ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রনয়ের প্রলয়

১৭তম পর্ব

লেখক: মেহরিমা সারা

#প্রনয়ের_প্রলয় 

#কলমে_মেহরিমা_সারা 
#পর্বঃ১৭ 
-- নীল এখন না উঠো আমি ঘুমাবো।
নীল ছোট বাচ্চাদের মতো জেদ করে রাহাকে নিয়ে বেডের এই মাথা থেকে ওই মাথা ঘুরতে থাকে আর রাহাকে আরেকবার এর জন্য রাজি করাতে থাকে। আকস্মিক রাহা রেগে গিয়ে বেড সাইড টেবিল থেকে পানি নিয়ে মুখে ছুড়ে মারলে নীল ধড়ফড়িয়ে উঠে যায়।
-- এই ছোট ভাইয়া কখন থেকে ডাকছি! আর তুমি পাগলের মতো কিসব শুরু করার কথা বলে যাচ্ছো।
কিয়ারার কন্ঠ শুনে নীল চোখ পিটপিট করে কিছুক্ষণ তব্দা মেরে বসে থেকে নিজের দিকে একবার আরেকবার বেডে তাকিয়ে আরেকবার কিয়ারার রাগে লাল হয়ে থাকা মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের অবস্থা বুঝার চেষ্টা করে। কিছুক্ষণ পর হতাশার সহিত কম্ফোর্টার সরিয়ে নিজের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বুঝতে পারে সে আবারো ওসব মধুময় স্বপ্ন দেখেছে। কিয়ারা রেগে চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে বলে,
-- তাড়াতাড়ি উঠো ভার্সিটির সময় হয়ে গেছে! আর মামা তোমাকে তার সাথে দেখা করতে বলেছে ক্লাস শেষে।
নীল আওয়াজে কানে হাত ঢুকিয়ে কিয়ারার দিকে তাকিয়ে বলে,
-- আরে বইন কানে শুনি তো আমি! এতো জোরে বলছিস কেন?
-- কানে শুনলে আরো আধাঘণ্টা আগে উঠতে বুঝলে, কীসব শুরু করার কথা বলছিল কে জানে?
মারাত্মক রেগে থাকা কিয়ারা বকবক করে চলে যায়। আর অসহায় নীল পুনরায় কম্ফোর্টার সরিয়ে নিজেকে দেখে টাওয়াল নিয়ে ওয়াশ রুমে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে এসে দেখে টাইম নেই ক্লাসের দেরী হয়ে যাচ্ছে তাই তাড়াহুড়ো করে ড্রেস পরে মনে মনে ভাবতে থাকে তার এসব স্বপ্নের কথা যদি কোনোদিন রাহা ম্যাডাম জানতে পারে তাহলে তার রিয়্যাকশন কেমন হবে? নিশ্চিত নীল ওইদিন চড় খেতে খেতে পাগল হয়ে যাবে। ওহ চড়ের থেকে মনে পড়লো এখনো কিছু বলেনি ম্যাডাম। ক্লাস শেষে তো অফিস যাবেই তখন দেখা যাবে রিয়্যাকশন কেমন দেখায়।
___________________
-- ভালো হয়ে যা নীল! ভালো হতে ডেফিনেশন লাগে না।
শাওন তার ছেলে পেলের দিকে তাকিয়ে সাহস করে নীল কে কথাটি বলে উঠে। নীল সকাল সকাল ভার্সিটি তে ঢুকার সাথে সাথে শাওন এর ছেলেরা ওদের পথরোধ করে দিয়েছিল ফল স্বরূপ নীল জায়গা মতো কয়েক ঘা দিয়েছিল তাই লিডার এর কাছে বিচার দিয়েছে। নীল শান সিজাত তিনজন বাইকের সাথে হেলান দিয়ে বুকে হাত বেঁধে এদের বকবক শুনে যাচ্ছে। ওদের কথা শেষ হতেই নীল আড়মোড়া ভেঙে হামি তুলে সহসাই কয়েকটি চড় মেরে দেয়। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে যায় শান সিজাত। নীল এর মারা মানে লাথি দেওয়া নয়তো ঘুষি। এই প্রথম দেখলো চড় মারতে। নিজের দলের ছেলেদের হাতে চড় খেয়ে শাওন তো ফুসে উঠলো। শাওনের দলের ছেলেরা বড় ভাইকে মার খেতে দেখে তেড়ে আসে নীল কে আঘাত করার জন্য। শান ভ্রু উঁচিয়ে নীল কে মারতে উঠা হাত মুচড়ে ধরে চোখ দিয়ে শাসিয়ে বলে,
-- আমার সামনে আমার বন্ধু কে মারবি এতো সাহস?
