ফন্ট সাইজ:
থিম:
অন্তর প্রাঙ্গণ

২য় পর্ব

লেখক: অর্নিবান লেখক সংঘ
অন্তত প্রাঙ্গণ 
পর্ব - ২
বাইক নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করলো অভি। বাইক রেখে আঙুলে চাবি ঘোরাতে ঘোরাতে ক্লাসরুমের দিকে এগিয়ে চলেছে সে। চোখে তার সানগ্লাস। ৬ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার , শ্যামলা গড়নের জিম করা সুঠাম চেহারার যুবক। মাথা ভর্তি কালো কুচকুচে কোকড়া চুল। মুখে হালকা দাড়ি , সুন্দর করে সেভিং করা। আর কপালে একটা স্থায়ী ক্ষতচিহ্ন। এককথায় তাকে কোনো অংশে তাকে বলিউডের কোনো নায়কের থেকে কম কিছু লাগে না। কলেজের প্রায় মেয়েরই ক্রাশ সে। কিন্তু তার খামখেয়ালি আর বেপরোয়া স্বভাবের জন্য কোনো মেয়েই তার ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। এই তো সেদিনের কথা —
ভার্সিটির ক্যান্টিনে বসে আড্ডা দিচ্ছিল পাঁচ বন্ধু - অভি , আব্রাহাম , আরিফ , জাওয়াদ আর আরিয়ান। আরিয়ান পাঁচটা চা অর্ডার দিয়ে এসে বন্ধুদের মাঝে এসে বসলো। গল্প আড্ডাতে মেতে রয়েছে সবাই। এমন সময় তাদের ক্লাসের একটি মেয়ে এসে দাঁড়ায় তাদের সামনে। সেটা সবার আগে নজরে পড়ে জাওয়াদের। গ্রুপের মধ্যে জাওয়াদ হলো ফ্লার্টিং কিং। কোনো মেয়ে এসে তাদের সামনে দাঁড়িয়েছে আর সে তার সাথে ফ্লার্ট করবে না এটা আর সূর্য পশ্চিমদিকে উঠবে প্রায় একই ব্যাপার। সে হাত দিয়ে দ্রুত চুল গুলোকে ব্যাকব্রাশ করে নিয়ে বলল , 
— “ কি ম্যাডাম এখানে কী দরকার ? আর তুমি দাঁড়িয়ে কেন ? এই এই আরিফ সর ওকে বসার জায়গা দে ! ”
আরিফ বসে ছিল জাওয়াদের পাশে । সে নাক মুখে কুঁচকে সরে গিয়ে আরিয়ানের কানে কানে বলল , “ শুরু হলো বলে ন্যাকামি।”
মেয়েটির নাম লিসা। দেখতে কৃত্রিম উপায়ে মানে প্রসাধনীর সাহায্যে খুবই সুন্দর। আর বড়লোক বাপের একমাত্র মেয়ে হওয়ায় সে নিজেকে দেশের কুইন মনে করে। আর তার ধারণা সকল ছেলে তাকে পাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকে। অত্যধিক মাত্রায় ন্যাকা যাকে বলে। তাই জাওয়াদের ফ্লার্টিং তার খুব পছন্দ হয়েছে , এবং সে এটাকে বরাবরের মতো ইগনোর করে নিজেকে মহৎ প্রমাণ করবে। আর করলোও তাই। সে জাওয়াদ এর পাশ কাটিয়ে আব্রাহামের সামনে গিয়ে বলল , 
— “ তুমি একটু সরে বসো , আমি অভির পাশে বসতে চাই। আমার মতো সুন্দরীকে , সুন্দরের পাশেই মানায়।”
এহেনও অপমানে জাওয়াদের রাগের পরিবর্তে খুব হাসি পেল কারণ সে জানে তাকে যেটুকু অপমানিত হতে হয়েছে তার চেয়ে বেশি অপমানিত হবে সে নিজেই। আব্রাহাম বিনা বাক্য ব্যয়ে সরে বসলো। লিসা , অভির পাশে এসে বসলো। কিন্তু এসবে অভির কোনোপ্রকার হেলদোল নেই। সে নিজ মনে রিলস দেখছে , যেন এই মুহূর্তে পরমাণু বোমা ফেলা হলেও সে নিজের ফোনের মধ্যেই ঢুকে থাকবে। এমন সময় চা এসে গেল তাদের মাঝে। 
অভি সবার আগে চায়ের কাপ হাতে নিতে গেল। তখনই লিসা খপ করে অভির হাত ধরে ফেলল। অভি নিষ্প্রভ চোখে একবার লিসার দিকে তাকালো তারপর খুবই ধীরে তার হাতটা সরিয়ে দিয়ে বলল —
“ আপু , আপনার চা খাওয়ার টাকা নেই সেটা আগে বলতে পারতেন। আমরা ছোট ছোট ভাইরা আপনাকে চা খাওয়াতাম। জানেন তো আমাদের বাঙালিদের আবার হৃদয় বড় , উদারতায় ভরা। আপনি সামান্য এক কাপ চায়ের জন্য এমন কাড়াকাড়ি করছেন কেন ? যদি চা পড়ে আপনার নরম কোমল হাতটা পুড়ে  যেত? এই নিন আমার চা টা আপনিই খান কেমন ? আমি আবার কিনে নেবো নতুন।”
এমন অপমানে লিসার মুখটা কেবল দেখার মতো ছিল। সে আপু? আর ওরা ওর ছোট ভাই ? আর কি বলল ওর কাছে চা খাওয়ার পয়সা নেই , ও কাড়াকাড়ি করে চা খেতে চাইছে ? 
রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে লিসা বলল , “ How dare you? Are you know , who I am? ”
“ হ্যাঁ আপু জানি তো। আপনি হলেন আমাদের ভার্সিটির বড়লোক বাপের একটিমাত্র মুখে ময়দা লাগানো ন্যাকা কন্যা।”
বাকিরা আর কেউ নিজেদের হাসি আটকে রাখতে পারল না। হাহা করে হেসে উঠল সবাই। আরিয়ান এই সুযোগে জাওয়াদের পিঠে দুমদাম কিল বসিয়ে দিলো। 
লিসা আর দাঁড়ালো না। সে রাগে চোখের জল মুছে একপ্রকার দৌড়ে বাঁচল সেখান থেকে। এর আগে এত অপমানিত হয়তো তাকে কখনই হতে হয়নি।
অভির ভাবনার সুতোয় টান পড়ল পিঠে কারোর স্পর্শে। পিছন ফিরে দেখল আরিয়ান দাঁড়িয়ে। অভি বলল ,
— “ কি ব্যাপার তুই একা , বাকিরা কই ?”
আরিয়ান বলল , “ বাকিরা ক্যান্টিনে বসে আছে। ”
“ এখন তো ক্লাস আছে , ক্লাস বাঙ্ক করে ক্যান্টিনে কী করছিস তোরা ? ”
“ আগে চল তো , গেলেই বুঝবি।”
অভি আর কোনো কথা না বলে আরিয়ানের সাথে এগিয়ে গেল।  সে জানে বন্ধুরা যতই ফাজিল হোক না কেন শুধু শুধু ক্লাস অফ করার ছেলে তারা নয়।
কিছুক্ষণ পর আরিয়ানের সাথে ক্যান্টিনে পৌঁছালো অভি। গিয়ে দেখলো আব্রাহামকে কেন্দ্র করে বাকি দুজন গোল হয়ে বসে আছে। 
“ কী হয়েছে আরিয়ান ? ”
আরিয়ান সব কিছু বিস্তারিত বলল অভিকে —
প্রতিদিনের মতো তারা আগে ভাগেই ভার্সিটিতে এসে নিজেদের ক্লাসে বসে ছিল। জাওয়াদ ফ্লার্টিং করে বেড়ালেও , প্রেম-টেম করে না। কারণ তার কাছে নীতি বাক্য একটাই -
    “ কারো একদিন হবো      কারো একরাত হবো
                  এর বেশি কারো রুচি হবে না...
      আমার এই বাজে স্বভাব 
                         কোনোদিন যাবে না !! ”
অভির সাথে দূর দুরান্ত অব্দি কোনরকম প্রেমের সম্পর্ক নেয়। আরিয়ানের গার্লফ্রেন্ড আছে তবে সে কলেজে পড়ে , নাম আয়েশা। আরিফ সিঙ্গেল , তার কাছে প্রেম মানেই প্যারা। গার্লফ্রেন্ডের অভিমান কমানো , দামি দামি গিফট দেওয়া এসব তার কাছে প্রচণ্ড বিরক্তির ব্যাপার। এত টাইম তার কাছে নেই নাকি। আর আব্রাহাম ? বেচারা একটা মেয়ের জন্য পাগল। কিন্তু , সে বলতে পারেনি তাকে। কোথাও একটা সংকোচ রয়ে গেছে তার। বাড়ির আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। তাই সে ঠিক করেছে , পড়াশোনা করে চাকরি করবে তারপর তার মনের কথা জানাবে তাকে। মেয়েটির নাম সাবিহা সুলতানা। দেখতে মোটামুটি সুন্দরী , লিসার ঠিক উল্টোটা। যাকে বলে ন্যাচারাল বিউটি। মেয়েটা বয়সের তুলনায় একটু বেশিই ম্যাচিউর। আপাতত আব্রাহাম একপাক্ষিক ভালোবাসার দহনে পুড়ছে।
এবার আসল ঘটনা হলো , আজ একটা সিনিয়র দাদা সাবিহাকে প্রপোজ করেছে। সাবিহা কিছুটা সময় চেয়ে নিয়েছে , মানে রিজেক্টও করেনি আবার এক্সেপ্টও না। কিন্তু আব্রাহাম মনে প্রাণে চেয়েছিল সাবিহা যেন মুখের উপর না বলে দেয়। কিন্তু তার আশানুরূপ না হওয়ায় , দুঃখে ফেটে পড়েছে। রাগের বশে ক্লাসের দরজার ঘুষি মেরে হাত ফুলিয়ে ঢোল করে ফেলেছে। তাই তাকে ধরে ক্যান্টিনে এনে বসিয়ে ব্যথায় বরফ লাগিয়ে দিচ্ছে। 
সব শুনে অভি বলল , “ আচ্ছা এই ব্যাপার! ছেলেটার জন্য বড্ড মায়া হয় রে। ঠিক কতটা ভালোবাসে মেয়েটাকে সে কিন্তু পরিস্থিতির চাপে আজও বলতে পারেনি। মেয়েটা অন্য কোথাও সম্পর্কে জড়ালে নির্ঘাত ছেলেটা দেবদাস হয়ে যাবে।”
“ ঠিকই বলেছিস।” আরিয়ান বলল।
“ আচ্ছা চল , দেখি বোঝাতে পারি কিনা। ”
দুজনে এগিয়ে গেল তাদের দিকে। এখন জাওয়াদ বুঝিয়ে চলেছে আব্রাহামকে —
“ ভাই আমার এমন পাগলামো করিস না। সাবিহা ওকে ঠিক না বলে দেবে দেখিস , তুই একটু শান্ত হ মামা। আয় মাথায় ফুঁ দিই।” বলেই আব্রাহামের মাথায় ফুঁ দিতে থাকে।
আব্রাহাম তাকে সরিয়ে দিয়ে বলল , “ সর তো বিরক্ত করিস না।”
“ একি রে মামা , তুই আমার সাথে এমন করতে পারলি? তোর হার্টের রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গেল না ? আটকে গেলো না তোর টেনে নেওয়া অক্সিজেন ? আল্লাহ , তুমি দেখলে আমার সাথে কি ব্যবহার করলো ? আমি তোকে অভিশাপ দিচ্ছি তোর একটা মানুষের বাচ্চা হবে , যার একটা জিভ থাকবে আর সেই জিভ দিয়ে বেরোনো বাক্য তোর হৃদয় চুর চুর করে দেবে।”
আরিফ ঠোঁট চেপে ফিক করে হেসে ফেলল। এই সিরিয়াস মোমেন্টে এমন কথা একমাত্র জাওয়াদের থেকেই আশা করা যায়।
আব্রাহাম চোখ পাকিয়ে চেয়ে রয়েছে তার দিকে। জাওয়াদ নিজের বলা কথায় নিজেই হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছিল। ইতিমধ্যে অভি আর আরিয়ান তাদের পাশে এসে বসেছে।
আব্রাহাম কান্না কান্না কণ্ঠে বলল , “ তোরা এভাবে মজা নিচ্ছিস ? আমার কষ্টটা বুঝছিস না কেউ ? সাবিহা অন্য কারোর হয়ে গেলে আমি কি নিয়ে বাঁচব , আমি ওকে বড্ড ভালোবাসি।”
জাওয়াদ একটু সিরিয়াস মুখভঙ্গিমা করলো। তারপর বিজ্ঞের মতো আব্রাহামের কাঁধে হাত রাখলো —
“ দ্যাখ মামা , তোর কষ্টটা আমরা বুঝছি। কিন্তু সাবিহা তো ওকে হ্যাঁ ও বলেনি। হতেই পারে সিনিয়র বলে ভয়ে কিছু বলতে পারেনি পরে ঠিক না করে দেবে। তুই নিজেকে ঠিক রাখ। আর একান্তই যদি সাবিহা সিনিয়র কে এক্সেপ্ট করে নেয় তাহলে কথা দিচ্ছি মামা , আমি ভিসা করে ভারতে গিয়ে নোরা ফাতিহাকে তুলে আনব। তারপর দুজনে মিলে দিলবার দিলবার গানে বেলি ডান্স করবি। দারুণ হবে না ব্যাপারটা ? ”
আব্রাহাম রেগে দুমদাম জাওয়াদকে কিল মেরে উঠে দাঁড়ালো ,
“ থাকবো না আমি তোদের সাথে। তোদের সাথে বন্ধুত্ব রাখার চেয়ে একা একা বিরাগী হওয়া ভালো। চললাম আমি.. ”
অভি এগিয়ে গিয়ে আব্রাহামকে জড়িয়ে ধরে , 
“ আরে ভাই রাগছিস কেন ? আমি আছি না ? এই এই ফাজিল থার্কি ছেলে একদম জবান বন্ধ রাখবি। নয়তো এখানেই তোর এই মোরগ ঝুটির মতো চুল ছিঁড়ে নেব তারপর দেখবি কোন মেয়ে তোর দিকে তাকায়। ”
জাওয়াদ দুঃখী মুখ করে বলল , “ এটা স্টাইল মামু , তোরা আমার সাথে এমনই করিস সবসময়। যা আমার এই মূল্যবান মতামত তোদের সামনে আর কখনও রাখবো না। আড়ি ! ”
অভি জাওয়াদের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে আব্রাহামকে বলল , 
“ ভাই এমন পাগলামো কেন করছিস ? ”
“ অভি.. সাবিহা অন্য কারোর হয়ে গেলে আমি থাকতে পারব না অভি। ”
“ দ্যাখ ভাই শান্ত হ। তুই কিন্তু নিজের ভালোবাসার কথা ওকে জানাসনি, আর এখনকার যুগে দাঁড়িয়ে প্রতিটা মেয়ে কমবেশি অনেক প্রপোজাল পায়। সাবিহাও তাদের মধ্যে একজন। আজ সিনিয়র ভাইয়াটা প্রপোজ করেছে , কাল অন্য কেউও করতে পারে। এটাও হতে পারে , ওর বাড়িতে বিয়ের জন্য সম্বন্ধ আসে। তাহলে এবার কি করবি তুই ? ”
আব্রাহাম কিছুটা শান্ত হলো। অভির কথা গুলো ফেলে দেওয়ার মতো না। অভি আরও বলল,
“ জন্ম , মৃত্যু , বিয়ে উপরওয়ালা আগে থেকে ঠিক করে রেখেছেন। সাবিহা যদি তোর হয়ে থাকে , আল্লাহ ছাড়া আর কারোর ক্ষমতা নেই তোর থেকে ওকে ছিনিয়ে নেওয়ার। কিন্তু ও যদি তোর না হয়ে থাকে , তাহলে সমগ্র বিশ্বের প্রেম আর সুখ ওর সামনে নিয়ে দাঁড়ালেও ও তোর হবে না। তাই মন খারাপ করিস না , পারলে নিজের ভালোবাসা ওর সামনে প্রকাশ কর। ওকে বল যে তুই ওকে ভালোবাসিস , বাকিটা ওর সিদ্ধান্ত।”
“ আমি জানি তুই ঠিক বলছিস অভি। কিন্তু বিশ্বাস কর এই স্বার্থপর মন মানছে না এই কঠিন সত্যটা। আমার শরীরে থেকেও প্রতিটা স্পন্দন সাবিহার নামে স্পন্দিত হচ্ছে। কতটা স্বার্থপর ভাব তোরা। আমি চলে যাচ্ছি। আমার ভালো লাগছে না আমায় একা ছেড়ে দে তোরা প্লীজ। আমায় আর আজ কেউ কল বা sms করবি না , bye... ” 
আর দাঁড়ালো না আব্রাহাম , চোখের জল মুছে বেরিয়ে গেল সে। আরিফ আটকাতে গেলে অভি থামিয়ে দিলো তাকে।
“ ওকে একা ছেড়ে দে আরিফ। ” 
অভির কথায় আর কেউ এগোলো না। আবার যে যার মতো বসে পড়ল ক্যান্টিনের বেঞ্চে। আরিয়ান বলল ,
“ আচ্ছা অভি তুই কি ইন্ডিয়ান মোটিভেশনাল স্পিকার গৌরব তপাদারের ফ্যান নাকি রে ? যা কথা গুলো শোনালি তুই ! ”
জাওয়াদ বলল , “ হ্যাঁ ভাই আমারও তাই মনে হচ্ছিল। কী ব্যাপার মামু , তলেতলে প্রেম পিরিতি চলছে নাকি কোথাও?”
অভি শান্ত কণ্ঠে বলল , “ কোচ কখনও খেলে না , খেলার পরিচালনা করে। বুঝলি ? ”
সবাই মাথা দুলিয়ে সমস্বরে বলল , “ বুঝলাম ! ”
চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন