ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিস্তব্ধ রাতের কাব্য

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: মিথিলা ইসলাম

#নিস্তব্ধ_রাতের_কাব্য

#লেখনীতে_মিথিলা_ইসলাম

#পর্ব_৬

.

.

.

দুপুরে খাওয়ার পর সবাই এখন রেস্ট নিচ্ছে। ইশা ল্যাগেজে অল্প জামা-কাপড় নেয় কারণ বাসায় তো সব আছেই।ইশা যখন এসব করছে তখনই তেহরিদ রুমে আসে। আলমিরা থেকে নিজের কয়েকটি শার্ট, টি-শার্ট, প্যান্ট নিয়ে ইশার সামনে রাখে। ইশা তেহরিদের দিকে তাকিয়ে ইশারায় জানতে চায়, সে এগুলো দিয়ে কি করবে। তেহরিদ একবার ইশার দিকে তাকিয়ে ইশাকে এক সাইডে দাঁড় করায়।ইশার জামা-কাপড় এক সাইড করা আরেক সাইড পুরো খালি। তেহরিদ সেখানে নিজের গুলো আস্তে আস্তে রাখে। ইশা কিছুটা অবাকই হয় তেহরিদের কাজে। সে ভাবতে পারেনি যে এমন কিছু হবে। ইশাও আর কিছু না বলে রেডি হতে থাকে। বাসায় থেকে আসার সময় একটা বোরখা সাথে করে দিয়েছিল। ইশা শাড়ির আঁচলটা ঘুড়িয়ে এনে কোমরে গুজে। তেহরিদ ইশার কান্ড দেখতে থাকে কারণ তেহরিদ বুঝতে পারছেনা ইশা আচল কোমরে গুঁজছে কেনো? কোনো কাজ আছে নাকি এখন? নাকি তাকে পেটাবে কাপড় রাখার অপরাধে? ইশা বোরখা হাতে নিয়ে পরে আয়নার সামনে হিজাব নিয়ে দাঁড়ায়। তেহরিদকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলে...

"এভাবে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো? রেডি হোন। "

" আচ্ছা। "

তেহরিদ শার্ট, প্যান্ট নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়। ইশাও হিজাব বাধাঁয় মন দেয়। সুন্দর করে একটা কালো রঙের হিজাব পরে নিকাব বেঁধে নেয়। এখন শুধু ইশার চোখ দুটো দেখা যাচ্ছে। তেহরিদ যখন শার্ট, প্যান্ট পরে রুমে আসে তখনই ইশা পিছন ফিরে তাকায়। ইশাকে দেখে তেহরিদ থমকে যায়।ইশাকে খুব সুন্দর লাগছে বোরখা, হিজাব, নিকাব সব কালো রঙের। পা, হাত খোলা আর চোখ দুটো। ফর্সা হওয়ায় কালো রঙের মধ্যে হাত-পা গুলো খুব গ্লো করছে। চোখ দুটোও অনেক সুন্দর লাগছে, ইশার দুটো বড় আর টানা টানা। চোখের পাপড়িও খুব ঘন আর বড়ো। তেহরিদকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে ইশা দুষ্টুমি করে চোখ মারে। তেহরিদের এবার কাশি উঠে যায়, আল্লাহ এ মেয়েটা মারাত্মক ফাজিল। কতোটা সাহস হলে তাকে এভাবে চোখ মারে। তেহরিদ যখন ইশাকে কিছু বলবে ইশা তখন দৌড়ে বের হয়ে যায়। তেহরিদ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রেডি হয়ে নিচে নামে। নাবিলা, সিমরান, ইমতিয়াজ এখনই যাবে তেহরিদ এবং ইশার সাথে। বাকিরা পরে গিয়ে তাদের নিয়ে আসবে। তেহরিদ নিচে নেমে দেখে সবাই একদম রেডি হয়ে বসে আছে। সবাই বিদায় নিয়ে একে একে বাগানের দিকে গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। ইশার বাবার বাড়ির লোকজন ২ টা গাড়ি নিয়ে এসেছিল। আরেক টা গাড়িতে তারা ৫জন যাবে। ইশা মুখভার করে দাঁড়িয়ে থাকে। তেহরিদ বুঝতে পারছে না হঠাৎ এমন হওয়ার কারণ কি? ইশাকে জিজ্ঞেস করে...

"কোনো সমস্যা..? "

"আমি গাড়িতে উঠতে পারবোনা। "

"গাড়িতে উঠতে পারবেনা! কিন্তু কেনো?"

"আমার বমি আসে।"

"বিয়ের দিন যে আসলে...!"

"আগে থেকেই ঔষধ খেয়েছিলাম। আর ক্লান্ত থাকায় তো ঘুমিয়ে এসেছি তাই সমস্যা হয়নি। "

"আচ্ছা ঠিক আছে। আমি ব্যবস্থা করছি। "

তেহরিদ গ্যারেজে ঢুকে নিজের বাইক বের করে। বাহিরে এনে ঝাঁকিয়ে দেখে তেল কেমন আছে। তেহরিদ বাইক বের করতে দেখে মেহজাবিন সিকদার বলে...

"বাইক বের করলি যে...?"

"ইশার অভ্যাস নেই বমি হয় তাই কারে যেতে পারবেনা। "

তেহরিদের ছোট্ট কেয়ারে অন্য সবাই খুশি হলেও ৩-৪ জন লোক খুশি হয়না। শামিমা সিকদার মুখ বাকিয়ে চলে যান। মিসবাহ কিছুটা জোরেই বলে..."জীবনে উঠেছে নাকি যে অভ্যাস থাকবে..." কথাটা ইশার বাবার বাড়ির লোকের কান পর্যন্ত যায় না। কারণ তারা গাড়িতে উঠে বসেছে সবাই। কিন্তু তেহরিদ রেগে যায় খুব। মিসবাহ যখনই কিছু বলবে তখন মেহজাবিন সিকদার তাকে থামিয়ে দেয়। যাওয়ার সময় কোনো ঝামেলা না হোক। ইশা মেহজাবিন সিকদার, বাড়ির সবার থেকে বিদায় নিয়ে বাইকে উঠে। একে একে সব গুলো বের হয়ে যায়। ইশা দুইদিনে এই বাড়ির মানুষ গুলোর সাথে মিশে গেছে। প্রথমদিন একটু খারাপ লাগলেও এখন কেনো যেনো আর লাগেনা। আপন আপন লাগে সবাইকে। ইশা তাদের ল্যাগেজ গাড়িতে দিয়েছে। বাইকে শুধু ইশা আর তেহরিদ।

ঢাকার রাস্তা যেনো একমুহূর্তও থামে না। বিকেলের নরম আলো যখন আছরে পরে তখন রাস্তায় দেখা যায় হাজারো প্রেমিক যুগল। হাত ধরে রাস্তায় হাটে কিংবা রিকশায় কাঁধে মাথা রেখে পুরো শহর ঘুরে। দুপুরের সময়টা অনেক ব্যাস্ত থাকে রাস্তা তখন হাঁটা চলা করা খুব কষ্টের। সন্ধ্যার দৃশ্যটা আবার আরেক রকম। তখন রাস্তার বাতি গুলো ঝিলমিল করে জ্বলে উঠে। রাস্তায় বসে নানা রকমে স্ট্রিট ফুডের স্টল। ব্যাস্ত শহরের ব্যাস্ত মানুষ গুলো তখন পরিবার নিয়ে বের হয়। ঘুরে বেরায় শহরের আনাচকানাচে। ইশা প্রথমে তেহরিদের কাধে রেখে বসলেও কখন যে কাঁধে মাথা দিয়ে বসেছে তা কেউ খেয়াল করেনি। ইশা তেহরিদের কাঁধে মাথা রেখে আশ-পাশ দেখতে ব্যাস্ত। আজ নিজেকে তার মুক্ত পাখি মনে হচ্ছে। তেহরিদ এক মনে বাইক চালিয়ে যাচ্ছে। এমনিতে তো জ্যাম লেগেই থাকে কিন্তু আজকে নেই বললেই চলে। তাই একজায়গায় বেশি সময় থামতেও হচ্ছে না। ইশার চোখ লেগে আসে একবার এক হাত তেহরিদের পেট জরিয়ে ধরে। তেহরিদ প্রথমে বিষয়টা খেয়াল না করলেও এক সময় তার চোখে পরে। মুচকি হেসে বাইক চালানোতে মন দেয়। বাড়ির কাছাকাছি চলে এসেছে আর খুব বেশি সময় লাগবে না। সন্ধ্যা হয়ে গেছে তার মধ্যে এখন গ্রাম সাইডে বাইক চলছে তাই ঠান্ডা বাতাস আসছে খুব। শীত শীত অনুভব হওয়ায় ইশার ঘুম ভেঙে যায়। আস্তে করে চোখে মেলে বোঝার চেষ্টা করে কই আছে। যখন সব কিছু ক্লিয়ার হয় তখন খেয়াল করে সে কিভাবে বসে আছে। তাড়াতাড়ি করে ছেড়ে দিয়ে আগের মতো কাঁধে হাত দিয়ে বসে। তেহরিদ কিছু বলে না।

প্রায় আনুমানিক ৭:০০ টার সময় পৌঁছে যায়। গ্রামে নানা রকম রীতি পালন করা হয়। তেহরিদ এবং ইশা বাইক নেমে দাঁড়ায়। অন্য সবাই আরে ২০ মিনিট আগে চলে এসেছে। সবার ফ্রেশ হওয়া ও শেষ। মাটিতে দুটো শিলপাটা রাখা উল্টো করে তার উপর আবার নকশা আকা হয়েছে। সবাই তেহরিদকে বলে সে যেনো ইশাকে কোলে নিয়ে একটা পাটার উপর দাঁড় করায় আরেকটাতে নিজে দাঁড়াবে। তেহরিদ বেচারা কিছু বলতেও পারেনা তাছাড়া বাড়ির বড় কেউ আসেনি যে তাদের দিয়ে না করে দিবে। সবার কথা মতো তেহরিদ ইশাকে পাজা কোলে করে একটা পাটায় দাঁড় করিয়ে আরেকটায় নিজে দাঁড়ায়। এরপর বড় একটা কুলার মধ্যে ধান,দূর্বা আরো কি কি যেনো নিয়ে আসে বরণ করার জন্য। বরণের পর দই, মিষ্টি আর পানি নিয়ে আসে। সবাই মিলে বর-বউকে মিষ্টি মুখ করায়।তেহরিদের মুখ দেখে ইশার মায়া হয় তাই সে মাকে বলে তার খুব ঠান্ডা লাগছে বাহিরে। বর-বউকে ভিতরে নিয়ে বসিয়ে সামনে হরেক রকমের পিঠাপুলি দেওয়া হয়। এরা গ্রাম তারমধ্যে আবার শীতের মৌসুম। এসময় তো গ্রামের ঘরে ঘরে পিঠা উৎসব হয়। পিঠা তৈরিতে তারা পারদর্শী, কোনো আলসেমি লাগে না। আর তেহরিদ নতুন জামাই তাকে তো নানা রকম পিঠা খাওয়াবেই।

তেহরিদ একটা একটা করে ৪ রকমের ৪টা পিঠা মুখে দেয়। এখন আর কিছু খেতে মন চাচ্ছে না।কিন্তু সবাই একটার পর একটা দিয়েই যাচ্ছে। বেচারা না করলেও কেউ শুনছে না তার কথা।

অবস্থা এখন এমন যে ❝ ছেড়ে দে মা কেঁদে বাচি❞।

অবশেষে ইশার বলে যে এখন থাক জামাই তো আছেই পরেও খাওয়ানো যাবে। অনেক দূর থেকে সবাই জার্নি করে এসেছে এখন একটু সবাই বিশ্রাম নিক। আর বাড়ির মহিলাদের বলে রাতের রান্নার আয়োজন শুরু করতে। ইশা তেহরিদকে নিজের রুমে নিয়ে যায় আর বাকিরা অন্য রুমে যায়।

#চলবে….?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন