#প্রনয়ের_প্রলয়
#কলমে_মেহরিমা_সারা
#পর্বঃ৩৩
রাহা ঘরে ঢুকেই ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়িয়েছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে শক্ত-পোক্ত এক জোড়া হাত তার কোমর জড়িয়ে ধরল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাহা মাটি থেকে শূন্যে উঠে গেল। এক নিমিষে তাকে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে দরজায় লক লাগিয়ে দিল।
আকস্মিক ঘটনায় রাহা কয়েক সেকেন্ডের জন্য হতভম্ব হয়ে গেল। তবুও চিৎকার করল না। কারণ এই স্পর্শ তার অচেনা নয়। জীবনে অসংখ্যবার এই অনাকাঙ্ক্ষিত মানুষটার ছোঁয়া অনুভব করেছে। এখন চিৎকার করলে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার বদলে আরও জটিল হবে, সেটা রাহা ভালো করেই জানে।
বিরক্তিতে রাহার আঙুলগুলো নীলের হাতে গিয়ে বসে। খামচে ধরেও কোনো লাভ হলো না। নীল নির্বিকার ভঙ্গিতে তাকে নিয়ে শাওয়ারের নিচে গিয়ে দাঁড়ায়। রাহার চোখ-মুখ কঠিন হয়ে উঠে। দাঁতে দাঁত চেপে হিসহিসে কণ্ঠে বলে,
— নীল, তুমি সীমা অতিক্রম করছ। এর পরিণতি খুব ভয়ংকর হবে।
নীল যেন কথাগুলোকে একেবারেই গুরুত্ব দিল না। মাথা ঝুঁকিয়ে রাহার চুলের ভেতর মুখ গুঁজে দিল। গভীর শ্বাস নিয়ে পরিচিত সেই গন্ধ বুকভরে টেনে নিয়ে নিচু স্বরে বলে,
— যত ভয়ংকরই হোক, আমার কিছু যায় আসে না।
ঝরনার প্রবল স্রোতে দুজনই পুরোপুরি ভিজে গেছে। ঠান্ডা পানি অবিরাম আছড়ে পড়ছে তাদের শরীরের ওপর, কিন্তু সেই শীতলতার মাঝেও অদ্ভুত এক উত্তাপ জমে আছে। নীল এখনো রাহাকে শক্ত করে নিজের বাহুর মাঝে আটকে রেখেছে। না সে কোনো বাড়তি স্পর্শ করছে, না কোনো কথা বলছে। শুধু নীরবে দাঁড়িয়ে আছে, নিজের ভেতরের কোনো ঝড়কে দমিয়ে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করছে। রাহা চোখ বন্ধ করে আছে। ঝরনার তীব্র পানির ঝাপটায় চোখ খোলা রাখা প্রায় অসম্ভব। বুকের ভেতর অজানা এক অস্থিরতা নিয়ে অপেক্ষা করছে—নীল এবার কী করবে, কী বলবে?
কয়েক মুহূর্তের নীরবতার পর নীল ধীরে ধীরে মুখ তুলে। নীল এর কণ্ঠস্বর আশ্চর্যরকম শান্ত, অথচ সেই শান্তির গভীরে লুকিয়ে আছে বিপজ্জনক কিছু। ঠান্ডা কন্ঠে বলে,
— শরীরে যত নোংরা লেগে আছে, সব পরিষ্কার করুন। ওই নোংরার জন্য আমি আপনাকে অনুভব করতে পারছি না, রাহা।
কথাটা শুনে রাহার ভ্রু কুঁচকে যায়। বিরক্তি আর অবিশ্বাস একসাথে ভর করে মুখে।
— ইউ আর সিক, নীল! তুমি কী বলো, নিজেই জানো না। আগামাথা ছাড়া কি বলো?
রাহা ভাবেনি ওর কথার এমন প্রতিক্রিয়া হবে।
মুহূর্তেই নীলের আঙুলগুলো ওর কোমরের কাছে শক্ত হয়ে ওঠে। যেন মাংসের ভেতর পর্যন্ত গেঁথে যাচ্ছে। চোয়াল শক্ত, নিঃশ্বাস ভারী। গম্ভীর, হিসহিসে স্বরে নীল বলে ওঠে,
— রাহা, আমি একই কথা দ্বিতীয়বার বলি না।
কথাগুলো ঝরনার গর্জনের মাঝেও স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিলো।
— হয় আপনি নিজে শরীরে লেগে থাকা ময়লা পরিষ্কার করবেন... নয়তো আমাকে সেটা করতে হবে।
একটু থেমে সে আরও নিচু স্বরে বলে,
— আর বিশ্বাস করুন, যদি আমাকে করতে হয়... তাহলে ব্যাপারটা খুব খারাপ হবে। চব্বিশ ঘণ্টার আগে আপনি এখান থেকে বের হতে পারবেন না। অথচ আমি সেটা চাই না।
রাহার বুক ধক করে ওঠে। নীলের গলা স্বাভাবিক শোনালেও রাহা ওকে খুব ভালো করেই চেনে। এই স্বর, এই চাপা হিসহিসে উচ্চারণ—এসবই বলে দিচ্ছে ছেলেটা ভয়ংকর রকমের রেগে আছে। নিজের রাগকে কোনোমতে আটকে রেখেছে মাত্র।
রাহা চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নেয়। এখন পাল্টা রেগে যাওয়া মানে আগুনের ওপর কেরোসিন ঢেলে দেওয়া। তার ওপর নীলের শক্ত মুঠোয় কোমরের মাংসপেশি অবশ হয়ে আসছে। ব্যথায় শরীর টনটন করছে।
আর তখনই তার মনে হয়, যে আশঙ্কাটা এতক্ষণ মনে মনে করছিল, সেটাই সত্যি। সামিনের বিষয়টা নীলের মাথায় এমনভাবে ঢুকে গেছে যে নীল নিজের স্বাভাবিক বোধবুদ্ধিও হারিয়ে ফেলেছে।
নিজেকে শান্ত করে রাহা যতটা সম্ভব স্বাভাবিক গলায় বলে,
— নীল, তুমি যদি আমাকে না ছাড়ো, আমি পরিষ্কার করবো কীভাবে?
কথাটা শেষ হতেই নীল মাথা তোলে। পরের মুহূর্তে আচমকাই সে রাহাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেয়। দু'বাহু শক্ত করে চেপে ধরে। চোখদুটো লালচে, গভীর, অস্থির।তারপর আরও শক্ত করে রাহার বাহু আঁকড়ে ধরে ফিসফিস করে,
— নেভার...কোনোদিনও আপনাকে ছাড়বো না আমি।
— আপনি বুঝতে পারেন না, রাহা। আপনি কাছে থাকলে আমি অন্তত স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করতে পারি। কিন্তু আপনি দূরে গেলে...
কণ্ঠে আর একটু আগের রাগ নেই। আছে কেবল দমিয়ে রাখা যন্ত্রণা।
— আপনি দূরে গেলে আমার নিজের কাছেই নিজেকে পাগল মনে হয়।
ঝরনার পানি নীল এর মুখ বেয়ে নেমে যাচ্ছে। বোঝা যাচ্ছে না সেটা কেবল পানি, নাকি আরও কিছু।
— সাত বছর...
শব্দ দুটো উচ্চারণ করতেই নীল এর গলা ভারী হয়ে আসে।
— পুরো সাত বছর আমি যেই কষ্ট নিয়ে বেঁচে ছিলাম। প্রতিটা দিন নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি। প্রতিটা রাত কাটিয়েছি অস্থিরতায়।
নীল চোখ তুলে তাকিয়ে বলে,
— সেই যন্ত্রণা আমি দ্বিতীয়বার সহ্য করতে পারবো না, রাহা। কোনোভাবেই না।
নীল এর আঙুলের চাপ আরও গভীর হয়।
— পৃথিবীর সবাই আমাকে ছেড়ে চলে যাক, তবু আমি মেনে নিতে পারবো। কিন্তু আপনি...
নীল থেমে যায়, গলা শুকিয়ে আসে তবুও বলে যায়।
— আপনি যদি আবার আমার হাত ছেড়ে চলে যান, তাহলে আমি ঠিক কী হয়ে যাবো, সেটা আমিও জানি না।
— আপনার সান্নিধ্যে ছিলাম না, তাতেই আপনাকে দেখতে না পেয়ে এত কষ্ট হয়েছে। এখন তো আপনার কাছাকাছি থেকেছি, আপনার উপস্থিতি অনুভব করেছি। এবার যদি আপনাকে হারিয়ে ফেলি, আমি সত্যিই সহ্য করতে পারব না, রাহা। কাউকে না পাওয়ার যন্ত্রণা যতটা না কষ্ট দেয়, তার চেয়ে অনেক বেশি কষ্ট দেয় কাউকে পেয়ে আবার হারিয়ে ফেলা।
কথাগুলো বলতে বলতে নীল নিজের ভেতরের সমস্ত বাঁধ ভেঙে ফেলছিল। বহুদিন ধরে জমে থাকা অস্থিরতা, অভিমান, আকাঙ্ক্ষা—সবকিছু একসাথে বেরিয়ে আসছিল ওর কণ্ঠ দিয়ে।
রাহা হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। কী বলবে ও বুঝে উঠতে পারছে না। এই মুহূর্তে নীলকে রাহার স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। ছেলেটার চোখে-মুখে এমন এক ধরনের উন্মত্ততা, যা রাহা আগে কখনো দেখেনি।
ঝরনার ঠান্ডা পানি অবিরাম গড়িয়ে পড়ছে ওদের ওপর। তার উপর নীলের শক্ত হাতের চাপে শরীর ব্যথায় অবশ হয়ে আসছে। তবুও কষ্ট করে রাহা বলে ওঠে,
— সাত বছর মানে?
নীল একদৃষ্টিতে রাহার দিকে তাকিয়ে থেকে বলে,
— সাত বছর। আমার জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ, সবচেয়ে ভয়ংকর সাত বছর। যে সাত বছর আপনি আমার জীবনে ছিলেন না।
রাহার ভ্রু কুঁচকে আনমনেই বলে ফেলে,
— আমি তো আট বছর দেশে ছিলাম না।
নীল তিক্ত হাসে। চোখ ঝাপটে বলে,
— আট বছর না, সাত বছর। প্রথম এক বছর আমি নিজেই বুঝতে পারিনি আমার কী হয়েছে। কেন অকারণে অস্থির লাগে, কেন কিছু একটা হারিয়ে ফেলেছি বলে মনে হয়। সেই এক বছর শুধু নিজের অস্থিরতার কারণ খুঁজেই কেটে গেছে।
রাহা এবার ব্যথায় মুখ বিকৃত করে বলে,
— নীল, ব্যথা লাগছে। ছাড়ো।
কিন্তু নীল যেন শুনতেই পায় না। ওর শ্বাস-প্রশ্বাস ভারী হয়ে উঠেছে। বুক দ্রুত ওঠানামা করছে। চোয়াল শক্ত হয়ে আছে। চোখের সাদা অংশ রক্তিম হয়ে উঠেছে, আর সেই দৃষ্টিতে এমন এক চাপা ক্রোধ জমে আছে যে রাহার অস্বস্তি হতে থাকে। হঠাৎ দাঁত চেপে নীল বলে ওঠে,
— আমি ছুঁলেই আপনার সমস্যা। আমি ছুঁলেই বলেন ছাড়ো। কিন্তু যখন ওই লোকটা আপনাকে ছোঁয়, তখন কোনো সমস্যা হয় না?
রাহার ভেতরেও রাগ জেগে ওঠে। এই অধিকার নীলকে কে দিয়েছে? রাহা কি কখনো নীলকে এমন কোনো অধিকার দিয়েছে? নাকি অজান্তেই এমন কিছু করেছে, যাতে নীল নিজেকে রাহার জীবনের অংশ ভেবে বসেছে?
ব্যথা উপেক্ষা করেই রাহা দৃঢ় গলায় বলে,
— সামিনের আমাকে ছোঁয়ার অধিকার আছে। বুঝেছ? পূর্ণ অধিকার আছে। সামিন আমার উডবি । তোমার ভাষায়, আমার ভবিষ্যৎ ছানা,,,,
বাকিটুকু আর বলা হয় না। এক মুহূর্তে নীলের মুখের রং বদলে যায়। পরের মুহূর্তেই নীল এর হাত এসে চেপে বসে রাহার গলায়। রাহা হঠাৎ আঘাতে স্তব্ধ হয়ে যায়। দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে নীল। ওর চোখে তখন এমন এক দহন, যেন সমস্ত যুক্তি-বিবেচনা মুহূর্তের জন্য হারিয়ে গেছে। পাশের দেয়ালে একের পর এক ঘুষি মারতে মারতে চিৎকার করে ওঠে,
— ওই বাস্টার্ডকে আমি মেরে ফেলব! শুনছেন? মেরে ফেলব!
নীল এর কণ্ঠ কাঁপছিল ক্রোধে, দাঁতের সাথে দাঁতের ঘর্ষণের আওয়াজ শুনা যাচ্ছিল। রাহা শ্বাস নিতে পারছে না। চোখ ঝাপসা হয়ে আসতেই হঠাৎ নীল থমকে যায়। আচমকা হুঁশ ফিরে আসে।
সঙ্গে সঙ্গে হাত সরিয়ে নিয়ে রাহাকে নিজের দিকে টেনে নেয় সে।
— এ্যাই রাহামনি— এই জান, বেশি লেগেছে? আমি কি খুব জোরে ধরেছি?
রাহা কাশতে কাশতে শ্বাস নেয়। ওর মাথা ঘুরছে। কিন্তু তার থেকেও বেশি বিস্মিত করছে নীলের আচরণের এই আকস্মিক পরিবর্তন।
এক মুহূর্ত আগে যে মানুষটা ক্রোধে উন্মত্ত ছিল, সেই মানুষটাই এখন অপরাধবোধে কাঁপছে।
নীল রাহাকে বুকে চেপে ধরে আকুল কন্ঠে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করে বলে,
— এ্যাই রাহামনি আমায় শান্ত করে দাও না! প্লিজ শান্ত করো আমায়। নিঃশ্বাস আটকে আসছে। চোখের সামনে শুধু ভাসছে কেউ আমার বুকে থাকা এই কোমল পিওনিকে ধরেছে। আমি ব্যতীত অন্য কেউ আমার পিওনির ত্বকের উষ্ণতা অনুভব করেছে।
রাহার মাথা ব্ল্যাংক হয়ে গেছে। কি হচ্ছে আর কি বলছে কিছুই মস্তিষ্ক ঠাওর করতে পারছে না। শুধু এতো টুকু বুঝতে পারছে নীল কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু কেনো? এমন অনুরোধ তো ওই ছোট নীল করতো, কোনো কিছু লাগলে ঠিক এমন করেই তো অনুরোধ করতো রাহার কাছে আর রাহা যতোই বিরক্ত হোক না কেন ওই ছোট নীল এর ছলছল চোখ দেখে নিষেধ করতে পারতো না। আজ ও কী ওই নীল চোখ জোড়ায় পানি ভর করেছে! রাহার যে দেখতে ইচ্ছে করছে। নীল আবারও রাহাকে ছেড়ে নিজের সামনে দাড় করিয়ে রাহার মুখের দিকে ঝুঁকে দাত চেপে ঠোঁট কামড়ে বলে,
— প্লিজ জান শান্ত করো, পারছি না সহ্য করতে, যাকে আমি এখনো বুকে টেনে নিতে পারিনি এতো অধিকার নিয়ে তাকে অন্য কেউ কীভাবে স্পর্শ করতে পারলো। আমার পিওনিকে কেউ আমার থেকেও বেশি ছুঁয়েছে!!
নীল ঝুঁকে থাকায় ওর সামনের বড় চুল গুলো থেকে পানি বেয়ে রাহার মুখে পড়ছে। রাহা মনোযোগ দিয়ে খুঁটিয়ে দেখে, চওড়া কপাল, সরু নাক, ঘন পাপড়ি বিশিষ্ট চোখ জোড়া। ছেলেদের তো এতো ঘন পাপড়ি থাকে না এটা তো মেয়েদের থাকে। তাহলে নীল এর পাপড়িগুলো এতো ঘন কেনো? আর নীল এর কালচে ঠোঁট জোড়াও এতো সুন্দর লাগছে কেন? আর গলার মধ্যে ওই উচু ওটা কী? রাহা নিজের অজান্তেই হাত উঠিয়ে নীল এর অ্যাডামস অ্যাপেল স্পর্শ করে অবুঝ চোখে চেয়ে বলে,
— এটা কি?
নীল এখনো রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। এখন আবার রাহার ভেজা শরীর চোখ মুখ সব নীল কে অন্য জগতে নিয়ে গেছে, বিশেষ করে নীল এর প্রিয় চেরি লিপ গুলো পানির স্পর্শে কেমন চিকচিক করছে। নীল নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। রাহার কথায় হাঁপাতে হাঁপাতে বলে,
— তোমার অ্যাপেল!
রাহা নিজ থেকেই নীল এর আরো সন্নিকটে এগিয়ে গিয়ে ঘোর লাগা কন্ঠে বলে,
— এটা কি খাওয়া যায়?
— তুমি চাইলে খেতে পারো!
— অনেক মজা তাই না?
ঘোরের মধ্যে থেকেই রাহা নিজের মুখ এগিয়ে নিয়ে যায়, নীল ও ধীরে ধীরে ঝুঁকে আসে ফলে পুরুষালী এ্যাডাম'স অ্যাপেল রাহার ঠোঁট ছুই ছুই হয়ে যায়, দুইদিনের দৌড়ঝাপ মানসিক চাপ সব মিলিয়ে বিধ্বস্ত রাহা ঘোরের মধ্যে চলে গেছে। নীল এর অ্যাডামস অ্যাপেল এর উপর আলতো করে ঠোঁট লাগিয়েছে শুধু এখনো ছোঁয়া গাঢ় হয়নি তার আগেই নীল নিজের কন্ট্রোল খুইয়ে ফেললো। রাহা আগে বাড়ায় রাহার শার্টের দুইটা খোলা বোতামের ফাক গলিয়ে নীল এর চোখ নিষিদ্ধ জায়গায় গড়ায়। সাথে সাথে নীল দিন দুনিয়া ভুলে রাহার সুঢৌল কোমর আকড়ে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিল। এক হাত কোমরে অপর হাত রাহার মাথার পিছনে নিয়ে চুলের মুঠি ধরে মুখ উপরে তুলে তুলতুলে নরম ঠোঁট জোড়ায় নিজের রুক্ষ ঠোঁট দাবিয়ে দেয়।
হঠাৎ আক্রমণে রাহার ঘোর ছুটে যায়, নিজের স্থান বুঝতে কয়েক সেকেন্ড লাগে। কি হচ্ছে বুঝতে পেরেই কারেন্ট এর শক লাগে পুরো শরীরে। মাথা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। কারন জীবনে হাজারো ছেলেদের সাথে উঠাবসা থাকলেও কখনো প্রয়োজন ব্যতীত হাত ও স্পর্শ করতে দেয়নি, বরং পারেনি। কারো সতর্ক বার্তা কানে বাজতো।
—রাহামনি আমার আপনার সাথে কাউকে ভালো লাগে না আপনি কিন্তু আমি ছাড়া কারো সাথে কথা বলবেন না মিশবেন না বলে দিলাম নয়তো খারাপ হয়ে যাবে—
আজ এটা কি হচ্ছে! রাহা নিজের সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করছে নীল কে দুরে সরানোর। এতে সফল তো হয়নি উল্টো নীল ন্যানো সেকেন্ড এর মধ্যে রাহার দূই হাত জড়ো করে নিজের বিশাল এক হাত দ্বারা আটকে কোমরের পিছনে নিয়ে আটকে দিলো পুরোপুরি। রাহা মাথা ঘুরিয়ে নিতে চাইলে চুল শক্ত করে ধরে যেন না নড়তে পারে।
রাহা স্পষ্ট বুঝতে পারছে নীল এর প্রতিটা ছোয়া, কেমন যেন মাতাল করা অনুভূতি হচ্ছে। রাহার জন্য একদম নতুন এই অনুভুতি। কেমন প্রশান্তি বয়ে যাচ্ছে মনে যেটা রাহার অবচেতন মন টের পাচ্ছে। সময়ের সাথে সাথে নীল এর আগ্রাসী বিচরণ বাড়ছে। পারছে না রাহার ঠোঁট জোড়া নিজের মধ্যে নিয়ে নিতে। কতোক্ষণ উপরের ঠোঁট আবার নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরছে। রাহা গুঙ্গিয়ে উঠল। আবেশে চোখ বুজে আসলো। নিজের অজান্তেই সামান্য তাল মিলায় নীল এর সাথে, যা খুবই নগন্য। তবুও নীল এতেই আরো বেপরোয়া হয়ে উঠলো। সেকেন্ড এর কাটা মিনিটে গড়ায় এতেও নীল এর হেলদোল নেই। ধ্যান জ্ঞান খুইয়ে নিজের চাহিদা পূরণে ব্যস্ত। যখন নিজের স্পর্শে রাহাকে কাবু করতে পেরেছে বুঝতে পারে তখনি রাহার হাত জোড়া ছেড়ে দিয়ে কোমর জড়িয়ে আরো কাছে টেনে নেয়। চুলে থাকা হাত ও আরো শক্ত করে ধরে।
সম্মোহিত রাহা দুই হাত নীল এর গলায় পেঁচিয়ে পেছনের চুল আকড়ে ধরে নিজের থেকে নীল কে আরো কাছে টেনে নেয়। একবার নীল তো আরেকবার রাহা, একে অপরকে কামড়ে দিচ্ছে, এতো অল্প স্পর্শ যেন পোষাচ্ছে না। পাগলের মতো দুইজনই কামড়াচ্ছে যেন প্রতিযোগিতা হচ্ছে। আনাড়ি রাহার থেকে নীল এগিয়ে এই ক্ষেত্রে। অস্থির নীল তো শুধু চুমুতেই থেমে নেই বরং রাহার পরনের শার্টের তিনটি বোতাম ও খুলে ফেলেছে।
— ঠক!!
— ঠক!! ঠক!!
— রাহা! কি হয়েছে? কিসের আওয়াজ আসলো একটু আগে?
— আপুনি ঠিক আছো ? কি হয়েছে?
হঠাৎ দরজার ওপাশ থেকে ইরা আর শানের উদ্বিগ্ন কণ্ঠ ভেসে আসতেই রাহা যেন বাস্তবে ফিরে এলো। মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু থমকে গেল।
ধীরে ধীরে চোখ খুলে সে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নীলের দিকে তাকায়। কয়েক সেকেন্ড আগেও যেন চারপাশের পৃথিবী অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু এখন বাস্তবতা নির্মমভাবে সামনে দাঁড়িয়ে আছে। রাহার আঙুলগুলো ঢিলে হয়ে এলো।
নীলও যেন হুঁশ ফিরে পেয়ে ধীরে ধীরে ওকে ছেড়ে দিল। দুজনেই হাঁপাচ্ছে। দ্রুত ওঠানামা করছে বুক। তবুও কেউ কারও থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়াতে পারছে না। বাতাসে এখনও এক অদ্ভুত ভারী নীরবতা ঝুলে আছে।
রাহার নিজের ওপরই ভীষণ রাগ হচ্ছে।
মনে হচ্ছে মাটি ফুঁড়ে ভেতরে ঢুকে যাক।
ছিঃ! কী করতে যাচ্ছিল?
শেষ পর্যন্ত কি না নিজের ছোট ভাইয়ের বন্ধুর সঙ্গে এমন একটা পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ল!
রাহা, তুই কী করলি? নিজের মনেই নিজেকে ধিক্কার দিল।
ঠিক তখনই আবার ইরার ডাক ভেসে এলো।
এক ঝটকায় নীলের কাছ থেকে সরে দাঁড়াল রাহা। বড় করে একটা শ্বাস টেনে নিজেকে সামলে নিল। এলোমেলো হয়ে যাওয়া শার্টটা ঠিক করল তাড়াহুড়ো করে।
নীল মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। তার নিজের ভেতরেও যেন তুমুল ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এত বছর অপেক্ষা করেছে। নিজেকে সামলেছে। প্রতিটা অনুভূতি বুকের গভীরে লুকিয়ে রেখেছে।
তাহলে আজ কেন পারল না? যদি এই ঘটনার পর রাহা আরও দূরে সরে যায়? যদি আবার আগের মতো অদৃশ্য একটা দেয়াল তুলে দেয় ওদের মাঝে? উল্টোপাল্টা হাজারটা চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগল নীলের। ওদিকে দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর উদ্দেশ্যে রাহা যতটা সম্ভব স্বাভাবিক কণ্ঠে বলে,
— কোনো সমস্যা হয়নি। তোরা নিজেদের কাজে যা।
— কিন্তু—
— বললাম তো, যেতে!
রাহার কণ্ঠের দৃঢ়তা শুনে ইরা আর কিছু বলল না।
আদিকে ফাইল বুঝিয়ে দিয়ে ফেরার পথে শব্দ শুনে সে এখানে এসেছিল। আর ইরার ডাকে ফোনে ব্যস্ত শানও এগিয়ে এসেছিল।
ইরা একবার শানের দিকে তাকিয়ে বলে,
— চল। কিছু হয়নি। হয়তো এমনি কিছু পড়ে গেছে।
শান মাথা নেড়ে সরে গেল। তবে ইরা যাওয়ার আগে একবার পেছন ফিরে দরজার দিকে তাকায়। কেন জানি ইরার মনে হচ্ছিল, ব্যাপারটা এতটা সাধারণ না।
সবাই চলে গেছে বুঝতে পেরে রাহা ধীরে ধীরে মুখে হাত বুলিয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করল। তারপর নীলের দিকে তাকিয়ে এগিয়ে গেল।
কোনো কথা না বলে ওর হাত ধরে দরজার দিকে নিয়ে গেল। ওয়াশরুমের দরজা খুলে বাইরে বের করে দিয়ে শান্ত, নিয়ন্ত্রিত স্বরে বলে,
— It's an accident. Nothing else.
নীল কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইল। তারপর ঠান্ডা, অস্বাভাবিক শান্ত কণ্ঠে বলল,
— হাত ধরার চেষ্টা করতে গিয়ে যদি কারও হাত ভেঙে ফেলতে পারি...
একটু থেমে গভীর দৃষ্টিতে রাহার দিকে তাকাল সে।
— তাহলে বাকিটা নিজেই বুঝে নিন। সাবধানে থাকবেন, রাইদা চৌধুরী।
কথাগুলো বলে নীল সরে দাঁড়ায়। রাহা কিছুক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর কোনো উত্তর না দিয়ে ঠাস করে দরজা বন্ধ করে দেয়। শব্দটা করিডোরজুড়ে প্রতিধ্বনিত হলো।
নীল কয়েক সেকেন্ড দরজার দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর ধীরে ধীরে নিজের ঘরের দিকে হাঁটা ধরে। রাহার ঘরের পাশের তিন নম্বর কক্ষে ঢুকতেই দেখতে পেল, শান বিছানায় আধশোয়া হয়ে ফোন স্ক্রল করছে। নীলকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ভেজা অবস্থায় দেখে শানের ভুরু কৌতূহলী হয়ে উঠল।
— তুই এই অবস্থায়...
বাকিটা বলার আগেই তার ঠোঁটে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠে।
— কী বন্ধু? যৌবন কি খুব বেশি তাড়া করছে? এমন ভিজলি কীভাবে?
শানের কথায় সাধারণত নীল পাল্টা কিছু একটা বলত। কিন্তু আজ নয়। আজ ওর ভেতরের অস্থিরতা এতটাই গভীর যে ঠাট্টা করার মতো অবস্থায় নেই। একটা কথাও না বলে আলমারি থেকে কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল। কিছুক্ষণ পর কাপড় বদলে ফিরে এসে বিছানায় গিয়ে চুপচাপ শুয়ে পড়ল। চোখ বন্ধ করলেও মাথার ভেতর বারবার ভেসে উঠছে কয়েক মিনিট আগের দৃশ্য। রাহার কাঁপা নিঃশ্বাস, অস্থির চোখ।
আর সেই মুহূর্ত...
যেটাকে রাহা একটা দুর্ঘটনা বলে শেষ করে দিতে চাইল। কিন্তু নীল জানে— তার কাছে সেটা কখনোই শুধু একটা দুর্ঘটনা ছিল না। অদ্ভুত এক ক্লান্তি শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল।
সেই ক্লান্তির কাছে হার মেনে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘুমিয়ে যায়। শান ফোন নামিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে বন্ধুর দিকে তাকিয়ে থাকে। আজ নীলের আচরণ স্বাভাবিক নয়। খুবই অস্বাভাবিক ঠেকলো। কিন্তু প্রশ্ন করেও উত্তর পাওয়া যাবে না জেনে শেষ পর্যন্ত সেও চুপ করে গেল।
ঘরের ভেতর ধীরে ধীরে নেমে এলো গভীর নীরবতা।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে চলেছে, অথচ এখনো কেউ খেতে বসেনি। সকালের ঘটনার পর সবাই নীল আর রাহার অপেক্ষাতেই ছিল। ভেবেছিল দুজন একটু পরেই নিচে নামবে, তারপর একসঙ্গে খাওয়া হবে।
কিন্তু —রাহার ঘরের দরজা এখনো বন্ধ। আর নীলও ঘুমিয়ে আছে। তৃধা বিরক্ত মুখে ডাইনিং রুমে ঢুকতেই হঠাৎ টেবিলের ওপর চোখ আটকে যায়। কয়েকটা কাটা আপেল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। প্রথমে স্বাভাবিকই মনে হয়েছিল।
কিন্তু পরের মুহূর্তেই ওর মুখের রঙ বদলে গেল। আপেলের টুকরোগুলোর গায়ে লালচে দাগ শুকিয়ে গাঢ় হয়ে লেগে আছে। তৃধা কাঁপা হাতে একটা টুকরো তুলে দেখে।
তারপরই আতঙ্কে চিৎকার করে আপেলটা ছুড়ে ফেলে দেয়।
— আপু...!
তৃধার চিৎকারে কিয়ারা দৌড়ে আসে।
— কী হয়েছে?
তৃধা ভয়ে ফ্যাকাশে মুখে আপেলের দিকে আঙুল তুলে বলে,
— এগুলো... এগুলো কী?
কিয়ারা এগিয়ে এসে আপেলের টুকরোগুলো ভালো করে দেখতেই মুহূর্তের মধ্যেই ভ্রু কুঁচকে গেল।
— এটা তো রক্তের দাগ...
তৃধা হঠাৎ কিছু মনে করে বলে উঠল,
— নীল ভাইয়া তো একটু আগে আপেল কাটছিল...
বাকিটুকু শেষ হওয়ার আগেই কিয়ারাএক সেকেন্ডও নষ্ট না করে সিঁড়ির দিকে ছুটে গেল।
দ্রুত নীলের ঘরের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই দেখতে পেল, শান আগের মতোই ফোনে ডুবে আছে। আর নীল বিছানার একপাশে উপুড় হয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। কিয়ারা সোজা নীলের কাছে গিয়ে ওর হাতটা টেনে নিল। পরের মুহূর্তেই ওর বুক কেঁপে উঠল। হাতের তালু আর আঙুলের কয়েক জায়গায় গভীর ক্ষত।
ব্যান্ডেজ তো দূরের কথা, ঠিকমতো পরিষ্কারও করা হয়নি। ক্ষত থেকে ধীরে ধীরে রক্ত বের হয়ে শুকিয়ে গাঢ় দাগ তৈরি করেছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, অনেকক্ষণ ধরে এ অবস্থায় আছে।
— ছোট ভাইয়া!
কিয়ারার আতঙ্কিত চিৎকারে শানও লাফিয়ে উঠে এগিয়ে এলো। হাতের অবস্থা দেখে ওরও চোখ বড় হয়ে গেল।
— এটা কখন হলো?
শানের মাথায় ঢুকছিল না। এত বড় আঘাত নিয়ে একজন মানুষ এতক্ষণ স্বাভাবিকভাবে ঘুরে বেড়াতে পারে কীভাবে? এমনকি এখন নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েও আছে! কিয়ারার কণ্ঠ শুনে নীল ধীরে ধীরে চোখ খুলল। একবার হাতের দিকে তাকায়।
তারপর বিরক্ত মুখে কিয়ারার হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলে,
— নাটক কম কর। বেশি করলে কানের নিচে দুটো বসিয়ে দেব— বের হ।
কিয়ারা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে ব্যথাটা যেন ওর নিজের হাতেই লেগেছে। ওর ছোট ভাইয়া এতটা আঘাত নিয়ে কীভাবে একটুও বিচলিত নয়?
শান বিরক্ত হয়ে বলে,
— তোর কানের নিচে দুটো পড়বে আমার হাতে।
তারপর কিয়ারার দিকে তাকিয়ে বলে,
— কাঁদলে হবে? ফার্স্ট এইড বক্স আনো।
কিয়ারা দ্রুত নিচে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে ফিরে আসে। এদিকে তৃধা ইতোমধ্যে সবার কাছে খবর ছড়িয়ে দিয়েছে।
এক এক করে সবাই ঘরে হাজির। আদি দ্রুত এগিয়ে এসে নীলের সামনে দাঁড়াল।
— এত খারাপভাবে হাত কাটলি কীভাবে?
কোনো উত্তর নেই।
— নীল, শুনছিস?
তবুও কোনো উত্তর নেই। কিয়ারা ক্ষত পরিষ্কার করছে, ব্যান্ডেজ করছে, সবাই প্রশ্ন করছে—কিন্তু নীল যেন কিছুই শুনছে না। চোখ বন্ধ করে চুপচাপ সবার কথা শুনে যাচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত আদি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
— নীল, তোর এই বেপরোয়া জীবনের কোনো লাগাম দিবি না?
নীল ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি টেনে বিড়বিড় করে বলল,
— আমার বেপরোয়া জীবনের একমাত্র লাগাম আমার ব্যক্তিগত পিওনি— আমার রাহামনি।
কথাটা এত আস্তে বলা হয়েছিল যে অধিকাংশই শুনতে পায়নি। ব্যান্ডেজ শেষ হলে কিয়ারা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। আর নীল সঙ্গে সঙ্গেই গম্ভীর কণ্ঠে ঘোষণা দিল,
— আমি মরিনি এখনো এত ভিড় করার দরকার নেই। এখন সবাই বের হও। আমি ঘুমাবো।
দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সামিন বিরক্ত হয়ে ভ্রু কুঁচকে বলল,
— ছেলেটাকে বুঝি না। হাত কেটেছে শুনে সবাই দৌড়ে এসেছে, আর সাহেবের ভাব দেখো!
ঠিক তখনই নিশা সামনে এসে দাঁড়ায়। সামিন পথ আটকে দাঁড়িয়ে থাকায় সে চোখ-মুখ কুঁচকে তাকাল।
— সরবেন?
নিশার কণ্ঠে বিরক্তি স্পষ্ট। সামিন চুপচাপ সরে দাঁড়াল। নিশা হনহন করে বেরিয়ে গেল।
ওর চলে যাওয়া দেখে সামিন মাথা নেড়ে বিড়বিড় করল,
— আরেকটা লিলিপুট! ভদ্রতার নামগন্ধ নেই। দুই ফুটের পিচ্চির ছয় ফুটের ভাব।
এরপর একে একে সবাই বেরিয়ে যেতে লাগল।
সবশেষে দরজার কাছে পৌঁছে শান কিয়ারার দিকে তাকিয়ে বলল,
— কেঁদে কেঁটে নিজের কী অবস্থা করেছে। এই মেয়ে নাকি ভবিষ্যতের ডাক্তার!
কিয়ারা চোখ রাঙিয়ে তাকাতেই শান হেসে দ্রুত দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল। আর ঘরটা আবার নীরব হয়ে গেল। শুধু বিছানায় শুয়ে থাকা নীলের মুখটা অদ্ভুত শান্ত। যেন কিছুই ঘটেনি।
চলবে...