ভেঙে আসছে। কাল সে বিভাকে নিজের মনের কথা বলবে। বলবেইইই…..
.
রাত একটা তো বাজবেই। বিভা ঘুমায়নি। বসে বসে দেখছে নিজের মা ম/রা ভাইটাকে। ব্যথায় মুখটা একটুখানি হয়ে আছে। যখন সুতো কাটা হলো কী চিৎকার টাই না করল! হামিমের চিৎকার শুনে শ্রুতির চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ল। আর বিভা মনে মনে ছিটকে উঠল। আর কিছুই করার থাকল না।
শ্রুতির কথা ভেবেই মলিন হাসল। যতোই চিৎকার চেঁচামেচি করুক, বোনটা তার ভীষণ নরম মনের। সে বাদে শ্রুতিকে কেউ বুঝেনি। না ভুল হলো। পার্থিব শ্রুতিকে বুঝে। আগলে রাখে। ভাবতেই বিভার ভালো লাগল, শান্তি পেল। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা বাড়ল।
ঘড়ির দিকে চোখ পড়তেই বিভা ভাবল এখন ঘরে যাবে নাকি আরেকটু পরে যাবে? মাহাথির ঘুমিয়েছে? আরেকটু পড়ে যাক। মানুষটা ঘুমাক। তাকে দেখলে শুধু শুধু অশান্তি পাবে। কতো আর জ্বা লাবে। থাকুক না তার মতো। তার সাথে সংসার করছে — এই কতোনা! কী দরকার শুধু শুধু অ শান্তি দেওয়ার? সে থাকুক ভালোভাবে, সুখে, শান্তিতে। আর কিছু চাওয়ার নেই। জোড় করে কখনো ভালোবাসা হয়না। শুধু শুধু তি ক্ততা বাড়ে।
বিভা উঠে জানালার কাছে গেল। ঠান্ডা বাতাস! অথচ বিভার ভেতরটা কেমন যেন আগুনে পো/ড়ার মতো গরম।
বিভা ঘরে না গিয়ে ভাইয়ের ঘরে বসে রইল তার ভালোবাসার মানুষকে শান্তি দিতে। অথচ সে জানলোও না তার ভালোবাসার মানুষ তার জন্য অপেক্ষা করে সারাঘর হাঁটাহাটি করছে উদ্ভ্রান্তের মতো। অথচ তার চোখে রাজ্যের ঘুম!
_______
চলবে~
শব্দসংখ্যা - ১৮২৪
#একগুচ্ছ_শুকতারা
#শারমিন_ইরান
[ মাহাথির প্রেমীরা কই? আজকে যদি মন্তব্য না হয়, খবর আছে কিন্তু! একদম ‘সময়’ টিভির ৭ টার খবর।]