ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রনয়ের প্রলয়

১৮তম পর্ব

লেখক: মেহরিমা সারা

#প্রনয়ের_প্রলয় 

#কলমে_মেহরিমা_সারা 
#পর্বঃ১৮
-- নীল কে আমার কেবিনে আসতে বলো।
-- ওকে ম্যাম।
পর পর জোরালো আঘাতে নীল এর গাল ফেটে রক্ত বের হওয়ার জোগাড়। ফর্সা গাল মরিচের ন্যায় লালচে হয়ে আছে। একটা মেয়ে মানুষ কীভাবে এতো জোরে মারতে পারে? নীল এর জানা নেই। হাত নয় যেন লোহার হাতুড়ি উফফ! পর পর একই গালে চারটা চড় দিয়েছে তাই হয়তো বেশি লাগছে নয়তো এমনিতে তো মেয়েটার হাত তুলার মতো। নীল আজকের চড়ের জন্য অপেক্ষা করছিলো, কিছুক্ষণ আগে হলে নীল নিশ্চিত ছিল চড়টা কালকের জন্য তবে এখন তো মার খাওয়ার কারন দুটি।
রাহার চোখ মুখ শক্ত করে ক্ষিপ্র গতিতে নীল এর কলার ধরে মুখ টা সামনে এনে চোখে চোখ রেখে বলে,
-- আমি তোমাকে ওয়ার্ন করেছিলাম! আমার ভাইয়ের থেকে দূরে থাকবে। কেনো পড়ে আছো ওর জীবন নিয়ে। শান ছোট মানুষ তোমার বয়সী হলেও নিজের ভালো খারাপের বুঝ ওর নেই। থাকলে কখনো যেচে পড়ে এসবে জড়াতো না।
শেষের কথা গুলো বলার সময় রাহার কন্ঠ খানিক কাপল। হয়তো সত্যি ভাইয়ের জন্য চিন্তিত। নীল শান্ত দৃষ্টিতে চেয়ে রাহার গালে এক হাত ছুঁইয়ে ভরসাভরা কন্ঠে বলে,
-- নীল থাকতে শান এর কিচ্ছু হবে না।
রাহা চোখ মুখ কুঁচকে নীল এর হাত ঝাড়া দিয়ে ফেলে দেয়। চোখ গুলো কেমন ক্রমশ লাল হয়ে যাচ্ছে যেন কান্না আটকানোর প্রচেষ্টা। রাহা হঠাৎ নীল এর বুকে ধাক্কা দিয়ে রাশভারী কন্ঠে বলে,
-- এই জন্য তুমি আমাকে অজ্ঞান করেছিলে তাই না? শান এর পেপারে গার্ডিয়ান এর সিগনেচারের জায়গায় আমার হাতের ছাপ নেওয়ার জন্য কাল ওমন মরার নাটক করছিলে?
ওরা বর্তমানে রাহার কেবিনে রয়েছে, নীল জানতো রাহা জেনে যাবে তবে এতো তাড়াতাড়ি জানবে সেটা ভাবতে পারেনি। রাহা নীল এর বুকে হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে উচ্চস্বরে কথাগুলো বলছে, নীল পেছাতে পেছাতে সোফার সাথে পা বেজে পড়তে নিলে রাহার হাত ধরে ধপ করে পড়ে যায়। রাহাও আকস্মিক টানে টাল সামলাতে না পেরে নিজেও নীল এর উপর পরে যায়। নীল এর অর্ধেক শরীর সোফায় বাকি অর্ধেক বাইরে রাহারও একই অবস্থা অর্ধেক এর বেশি শরীর নীল এর সাথে মিশে আছে আর পা গুলো বাইরে ঝুলছে।
অপ্রত্যাশিত ঘটনায় রাহার বুলি বহু আগেই বন্ধ হয়ে গেছে উল্টো রাহার কপাল নীল এর থুতনির সাথে লেগে আছে আর চোখগুলো স্থির হয়ে গেছে নীল এর শার্ট ভেদ করে উন্মুক্ত লোমহীন বুকে। রাহা যেন নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেছে কেমন যেন অনুভূত হচ্ছে,ঢোক গিলে অজানা অস্থিরতায়। এমন নয় যে রাহার কোনো অনুভূতি আছে তবে একজন প্রাপ্তবয়স্কা নারীর জন্য এমন অপ্রত্যাশিত ছোঁয়া যে ভয়ংকর। রাহা কেঁপে উঠে নীল এর বুকের উপর হাত দ্বারা ভর দিয়ে নীল এর মুখের দিকে তাকায়।
নীল তো তখনই থমকে গেছে যখন একটা নরম তুলতুলে মোমের ন্যায় শরীর ওর শীতল শরীরের সাথে লেপ্টে শরীরের শীতলতাকে উষ্ণ করে দেয়। নীল এর উষ্ণ শরীরকে আগুনের শিখায় পরিনত করার জন্য রাহার সামান্য মাথা উঁচিয়ে তাকানোই যথেষ্ট ছিল। নীল রাহার গলদেশে তাকিয়ে অনবরত ঢোক গিলতে থাকে যার ফলে পুরুষালী এ্যাডাম'স অ্যাপেল উঠানামা করে আর রাহা উঠার উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি করে চোখ সরিয়েও সরাতে পারে না বরং চোখ গিয়ে স্থির হয় নীল এর গলার উচু হাড়ে যেটা উচু নিচু হচ্ছে। রাইদা চৌধুরী রাহা হচ্ছে মস্তিষ্কের খিলারী, এতো সহজে তাকে কাবু করা যায় না তাই তো রাহা হঠাৎই ঝটকা মেরে উঠে দাঁড়িয়ে চোয়াল শক্ত করে হাত দরজার দিকে তাক করে রাশভারী কন্ঠে বলে,
-- আউট! আমি তোমার ওই ফালতু পেপার জাস্ট দুই দিন এর মধ্যে নষ্ট করে দিবো।
রাহার কাজে নীল বাঁকা হেসে ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে নিজের দুই হাত আড়াআড়ি ভাবে মাথার নিচে রেখে আরাম করে শুয়ে বলে,
-- সে আপনি করতেই পারেন মিস কু.. মিস রাহা। কিন্তু তাই বলে আমাকে মরার কথা বলতে পারেন না। আমি মরলে আপনাকে এতো সুন্দর করে মিস রাহা কে ডাকবে বলুন??
শেষের কথাগুলো কেমন অসহায়ের মতো বলে নীল চেহারায় একটা ইনোসেন্ট ভাব ফুটিয়ে তুলে। রাহা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলে,
-- আমি তোমার থেকে তিন বছরের বড় আমাকে আপু বলতে পারো না বেয়াদব!!
-- আপনি ম্যাথে অনেক কাচা। আপনি আমার থেকে গুনে গুনে দুই বছর আট মাস দুই দিন এর বড়। আর রইলো আপু বলা ওটা তো আমি আমার সিনিয়র গার্লফ্রেন্ডদের ও বলি না আপনাকে কেন বলবো।
নীল বহু গর্বের সাথে কথাটা বলে। রাহা বিরক্ত হয়ে যায় এসব ফালতু কথাবার্তায় পরমুহূর্তে নিজেও এবার বাকা হেসে বলে,
-- আমি তোমার বড় ভাইয়ের বউ সেই হিসেবে তোমার ভাবি। আর ভাবি মায়ের সমান। মায়ের সমান মানুষ কে নাম ধরে ডাকা বেয়াদবি।
ঠিক কাজে দিল নীল তেতে উঠে রাহার হাতের কব্জি ধরে নিজের দিকে টেনে হিসহিসিয়ে বলে,
-- হেই মুখ সামলে কথা বলুন, নয়তো এখানেই খারাপ কিছু হয়ে যাবে বলে দিলাম। আর ওটা বউ না ওটা জাস্ট ফিয়োন্সি হবে।
নীল রাহার হাত ছেড়ে দিয়ে মাথার চুল খামচে ধরে নিজেকে শান্ত করে। তারপর রাহার রিং ফিঙ্গারের দিকে ইশারা করে বেঙ্গাত্নক কন্ঠে বলে,
-- বাই দ্যা ওয়ে আপনার আংটি কোথায়?
রাহা আশ্চর্য হয়ে যায় নীল এর এমন আক্রমণে যে ছেলেটা সহজে না পারতে ওর সাথে উচ্চস্বরে কথা বলে না সে এমন কেন করলো তার উপর ঢং করে আবার রিং এর কথা জিজ্ঞেস করে যেন জানে না নাটক। রাহার তো এখন আরো রাগ হচ্ছে। রাহা এবার চেঁচিয়ে বলে উঠে,
-- আউট! আই সেইড আউট!
নীল অপরাধীদের মতো দুই হাত উঁচু করে শিষ বাজাতে বাজাতে চলে যায়। বেশ হয়েছে মাঝে মাঝে একটু টাইট দিতে হবে নয়তো দেখা যাবে এই কুচুটে মহিলা তার কলিজা এফোঁড়ওফোঁড় করতেও দ্বিতীয় বার ভাববে না।
নীল দরজা খুলে বের হয়ে যাওয়ার সময় কেউ ওর হাত ধরে টান দিয়ে এক সাইডে নিয়ে যায়। নীল হতাশার সহিত দীর্ঘশ্বাস ফেলে, মনে মনে বলে নীল রে একদিন সবার কাছে কৈফিয়ত দিতে দিতেই শেষ হবি তুই। ইরানী নীল এর হাত ছেড়ে দিয়ে বাহুতে দুই হাত গুজে নীল এর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে বলে,
-- নাও ফটাফট সত্যি কথাগুলো বলে ফেলো।
নীল মাথা চুলকে বোকা বোকা হেসে বলে,
-- কাল বলেছিলাম তো!! শান এর জন্য করেছি।
ইরানী কড়া চোখে চেয়ে বলে,
-- সাট আপ! আগেই বলেছি সত্যি বলতে। তোমার এই সব বানোয়াট কথা সবাই বিশ্বাস করলে ও আমি করবো না নীল। তুমি কাল সারারাত রাহার জন্য যেমন ছটফট করেছো এটা কোন মানবিকতা থেকে করোনি সেটা আমি জানি। এখন কি চলছে বলে ফেলো। আর হ্যাঁ ভুলে যেও না রাহা শান এর আপুনি তাই শান এর বন্ধু হিসেবে তোমার ও আপুনি হয়। বড় বোনের জন্য এসব তৎপরতা ঠিক না।
নীল এবার বেশ বিরক্ত হয় সবার এই ঘ্যান ঘ্যান বড় শুনে শুনে। তবুও মুখের এক্সপ্রেশন স্বাভাবিক রাখে। নীল এর ভাগ্য হয়তো সত্যি ওর সাথে থাকে তাই তো আদি ওখান দিয়ে একটা ফাইল দেখতে দেখতে যাচ্ছিল। নীল ভাইকে দেখা মাত্রই জোরে ডেকে উঠে। আদি নীল এর আওয়াজ শুনে তাকালে মুখ থমথমে হয়ে যায় ইরানী কে দেখে। ইরা নিজেও খানিক ভরকে যায়। আদি এগিয়ে এলে নীল বলে,
-- ভাইয়া ইরা আপুউউউ তোমাকে কিছু বলবে বলছিলো কিন্তু বলতে পারছে না তুমি একটু শুনো প্লিজ।
বলেই নীল পগারপার। ইরা হকচকিয়ে যায় নীল এর কথায় মানে ও কখন বললো যে ও কথা বলবে। এই ছেলে টা এমন কেন? সবাই কে ফাঁসিয়ে দেয়। ইরারা এখন কান্না পাচ্ছে কেন যে জানতে চেয়েছিলো!
আদি এগিয়ে এসে স্বাভাবিক ভাবে বলে,
-- ইরা কিছু বলবে?
ইরা তড়িঘড়ি করে না বলে চলে যায়। আদি অসহায় চোখে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে।
__________________________
নওরিন চৌধুরী সেই কখন থেকে ফোন নিয়ে মন মরা হয়ে বসে আছেন। সামিন সকালে ফোন করে বললো আজ সন্ধ্যায় আসবে, সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হয়ে গেলো ছেলেটা এখনো আসছে না কেন? শান চ্যাটিং করতে করতে সোফায় বসে পড়ে। তৃধা সেই কখন থেকে পুরো শরীরে শাল জড়িয়ে কার্টুন দেখছে মন খারাপ করে। পাশে কেউ বসায় শাল একটু সরিয়ে শান কে ফোনে কিছু করতে দেখে কৌতুহল বশত উঁকি মেরে দেখতে চায় তবে পারে না শান আগেই ফোন সরিয়ে কড়া চোখে তাকায় ওমনি তৃধা মুখ কাচুমাচু করে সোজা হয়ে বসে পড়ে। শান তৃধার দিকে ধ্যান না দিয়ে কিয়ারা কে পড়তে বলে ফোন রেখে দুই হাত সামনে পিছনে নিয়ে আড়মোড়া ভেঙে হামি তুলে বলে,
-- এ্যাই মুরগির বাচ্চা কি হয়েছে তোর?
তৃধা এমন সম্বোধনে বিরক্তিকর দৃষ্টিতে শান কে দেখে পুনরায় টিভির দিকে মনোযোগ দেয়। শান বিশেষ পাত্তা না পেয়ে তৃধার মুখের দিকে ঝুঁকে তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে বলে,
-- কি হয়েছে তোর? এমন পেঁচার মতো মুখ বানিয়ে রেখেছিস কেন?
তৃধা এবার তেতে উঠে বলে,
-- সমস্যা কি তোমার? ভালো করে বসে আছি ভালো লাগছে না?
-- না তুই তো চুপচাপ থাকার মেয়ে না তাহলে এমন চুপ করে থাকলে তো আমাদের ভালো লাগবেই না।
নিশার কথায় শান আর তৃধা ওর দিকে তাকায়। হাতে গরম গরম মোমো নিয়ে এসেছে। তৃধা মোমো দেখে লাফ দিয়ে উঠে নিশার হাত থেকে মোমো ছিনিয়ে নিয়ে খেতে শুরু করে। শান সন্দিহান চোখে নিশার অন্য হাতে থাকা ফোন এর দিকে তাকিয়ে বলে,
-- এই নিশাচর! তোর ব্যাপার স্যাপার তো ভালো না দেখছি। আজকাল সারাদিন ফোন নিয়ে পরে থাকিস কেন? 
নিশা চোখ তুলে শান এর দিকে তাকিয়ে আঙুল তুলে শাসিয়ে বলে,
-- একদম বড় ভাই গিরি সাজবি না বলে দিলাম। আমার বিষয়ে গোয়েন্দা গিরি করলে খবর আছে। তোর সব আমি জানি তাই আমাকে রাগিয়ো না হুঁ।
তৃধা কৌতুহলী হয়ে বলে,
-- তোমরা কিসের কথা বলছো?
-- তুই ছোট মানুষ তোর জানতে হবে না।
নিশার কথায় বেচারি তৃধা পুনরায় মন খারাপ করে মোমো রেখে দেয় না খেয়ে, সে ছোট বলে সবাই এমন করে। নওরিন চৌধুরী হাতে আরেক প্লেট মোমো নিয়ে ওদের কাছে এসে চিন্তিত স্বরে শান এর উদ্দেশ্যে বলে,
-- শান একটু সামিন কে ফোন করে দেখতো ছেলেটা এখনো আসছে না কেন। আমি কতোবার ফোন করলাম রিসিভ করলো না। আর রাহা এখনো আসলো না কেন? চিন্তা হয় বাচ্চা গুলো কি বুঝে না?
শান জিব কেটে মিনমিন করে বলে,
-- স্যরি মামুনি আমি বলতে ভুলে গিয়েছিলাম আপুনি আজ আসবে না ওই বাড়িতে থাকবে। আর সামিন ভাইও মনে হয় আপুনির সাথে দেখা করে এখানে আসবে।
-- কি বলছিস? আজ আবহাওয়া দেখেছিস যে কোনো সময় ঝড় শুরু হয়ে যাবে অথচ বাচ্চাগুলো এখনো বাড়ির বাইরে।
ওদের কথার মাঝেই আরমান চৌধুরী অভয় চৌধুরী দুই ভাই আসে। আরমান চৌধুরী শুনেছেন রাহার আজ না আসার কথা। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, মেয়ে যে নিজের জগত কে সবার থেকে আলাদা বহু আগেই করে নিয়েছে। দেশে আসার পনেরো দিনে নিজের জন্য একটা লাক্সারি অ্যাপার্টমেন্ট কিনে নিয়েছে এতো দিন বাবা অসুস্থ থাকায় বেশিরভাগ এখানেই ছিল আজ হয়তো আর থাকতে চায়নি তাই চলে গেছে। তিনি ঘরে যান ফ্রেশ হতে। ইয়াসমিন চৌধুরী সোফায় বসতে বসতে নওরিন চৌধুরীর উদ্দেশ্যে বলে,
-- ভাবি! বড় ভাইয়া এসেছে অসুস্থ মানুষ তুমি গিয়ে দেখো কি প্রয়োজন তোমার বাচ্চারা এখন আর আসবে না বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। 
নওরিন চৌধুরী ইতস্ততার সাথে চলে যায়। শান থমথমে মুখে মা রুপি মামুনি আর বাবার এমন কাছে থেকেও দূরে সরে থাকা বুঝে এখন তো আর ছোট নেই যে এসব বুঝবে না। ইয়াসমিন চৌধুরী তৃধা কে বলে,
-- কি হয়েছে! এমন মুখ ফুলিয়ে আছো কেন?
-- তো কি করবো? আমি তো ছোট তাই মুখ ফুলিয়ে থাকি। তোমরা কেউ তো আমাকে আর বড়ই হতে দিলে না।
-- তুমি তো ছোটই।
-- হ্যা হ্যা আমি ছোট এটা আর মনে করাতে হবে না। সকালে বড় আপুও এগুলো বলে গেলো যে আমি ছোট তাই আমি যেন কোথাও না যাই।
শান টিভির রিমোট নিয়ে তৃধার দিকে এগিয়ে বলে,
-- আপুনি এরকম কথা কেন বলবে? নিশ্চিত তুই কিছু বলেছিস।
তৃধা মুখ টা কাদো কাদো বানিয়ে আস্তে আস্তে বলে যেন বাবা না শুনে,
-- আমি সকালে আপুনি কে কি সুন্দর কষ্ট করে বলেছি আপুনি আমি আমার ফ্রেন্ডদের সাথে পিকনিকে যাবো তুমি বাবাকে একটু বলে দাও। ওমা সে কি কড়া গলায় আমাকে প্রথমে বকলো তারপর বলে আমি না কি ছোট।
বলেই মিছি মিছি আওয়াজ করে কান্না করে দেয়। নিশা বিরক্ত হয়ে ফোন থেকে চোখ তুলে নাক ছিটকে বলে,
-- ইউ তৃধা! এসব কেমন আওয়াজ বন্ধ কর নয়তো মার খাবি বলে দিলাম।
বলতে বলতে দুটো থাপ্পর লাগিয়ে দেয় পিঠে। শান বিরক্ত হয়ে বলে,
-- নিশা এগুলো কেমন স্বভাব! তৃধা ছোট তুই ওকে মারলি কেন? 
-- মারবো না! ওর জন্য আমি ডিস্টার্ব হচ্ছিলাম।
-- তুই এমন কার সাথে কথা বলছিস যে সামান্য আওয়াজে ডিস্টার্ব হয়ে গেলি! দেখি দে ফোন দে।
শান উঠে ফোন ধরতে নিলে নিশা দৌড়ে নিজের ঘরে চলে যায়। ঘরে গিয়ে দুয়ার ফোন নিয়ে দেখে মিনিটে কয়েকটি মেসেজ এসেছে। নিশা বেডে শুয়ে দেখে হ্যান্ডসাম বয় দিয়ে সেভ করা নাম্বার থেকে কয়েকটি মেসেজ এসেছে,,
" এই নিশা তোর বড় আপু বাসায় নেই মানে?"
" কোথায় গেছে?
" আজ আসবে না মানে?"
" ফামিন ভাই যাবে মানে?"
" সে আবার কোথায় যাবে?"
" এই টেপি কিছু বলছিস না কেন?"
নিচে থেকে উপরে আসতেই এতো গুলো মেসেজ। নীল ঝড় হচ্ছে দেখে জিজ্ঞেস করেছিলো সবাই বাড়িতে ঠিকঠাক পৌঁছেছে কি না নিশা এমনি বলেছিল সবাই পৌঁছেছে তবে আপু আর সামিন ভাই নেই। এখন এই ছেলে কি শুরু করেছে। দম নিয়ে মেসেজে শান এর কথা রিপিট করে দেয়,,
ইশশ নীল ভাই এখন কতো সুন্দর করে কথা বলে আগে তো কখনো বলতো না। নীল ভাই তো নিশার চাইল্ডহুড ক্রাশ ছিলো তবে এখন নেই! এই ছেলে সুবিধার না,,
চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন