ফন্ট সাইজ:
থিম:
আকস্মিক আগমন

৪র্থ পর্ব

লেখক: samia akther nadia

#আকস্মিক_আগমন

#সামিয়া
#পর্ব_০৪
মাহাদের বাসায় আসতে আসতে রাত্রি হয়ে যায়। বাবা দোকান থেকে আসার পর সবাই একসাথে রাতের খাবার খেয়ে নিজ নিজ রুমে যায়। এদিক মাহা তার বড় আপুর সাথে কথা বলার পর আপু ওকে বুঝালো পড়ায় মনোযোগী হতে। তারা কোনো রূপকথার পিন্সেস না যে তাদের জন্য রাজকুমার আসবে আর তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিবে। তার ভাগ্য তার নিজের হাতে গড়ে নিতে হবে। এসব ই মাহা ভাবছিলো রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে। তার মন এত বিষণ্ণ যে ওও পারছেনা জোরে জোরে কান্না করতে। মাহার গ্রামে মেয়েরা ততটা শিক্ষিত না। তবে মাহার পরিবারে ওর বাবা মা শিক্ষিত না হলেও তাদের পড়াশুনাতে কোনো কমতি রাখতে চায় না। কিন্তু গ্রামে এত বেশি বয়স পর্যন্ত মেয়েদের অবিবাহিত রাখে না। সে নিয়ে গ্রামপ্রধান আজকে ওর বাবাকে খবর পাঠালো আর বললো মাহার বিয়ের কথা। তবে তিনি এইটাও আশ্বাস দিলেন যদি ভালো পাত্র তারা খুঁজে না পায় তবে তিনি খুঁজে দিবেন। সাথে বিয়েতে যদি দরকার হয় তবে তিনি সাহায্যও করবেন। গ্রামপ্রধান লোকটা খুব বিনয়ী। মাহার বাবাকে যাতে কথা না শুনতে হয় কারো থেকে তাই তিনি আগেই তাকে এটা বলে সতর্ক করে দিয়েছেন। তাই মাহার বাবা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। এ ব্যাপারে আজকে মাহার বাবা তার মায়ের সাথে কথা বলার সময় আয়াশ শুনে মাহাকে জানায়। মাহা অবশ্য আয়াশকে আড়ি পাতা আর কথা পাচার করার জন্য আচ্ছামতো শাসন করে দিয়েছে।
মাহা এখন এসব নিয়েই ভাবছে। কেমন জীবনসঙ্গী তার ভাগ্যে আছে তা সে জানেনা। খোলা চুলগুলো বাতাসে দুলছে। জানালা দিয়ে এক টুকরো চাঁদ উঁকি দিচ্ছে। আশেপাশের বাড়ি থেকে আলো আসছে। ঠান্ডা বাতাস বইছে। কলগাছগুলো ঝুঁকে আছে। দূর আকাশ পানে তাকিয়ে মাহা ভাবছে তার ভবিষ্যৎ, তার শঙ্কা তাকে এই গভীর রাতেও ঘুমাতে দিচ্ছে না। 
অপরদিকে,
উমায়েরকে ডক্টর একটু পরেই জানায় তার মা হার্ট এট্যাক করেছে। আর তাকে হসপিটালে আনতে দেরি হওয়ায় ওনার হার্ট ব্লক হবার দরুণ এখনি তার হার্টে রিং পড়াতে হবে। যেহেতু উমায়ের মেডিকেল স্টুডেন্ট তাই সে আন্দাজ করতে পারছে কত টাকার বিষয়। তবে এই টাকা ম্যানেজ করা তাদের জন্য সহজ না আবার কঠিনও না। উমায়ের এর আব্বুর একটা বীমা করা যেটাতে ৬ লক্ষ টাকা আছে। সেখান থেকে সাড়ে ৪ লক্ষ এবং উমায়ের এর নিজের জমানো টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে হাসপাতালে জমা দিয়ে দেয়। উমায়ের এবার ওটির লাইটের দিকে তাকিয়ে আছে আর দোয়া করছে।
---------------********--------------
পিয়াল বাসায় এসে ফোন সাইলেন্ট করে শুয়ে পড়ে। ঘুম থেকে উঠে দেখে ওর ফোনে উমায়ের এর ২৭ টা মিসড কল। ওও লাফ দিয়ে শোয়া থেকে বসে যায়। উমা তো এমন না যে বিনা প্রয়োজনে এতগুলো কল করবে। তৎক্ষনাৎ ওও উমায়েরকে ফোন দেয়। অল্পক্ষণেই ফোন রিসিভ হয় অপরপাশ থেকে।
পিয়াল বলে,
---উমা সব ঠিক আছে তো?
অন্য সময় হলে উমায়ের তাকে উমা ডাকার জন্য রাগ করতো কিন্তু আজকে কিছুই বলে না। বরঞ্চ ভাঙ্গা গলায় বলে,
---তুই কোথায় ছিলি?
---ফোন সাইলেন্ট করে ঘুমিয়ে ছিলাম বন্ধু। কিছু কি হয়েছে?
উমায়ের ধরা গলায় বলে,
---আমার আম্মু হার্ট এট্যাক করেছে আর আমরা এখন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হসপিটালে আছি।
এবার পিয়াল বুঝলো এই শান্তশিষ্ট নম্র ভদ্র ছেলেটার এমন আচরণের কারণ। নিজেকে সামলিয়ে বললো,
---আমি কি আসবো এখন?
---এখন এত রাত করে আসার দরকার নাই। আগামীকাল আসিস।
পিয়াল বোধহয় বুঝলো তার বন্ধুর তাকে এখন ই প্রয়োজন। তাই কিছু না বলে ফোনটা নিয়ে সাথে সাথে ছেলেটা বের হয়ে গেলো। ওদের গাড়ি আছে। সেইটা নিয়েই এত রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।
-----------------*******--------------
ওটির লাইট বন্ধ হতেই ডক্টর বের হয়ে আসলো। ডক্টর উমায়েরকে দেখে অবাক ই হলো বটে। তাও জিজ্ঞেস করলো,
---পেশেন্ট তোমার কি হয়?
এখানে ডক্টর হিসেবে নিজ মেডিকেলের ডক্টর প্লাস এলাকার বড় ভাই মিকদাদ আল রাশাদকে দেখে উমায়েরও কম অবাক হয়নি। অবাকের রেশ ধরেই বললো,
---আমার আম্মু।
---তোমার আম্মু উনি? আমি মেডিকেল থেকে শুনি একজন সিরিয়াস রোগীর অপারেশন করতে হবে। তাই আমি অনতিবিলম্বে বাসা থেকে এখানে আসি। আচ্ছা বলো তো তিনি কি কোনো কিছু নিয়ে খুব চিন্তিত?
তখন ই পেছন থেকে মায়লান সাহেব এগিয়ে এসে বললেন,
---জ্বী। সায়মা উমায়ের কে নিয়ে চিন্তিত।
উমায়ের এবার অবাকের চূড়ান্ত সীমায় পৌছালো। সে ভেবেই পেলোনা তার আম্মু কেন তাকে নিয়ে এত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। তাই বাবার দিকেই তাকাতেই তার বাবা বলা শুরু করলো,
---রাশাদ তুমি তো জানোই আমার একটাই ছেলে উমায়ের। তাই ওর মা ভাবে তার বা আমার যদি কিছু হয়ে যায় তবে উমায়ের এর কি হবে? বা ওর ভবিষ্যৎ কেমন হবে? ওও কি আদৌ ওর জীবন একা একা গুছাতে পারবে?
রাশাদ মায়লান সাহেব এবং উমায়েরকে চিনলেও উমায়েরের মাকে কখনো দেখেনি। তাই সে বলে,
---দেখুন আঙ্কেল আন্টির এইসব নিয়ে দুশ্চিন্তার ফলাফল আজকের এই দিন। তাছাড়া আমি উনাকে পুরোপুরি বিপদমুক্ত বলতে পারছি না। অবজারভেশনে রাখতে হবে উনাকে। তাছাড়া এমন কিছু বলা বা করা যাবেনা যাতে উনি চিন্তিত হোন। আর তাকে হাসিখুশি রাখবেন।
বলেই উমায়েরের দিকে তাকিয়ে বলে,
---চলো আমার সাথে।
উমায়েরও রাশাদের সাথে যায়। একটু দূরে যেতেই রাশাদ বলে,
---যা বুঝলাম আন্টি বোধহয় তোমার বিয়ে দিয়ে সুখী দেখতে চান।
উমায়ের ত্বরিত গতিতে রাশাদের দিকে তাকায়। রাশাদ হেসে পুনরায় বলে,
---বিয়ে তো ভালো জিনিস। তাছাড়া তুমি তো কিছু বছর পর এমনিতেও বিয়ে করতেই। তাহলে এখন করতে কোনো অসুবিধা থাকার কথা না।
উমায়ের বলে,
---আমি জানতাম আম্মু আমাকে নিয়ে চিন্তায় থাকে। তাই বলে এতটা? এখন আমি কি বলবো? আমি না বললে যদি আম্মুর আবার এমন কিছু হয়? আর হ্যাঁ যদি বলিও তাহলেও তো আমার এখন সংসার চালানোর মতো যোগ্যাতা বা ইনকাম নেই। আমাকে কে মেয়ে দিবে?
---দিবে দিবে। আঙ্কেল আন্টির সাথে কথা বলে ঘটক নিযুক্ত করলেই পাত্রীর সন্ধান পাবে তুমি।
এরকম আরো অনেক কথা বার্তা বলে রাশাদ চলে যায়। উমায়ের সারারাত করিডোরে পায়চারি করে কাটায়। সকালে একজন নার্স ওকে একটা প্রেসক্রিপশন দেয় ঔষধ কিনে আনার জন্য। ওও নিচে যায়। আর তখন ই দেখে.....
চলবে.......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন