আমার মেয়েটার সাথেই বার বার এমন কেন হচ্ছে। বার বার ওর বিয়ের কথা হয়ে বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে।এই কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন নুর এর মা আয়েশা আক্তার।
মেহেরিমা সিকদার নুর এর বয়স ২০ বছর। সবে মাত্র এইচএসসি পাস করেছে সে। অনেক মেধাবী একজন ছাত্রী নুর। বাবা মায়ের চোখের মণি। স্বভাবে ছোট বেলা থেকে অনেক শান্ত। গত ছয় মাসে তার প্রায় ৪/৫ টা বিয়ের প্রস্তাব এসেছে। তার শান্ত স্বভাবের জন্য তাকে পছন্দ করলেও দিন শেষে তার শ্যামলা গায়ের রঙ এর জন্য মানা করে দেয়। তার গায়ের রঙ শ্যামলা, চোখ গুলোও টানাটানা নয়, নাক অত খাড়া নয়, লম্বায় সে ৫ ফুট ২। এতে তার কোন মাথা ব্যথা নেই। আল্লাহ তাকে যেমন বানিয়েছে সে তাতেই খুশি। চেহারা তার খুব মায়াবী। তার আরেকটা ছোট বোন আছে। তার নাম মরিয়ম। সে ক্লাস নাইনে পড়ে। মার কান্না দেখে নুর তার মায়ের পাশে এসে বসে।
- মা কান্না থামাও তো। যারা চলে গেছে তারা আমার ভাগ্যে ছিলো না।
- বার বার তোর সাথে এমন হচ্ছে তোর খারাপ লাগে না?
- না মা। খারাপ কেনো লাগবে? আল্লাহ আমার জন্য যাকে জুরিদার বানিয়েছে তার সাথে হয়তো এখনো আমার দেখাই হয় নি। তাই সব প্রস্তাব না হয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ তো সবাইকে জোড়ায় তৈরি করেছেন।
মেয়ের কথায় তাল মিলিয়ে নুরের বাবা সিকদার আহমেদ তাদের পাশে বসতে বসতে বলেন,
মেয়ে তো আমার ঠিকই বলেছে। আল্লাহ যখন হুকুম করবেন তখন ঠিক নুরের সঙ্গীকে আমাদের সামনে পাঠিয়ে দিবেন ইন শা আল্লাহ। আর তুমি বার বার কেনো এভাবে বলছো নুরের মা? আল্লাহ নারাজ হবেন না????
নুরের মা আয়েশা এবার তার ভুল বুঝতে পারলেন আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকলেন,
ইয়া আল্লাহ আমার ভুল হয়ে গেছে৷ আমি ধৈর্য হারা হয়ে গিয়েছিলাম। তুমি আমাকে মাফ করে দাও। নিশ্চয়ই তুমি উত্তম পরিকল্পনাকারী।
আয়েশা সবার উদ্দেশ্যে বলেন,
সবাই চলো রাতের খাবার খেয়ে নাও।
খাবার টেবিলে সবাই একত্রে খেতে বসেছে। সিকদার আহমেদ তার দুই মেয়ে কে পাশে নিয়ে খেতে বসেছেন। তিনি তার ছোট মেয়ে মরিয়ম কে জিজ্ঞেস করলেন,
মামুণি তুমি খাবার আগে বিসমিল্লাহ বলেছো ?
মরিয়ম– জ্বি আব্বু বলেছি।
এভাবে তাদের রাতের খাবার শেষ হলো। খাবার শেষে তারা আল্লাহর দেয়া নেয়ামত এর জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে। সিকদার ও আয়েশা তাদের ঘরে চলে যান। আর দুই বোন তাদের রুমে গিয়ে একত্রে এশার নামাজের জন্য দাঁড়ায়। নামাজ শেষে তারা সুরা মূলক পাঠ করে এবং আল্লাহর নাম নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ফজরের আজান শুনে নুরের ঘুম ভেঙে যায়। সে উঠে ওজু করে মরিয়ম কে ডাক দেয় নামাজের জন্য। মরিয়ম ওজু করে আসলে দুই বোন এক সাথে নামাজে দাঁড়ায়। নামাজ শেষে দুই বোন আল্লাহর যিকির করে। একটা নতুন দিনের জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে। সুরা ইয়াসিন পড়ে। তখন দেখে তাদের দরজায় কেউ নক করছে। নুর খুলে দেখে তার বাবা।
- আসসালামু আলাইকুম আব্বু।
- ওয়ালাইকুম আসসালাম আমার মা। তোমরা নামাজ পরেছো?
- জ্বি আলহামদুলিল্লাহ আব্বু পড়েছি।
- মা শা আল্লাহ। যাও তাহলে পড়তে বসো দুইজন।
- জ্বি আব্বু।
সকাল ৭ টায় তারা সকলে নাস্তা খেতে বসেছেন। তখন সিকদার সাহেবের ফোনে একটা মেসেজ আসে। তিনি পড়ে সাথে সাথে সবাইকে বলেন। নুরের অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি তে স্কোলারশিপ হয়েছে। তারা সবাই অনেক খুশি। কিন্তু পর মুহুর্তে সিকদার আহমেদ বলেন,
মাহারাম ছাড়া মেয়েদের একা যাতায়াত নিষেধ। নুর একা যেতে আর থাকতে পারবে না।
সবাই চুপ হয়ে যায়। তিনি পরে বলেন,
মন খারাপের কিছু নেই আমরা সবাই অস্ট্রেলিয়ায় সিফট হবো ইন শা আল্লাহ। এ কথা শুনে সবাই তার দিকে তাকায়। তিনি বলেন ,
– হ্যাঁ আমরা সবাই যাবো মরিয়ম ও ওখানকার স্কুলে পড়বে। আমাদের কোম্পানির একটা ব্রাঞ্চ অস্ট্রেলিয়াতে আছে। সুতরাং কোন সমস্যা হবে না। তোমরা সবাই গোছগাছ শুরু করে দাও।
..............................
অস্ট্রেলিয়ায়
বাবা সাদিফ উঠ না বাবা। দেখ সকাল দশটা বাজে। তুই কি ইউনিভার্সিটি তে যাবি না??? উঠ।
- মা প্লিজ ঘুমাতে দাও।
চলবে................
#হেদায়েতের_নুর
#নাফিসা_বিনতে_সুলতান
পর্ব: ০১
আসসালামু আলাইকুম সবাইকে। এটা আমার লেখা প্রথম গল্প৷ ইসলামিক টপিকে লেখা। লেখায় যদি কোন ভুল হয়ে থাকে আমাকে ক্ষমা করবেন। আর ভুল টা ধরিয়ে দিবেন। প্লিজ কেউ গল্পটি কপি করবেন না। কেমন হলো জানাবেন। ধন্যবাদ।