ধাক্কা দিয়ে ফেলে ঠোঁটে দুষ্টু হাসি ঝুলিয়ে নীল এর দিকে ফিরে চোখ মেরে বলে,
-- আমার জান এর দিকে হাত বাড়ালে ওইহাত ভেঙে গুঁড়িয়ে দিবো।
শান এর আজব কাজে নীল মুখ কুঁচকে নেয়। শাওন নিজের দলের ছেলেদের বোকামিতে রেগে যায়। শাওন নিজেও জানে নীল এর সাথে শক্তিতে পারা যাবে না তবে কেন লাগতে যাবে? একে তো অন্যভাবে কাবু করতে হবে। শান এখনো এদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আগাতে নিলে শাওন ফুঁসতে ফুঁসতে চলে যায়। সিজার নিজেও এবার আড়মোড়া ভেঙে বলে,
-- দোস্ত এসব ফাও কাজ বাদ দিয়ে চল লাইব্রেরী তে বসি মিথি বেচারি একা একা সব নোটস করছে।
নীল জীব দিয়ে গাল ঠেলে কিছু ভেবে বলে চল। শান পুনরায় দুষ্টু হেসে নীল এর বাহু নিজের হাত দিয়ে পেঁচিয়ে বলে,
-- জান চলো যাই।
নীল আশ্চর্য হয়ে হাত ছাড়িয়ে কঠোর গলায় বলে,
-- সর সামনে থেকে! এসব করছিস কেন?
শান সামান্য কষ্টের নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে,
-- আমি করলেই এমন করিস অথচ যখন গার্লফ্রেন্ড করে তখন তো ঠিকই ভালো লাগে তাই না। বুঝেছি গার্লফ্রেন্ড কে পেয়ে বন্ধুকে ভুলে গেছিস।
-- তুই কয় নাম্বারটার কথা বলছিস?
নীল এর কথায় শান বিরক্ত হয়ে বলে,
-- তোর অরিজিনাল গার্লফ্রেন্ড এর কথা বলছি।
-- এ্যা"
সিজাত হতাশ কন্ঠে বলে,
-- এ্যা নয় হ্যাঁ হবে। শান সকাল থেকে আমার মাথা খেয়ে নিচ্ছে এটা বলে বলে যে তোর নাকি অরিজিনাল গার্লফ্রেন্ড আছে। শালা জীবনে তুই কাউকে নিয়ে সিরিয়াস হয়েছিস যে তোর গার্লফ্রেন্ড থাকবে।
-- আছে আমি জানি তুই এখন নাটক না করে নাম বল।
-- নেই বললাম তো।পারলে তোকে কেন পুরো দুনিয়া কে জানিয়ে দিতাম আমার অরিজিনাল গার্লফ্রেন্ড এর কথা।
শান এর জেদী কন্ঠে নীল বিরক্ত হয়ে বলে শেষের কথা বিরবির করে বলে,
-- আমি জানি আছে তুই বলবি না।
 
-- যে ভন্ড তোকে সংবাদ দিয়েছি সেই ভন্ডকে গিয়ে জিজ্ঞেস কর কে সে !
নীল এবার মেজাজ হারিয়ে শান এর বুকে কিল মেরে বলে চলে যায়। শান এদিকে থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। কিছুক্ষণ পর নীল এর পিছু পিছু ছুটে বলতে থাকে।
-- এ্যাই নীল আজ রাতে আমাদের প্র্যাকটিস আছে। 
__________________________
আরমান চৌধুরী সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে জগিংয়ে গিয়েছিল। এখন ঘরে ঢুকেই দেখে নওরিন চৌধুরী কাভার্ডে কি যেন খুঁজে চলেছে। কোনো কিছু খুজছে এটাতে তার সমস্যা নেই। সমস্যা হচ্ছে নওরিন আরমান এর কাভার্ডে কিছু খুঁজছে কিন্তু কি? আরমান চৌধুরী কি এখন ডাকবে? যদি লজ্জা পায়, এই মেয়ের লজ্জা থুরি এই মহিলার লজ্জা তো আবার নাকের ডগায় থাকে। তাই কোনোদিকে না তাকিয়ে সোজা ঘরে ঢুকে ওয়াশ রুমে চলে যান। নওরিন আওয়াজ পেয়ে ঘুরে থাকি দেখে ওয়াশ রুমের দরজা বন্ধ তার মানে লোকটা চলে এসেছেন তবুও নিজের কাজ জারি রেখে কাঙ্খিত জিনিসটা পেয়ে কাভার্ড আঁটকে দাঁড়িয়ে থাকে আরমান চৌধুরীর অপেক্ষায়।
-- আপনার শার্টে লাল লিপস্টিক এর দাগ কোথা থেকে আসলো?
আরমান চৌধুরী ওয়াশ রুম থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে প্রশ্ন ছুড়ে দেয় নওরিন চৌধুরী। আরমান চৌধুরী কিছুক্ষণ নওরিন চৌধুরীর হাতে থাকা শার্ট দেখে বলে,
-- ওটা আমার না! সাজিদ এর শার্ট তুমি তুলে রেখেছিলে কেন?
নওরিন চৌধুরী তৎক্ষণাৎ প্রশ্ন ছুড়ে দেয়,
-- সাজিদ ভাইয়ার হলে আপনার কাছে কি করছে?
-- বৃষ্টিতে আমার শার্ট ভিজে গিয়েছিলো তাই সাজিদের থেকে নিয়ে আমি পড়েছিলাম।
-- তাই তো জিজ্ঞেস করছি লাল লিপস্টিক কীভাবে ভরলো?
আরমান চৌধুরী হতভম্ব হয়ে যাচ্ছে এমন সব প্রশ্নে! মানে তিপ্পান্ন বছর বয়সে এসে এখন চরিত্রে দাগ লাগবে না - কি। আরমান চৌধুরী নিজের সাফাই গাইতে বলেন,
-- তাই তো আমিও বলছি! শার্ট আমাদের না আমি কীভাবে জানবো লিপস্টিক কোথা থেকে এসেছে?
-- আমি বলছি! ওই লিপস্টিক এর দাগ রুবিনা আন্টির।
নিশা চাচ্চুর ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে বলে উঠে। নওরিন আরমান দুজনেই নিশা কে দেখে বিব্রত হয়। নিশা মুচকি হেসে মামুনির কাছে এসে শার্ট নিয়ে দাগ লাগা জায়াগা দেখিয়ে বলে,
-- এটা অনেক কড়া দাগ যেটা ধোঁয়ার পরেও দূর হয়নি। আর এমন ডার্ক রেড কালার লিপস্টিক রুবিনা আন্টি দেয়। যেহেতু শার্ট আংকেল এর আর লিপস্টিক এর রং ডার্ক রেড সে হিসেবে নিশ্চিত এটা রুবিনা আন্টির লিপস্টিক হবে।
আরমান বোকা বোকা হেসে বলে উঠে,
-- নিশা একদম সঠিক কথা বলেছে। এটা সাজিদ এর দাগ আমার না। 
নিশা হেসে বলে,
-- তো সমাধান হয়ে গেলো। মামুনি এবার আর আমার চাচ্চু কে জেরা করো না। আর তোমার হেয়ার ড্রায়ার টা দাও তো আমার টায় মনে হয় নষ্ট হয়ে গেছে তৃধা তো জীবনেও দিবে না আর মা তো ব্যববহার করেই না।
নওরিন চৌধুরী মিষ্টি হেসে বলে,
-- হয়েছে এতো কথা বলতে হবে না। মেয়েরা মায়ের জিনিস নিবে না তো কে নিবে?
নিশা হেয়ার ড্রায়ার নিয়ে চলে গেলে নওরিন চৌধুরী শার্ট টা নিয়ে বলে,
-- এটা দাগ লেগে নষ্ট হয়ে গেছে পড়তে পারবেন না ফেলে দিবো এটা‌। আর এখন থেকে গাড়িতে এক্সট্রা শার্ট প্যান্ট শর্টস সব রেখে দিবো যেন অন্য কারো টা পড়তে না হয়।
আরমান থতমত খেয়ে তাকিয়ে থাকে এক আজব মানবীর দিকে যে কি না একেক সময় একেক রকম রূপ ধারন করে কোনো সময় চুপচাপ গম্ভীর কোনো সময় চঞ্চল আবার হিংসুটে। আরমান এবার বুঝতে পারছে তার মেয়েটা শুধু চোখ নয় স্বভাবেও এই আজব মানবীর মতো হয়েছে। আচ্ছা শেষে কি বললো শর্টস!! মানে কোন শর্টস?
________________________________
-- বাবা ওরা এখনো ছোট! ওদের এখন বিজনেসে না জড়ানোই ভালো হবে।
-- ওরা ছোট দেখেই ওদের বড় কোনো দায়িত্ব না দিয়ে তোমাদের সাথে রাখতে বলছি। তোমরা তো দেখছি ওদের রাখতেই চাচ্ছো না।
-- আংকেল এখন ওদের লাইফ ইন্জয় করার বয়স। এখনই কাজে হাত দিলে জীবন উপভোগ কখন করবে?
রাহার কথায় সাজিদ খানিকটা নড়েচড়ে বসে বলে,
-- লাইফ ইন্জয় করতে গিয়ে ছেলেটা বিগড়ে যাচ্ছে।
সাজিদ এর কথায় স্বায় জানিয়ে আরমান ও বলে উঠে,
-- হুম ছেলে দুটো যত অপকর্ম আছে সব একসাথেই করে। তাই দুইটাকেই টাইটে রাখতে হবে। আর লাইফ ইন্জয় করতে হলে বিয়ে করিয়ে দিবো। বউয়ের সাথে ইন্জয় করবে।
-- তো দিন বিয়ে করিয়ে। বিয়ে হলে বউ বাচ্চাদের টানে আপনাদের তথাকথিত সব অপকর্ম ছেড়ে দিবো।
নীল আর শান রুফটপে ঢুকে উক্ত কথাটি বলে। তাড়াতাড়ি হেটে রাহার পাশ ঘেঁষে বসে পড়ে নীল আর শান নীল এর পাশে বসে। রাহা মুখ কুঁচকে তার ডান সাইডে বসা আদির দিকে সামান্য এগিয়ে বসে। নীল আড়চোখে তা দেখে দাঁতে দাঁত চেপে বসে থাকে।
আরমান চৌধুরী তো নীল এর কথায় থতমত খেয়ে চুপ করে থাকে। সাজিয়ে খান ছেলের দিকে ভস্ম করা চোখে তাকায়। এই ছেলে দুদিন আগেও মায়ের পিছু পিছু ঘুরে বলেছে ভাইয়াকে যেন তাড়াতাড়ি বিয়ে দেয় তার বয়স হচ্ছে তো না-কি। আজ তো সবার সামনেই বলে দিল সামনে যে হবু ভাবি বসে আছে সেদিকেও পরোয়া করলো না। না এই ছেলে তো তার থেকেও কয়েক কাঠি উপরে। এখনই লাগাম টানতে হবে।
নীল ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে,
-- বাবা তুমি কি আমাকে বিয়ে নিয়ে কথাবার্তা বলতে এখানে ডেকেছো?
সাজিদ খান গম্ভীর স্বরে বলে,
-- না! অফিসিয়ালি বিষয়ে কথা বলতে ডেকেছি!
নীল কিছু বলতে যাবে তার আগেই রাহা ফিসফিসিয়ে ডেকে বলে,
-- নীল! 
-- হুমম!
নীল ও রাহার মতো ফিসফিসিয়ে বলে। রাহা মাথা খানিকটা নিচু করে বলে,
-- তুমি ছোট মানুষ বেশি কথা বলবে না।
নীল বিরক্ত হয়ে তাকায়। আবারও তাকে ছোট বললো উফফ। পরমুহূর্তেই দুষ্টু হেসে হাস্কিস্বরে বলে,
-- ছোট ছোট করবেন না ম্যাডাম। ছোট মরিচের ঝাল বেশি। খাওয়া শেষ করার আগেই চোখের পানি নাকের পানি এক হয়ে যাবে।
রাহা নীরব কিছুক্ষণ সামনে তাকিয়ে থাকি। হয়তো কথাটার মানে বুঝার চেষ্টা করছে। কিছুক্ষণ পর আনমনে বলে উঠে,
-- এই জন্যই ছোট বলি! কথার কোনো মিল নেই।
আদি পাশ ফিরে রাহার দিকে তাকিয়ে বলে,
-- কিছু বলেছো?
রাহার আদির দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়িয়ে না বুঝায়। এদিকে ততোক্ষণে আদির পি এ রুদ্র একটা ফাইল নিয়ে আসে ওর পিছু পিছু ইরানী ও আসে। আদি একপলক ইরানীর দিকে তাকিয়ে নড়েচড়ে বসে। ইরানী আর রুদ্র পাশের সোফায় বসে সাথে করে আনা ফাইল সাজিদ খান এর হাতে দিয়ে দেয়। সাজিদ আরমান কিছুক্ষণ ফাইল দেখে আদি আর রাহার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,
-- তোমাদের চট্টগ্রাম এর প্রজেক্টের সব ডিটেইলস এই ফাইলটিতে পাবে। মনে রেখো এই প্রজেক্ট টা আমাদের আর কে গ্রুপকে অনেক উপরে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। 
এবার সাজিদ শান আর নীল এর দিকে তাকিয়ে বলে,
-- নীল আর শান তোমরা দুজন আদি আর রাহার সাথে এই প্রজেক্টে কাজ করবে। তোমাদের এক্সাম মাস খানেক পর তো আশা করি সমস্যা হবে না এমনিতেও তোমাদের পড়াশোনা করতে দেখা যায় না।
নীল না চমকালেও শান চমকে উঠে। কাজ আর সে! এতো দূরের আত্মীয় এক সাথে কীভাবে হবে? ঢোঁক গিলে বলে,
-- আমরা তো এখনো ছোট এত বড় কাজ কীভাবে করবো? তাছাড়া আমাদের অফিসে তো গ্রেজুয়েশনের আগে কাউকে জব দাও না। অন্য এম্পলয় দের সাথে অন্যায় হয়ে যাবে না?
আরমান শান এর কথা শুনে বিজ্ঞের ন্যায় মাথা নেড়ে বলে,
-- আমরা কারো সাথে অন্যায় করছি না। আর তোমাদের অফিসে ইন্টার্ন হিসেবে রাখা হচ্ছে। বড় কাজ বললে না ওটা তোমাদের দেইনি। তোমরা রাহা আর আদির সাথে থেকে কাজ শিখবে প্রয়োজনে যতোটুকু পারো সাহায্য করবে।
-- হুমম চট্টগ্রামে ওদের সাথে গিয়ে কাজ শিখবে আগে তারপর সামনে যে ইন্টারভিউ নেওয়া হবে সেখানে ইন্টারভিউ দিয়েই অফিসে আসবে।
সাজিদ এর কথায় নীল খানিকটা অবাক হয়ে বলে,
-- হোয়াইট! ইন্টারভিউ কেনো দিবো নিজেদের অফিসে?
সাজিদ ত্যাড়া কন্ঠে বলে,
-- কে বললো নিজেদের অফিস? এখানে তোমরা দুজন সব সাধারণ কর্মচারীদের মতো কাজ করবে এক্সট্রা কোনো সুযোগ সুবিধা পাবে না।
শান নীল এর সাপোর্ট পেয়ে উঁচু গলায় বলে,
-- আপুনি আর ভাইয়া গ্রেজুয়েশনের পরে অফিস জয়েন করেছে তাহলে আমাদের বেলায় বৈষম্য কেন? ইনফেক্ট আপুনি তো গ্রেজুয়েশনের পরেও একবছর দূরে ছিল এসব থেকে আর আমাদের গ্রেজুয়েশন কম্পিলিট হতে এখনো দেড় বছর বাকি।
শেষের কথাগুলো মিনমিন করে বলেছে। শান এর কথায় আরমান সাজিদ দুজনেই বলে,
-- বৈষম্য কারন ওরা তোমাদের মতো বসে বসে সামান্য রেসের পিছনে লাখ লাখ টাকা উড়ায় না। 
শান আর নীল দু'জনেই এবার চমকে উঠে এমন কথায়। ও আচ্ছা তাহলে এই কারনেই তাদের সাথে এমন করছে এরা। কিন্তু জানলো কীভাবে দুজনেই তো খুব সাবধানে কাজ করেছিল। শান নীল একে অপরের দিকে একবার তাকায়। নীল এতক্ষণের গা ছাড়া ভাব ছেড়ে সোজা হয়ে বসে গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,
-- ওকে আমাদের শিখতে কোনো সমস্যা নেই।
এতক্ষন চুপচাপ বসে থাকা আদি রাহা রুদ্র ইরানী এদের পল্টিবাজি দেখলো। এদের দেখে সবাই হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে। আদি এর মাঝে কয়েকবার ইরানীর দিকে তাকায়। ইরা তাকালে দুজনের চোখাচোখি হয়ে যায় ফলে ইরা চোখ সরিয়ে নেয়। 
সবাই স্বাভাবিক থাকলেও রাহা নেই কারন রাহা ইউ এস থাকতে নিজের চোখে কয়েকবার রেস গুলো দেখেছিল কতো ভয়াবহ হয়। বাইক নয় যেন উড়ন্ত রকেট ছুটে তেমন মনে হয়। ওর ভাই ওসব ভয়ানক কাজের সাথে জড়িত হতে যাচ্ছিলো। না - কি নীল জোর করেছে!
চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন