ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিস্তব্ধ রাতের কাব্য

৫ম পর্ব

লেখক: মিথিলা ইসলাম

#নিস্তব্ধ_রাতের_কাব্য

#লেখনীতে_মিথিলা_ইসলাম

#পর্ব_৫

.

.

.

ইশা আজকে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পরেছে।আজকে আর শাড়ি পরেনি থ্রি পিস পরেই বের হয়েছে। যদিও এ নিয়ে শামিমা সিকদার কথা শুনিয়েছে তবে সেও ছাড়েনি। ইশা মেহজাবিন সিকদারের পিছু পিছু ঘুরছে কাজ করার জন্য। কিন্তু মেহজাবিন সিকদার তাকে কাজ করতে দিবে না আর ইশাও কাজ না করে ছাড়বে না। শেষ পর্যন্ত মেহজাবিন সিকদার তাকে শরবত বানানোর কাজ করতে দেয়। ইশাও খুশি মনে কাজ করতে থাকে। কিন্তু ইশা কিছু একটা দিতে ভুলে যায় আর চেখেও দেখেনি যে বুঝবে কি দেওয়া হয়নি। ইশা শরবত রেডি করে ফ্রিজে রাখে ঠান্ডা হওয়ার জন্য। এই ডিসেম্বরে গ্রামে শীত পরলেও শহরে দুপুরে ভালোই গরম। আর সবাই এতো দূর থেকে আসবে আগে ঠান্ডা ঠান্ডা শরবত'ই দিবে। ইশা মেহজাবিন সিকদারের সাথে রান্না ঘরে গিয়ে আরো কাজে সাহায্য করে আর সবার সাথে গল্প করতে থাকে। ইশা এমনিতেও খুব মিশুক প্রকৃতির। বিয়ের সময় হঠাৎ করে সব হওয়ায় একটু চুপচাপ হয়ে গেছিল। তবে এখন সবার সাথে কথা বলে মিশে গেছে তাই তার মধ্যে এখন আর চুপচাপ ভাবটা নেই।তেহরিদ কে সাথে নিয়ে তাহসিন সিকদার শপিংয়ে গেছে। আজকে যারা যারা আসবে সবাইকে জামা-কাপড় দেওয়া হবে। তেহরিদ বলেছিল সে যাবেনা কিন্তু তাহসিন সিকদার জোর করে নিয়ে গেছে। প্রায় ১১:০০ টা বাজে এখনো কেউ আসছে না দেখে ইশা অস্থির হয়ে গেছে। ইশার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সবাই এসে পৌঁছায়। অনেকেই এসেছে ইশার বাবা, ভাই, বড় চাচা; বড় চাচার মেয়ে #তাসনিম_শেখ_লাবিবা ছেলে #আদনান_শেখ_রিদান একমাত্র ফুপ্পি আয়রা বেগমের বড় ছেলে #রাকিন_ইসলাম ছোট ছেলে #সাফওয়ান_ইসলাম। এরা সবাই এসেছে ইশা এবং তেহরিদকে নিয়ে যেতে আর সবাইকে দাওয়াত করতে।মেহমান চলে আসায় সবাই একসাথে জড়ো হয়। সবাই সোফায় বসে ইশাও বাবাকে জরিয়ে ধরে সোফায় বসে পরে। তানভী, সানী আর রহিমা মিলে একে একে নানান পদের নাস্তা এনে টেবিল ভর্তি করে ফেলে। সবাই আগে শরবত খায় তবে কেউ কিছু বলে না দেখে মিসবাহ অবাক হয়ে যায়। কারণ তার মতে সবাই তো এক ঢোকের বেশি খেতে পারবে না। সেখানে সবাই তো পুরো গ্লাস খালি করে ফেলেছে। মিসবাহর তো মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে কেউ কিছু বলছে না কেনো। সবাই হালকা পাতলা নাস্তা করে। ইশার বাবা-চাচা আনিসুর সিকদারের সাথে নানা বিষয় নিয়ে গল্প করতে থাকে। আর বাকি সবাইকে ইশাসহ শারমিন, নাবিলা মিলে পুরো বাড়ি ঘুরিয়ে দেখাতে থাকে। ইশাও যেহেতু এখনো সব চিনেনা তাই সেও সব কিছু চিনে নিতে থাকে।

সবাই যখন চলে যায় তখন মিসবাহ সবার আড়ালে একটু শরবত খায়। কিন্তু সবই তো ঠিকঠাক আছে তাহলে সে যে বেশি করে লবণ মিক্স করলো সেই লবণ কই গেলো? মিসবাহ সেলিনা চৌধুরীকে খুঁজতে এই খবর দেওয়ার জন্য।

" বাড়ির তো আরো বউ আছে তারা তো তোমার মতো এমন ধেই ধেই করে ঘুরে না। আর বাড়ির বউরা যে শাড়ি পরে সেটা জানোনা নাকি। মা-বাবা কোনো শিক্ষা দেয়নি?"

হঠাৎ রোকসানা সিকদারের এহেন কথায় ইশার পা জোড়া থেমে যায়। পুরো বাড়ি ঘুরা হলে সবাই মিলে ছাদে গিয়েছিল। ছাদেও অনেক গাছ লাগানো।সবার জন্য গোল টেবিল আর বেঞ্চি আছে আবার উপরে ছাউনি দেয়া। এরকম ৪ টা টেবিল আছে। সবাই সেখানে বসে আড্ডা দিয়েছে কিছুক্ষণ। ইশা সবার পিছে পরে যায় বাকিরা চলে গেছে। ইশা প্রথমে ভাবে কিছু না বলে চলে যাবে। পরক্ষণেই আবার তেহরিদের সেই কথা মনে পরে যায় তাই আবার থামে বলে...

"বাড়ির অন্য বউরা ঘুরে না দেখে যে আমি ঘুরতে পারবোনা এমন কোন কথা নেই। আর বিয়ের পর যে শাড়ি'ই পরতে হবে এমন কোন নিয়ম কোথাও লেখা নেই। আর কে কাকে শিক্ষা দেইনি সেটা তো ব্যবহারেই বোঝা যায়। "

★

তেহরিদ বাবার সাথে শপিং করে বাসায় ফিরে দেখে ইশার বাবা-চাচা দাদার সাথে কথা বলছে।তেহরিদ সালাম দিয়ে ভালো-মন্দ জিজ্ঞেস করে রুমে আসে ফ্রেস হওয়ার জন্য। তেহরিদ ওয়াশরুমে থেকে বের হয়ে দেখে মেহজাবিন সিকদার বসে আছে। তেহরিদ মাকে দেখে একটু অবাকই হয়। কারণ মা সচারাচর তার রুমে খুব একটা আসেনা। তেহরিদ হাত-পা মুছে মায়ের পাশে খাটের উপর বসে। মায়ের সাথে তার দূরত্ব বেড়েছে বহুদিন, কয়েক বছর হবে। মায়ের সাথে আর আগের মতো সেই বন্ডিং নেই।

"কিছু বলবে আম্মু? "

"হ্যাঁ বলবো, বলার জন্যই এসেছি। "

"বলো কি বলবে।"

"ইশার বাড়ি আজকে সবাই আসার প্রধান কারণ হলো তোমাকে আর ইশাকে তারা সাথে করে নিয়ে যাবে।আর আমরা কাল অথবা পরশু যেয়ে আবার তোমাদের নিয়ে আসবো। "

"কিন্তু আমি যেতে চাই না আম্মু। ইশা যাক কিছুদিন বেরিয়ে আসুক। আর কেউ না বুঝলেও তুমি যে আমাকে বুঝো আমি জানি আম্মু। "

"এটা নিয়ম বাবা। আমাদের শহরে হয়তো এসব নিয়মকে পাত্তা দেয় না কিন্তু গ্রামে এইসব অনেক মানে। আজ তুমি ইশার সাথে না গেলে হয়তো ওর বাড়ির মানুষ কিছু মনে করবেনা। তবে পাড়াপ্রতিবেশি মেয়েটাকে অনেক কিছু বলবে, অনেক কথা শুনাবে। "

"সবই বুঝলাম কিন্তু আম্মু আমার তো সময় দরকার। আমি এখন বিয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলাম তবুও যা হওয়ার হয়েছে। আমি তো মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছি। "

"তুমি কি এখনো তাকে ভুলতে পারোনি?"

"আমি তাকে ভুলেছি আম্মু কিন্তু তার বেইমানি ভুলতে পারেনি। আমি যত সামনে এগোতে চাই তত এইসব মনে পরে। আমার কিছু ভালো লাগছে না। "

"চেষ্টা করো সব পারবে।ইশা খুব ভালো মেয়ে আব্বু। একদিন তোমরা দুজন সুখী হবে আম্মুর কথা মিলিয়ে নিয়ো। প্রথমবার তোমার জন্য ভুল মানুষ সিলেক্ট করলেও এবার আম্মু খাঁটি সোনা এনেছি। "

"আমি তোমাকে অনেক বিশ্বাস করি আম্মু। আমি জানি তুমি সব সময় আমার ভালো চাও আর ভবিষ্যতেও চাইবে। আমিও সব কিছু মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছি আম্মু কিন্তু আমার তো একটু সময় লাগবেই।"

"আমিও বুঝতে পারছি আব্বু শুধু আজকে যাও আমরা পরশু যেয়ে নিয়ে আসবো।এরপর আর জোর করবোনা। আম্মুর এই কথাটা রাখো।"

"আচ্ছা আমি যাবো। "

রোকসানা সিকদারকে কথা গুলো বলে ইশা রুমের দিকেই আসছিল।তবে মা ছেলেকে কথা বলতে দেখে সে নিচে নেমে আসে।তাসনিমের সাথে অনেক সময় আড্ডা দেয়।বাসায় সব সময় এক সাথে থাকতো দুজন।চাচাতো বোন কম বান্ধবী ছিল বেশি আর এখন দুইজন আলাদা হয়ে গেলো। তাসনিম ইশাকে পড়াশোনার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে কিন্তু ইশা কিছু বলতে পারে না। কারণ ইশা নিজেই জানেনা তার আর পড়াশোনা করা হবে কি না। তেহরিদের সাথেও পড়ার বিষয় নিয়ে কোনো কথা হয়নি। ইশা তাসনিমকে সবার সাথে বসিয়ে রুমে চলে আসে গোসল করার জন্য। একটু পর আযান দিবে ছেলেরা মসজিদ থেকে আসলেই খাওয়া-দাওয়া শুরু হবে।

★

দুপুর ২:০০ টা বাজে ঘড়িতে।এখন সবাই খেতে বসেছে আজকে মেহমান আসায় আরেকটা টেবিল যোগ করা হয়েছে। ইশা গোসল করে জাম রঙা একটা শাড়ি পরেছে। চুল থেকে এখনো পানি পরেই যাচ্ছে ইশার শাড়ির অনেকটা ভিজে গেছে পানিতে। তেহরিদ নরমাল একটা টি-শার্ট আর কালো ট্রাউজার পরে ইশার পাশে বসেছে। আজকে মিসবাহর পাশাপাশি আরেক জনের বুকেও রক্ত ঝড়ছে। সেই মানুষটা হলো রাকিন। রাকিন হতে পারে বখাটে কিন্তু মেয়েবাজ না। কলেজে উঠার পর খারাপ বন্ধুদের পাল্লায় পরে এসবে জরিয়েছে কিন্তু আর ছাড়তে পারেনি। নেশা বলতে দিনে ২-৩ টা সিগারেট খায়। ইশাকে তার ছোট থেকেই খুব পছন্দ। ইশা মোটা না তবে কিছুটা গুলুমুলু। রাকিন ইশাকে মন থেকেই খুব ভালোবাসে। সেই তার মাকে বলেছিল মামার কাছে প্রস্তাব রাখতে কিন্তু মামা ফিরিয়ে দিল।তবুও আশা ছিলো একসময় রাজি হবে কিন্তু এরমধ্যেই বিয়ে। আজকে এখানে আসার বিন্দু মাত্র ইচ্ছে ছিলোনা শুধুমাত্র মায়ের জোরাজোরিতে এসেছে। কিন্তু এই দুইজনকে একসাথে দেখে তার বুক ফেটে যাচ্ছে তার ৭ বছরের ভালোবাসা আজ অন্য কারো। রাকিন বিরবির করে বলে...

❝ইচ্ছে তো ছিলো তাকে নিয়ে বহুদূর পথচলার

তবে কে জানতো খোদা এখানেই সমাপ্তি লিখে রেখেছে…♡ ❞

#চলবে…..?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন