#আকস্মিক_আগমন
#সামিয়া
#পর্ব_০৫
আর তখন ই দেখে পিয়াল দাড়িয়ে আছে। পিয়ালকে এত সকালে দেখে উমায়ের অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
---পিয়াল তুই!!! এত সকালে এখানে কি করছিস?
পিয়াল প্রথমেই উমায়েরকে জড়িয়ে ধরলো। যেন বন্ধুকে ভরসা দিচ্ছে যে সে আছে। তারপর শঙ্কিত গলায় সুধাল,
--- বেশি দেরি করে ফেলেছি দোস্ত? আমি চেষ্টা করেছি সাথে সাথে আসার কিন্তু একটু দেরি হয়ে গেছে।
---কি বলছিস এসব? আমি ত আরো বিস্মিত হয়ে গেছি তোকে এখানে দেখে। আমি তো বলেছিলাম সকাল হলে আসবি। কিন্তু তুই যে রাতেই রওনা দিবি তা তো বুঝিনি।
---আন্টির অবস্থা এখন কেমন?
---অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছে কিন্তু আম্মুর জ্ঞান আসেনি এখনোও। জ্ঞান ফেরার পূর্বে ডাক্তার বিপদমুক্ত ঘোষণা করতে পারছে না।
---আচ্ছা চিন্তা নেই দোস্ত সব ঠিক হয়ে যাবে।
অতঃপর পিয়াল আর উমায়ের ঔষধ নিয়ে কেবিনে যায়। পিয়াল বাইরে থেকে উঁকি দিয়ে দেখে সায়মা বেগম শুয়ে আছে। ভেতরে প্রবেশের সময় ওর একটা ফোন আসে। তাই ও সেটা রিসিভ করে চলে বাইরে যায়।
উমায়ের লক্ষ্য করে ওর আম্মুর হাত একটু নড়ছে। তাই ওও দ্রুত ডাক্তারকে খবর দেয়। ডাক্তার এসে দেখে যায়। আর বলে রোগী এখন বিপদমুক্ত কিন্তু কয়েকদিন অবজারবেশনে রাখতে হবে এবং কিছুক্ষণ পর ডক্টর চলে যায়।
উমায়ের তার মায়ের হাতটা ধরে বসে। ধীরে ধীরে সায়মা বেগম চোখ মেলে উমায়ের এর দিকে তাকায়। উমায়েরকে দেখে অতি আস্তে বলে,
---মায়সাম! তুমি এসেছ?
---কথা বলো না আম্মু। ডক্টর তোমাকে রেস্ট নিতে বলেছে।
---তোমার বাবা কোথায়?
---বাবাকে আমার এক বন্ধুর বাসায় পাঠিয়েছি গোসল করে জামা কাপড় চেঞ্জ করে আসার জন্য। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসবে।
---তুমি সুস্থ আছো?
---হুম। এসব কথা পরে হবে। কিছু খেয়ে নাও।
---এখন একটু ঘুমাব। পরে উঠে খাবো।
---ঠিক আছে।
সায়মা বেগম ঔষধের প্রভাবে ঘুমিয়ে পড়ে। আর মায়লান মায়ের দিকে তাকিয়ে ভাবে আমার জন্য আজকে আম্মুর এই অবস্থা। অথচ ছেলে হয়ে আমি কখনো এসবের খবর ই রাখিনি। আম্মু সুস্থ হলে যা যা করলে আম্মুর টেনশন দূর হবে তা ই করবো। বিয়ে করতে বললে তা ই করবো।
---------------------------**************--------------------------
মাহা আজকে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামাজ আদায় করে পড়তে বসে। মন দিয়ে পড়তে হবে। এবার যা হবার হোক। মাহার আব্বু বলেছে আজকে ঘটক আসবে। মাহা যেন পরিপাটি হয়ে থাকে। মাহা কিছু বলেনি। চুপ করে সব শুনে গেছে। তার আব্বু যা ভালো তা ই করবে সেটা মাহা জানে।
বিকেলের দিকে ঘটক আসে। মাহাকে দেখে বলে,
---মেয়ে তো মাশাআল্লাহ সুন্দর আছে। আমার সন্ধানে ভালো ভালো ছেলে আছে। আমাকে শুধু একমাস সময় দিন তার আগেই ওর বিয়ের সানাই বাজাবো।
এসব বলেই ঘটক কিছু টাকা নিয়ে প্রস্থান করে। মাহা ঘরে এসে শুয়ে পড়ে। তার চোখ ফেটে কান্না আসছে। কিন্তু সে কাউকে কিছু বলেনি। সারাটাদিন ওর আজকে বিষণ্ণ কাটে। কালকে ক্লাস আছে তাই ঝিলিকে ফোন দেয়। ঝিলি ফোন রিসিভ করেই বলে,
---তোর কথা ই ভাবছিলাম। কালকে আসবি না?
---আসবো। কি কি ক্লাস হবে?
---তিনটা ক্লাস হবে। পরে আমি আর তুই ঘুরতে যাবো। কী বলিস?
---আচ্ছা।
বলেই কল কেটে ঘুমোতে যায় মাহা।
-----------------------****************--------------------------
আজকে সারাদিন উমায়ের ব্যস্ততায় কাটে। ওও তার হোস্টেলে গিয়েছিলো। সেখান থেকে আসার সময় বাবার জন্য হোটেল থেকে খাবার নিয়ে আসে। মায়ের সব ঔষধ টাইম মতো খাওয়ায়। এর মধ্যে ডক্টর বলে ওর আম্মুর অবস্থা আগে থেকে অনেকটাই ভালো। চাইলে আগামীকাল তারা রোগীকে বাসায়ে নিয়ে যেতে পারে। পিয়াল তখন কথা বলে এসে জানায় তাদের বাসায় নাকি কি নিয়ে ঝামেলা হয়েছে তাই তাকে তখন ই যেতে হবে বলে বিদায় নেয়।
উমায়ের আম্মুর কাছে বসে এবার আম্মুকে সরাসরি জিজ্ঞেস করে,
---তুমি কতদিন ধরে দুশ্চিন্তায় ভুগছো আম্মু? আমাকে কেন জানাওনি? আর আমি কি তোমার পর? যদি বলো যে আমি চিন্তা করবো বলো নি তাসলে এখন কি আমি নিশ্চিন্তায় ঘুরছি?
---আমি ইচ্ছে করে করতে চাইনা আব্বু। কিন্তু আমি ইদানিং অসুস্থ থাকি। তোমার আব্বু সারাদিন কাজে বাসার বাইরে থাকে। আমার কিছু হলে তোমাকে কে দেখবে?
---তো তুমি এখন কি চাও?
---রাগ করো না। তবে আমার মনে হয় তুমি যদি এখন বিয়ে করো তাহলে আমি একটু চিন্তামুক্ত হবো।
উমায়ের বলে,
---ঠিক আছে। পাত্রী দেখো। আমি এই এক সপ্তাহের মধ্যে বিয়ে করতে চাই। এবার হোস্টেলে আমি বিয়ে করেই ফিরবো। কীভাবে এক সপ্তাহে মেয়ে বের করবে তা তুমি জানো। এর বেশি দেরি হলে আমাকে আর বিয়ের কথা বলতে পারবে না।
সায়মা ভেবেছিলো উমায়ের রাজি হবে না। কিন্তু এখন দেখে তার ছেলে তার অসুস্থ হবার ভয়ে একবারেই রাজি হয়ে গেছে। তাই সে হেসে বলে,
---ঠিক আছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই তোমাকে বিয়ে করাবো। তুমি শুধু বলো তোমার কেমন মেয়ে পছন্দ?
---আমার কোনো পছন্দ নেই। মেয়ে বের করা তোমাদের ডিপার্টমেন্ট। এমন কি আমি মেয়ে দেখতে যেতেও চাই না। আমি শুধু বিয়ের দিন কবুল বলে চলে আসবো। বাকিটা তুমি তোমার মতো যা করার করো। আমার কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করো না।
সায়মা ভাবেন ছেলে রাজি হয়েছে এতেই তিনি খুশি। পরে বিয়ে হলে বাকিটা তখন বুঝবেন। তিনি তৈরি হতে থাকেন কালকে সকালেঈ তিনি চলে যাবেন এখান থেকে। ছেলের জন্য পুত্রবধু যে খুঁজতে হবে। উমায়েরকে বলে,
---মায়সাম তুমি যাও এবার। আর তোমার আব্বুকে ডেকে দাও। আমার তার সাথে কথা আছে।
উমায়ের চলে যায়। আর তার বাবাকে কেবিনে পাঠায়। মায়লান সাহেব স্ত্রীকে এত খুশি দেখে অবাক হোন। অবাকের রেশ ধরেই বলেন,
---কি হলো চড়ুই? তুমি এত খুশি কেন?
মায়লান সাহেব সায়মাকে চড়ুই বলেই ডাকেন। তার বিয়ের সময় নাকি সায়মা দেখতে একটা ছোটখাটো চড়ুইয়ের মতো ছিলো কিনা তাই।
---জানো মায়সাম বিয়ে করতে রাজি হয়েছে।
---হবে না বলছো? তুমি তো বেচারাকে রীতিমতো ভয়ে দেখিয়ে দিয়েছো। তাই এখন তার কোনো উপায় নেই।
---ওমনি তোমার শুরু হয়ে গেলো? আচ্ছা বাদ দাও সেসব। ভালো দেখে কয়েকজন ঘটক নিয়োগ কর। ছেলে আমার পাত্রী দেখার ভার আমাদের উপর ছেড়েছে। বলেছে এক সপ্তাহের মধ্যে বিয়ে না করালে সে বিয়েই করবে না আর। কবুল বলেই নাকি সে আর কিছু পারবে না। তার দায়িত্ব শেষ। আমি আমার ছেলেকে এক সপ্তাহের মধ্যেই বিয়ে করাবো।
---আচ্ছা। সকাল তো হোক।
---ঠিক আছে।
চলবে......