ফন্ট সাইজ:
থিম:
অন্তর প্রাঙ্গণ

৩য় পর্ব

লেখক: অর্নিবান লেখক সংঘ
অন্ততপ্রাঙ্গন 
পর্ব-৩ 
প্রতিদিনের ন্যায় আজও ছুটির ঘণ্টা পড়তেই, অভি বন্ধুদের থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কয়েক মিনিট পর গন্তব্য স্থান তিনতলা বিশিষ্ট চৌধুরী বাড়ির সামনে এসে বাইক থামাল অভি। তার পর লম্বা লম্বা কদমে সদর দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করতেই, ওমনি কোথা থেকে অনন্যা ও প্রহেল ছুটে আসলো "ভাইয়া ভাইয়া" বলে উচ্চ স্বরে ডাকতে ডাকতে!! যেন এতোক্ষণ তারা অভির আসার অপেক্ষাতেই ছিল। 
ওদের দেখে অভি থমকে দাঁড়াল তারপর কপাল কুঁচকে প্রশ্নার্তক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল....কি হলো অনু,প্রহেল ? এই ভাবে চিৎকার করছিস কেন? আবার কি নিয়ে ঝগড়া করেছিস দুটো ? 
অনন্যা নাক ফুলিয়ে বলল...আমরা কি সব সময় ঝগড়া করি নাকি ভাইয়া,এমন করে বলছিস কেন? 
_"আচ্ছা বাবা সরি, এখন বলতো কিসের জন্য  ডাকছিস আমায় ? 
ভাই বোনের কথার মাঝে, মাঝ খান থেকে প্রহেল বলে উঠলো__''আমি বলছি ভাইয়া আমার কথা শোনো!!
 কিন্তু অনন্যা প্রহেলের কথা নাকোচ করে বলল....না,আমি বলছি ভাইয়া, তুই আমার কথা শুনবি। 
_''না ভাইয়া আমার কথা শুনবে !
_" না ভাইয়া আমার কথা শুনবে!
এই ভাবে প্রহেল ও অনন্যার মধ্যে মূহুর্তে 
তুমুল ঝগড়া শুরু হলো। অভি কয়েক মিনিট ঠাঁই দাঁড়িয়ে শুধু দেখলো ওদের কান্ড। এমনিতেই সকাল থেকে মেজাজ টা তেমন ভালো নেই। তার মধ্যে বাড়ি ফিরে আবার এই ভাই বোন দের চিল্লাচিল্লিতে বিরক্ত হয়ে
দুজনকেই ধমক দিয়ে বসল....দুজনেই চুপ কর!!   তোদের কাউকে কিছু বলতে হবে না!!  
ভাইয়ের ধমকে আদুরে অনন্যার কোমল হৃদয়ে অভিমান জমা হলো। চোখের জল মাটি স্পর্শ করার আগেই এক দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেল। 
প্রহেল ধমক খেয়েও নির্লজ্জের মতো বত্রিশ পাটি দাঁত বার করে হেসে চলেছে তখনও। 
অভি প্রহেল কে ডেকে জিজ্ঞেস করতে যাবে কি হয়েছে,তারা কি বলতে চাইছিল , কিন্তু তার আগেই পিছন থেকে পরিচিত কন্ঠস্বর শুনতে পেয়ে থেমে গেল অভি। 
_"মেয়েটাকে এই ভাবে ধমক না দিলেও পারতে অভি, তুমি খুব ভালো করেই জানো অনন্যা তোমাকে কতটা ভালোবাসে। 
কন্ঠস্বর টা আর কারও নয়। অভি ও অনন্যার বাবা রহমান চৌধুরীর। বাবার কন্ঠস্বর শুনে অভি একই স্থানে দাঁড়িয়ে  থেকে গম্ভীর কণ্ঠে বলল.... আমার বোন আমি বুঝে নেব। আপনি দয়া করে আমাদের ভাই বোনের মাঝে আসবেন না। অভির কন্ঠস্বরে ছিল রাগ, অভিমান, আর অপ্রকাশিত ক্ষোভ। কথা শেষ করে বড়ো বড়ো পায়ে প্রস্থান করলো অভি।‌
 রহমান চৌধুরীর সাথে অভির সম্পর্ক টা আর পাঁচ বাবা এবং সন্তানের মতো নয়। রহমান চৌধুরীর অতিতে করা একটি ভুল সিদ্ধান্তের জন্য বাবা এবং ছেলের মধ্যে প্রতিনিয়ত এই শীতল যুদ্ধ চলে চৌধুরী বাড়িতে। যার ফলে রহমান  চৌধুরী  নিজে থেকে ছেলের সাথে আগ বাড়িয়ে যতোই কথা বলার চেষ্টা করুক না কেন, অভি প্রত্যেকবারই তা এড়িয়ে যায়, আর নয়তো দু এক কথায় প্রতিউত্তর করে কথা শেষ করে দেয়। রহমান চৌধুরীর দ্বিতীয় বিবাহের পর থেকেই অভির সাথে এক ছাদের নিচে থেকেও অদৃশ্য এক দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে বাবা ছেলের মধ্যে।‌
রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে  শার্ট প্যান্ট চেঞ্জ করে ধীর পায়ে অনন্যার রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়াল অভি, ভিতরে উঁকি দিয়ে একবার দেখে নিল সে কি করছে। তার পর ভিরতে ঢুকলো। 
অনন্যা বেলকনিতে দাঁড়িয়ে ছিল, নিজের রুমে কারও উপস্থিতি টের পেয়ে পিছন ঘুরে তাকিয়ে অভি কে দেখে পুনরায়,গাল ফুলিয়ে সেখানেই ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকলো। 
অভি বোনের পাশে এসে দাঁড়াল চুপচাপ ,তার পর পকেটে থেকে কয়েকটি চকলেট বার করে অনন্যার সামনে ধরল। মূলত বোনের অভিমান ভাঙানোর চেষ্টা করছে অভি। 
অনন্যা দেখেও না দেখার ভান করলো। অভি বুঝলো বোনটা তার খুব অভিমান করেছে। 
__" অনু i am sorry, তোকে আমি ধমক দিতে চাইনি! ভুল হয়ে গেছে বোন আমার!! প্লীজ রাগ করিস না,আর কখনও এমন করবো না। 
ভাইয়ের স্নেহ মাখানো কথায়,সব রাগ অভিমান গলে জল হয়ে গেল অনন্যার। আর এমনিতেও সে কারও উপর বেশিক্ষণ রাগ করে থাকতে পারে না সে। অভিমানী মুখ করে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলল.... সত্যি বলছিস তো ?
_"হুম সত্যি'!! এখন বলতো কি বলতে চাইছিলি তখন ?!
অনন্যার মুখে এবার হাসি ফুটলো। বড়ো ভাইয়ের কাছে আবদার করে বলল...ভাইয়া আজকে রাতে আমরা সব ভাই বোনেরা মিলে একটা মিনি পার্টি করলে কেমন চাই। অনেক দিন সবাই একসাথে মজা করি না। তুই বললে  সবাই রাজি হবে। বল না ভাইয়া প্লিজ। 
অভি দুই হাত ভাঁজ করে বুকের সামনে আড়াআড়ি ভাবে বেঁধে মৃদু হেসে বলল....তাহলে এই ব্যপার, এই সামান্য বিষয় বলা নিয়েও এতো ঝগড়া। ঠিক আছে আমার বোন যখন বলেছে তখন অবশ্যই পার্টি হবে এবং সেটা আজ রাতেই। 
_''দুই ভাই বোনে কি সলাপরামর্শ চলছে হুম?
নুসরাত চৌধুরী কে দেখে অভি একটা লম্বা শ্বাস ফেলে বলল_"এই তো মেজো মা, আমার একমাত্র আদুরে তেজশ্রী বোনের অভিমান ভাঙানোর মিশনে সাকসেস হলাম মাত্র। 
ভাইয়ের কথায় অনন্যা লজ্জা পেল তা দেখে নুসরাত চৌধুরী ও অভি দুজনেই ঠোঁট চেপে মুচকি হাসলো। 
নুসরাত চৌধুরী হাসি থামিয়ে অভিকে উদ্দেশ্যে করে বলল....অভি ,তোকেই খুঁজছিলাম!! দেখ না ছেলে মেয়ে গুলো বায়না ধরেছে বাড়িতে সবাই একসঙ্গে মিলে নাকি পিকনিক করবে। বাবা চাচাদের ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারছে না। তুই থাকলে কেউ আর কিছু বলতে পারবে না। 
_''ঠিক আছে মেজো মা, সবাইকে বলো পার্টি হবে। আর সব আয়োজন হবে ছাঁদে। আমি সব কিছুর ব্যবস্থা করছি। নুসরাত চৌধুরী কে আশ্বাস দিয়ে বলল অভি।
_"আচ্ছা ঠিক আছে, আর তুই নীচে আয়, আমি কফি বানাচ্ছি !! 
সন্ধ্যা নামতেই সকলে চৌধুরী বাড়ির ছাদে উপস্থিত হয়েছে। অনন্যা, প্রহেল, সুইটি,বিউটি, অনি,অভি এবং আরও কিছু কাজিন কতদিন পর একসাথে হয়েছে, আনন্দে সকলেই আত্মহারা প্রায়। সাথে চৌধুরী পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও রয়েছেন। নিজ নিজ দায়িত্ব নিয়ে সুন্দর করে ছাদ সাজানোতে ব্যস্ত সকলেই। 
আধা ঘণ্টার মধ্যে সব কিছু একেবারে তৈরি, চৌধুরী বাড়ির ছাদ আজ সেজে উঠেছে নতুন সাজে। অনন্যা দিনের তুলনায় আজ একটু বেশি প্রানবন্ত মনে হচ্ছে চারপাশ। মাথার উপর খোলা আকাশ, উজ্জ্বল চাঁদ ও মিটি মিটি জ্বলছে। যেন,ভাই বোনদের এমন আনন্দে তারাও খুব খুশি। 
অনন্যা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দক্ষ লেকচারার এর মতো হাত নেড়ে নেড়ে উচ্চস্বরে বলল....তো বন্ধুরা , চলো আজকে আমাদের এই সুন্দর পার্টি অনুষ্ঠান শুরু করা যাক!! 
চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন