ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রনয়ের প্রলয়

১০ম পর্ব

লেখক: মেহরিমা সারা

#প্রনয়ের_প্রলয় 

#কলমে_মেহরিমা_সারা 
পর্ব ১০.
আদি পাগলের মতো গাড়ি চালাচ্ছে , গাড়িতে এসি থাকা সত্ত্বেও অনবরত ঘেমে যাচ্ছে। ইরানী কে কল করছে। রিং হচ্ছে তবুও মেয়েটা কল রিসিভ করছে না, উফফফ আদি পাগল হয়ে যাবে। একা মানুষ আর কতোদিক চিন্তা করবে। মেয়েটা ওকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই একা একা এতো রাতে বেরিয়ে গেলো! মেয়েটা কি জানে না আদি ওকে কতো ভালোবাসে! সেই কিশোর কাল থেকে পাগলের মতো মেয়েটার পিছনে পড়ে আছে।‌ ভার্সিটি ফাকি দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা মেয়েটাকে এক নজর দেখার জন্য কলেজের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতো। বিদেশ থাকাকালীন সময়ে রাত জেগে মেয়েটার একটা কলের অপেক্ষায় কাতর হয়ে থাকতো। এতো বছর পর যখন কাছে পেল তখন কেন নিয়তি ওদের মধ্যে ঝামেলা করতে চাইছে।
এতোক্ষণ তো যাও রিং হচ্ছিল কিন্তু এখন তো ফোন ব্যস্ত বলছে। এতো রাতে কার সাথে কথা বলছে।
ইরানীর মা সুনেরা সিদ্দিকী মেয়েকে এতো তাড়াতাড়ি ফিরতে দেখে কারন জিজ্ঞেস করায় ইরা জানিয়েছিল, শরীর ভালো লাগছিল না তাই চলে এসেছে। ঘরে এসে দরজা বন্ধ করে মুখে কাপড় গুজে আটকে রাখা কান্না উগলে দেয়। ইরার নিজেকে আজ অনেক বেশি অসহায় লাগছে, এতো বেশি অসহায় লাগছে যে মরে যেতে ইচ্ছে করছে, ইরা তো জানতো ওদের সাথে এরকম কিছুই হবে তবুও কীভাবে যে আদিকে ভালোবেসে ফেলেছে বুঝতেই পারছে না। কান্নার মাঝেই আদির কল আসে। আদির কল দেখেও ইরা রিসিভ করে না। এখন কল রিসিভ করা মানে ওই মানুষ টাকে আরো কষ্ট দেওয়া, ইরা জানে আদি শুধু ওকে ভালোবাসে আর জীবন সঙ্গী হিসেবেও ওকেই চায় তবুও ইরা তো মেয়ে। ওর মেয়েলী মন যে বড় হিংসুটে ওর মন যে আদির পাশে কাউকে মানতে পারছে না। 
---" আপুউউ দরজা খোলো' আমার কাল এক্সাম আছে পড়তে হবে "
ইরার হঠাৎ টনক নড়লো ইবরাত এর ডাকে। ইশশ ঠিক একই ভাবে তো ইরাও একসময় বলতো, "রাহা দরজা কেন লক করেছিস! আরে আমাকে অন্তত ভিতরে নে! কাল এক্সাম পড়তে হবে তো " 
রাহা যখন প্রচণ্ড রেগে যেত কিংবা কোনো কারনে আপসেট থাকত তখন এমন দরজা আটকে একা থাকতে চাইতো কিন্তু ইরা কখনো ওকে একা থাকতে দিতো না ওমন পরিস্থিতিতে মেয়েটা ওষুধ খেতে ভুলে যেতো। উফফ ইরা নিজের কথা ভাবতে গিয়ে তো রাহার কথা ভুলেই গেছে। রাহার তো এতে কোনো দোষ নেই। ইরা তড়িঘড়ি করে শান কে কল করে, এখন রাহাকে কল করেও বিশেষ লাভ হবে না তা ইরা জানে।
______________________________________
---" সামিন আমি কাল তোমার সাথে কথা বলবো এখন আমি ঘুমাবো "
রাহা ফ্রেশ হয়ে মাত্র ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল,এমন সময় সামিন এসে ওর ঘরে করাঘাত করে অনুমতির জন্য। যতো যাই হোক রাহা একটা মেয়ে হুটহাট ওর ঘরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করার মতো কাজ সামিন এর মতো ছেলের কাম্য নয়। 
সামিন শুনলে তো সে ঠিক দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে। অনুমতি নিয়েছে এটাই বেশি এর থেকে ভদ্র সামিন হতে পারবে না। 
---" হোয়াট ইজ দিস রাহা! আমি তো তোর কাছে সময় চেয়েছিলাম?"
সামিন চোখ গুলো অসম্ভব লাল হয়ে আছে। যেন চোখ থেকে এক্ষুনি র**ক্ত ঝরবে। রাহা স্বাভাবিক ভাবে সামিন এর দিকে ফিরে বলে,
---" আমি তোমাকে সময় দিয়েছি"
---" সময় দিলে এসব কি ছিল? তুই আংকেল কে কেন কিছু বললি না আমাদের ব্যাপারে?"
রাহা বুকে হাত বেঁধে সামিন এর চোখের দিকে তাকিয়ে চোখ ছোট ছোট করে বলে,
---" তুমি একটু বেশিইই প্রত্যাশা করছো না আমার থেকে! আর কি বললে, আমাদের ব্যাপার! আদো আমাদের কোনো ব্যাপার ছিল কখনো?"
সামিন হা করে শ্বাস নিয়ে বোঝানোর সুরে বলে,
---" ওকে ফাইন আমাদের না আমার ব্যাপারে, আংকেল কে কেন কিছু বললি না?"
রাহা নিজেকে শান্ত করে বলে,
---" তুমি বলতে চাইছো ওই মুহূর্তে আমার বাবা কে তোমার ব্যাপারে জানানো দরকার ছিল!"
---" কাম অন সামিন! আমি বাচ্চা নই যে এগুলো নিয়ে তখন বাবার সাথে রাগারাগি করতাম, অবুঝের মতো কথা বলো না "
সামিন তাচ্ছিল্য হেসে যান্ত্রিক ভাবে বলে,
---" তোমাকে পাওয়া নামক যুদ্ধে নামার সুযোগ টাও তুমি আমাকে দিলে না "
সামিন চলে গেলে রাহা হতাশার সহিত দীর্ঘশ্বাস ফেলে, বিরক্তিকর। সব কিছু অসহ্য লাগছে। সবার এতো নাটক নিতে পারছে না প্রচুর হেডেক হচ্ছে। রাহা বেড সাইড ড্রয়ার থেকে শিশি বের করে দুইটা পিল নিয়ে খায়, আজ একটায় কাজ হবে না। শান একটু আগে এসে বলে গিয়েছিল,রাহা জানে শান নিজে থেকে বলেনি, রাহার পিল সম্পর্কে একজনই জানে।
________________________________________
ঘড়ির কাঁটা একটার ঘরে, প্রবল বেগে বাতাস বইছে যে কোনো সময় ঝড় উঠার সম্ভাবনা রয়েছে। রাস্তার পাশের বড় বড় গাছ গুলো কেমন বাতাসের বেগে হেলে হেলে পড়ছে। এমন ভয়াবহ পরিবেশে লাউঞ্জে চারজন লোক যখন মেয়েদের সাথে র*ঙ*লি*লা করতে ব্যস্ত তখন হঠাৎ করেই সেখানের সব লাইট অফ হয়ে যায়। হঠাৎ এমন হওয়ায় মাতাল অবস্থায় লোকগুলো গা*লা*গা*লি করতে থাকে।
মেয়েগুলো আস্তে আস্তে চলে যায় সেখান থেকে তাদের বস এর আদেশ বলে কথা। ওদের মধ্যে একজন হঠাৎ বিকট চিৎকার করে উঠে, যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকে! বাকি তিনজন ঘাবড়ে যায়। লোকটা অনবরত চিৎকার করতে করতে থেমে যায়।
বাকি তিনজন লোকটার আওয়াজ না পেয়ে নাম ধরে ডাকতে থাকে। পুনরায় তিনজনের মধ্যে আরেকজন চিৎকার করে উঠে, বাকি দুইজন এক সাথে এটেসেটে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করছে কি হয়েছে লোকটা উত্তর দেওয়ার আগেই তার আওয়াজ ও থেমে যায়। একে একে বাকি দুইজন ও এমন আওয়াজ করে থেমে যায়। পুরো লাউঞ্জে এখন এক গভীর নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে।
______________________________
হোয়াইট এ মোড়ানো রুমে মৃদু আলো ছড়িয়ে পার্পেল নাইট ল্যাম্প জ্বলছে। সেই আলো আঁধারির মাঝে নরম বিছানায় মোমের পুতুল এর ন্যায় এক হুর পরী ঘুমিয়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছে কোনো প্রভাবশালী রাজার আদরের রাজকন্যা ঘুমিয়ে আছে, দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিশ্চিত মনে ঘুমিয়ে আছে যেন তার কোনো কিছু নিয়ে কোনো চিন্তাই নেই। সেই রাজকন্যার ঘরে ডাকাতি করার জন্য রাজকন্যার বেলকনির দরজার লক খুলে এক ডাকাত প্রবেশ করে যার আগা গোড়া কালো কাপড়ে আবৃত। যার পরনে ব্ল্যাক হুডি, ব্ল্যাক প্যান্ট, মুখে মাস্ক, মাথায় হুডির ক্যাপ তুলে দেওয়া।
আগন্তুক বিনা আওয়াজে বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা এই রাজপ্রাসাদের বড় রাজকন্যা রাহামনির দিকে এগিয়ে যায়। ধীরে ধীরে বেডের সামনে গিয়ে এক হাঁটু মুড়ে বসে পড়ে। 
রাহা ডান দিকে মাথা হেলিয়ে সোজা হয়ে শুয়ে আছে। আগন্তুক রাহার অপরপাশে বাম সাইডে নিজের ডান হাত দিয়ে ঠেক দিয়ে ধীরে রাহার দিকে ঝুঁকে যায়। রাহার এতোটা নিকটে নিজের মুখ এগিয়ে নেয় যে রাহার শ্বাস প্রশ্বাস আগন্তুকের চোখে বারি খাচ্ছে। আগন্তুক আস্তে করে নিজের মুখের মাস্ক সরিয়ে রাহার চোখের সামনে চলে আসা চুল ফুঁ দিয়ে সরিয়ে দেয়, রাহা সামান্য কেঁপে চোখ কুঁচকে নেয়। আগন্তুক রাহার চোখের কুচকানো দেখে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে। তারপর ধীরে ধীরে নিজের তপ্ত ঠোঁট রাহার কানের কাছে নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বলে উঠে,
---" আমার রজনী কেড়ে শান্তিতে ঘুমাচ্ছো! ঘুমিয়ে নাও,,, এখন তোমার সময়!! পরবর্তী রজনী গুলো তোমার নির্ঘুম কাটতে চলেছে "
আলতো করে কানে চুমু খেয়ে সরে আসে। কিছুক্ষণ নেশালো চোখে রাহার দিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়। ধীরে ধীরে রাহার থেকে সরে ওর পায়ের কাছে এগিয়ে যায়। আলতো হাতে পা থেকে চাদর সরিয়ে বাম পায়ের গোড়ালি তে থাকা ছোট আকারের লাল তিলটার দিকে ঘোর লাগা চোখে কিছু পল তাকিয়ে নিজের তপ্ত ঠোঁট দুটো দিয়ে আলতো করে চুমু খেয়ে তিলটার দিকে তাকিয়ে ধীমি স্বরে বলে,
---" প্রতিবারের মতো এবারও তোকে আদর করে দিলাম, অথচ তোকে শাস্তি দেওয়ার কথা ছিল "
চাদর দিয়ে পা ঢেকে তপ্ত শ্বাস ছেড়ে মনে মনে বলে,
---" একদিন তোকে অগাধ অধিকার নিয়ে র*ক্তা*ক্ত করে ছাড়বো, তুই কিশোর বয়স থেকে আমাকে জালিয়ে মা*র*ছি*স "
হুডি সরিয়ে হাতে থাকা ওয়াচে টাইম দেখে দাঁড়িয়ে পরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এমন সময় বেলকনির দরজা দিয়ে আসা ঝড়ো হাওয়ায় রাহা নড়েচড়ে গায়ে থাকা চাদর দিয়ে পুরো শরীর ঢেকে নেয় ভালো করে। 
আগন্তুক তো রাহাকে নড়তে দেখে শ্বাস আটকে ছিল। রাহা চোখ খুলেনি দেখে স্বস্তির শ্বাস নিয়ে বিরবির করে বলে,
---" চোখ খুলো না পিওনি, আমি তোমাকে আজকের কাজের জন্য শাস্তি দিতে চাই, তুমি চোখ মেলে তাকালে আমি তো পুনরায় সব ভুলে তোমার প্রতি দুর্বল হয়ে যাবো "
পিছনে ঘুরে বেলকনির দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে উঠে,
---" তোমার ওই ধারালো চাহনিতে আমার নেশা ধরে যায়,,, বেসামাল হয়ে যাই। নিজেকে সামলানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে "
আগন্তুক যেমন নিঃশব্দে এসেছিল তেমনি ভাবে চলেও যায়। অথচ ঘুমে বিভোর থাকা রমনী টেরও পেলো না কোনো এক ছন্নছাড়া পাগলাটে প্রেমিক অতি যত্নে জমিয়ে রাখা অনুভূতির কিছু ব্যক্ত করে গেছে। কেউ না দেখলেও নিশাচর রাত জল জল করতে থাকা তারকারাজি আর চাদের স্নিগ্ধ আলো তাদের এমন গভীর আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে ছিল যার ভবিতব্য অনিশ্চিত। 
______________________________
কিয়ারা পড়ার টেবিলে বসে বসে ঝিমুচ্ছে। বার বার মাথা হেলে পড়ছে, উফফ প্রায় ভোর হতে চললো এখনো ওকে জেগে থাকতে হচ্ছে শুধুমাত্র ওই শান এর বাচ্চার জন্য, ছেলেটা পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে। কিয়ারা আজ কথা বলতে চেয়েছে তবুও ছেলেটা বলেনি তার নাকি মাথা হ্যাং হয়ে আছে। সে নাকি তার আপুনির এনগেজমেন্ট হয়েছে এটা এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না, হুহ্ যত্তসব ঢং ওর বড় ভাইয়ার মতো একজন মানুষ পেতে চলেছে ওর আপুনি। শান এর তো উচিত খুশিতে পাগল হয়ে যাওয়া যেমন কিয়ারা আর নীল খুশি হয়েছে। 
ছোট ভাইয়া তো খুশির চোটে রাত করে বাইক নিয়ে বেড়িয়েছে তাই তো কিয়ারা এখনো জেগে আছে। ছোট ভাইয়া যাওয়ার আগে থ্রেট দিয়ে গেছে, কিয়ারা যদি ঘুমিয়ে যায় ও আসার আগে তাহলে আগামী ছমাসে ও শান এর সাথে দেখা করতে পারবে না। কিয়ারা জানে ওর ছোট ভাইয়া কতো ডেঞ্জারাস। একবার যখন বলেছে তখন কিয়ারা না শুনলে নিশ্চিত এটাই করবে।
একবার নীল রাতে বের হওয়ার সময় ওকে পাহাড়ায় রেখেছিল কিয়ারার সেদিন প্রচুর ঘুম পায় তাই কিয়ারা ঘুমিয়ে পড়েছিল। ওইদিন ছোট ভাইয়া ওকে চল্লিশ মিনিট কান ধরে দাড় করিয়ে রেখেছিল একটুও ছাড় দেয়নি। সেই থেকে কিয়ারা বুঝেছে ভাইয়ার ভালোবাসা একদিকে শাস্তি আরেকদিকে। ছোট ভাইয়া আর যাই করুক শাস্তি দিতে কৃপনতা করে না।
কিন্তু কিয়ারার চিন্তা হচ্ছে বড় ভাইয়া কে নিয়ে। কিয়ারার জানা মতে ওর ভদ্র সভ্য বড় ভাইয়া টা জীবনে প্রথম আজ এতো রাত করে বাড়ি ফিরেছে। মামী কতোবার ফোন দিয়েছিল রিসিভ ও করেনি। সবাই ভেবেছে হয়তো জরুরি কাজ পড়ে গেছে তাই রিসিভ করেনি কিন্তু না কিয়ারার মনে হয়নি কারণ রাতে যখন ভাইয়া বাসায় এসেছে তখন ও ভাইয়ার চোখ দেখেছে কেমন ফুলে ফুলে ছিল। আচ্ছা ভাইয়া কি এই সম্পর্কে খুশি নয়,,, পরক্ষনেই ভাবে ছিঃ কিয়ারা কি ভাবছিস! ভাইয়া কেন খুশি হবে না? ভাইয়া রাহা আপুর কতো কেয়ার করে এটা তো সবাই জানে। 
হয়তো অন্য কোনো কারণে আপসেট। 
কিয়ারার ভাবনার মাঝেই কল বেজে ওঠে। ছোট ভাইয়ার নাম্বার দেখে কিয়ারা তাড়াতাড়ি গিয়ে সদর দরজা খুলে দেখে, নীল এর চুল, পোশাক হালকা ভিজে আছে, কিয়ারা আতকে উঠে বলে,
---" ভাইয়া তুমি ভিজেছো কীভাবে? তোমার তো ভিজে অবস্থায় থাকলে জর আসে। তোমাকে দেখে কেমন যেন লাগছে "
কিয়ারা চিন্তিত কন্ঠে বলে, নীলকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে প্রায় দীর্ঘসময় হয়তো বৃষ্টিতে ভিজেছে যার ফলে চোখ গুলো কেমন লালচে হয়ে আছে।ক্লান্ত ভঙ্গিতে ভিতরে ঢুকে সু খুলে বলে,
---" চিন্তা করিস না, কিছু হবে না "
বলেই নীল নিজের ঘরে চলে যায়। কিয়ারা কি করবে বুঝতে পারছে না। ভাইয়া কেমন গম্ভীর কন্ঠে কথাটা বললো, বেশি ঘাটলে পরে মার খেতে হবে তাই আর বেশি না ঘেটে মুখ গোমড়া করে নিজেও শুতে চলে যায়।
নেশা নেশা একি নেশা চোখে,,,, 
ভুলে থাকতে পারিনা তোকে,,,,
বেগানাই ইচ্ছে গুলো তোকে কাছে চায়,,,,
জানি না,,,, কীভাবে,,,,
প্রেমেরই আবেশে স্বপ্ন যে ফিরে আসে🎶🎶
দিওয়ানা🎶🎶🎶
দিল যায় রে ভেসে,,,,
দিওয়ানা🎶🎶🎶
তোকে ভালোবেসে,,,,,
দিওয়ানা 🎶🎶🎶
দিল যায় রে ভেসে,,,,,
দিওয়ানা 🎶 🎶🎶
তোকে ভালোবেসে,,,,,
উন্মাদের মতো এই গভীর রাতে কারো বেখেয়ালি ভাবনায় নীল গিটারে আওয়াজ করে গেয়ে যাচ্ছে। বালিশে মাথা এলিয়ে ছোট ভাইয়ার এই মনমাতানো সুরেলা আওয়াজ শুনে কিয়ারার মনে হচ্ছে ভাইয়া হয়তো কাউকে ডেডিকেট করে গাইছে কারন এরকম অনুভুতি নিয়ে গাওয়া তো তখনই সম্ভব যখন কাউকে অনেক গভীর ভাবে চাওয়া হয়। তবে কি ছোট ভাইয়াও,,,,,,,
আদি এলোমেলো হয়ে ফ্লোরে শুয়ে আছে। চোখগুলো অত্যাধিক ফুলে আছে। নীলের আওয়াজে চোখ বন্ধ করে নেয়। চোখের কোন ঘেষে পানি গড়িয়ে পড়ে। কানে বেজে ওঠে, সেই মাতালো হাসির ঝংকার,,,,,,,,
চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন