উপন্যাস : তোমাতেই দেওয়ানা আমি। লেখিকা : সামিয়া আক্তার। পর্ব ৩য়
ঘড়ির কাঁটা তখন ১ টার কাঁটা ছুঁই ছুঁই। চারদিকে নিচতব্দতায় চেয়ে আছে। আসে পাশের ঝোপ ঝাড় থেকে ভেসে আসছে ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক। বাড়ির সবাই তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন শুধু মাত্র সামিয়া বাদে। সে এখনো খাটে বসে পড়ছে সামনে তার ফাইনাল পরীক্ষা তাই। দীর্ঘ সময় বসে থেকে পিঠ ব্যথা হয়ে গেছে তাই সে এবার বই খাতা বন্ধ করে শুইয়ে পড়লো ঘুমানোর জন্য। শুতেই তার চোখে ভেসে উঠলো বিকেলের সেই ছেলেটার মুখ। সেই ছেলেকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পড়লো বুঝতেই পারেনি।
_________________________________________
ধীরে ধীরে সূর্য মামা তার নিজস্ব সুন্দর্যের তাপ ধরণীর বুকে ঢেলে দিচ্ছে। তার তাপ সহ্য করতে না পেরে বেশির ভাগ মানুষ উঠে পড়েছে। বাড়ির পাশের রাস্তায় শুরু হয়ে গেছে হৈচৈ। মানুষের কথা রিকশার সাইকেল হুন্ডা সব গুলার শব্দ একত্রিত হয়ে একটা বিচ্ছিরি শব্দ তৈরী হয়েছে। সেই শব্দে টিকতে না পেরে শেষ পর্যন্ত চোখ মুখে এক রাশ বিরক্তি নিয়ে উঠে বসলো সামিয়া। এটা তার প্রতিদিনে অভ্যাস দেরি করে ঘুম থেকে উঠা। যদিও তাঁদের বাড়ির সবাই উঠে যে যার কাজে চলে গেছে শুধু সেই সবে ঘুম থেকে উঠলো। তবে তুলনামূলক ভাবে আজ সে একটু তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠেছে। প্রতিদিন তো উঠে স্কুল এ যাওয়ার দশ মিনিট আগে মানে নয় টা পঞ্চাশে। বেশ কিছু ক্ষন আলসেমি করে চলে গেলো ফ্রেশ হতে। ফ্রেশ হইয়েই দোকানে যেয়ে বলে আসলো তার জন্য দুইটা পরোটা দিতে। বলে শে এসে আবার ঘরে যেয়ে শুয়ে পড়লো তার ভাইয়ের পাশে। কিছুক্ষন পর তাঁদের দোকানের একজন কর্মচারী এসে তার খাবার দিয়ে গেলো। এই রুটি দুইটা পাক্কা এক ঘন্টা লাগিয়ে শেষ করে আবার শুয়ে পড়লো। তারপর সারে নয়টার দিকে রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়লো স্কুল এর উদ্দেশ্য।
আজকে স্কুল এ কিছুটা আগেই চলে আসে। তার বাকি ফ্রেন্ডরা কেউই এখনো আসেনি তাই কি আর করার নিচে একটা খালি রুমে বসে পড়লো। তাঁদের এই স্কুলে দুই ব্যাচে ক্লাস হয় এই যেমন সকাল আট টা থেকে দশ টা পর্যন্ত ক্লাস নার্সরী থেকে ক্লাস টু পর্যন্ত ক্লাস হয়। আর সকাল সারে দশ টা থেকে দুপুর আড়াই টা পর্যন্ত ক্লাস থ্রী থেকে ক্লাস টেন পর্যন্ত ক্লাস। এই স্কুলে নার্চারী থেকে এসএসসি পর্যন্ত। সকালের ব্যাচ এখনো ছুটি হয়নি তাই সে এখন নিচে একটা ফাঁকা ক্লাস এ বসে আছে যেখানে সকালে খালি থাকলেও দশ টার দিকে স্টুডেন্ট চলে আসে। তাঁর বাকি ফ্রেন্ডদের আসতে দেরি দেখে সে বেগ ক্লাসে রেখে চলে আসলো বাইরে একটু হাঁটা হাঁটির উদ্দেশ্য। বাইরে বের হতেই ছিড়ছেনা একটি ডাক ভেসে আসলো সিঁড়ির কাছ থেকে। সেদিকে তাকাতেই দেখতে পেলো তাঁদের স্কুলের ক্লাস টেন এর এক সিনিয়র ভাইয়া। তাঁর ভাবনার মাঝেই আবারো দেখে উঠলো সিনিয়র ভাইয়া টা।
সামিয়া কেমন আছো।
তাঁর চোখে ছিল এক ধরনের ভালোলাগা। সে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সামিয়ার দিকে। তাঁর এভাবে তাকানো দেখে রমণীর কিছুটা অস্বস্তি হয়। সে অন্য দিকে তাকিয়ে রিনরিনে কণ্ঠে বললো
জি ভাইয়া আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আপনি।
আমিও ভালো আছি। তুমি ঐদিকে তাকিয়ে আছো কেনো আমার দিকে তাকাও।
না ভাইয়া ঠিক আছে। ভাইয়া কিছু না বললে আমি এখনো আসি।
বলেই সে উল্টো ঘুরে হাঁটা ধরলো। তাকে চলে যেতে দেখে সে আচমকাই রমণীর হাত ধরে তাঁর দিকে ঘুরিয়ে দেয়। হাত ধরাতে রমণী হকচকিয়ে উঠে। আর আসে পাশে তাকিয়ে দেখে কেউ আছে কিনা। গেটের দিকে চোখ পড়তেই সে ভয় পেয়ে যায় কারণ তাঁর ফ্রেন্ডড়া চলে এসেছে। তাঁর হাত এভাবে একটা ছেলে ধরে আছে দেখলে সবাই তাকে রোস্ট করবে। যা সে একদমই চায় না তাই সে দ্রুত ঝাড়া দিয়ে হাত ছাড়িয়ে নেয়। এবং ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলে
সমস্যা কি আপনার এমন করেন কেনো। এরকম হুটহাট আর একবার আমার অনুমতি ছাড়া আমার হাত ধরলে আমি হেড স্যার এর কাছে নালিশ করতে বাধ্য হবো কথাটা মাতায় রাখবেন।
তাঁর কথা শুনে সানি ভাইয়া আহত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে
সামিয়া আমি তোমাকে ভালোবাসি সেটা তুমি খুব ভালো করেই জানো।
তাঁর কথা তেলে বেগুনে জলে উঠে কিশোরী তাকে ভালোবাসে মানে কি। তাঁর বয়স সবে পনেরো বছর এই বয়স কে প্রেম করে ভাই। আর সানি তাঁর থেকে গুনে ঘুনে আট বছরের বড়ো এই ছেলের সাথে কিভাবে। আর তাঁর চেয়েও বড়ো কথা তাঁর বড়ো ভাই এই স্কুলে পরে আর বড়ো বোন মেডামের চাকরি করে। তারা যদি কোনো ভাবে জানে তাহলে তো তাকে জানে মেরে ফেলবে।তাই সে এবার ঠান্ডা মাথায় তাঁর দিকে তাকিয়ে বলে
ভাইয়া আপনি আমার বড়ো ভাই এর মতো আর সবচেয়ে বড়ো কথা আমার এখনো প্রেম করার বয়স হয়নি। তাই প্লিজ ভাইয়া আপনি আর আমার পিছু আসবেন না। আপনি আমার চেয়ে বড়ো দেখে কাউকে ভালোবাসেন তাহলে সুখী হবেন আর বিয়েও করতে পারবেন। আমাকে আপনি কোনো দিন ও পাবেন না তাই আমার পিছু ছেড়ে দিন দোয়া করে।
এরই মধ্যে সেখানে তাঁর ফ্রেন্ড রা চলে আসলে সে তাঁদের নিয়ে চলে যায় সেই ফাঁকা রুমে। রুম এ এসে তারা শুরু করে আড্ডা দেওয়া। সানির বেপাররে তারা কেউ আর কিছু জিজ্ঞাসা করেনি। কারণ তারা জানে সানি গত একবছর যাবৎ সামিয়া ভালোবাসে। সে প্রায় সামিয়াকে একলা পেলে ভালোবাসা নিবেদন করে। তাই কেউ আর এই বিষয় ওকে কিছু জিজ্ঞাসা করেনি। সবাই কালকে কে কি করেছে সেসব নিয়ে গল্প করছে। আজকে বৃহস্পতিবার হওয়ায় তাঁদের একটা বাজে ছুটি হয়ে যাবে কোনো টিফিন নেই সেই নিয়ে সবাই অনেক খুশি। আর আজকে তাঁদের কোনো ক্লাসে পড়া হবে না সব ক্লাসেই গান হবে। তাঁদের গল্পের মাঝেই সকালের ব্যাচ ছুটি হয়ে যায়। তারা তাঁদের ব্যাগ পত্র নিয়ে চলে যায় ওপরে তাঁদের ক্লাসে। ক্লাসে এসে আবারো মশগুল হয় গল্পে তবে এবার তাঁদের সাথে যোগ দিয়েছে ছেলেরাও। তাঁদের গল্পের মাঝেই ক্লাসে উপস্থিত হয় তাঁদের মারিয়া মেডাম। তারা তাকে সম্মান করতে একসাথে দাঁড়িয়ে সালাম দেয়। মেডাম ক্লাসে ঢুকে সবাইকে বসতো বললে তারা বসে পরে। তারপর কিছুক্ষন কথা বলে তারা শুরু করে একে একে গান বলা। সবার বলা শেষে এখনো সামিয়ার পালা তাই সে দাঁড়িয়ে মিষ্টি শুরে শুরু করে গান বলা।
Hum tere bin ab reh nahi sakte
Tere bina kya wajood mera (x2)
Tujhse juda gar ho jaayenge
Toh khud se hi ho jaayenge judaa
Kyunki tum hi ho
Ab tum hi ho
Zindagi ab tum hi ho
Chain bhi, mera dard bhi
Meri aashiqui ab tum hi ho
Tera mera rishta hai kaisa
Ik pal door gawara nahi
Tere liye har roz hai jeete
Tujh ko diya mera waqt sabhi
Koi lamha mera na ho tere bina
Har saans pe naam tera
Kyunki tum hi ho
Ab tum hi ho
Zindagi ab tum hi ho
Chain bhi, mera dard bhi
Meri aashiqui ab tum hi ho
Tumhi ho... Tumhi ho...
Tere liye hi jiya main
Khud ko jo yun de diya hai
Teri wafa ne mujhko sambhala
Saare ghamon ko dil se nikal.......
Tere bina kya wajood mera (x2)
Tujhse juda gar ho jaayenge
Toh khud se hi ho jaayenge judaa
Kyunki tum hi ho
Ab tum hi ho
Zindagi ab tum hi ho
Chain bhi, mera dard bhi
Meri aashiqui ab tum hi ho
Tera mera rishta hai kaisa
Ik pal door gawara nahi
Tere liye har roz hai jeete
Tujh ko diya mera waqt sabhi
Koi lamha mera na ho tere bina
Har saans pe naam tera
Kyunki tum hi ho
Ab tum hi ho
Zindagi ab tum hi ho
Chain bhi, mera dard bhi
Meri aashiqui ab tum hi ho
Tumhi ho... Tumhi ho...
Tere liye hi jiya main
Khud ko jo yun de diya hai
Teri wafa ne mujhko sambhala
Saare ghamon ko dil se nikal.......
হঠাৎ ক্লাসে হেড স্যার আসায় তাঁর গান বন্ধ হয়। গান গাওয়া টা তাঁর অনেক পছন্দ এবং গানের গোলাউ তাঁর অনেক সুন্দর হওয়ায় স্যার কিছুক্ষন তাঁর গাব শুনে তাঁর পর ক্লাসে প্রবেশ করে। স্যার ক্লাসে ঢুকেই সবাই দাঁড়িয়ে তাকে সালাম দিলে সে সালামের উত্তর নিয়ে সবাইকে বসতে বলে। এবং কিছুক্ষন কথা বলে যায় যে আগামী পরশু তাঁদের টিকা দিতে নিয়ে যাওয়া হবে সবাই যেন জন্মনিবন্ধিন নিয়ে প্রস্তুত থাকে। বলে সে চলে যায়।
চলবে............... …
( বিঃদ্রঃ আপনারা কেউ কোনো রেসপন্স দিচ্ছেন দেখে আমি উপন্যাস লিখার আগ্রহ পাচ্ছি না। প্লিজ সবাই বেশি বেশি রেসপন্স দেন।)