#প্রনয়ের_প্রলয়
#কলমে_মেহরিমা_সারা
#পর্বঃ২০
কিছু মানুষ আছে যারা সারাবছর পড়াশোনা না করলেও পরীক্ষার আগে নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে পড়ে। নিশা হচ্ছে ওইসব মানুষদের একজন। পড়তে পড়তে হঠাৎ নিশার মনে হয় ওর কিছু খাওয়া দরকার,ওই সময় ইয়াসমিন চৌধুরী কতোবার খেতে বলেছিল তখন খায়নি পড়া আছে বলে অথচ এখন কিছু না খেলেই নয় পেটে ইঁদুর দৌড়াচ্ছে। নিশা নিচে গিয়ে দেখে ডাইনিং টেবিলে সব খাবার সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা। খুশিতে গদগদ হয়ে নিশা খেতে বসে পড়ে। খাওয়া শেষে ঢেঁকুর তুলতে না তুলতেই বাড়ির কলিং বেল বেজে উঠে। নিশা ভ্রু কুঁচকে দেয়াল ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে একটা বাজে। এতো রাতে কে এলো? ওর ভাবনার মাঝেই মামুনি হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে দরজা খুলে দেয়। নওরিন চৌধুরী সামিন কে দেখে মৃদু হেসে বলে,
-- রাহা আসেনি?
সামিন সামনে দাঁড়ানো হাস্যোজ্জ্বল মুখের দিকে তাকায় যে অধীর আগ্রহে দুই সন্তানের জন্য অপেক্ষা করছিলো। বাইরে এখনো টুপটাপ বৃষ্টি পরায় সামিন হালকা ভিজে গেছে। সামিন না চাইতেও বলে,
-- না রাহা আজ ওখানেই থাকবে কাল আসবে সম্ভবত।
নওরিন চৌধুরীর মুখ ম্লান হয়ে আসে তবে সন্তর্পণে তা লুকিয়ে সামিন এর মাথা আচল দিয়ে মুছিয়ে বলে,
-- চল কিছু খাবি! আমি তোর জন্য খাবার রেখেছি।
সামিন মাথা দুলিয়ে নওরিন এর পিছু পিছু যায়। এদিকে বড় চাচী আর ওই খাম্বাকে আসতে দেখে নিশা নড়েচড়ে বসে। নওরিন এতো রাতে নিশাকে ডাইনিং এ দেখে বলে,
-- তুই এখানে কেন?
নিশা দাত কেলিয়ে বলে,
-- আসলে খিদে পেয়েছিল তাই খেতে এসেছিলাম।
নওরিন ভ্রু কুঁচকে বলে,
-- তুই ওই সময় বললি খাবি না তাই তো সামিন এর খাবার রেখে সব ফ্রিজে রেখেছি..
বলতে বলতেই ডাইনিং এ রাখা সব খাবারের ঢাকনা খুলে দেখে ডাল বাদে নিশা সব খেয়ে ফেলেছে। নিশা নিজেও বুঝতে পারে সে অন্য কারো জন্য রাখা খাবার খেয়ে নিয়েছে তাই লজ্জিত হয়ে মিনমিন করে বলে,
-- স্যরি মামুনি বুঝিনি খেয়ে ফেলেছি।
নওরিন নিশার লজ্জিত মুখ দেখে সামান্য হেসে বলে,
-- ওরে বোকা মেয়ে খেয়েছিস তো কি হয়েছে আরো খাবার আছে আমি ফ্রিজ থেকে বের করে গরম দিচ্ছি। সামিন একটু অপেক্ষা কর।
-- না মামুনি আমি খাবো না খিদে নেই প্লিজ এখন আর কিছু করো না।
-- খাবি না মানে কি?
-- সত্যিই খিদে নেই মামুনি প্লিজ।
বলেই সামিন চলে যায় আজ ওর কপালে খাবার নেই। সব দোষ ওই বিচ্ছু ছেলেটার নিশ্চিত কিছু করেছে নয়তো এমন করতো না রাহা। সামিন এর মনে হয়েছে ছেলেটা ভালো হয়ে গেছে কিন্তু না ওই ছেলে এখনো বিচ্ছুই আছে।
_____________________________
-- হেই নীল! তুমি আমার ফোন কেন রিসিভ করছো না?
এমন সম্বোধনে বন্ধুদের সাথে বসে টুংটাং গিটারে আওয়াজ করে প্রেকটিস করতে থাকা নীল এর হাত থেমে যায়। ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় মোড়ানো নারী নামক অর্ধ নগ্ন সুটকি কে দেখে কপাল কুঁচকে নেয়। নীল এর মতো এই মেয়ে সুটকির চেয়েও নগন্য শরীরে মাংসের বালাই নেই। তিতিবিরক্ত হয়ে অত্যন্ত ঝাঝ নিয়ে বলে,
-- তুই আমার কোন জন্মের বোন যে তোর ফোন উঠানো আবশ্যক।
জেনি তেমন অবাক হয় না এমন করায় কারন নীল বেশ কিছুদিন যাবৎ এমন করছে কই আগে তো সুইটহার্ট বেবি বলে বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলতো এখন এমন করে কেন? সামান্য একটা কাজে দেরি হচ্ছে বলে?
জেনি কে দেখে মিথি চোখমুখ কুঁচকে নেয় এই মেয়েটাকে ওরা কেউই দেখতে পারেনা তবে নীল এর জন্য একে সহ্য করে নয়তো কবেই এর খুলি উড়িয়ে দিতো। নীল সবাইকে ইশারা করলে ওরা চলে যায়। শান বাঁকা চোখে একবার ওদের দেখে চলে যায়। মিথি থমথমে মুখে হাঁটতে হাঁটতে বলে,
-- নীল ওই জেনিকে দিয়ে এমন কোন কার্যসিদ্ধি করে যে ওকে এতো গুরুত্ব দেয়!
শান সিজাত রকি সবাই একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে, নীল বাদে কমবেশি সবাই বুঝে মিথি নীল কে পছন্দ করে তবে নীল তো কোনোদিন কাউকে সিরিয়াসলি নেয় না এটা মেয়েটাও বুঝে তবে কেন যে এমন করে কে জানে। শান মুখে হাঁসি ঝুলিয়ে এক হাত মিথির কাঁধে দিয়ে বলে,
-- আমাকেই দেখ আমি ওর বন্ধু প্লাস রিলেটিভ। আমাকেও কখনো বলে না কিছু করার আগে, হয়তো জেনি কে দিয়ে এমন কিছু করায় যেটা আমাদের ও জানাতে চায় না আর আমরা সবাই জানি ওকে জোর করে কোনো কিছু জানা যায় না তাই আমাদেরকে চুপ থাকা উচিত।
শান এর কথায় সিজাত ও স্বায় দিয়ে বলে,
-- হুমম শান ঠিক বলেছে তাছাড়া নীল কেমন সেটা তো আমরা জানি। ওসব মেয়েদের প্রতি ওর কোনো অনুভূতি নেই তাই তুই এতো টুকু নিশ্চিত হো যে নীল আর যাই হোক সামনে এতো ভালো কিছু রেখে খারাপের পিছনে দৌড়াবে না।
ওদের কথায় চুপচাপ হাঁটতে থাকা রকি খুক খুক করে কেশে উঠে। সবাই ওর দিকে তাকালে ও সামান্য হাসার চেষ্টা করে বলে,
-- বলছিলাম যে মিথি তুই আমরা সবাই তো ফ্রেন্ডস আমাদের মধ্যে এসব ফিলিংস না রাখাই ভালো। এর আগেও শিমু মেয়েটা আমাদের হতে চেয়েছিল নীল এর জন্য, নীল ওকে সবার সামনে থাপ্পড় দিয়েছিলো ভুলে গেছিস?
মিথি তেতে উঠে বলে,
-- এ্যাই তুই আমাকে ওর সাথে তুলনা করছিস কেন? ওই মেয়েটা বন্ধুত্বের দোহাই দিয়ে নীলকে সবার সামনে গলা জড়িয়ে প্রপোজ করেছিল তাই নীল মেরেছে। নির্লজ্জ মেয়ে একটা।
শান আর সিজাত রকির মাথায় চাটি মেরে চোখ গরম করে বুঝায় এখন এসব না বলতে। রকি বেচারা মুখ কাঁদো কাঁদো মনে মনে বলে- শালা কারো ভালো করতে নেই! যা আমি আর কিছুই বলবো না যখন ছ্যাকা খেয়ে ব্যাকা হয়ে যাবে তখন বুঝবে।
শান সামান্য চিন্তিত হয়ে পড়ে কিয়ারার কথা যদি সত্যি হয় তাহলে তো নীল কাউকে পছন্দ করে সেটা কে? কোনোভাবে মেয়েটা যদি মিথি হয় বা... না না কিসব ভাবছে মিথি হবে না। মিথিকে নীল কিয়ারার মতো স্নেহ করে। মিথির জন্যই শাওনের সাথে ওদের বেশি লাগে শাওন ছেলেটা মিথিকে ভালোবাসে অথচ মিথি নীল কে তাই শাওন কে ইগনোর করে এই কারনে শাওন জোর করেছিল মিথিকে বিয়ে করার জন্য সেই সেকেন্ড ইয়ারে থাকতে তখন নীল এর কেলানিতে হসপিটালাইজড হয়েছিল। মিথির বাবা নেই মা একজন বড় লইয়্যার বেশিরভাগ কাজের সুত্রে বাইরে থাকে। মিথির কাছের মানুষ বলতে বাড়ির ড্রাইভার কাজের লোক আর ওরা বন্ধুরাই আছে আর মেয়েটা নরম মনের মানুষ তবে বন্ধু গুলো কে পেয়ে দিন দিন সাহসী হয়ে যাচ্ছে।
জেনি নীল এর হাত ধরার জন্য আগালে নীল ওর হাত শক্ত করে ধরে চিবিয়ে চিবিয়ে বলে,
-- ন্যাকাম্মি গিরি অন্য কারো সাথে করবি আমার সাথে না বুঝেছিস?
নীল এর চোয়াল শক্ত হয়ে আছে জেনির মনে হচ্ছে ওর হাতের সব হাড় গুড়ো গুড়ো হয়ে যাবে। ভয়ে ভয়ে বলে,
-- নীল আমি ড্যাডকে বলেছি যেন স্পেশাল এজেন্ট এর মাধ্যমে তোমার সব পেপার'স ঠিক করে দেয়। ড্যাডের তো অনেক পাওয়ার দেখবে করে দিবে।
-- ফা'*ক ইউর পাওয়ার, এমন বালের পাওয়ার এর কি দরকার যা সামান্য কিছু পেপার ঠিক করতে পারে না।
নীল জেনির হাত ঝারা মেরে ছেড়ে দেয়। কোমরে হাত দিয়ে মুখ ফুলিয়ে শ্বাস ছেড়ে জেনির দিকে আঙুল তুলে চোখ দিয়ে শাসিয়ে বলে,
-- যদি এবার না পারিস তাহলে আমার ত্রিসীমানায় আমি যেন তোকে না দেখি।
________________________________
শহরের কোলাহল থেকে নির্জনে একটা রেস্টুরেন্টের বসে আছে ইরানী আর আদি। আদি উদাস মনে এক ধ্যানে গ্লাস ভেদ করে রাস্তার ওপাশে দুটো ছেলে মেয়েকে দেখছে যারা একে অপরের হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে রাস্তা ক্রস করার জন্য। বাচ্চা দুইটার বয়স কতো হবে? সম্ভবত আট নয় বছরের হবে। হ্যা এমনি তো ছিলো রাহা আর আদির জীবন, যাদের পথচলা একসাথে শুরু হয়েছিল তবে সেটা ছিল এক সুদৃঢ় সম্পর্ক যেখানে ছিল না কোনো আশা আকাঙ্ক্ষা চাওয়া পাওয়া। শুধু ছিল নাম না জানা একটা দৃঢ় সম্পর্ক।
-- আমাকে এখানে কাজের কথা বলে নিয়ে আসা হয়েছিল অথচ আমার মনে হচ্ছে না এমন কিছু এখানে হবে।
ইরানীর গুরুগম্ভীর কন্ঠে আদি কপাল কুঁচকে বসে থাকা ইরার দিকে দৃষ্টিপাত করে। আদি নড়েচড়ে বসে বলে,
-- আমি নিজের প্রয়োজনেই তোমাকে ডেকেছি এটা যখন বুঝেছে তখন আশা করি এটাও বুঝেছো কেনো ডেকেছি?
-- বুঝেই বা কি করবো!
-- ইরা আমরা বাচ্চা নই! আমি ওই মুহূর্তে কীভাবে বাধা দিতাম? বাবা আংকেল আমাদের কিছু বলে করেনি।
-- আমাদের?
ইরা তাচ্ছিল্য হেসে বলে উঠে।
-- ইরা!!
-- আদি আমি একটা মেয়ে একজন মেয়ের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ হচ্ছে নিজের প্রিয় মানুষের সাথে আরেকজন কে দেখা। আর অন্য মানুষটাও যদি প্রিয়জন হয় তাহলে কষ্ট টা দ্বিগুণ হয়ে পড়ে।
ইরার চোখ দিয়ে অঝোরে নিঃশব্দে অশ্রু ঝরে পড়ছে। আদি হতবিহ্বল হয়ে পড়ে ইরার কান্নায়। সামান্য কারনে মেয়েটা এতো কষ্ট পাবে আদি ভাবতে ও পারেনি। ইরা চোখের পানি মুছে ধরা গলায় বলে,
-- আমি মহান নই আদি!! আমি আজ ক'দিন যাবৎ রাহার দিকে তাকাতে পারিনা। রাহার দিকে তাকালে আমি ভুলে যাই রাহা আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। আমি ভুলে যাই রাহা সেই মেয়ে যে আমার ওই সময় আমার পাশে ছিল যখন আমার পরিবার আমাকে বুঝেনি ওর জন্য আমি আজ নিজের পরিচয়ে নিজের জন্য বাচতে পারছি। আমার চোখে শুধু তোমাদের একসাথে দাঁড়িয়ে থাকা একজনের হাতে অপরজনের রিং পড়ানো সব চোখে ভেসে ওঠে আমার তখন ইচ্ছে করে আমি রাহাকে.... আমি রাহাকে...
ইরা বলতে বলতে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে। তারপর পুনরায় তেজি কন্ঠে বলে,
-- আমি তোমার জন্য আমার বাবার বিরুদ্ধে গিয়েছি, তোমার জন্য আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের থেকে দূরে দূরে থাকছি। আমি রাহার থেকে দূরে থাকছি তোমার জন্য। আদি আমার জন্য তুমি ওইদিন শুধু বলতে পারলে না তুমি রাহাকে না আমাকে বিয়ে করতে চাও! আমার মনে হচ্ছে আমিই একাই তোমার আমার সম্পর্কটার কথা ভাবি তুমি ভাবো না।
ইরা হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ডুকরে কেঁদে ওঠে আর আদি চুপচাপ নিজের পাশে বসা মেয়েটার আর্তনাদ দেখে যায়। আদির চোখ গুলো ক্রমশ লাল হয়ে যাচ্ছে ইরা সামান্য শান্ত হতেই আদি নিজের জায়গায় স্থির হয়ে বসে টেবিলে রাখা ক্যান্ডেল লাইট এর দিকে তাকিয়ে বলে,
-- কয়েকবছর এর রিলেশনশিপ এর জন্য তুমি এমন উন্মাদ হয়ে গেছো তাহলে একবার ছাব্বিশ বছরের সম্পর্কটার কথা ভাবো! ওই সম্পর্কের কথা ভাবো যেখানে ভালোবাসা পাওয়া না পাওয়ায় ছিলো না, শুধু ভালোবাসা ছিল। নামহীন এক দৃঢ় সম্পর্ক যেটা পৃথিবীর সব কিছুর উর্ধ্বে।
ইরা অশ্রু সিক্ত চোখে আদির দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। আদি ইরার দিকে তাকিয়ে ম্লান হেসে বলে,
-- রাহা তোমাদের কাছে শুধু রাহা হলেও আমার কাছে ওই মেয়ের বহু সংজ্ঞা রয়েছে।
-- আমার কাছে রাহা অনুপ্রেরণা। আমার কাছে রাহা বন্ধুত্ব। আমার কাছে রাহা এক নতুন দুনিয়া। আমার কাছে রাহা ভালোবাসাময় একটা পরিবার। আমার কাছে রাহা জীবনের এক নতুন অধ্যায়।
-- রাহাকে আমি ভালোবাসি তবে তা দুনিয়ার তথাকথিত ভালোবাসা না যা নিয়মের বেড়িবাঁধে আটকে থাকে। আমার আর ওর সম্পর্কের নির্দিষ্ট কোনো নাম নেই। তবে আমার কাছে পরিবারের আগেও রাহা। রাইদা চৌধুরী রাহা শুধু দায়িত্ব না ওটাই আমার জীবন। আমার জীবনের সবচেয়ে মহান ব্যক্তি তার দেওয়া সব ঋন রাহার নামে করে গেছে।
-- একটা বিশাল ঝড় এসে আমাদের গুছানো সম্পর্ককে উল্টেপাল্টে দিয়েছে। আমি কথা বলার মানুষ হারিয়েছি আমার গম্ভীরমুখি চঞ্চল রাহাকে হারিয়েছি।
আদি এবার ইরার আবুঝ চোখে চোখ রেখে বলে,
-- রাহা সেই মেয়ে, যার সামান্য হাসিই আমাকে বাধ্য করেছিল তোমার দিকে চোখ তুলে তাকাতে।
ইরা অবাক হয়ে তাকায়। আদি মলিনতায় ও সামান্য হেসে বলে,
-- রাহা সবসময় অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে আমার জীবনের সব কিছুতে জুড়ে যায়। তোমার আমার সম্পর্কের মাধ্যম ও রাহা ছিল। রাহার সাথে তো কতোবার দেখা করতে কলেজ যেতাম কখনো দেখেছো তুমি বা অন্য কোনো মেয়ের দিকে তাকাতে?
-- সেদিন তোমার হাসি শুনে ভেতরে কেঁপে উঠেছিলো আমার। হয়তো মনে তুমি আসবে বলেই তবে তোমার দিকে আমার দৃষ্টি যায়নি প্রথমে।সবাই হাসছিলে তোমাদের সাথে রাহাও হেসেছিল। সেদিন কৌতুহল বশত আমার মন ওই মানুষ কে দেখতে চেয়েছে যার জন্য রাহা হেসেছে।
-- আম্মির মৃত্যুর পর রাহা কখনো মন খুলে হাসেনি। বছরে একবার দুবার কখনো মলিন কিংবা কখনো মুখে ঝুলানো মিথ্যে হাসি হেসেছে।
ইরা কান্না ভুলে অদ্ভুত আদিকে দেখছে যে কখনো রাহাকে নিয়ে এতো মন খুলে কথা বলেনি আজ বলছে।তবে ইরার হিংসাত্মক নারী মন কি বেশিই বলে ফেলেছে। আদি এবার চেয়ার ছেড়ে উঠে ইরার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে। ইরা হকচকিয়ে উঠতে চাইলে আদি ইরার হাত টেনে নিয়ে ইরার হাঁটুতে মাথা ঠেকিয়ে ধরা গলায় বলে,
-- ইরা আমি ছেলে মানুষ। ছেলেদের যে কাঁদতে নেই নয়তো আমি তোমার থেকেও দ্বিগুণ কাদতাম। ইরা আই লাভ ইউ। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি তোমাকে জীবনসঙ্গীনী হিসেবে চাই। আমি যতদিন বাচতে চাই তোমার সাথে বাচতে চাই। রাহার কাছে আমি ঋনী এতো ঋনী যে জীবন দেওয়া ছাড়া আমি ওই ঋন শোধ করতে পারবো না। তোমার অপরাধী আমি। আমাকে শাস্তি দাও আমাকে বলো যা বলার তবুও ভুল মনেও রাহার প্রতি খারাপ ধারণা রেখো না ইরা! আমার রাহামনি নিষ্পাপ। আংকেল আর বাবার হঠাৎ নেওয়া ওই সিদ্ধান্তে না রাহা জানতো আর না আমি।
ইরা অবাক চরম অবাক হয়েছে আজ। স্বল্প ভাষী আদি আজ রাহাকে নিয়ে এতো কিছু বললো আসলেই তো আদি কখনো রাহাকে নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি করেনি একজন বন্ধু যেভাবে ট্রিট করে তেমনি করেছে। অথচ ইরা কি ভেবে বসেছিলো ছিঃ! ইরা আদির ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে নিজের বেস্ট ফ্রেন্ড কে অদেখা করেছে। আদি ঋনী মানে তো ইরাও ঋনী তবে ইরা কিভাবে এমন করলো। ইরা যেন কোনোদিন ভুল না বুঝে তাইতো আদি ইরাকে বারবার বলতো রাহা ইম্পর্ট্যান্ট রাহা দায়িত্ব রাহা রক্তের সম্পর্কের ও উর্ধ্বে.....
চলবে...