#হেদায়েতের_নুর
#নাফিসা_বিনতে_সুলতান
পর্ব: ০২
বাবা সাদিফ উঠ না বাবা। দেখ সকাল দশটা বাজে। তুই কি ইউনিভার্সিটি তে যাবি না??? উঠ।
- মা প্লিজ ঘুমাতে দাও।
রায়ান ইসলাম সাদিফ মো: আনিসুর রহমানের বড় ছেলে। সাদিফ এর ছোট একটি বোন আছে নাম সায়মা ইসলাম ওর থেকে ৩ বছরের ছোট। আনিসুর রহমান অনেক পরিশ্রম করে বড় কোম্পানির মালিক হয়েছেন। তার কোম্পানির দিন দিন উন্নতির মাধ্যমে তার দেশ বিদেশে অনেকগুলো শাখা রয়েছে। সাদিফের বয়স যখন দশ আর ছোট বোন সায়মার বয়স যখন সাত আনিসুর রহমান তাদের সবাইকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াতে চলে আসেন। দুই ভাইবোন ছোট থেকে অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশে বেড়ে উঠেছে। ওদের মা নাজমা আক্তার অনেক শান্ত একজন মানুষ। তিনি এত বছর অস্ট্রেলিয়াতে থাকার পর ও সেই পরিবেশে মিশে যান নি। তার সারাটা সময় কাটে আল্লাহর ইবাদাত করে এবং স্বামী সন্তানদের যত্নে৷ নাজমা ছেলেকে ডেকে এসে তার রুমে প্রবেশ করলেন। সেখানে তার স্বামী অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন। নাজমা খাটে বসে স্বামীর উদ্দেশ্যে বললেন,
এই দেশে থেকে আমার ছেলে–মেয়ে দুইজন এই দেশের মানুষের মতো হয়ে গেছে। ওদের চাল চলন কথা বার্তা সব এদেশের মানুষের মতো হয়ে গেছে। ওরা তো আল্লাহ কে ভুলেই গিয়েছে। এক ওয়াক্ত নামাজ পরে না। সারাদিন হারাম নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ক্লাব, পার্টি, নাচ, গান এসব নিয়ে পড়ে থাকে। আমার ওদের জন্য অনেক চিন্তা হয়।
আনিসুর রহমান স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন ,
তুমি অযথাই চিন্তা করছো নাজমা। ওরা এখন ইয়াং জেনারেশন। ওরা তো একটু মজা হই হুল্লোড় করবেই।
নাজমা প্রতিবাদ করে বলেন,
না এটা তুমি ভুল বললে৷ এই বয়সই হলো ইবাদাত করার সঠিক বয়স। এখন না করলে আর কখন করবে?
আনিসুর বলেন,
চিন্তা করো না সব ঠিক হয়ে যাবে।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
বাংলাদেশে
নুর ওর ব্যাগ গুছাচ্ছিল। হঠাৎ পেছন থেকে ওর বেষ্ট ফ্রেন্ড সুমাইয়া এসে ওকে জড়িয়ে ধরে।
- আসসালামু আলাইকুম নুর।
- ওয়ালাইকুম আসসালাম। কখন এলি তুই?
- মাত্রই এলাম। তুই চলে যাচ্ছিস শুনে দৌড়ে এলাম।
- ভালো করেছিস এসেছিস। অনেক খুশি হয়েছি আলহামদুলিল্লাহ।
- আমরা এক সাথে বড় হয়েছি। এক সাথে স্কুল আর কলেজে পড়েছি। এখন তুই আমাকে ছেড়ে আরেক দেশে চলে যাচ্ছিস। আমি একা হয়ে গেলাম। তোকে ছাড়া আমি কিভাবে থাকবো ?
সুমাইয়া কান্না করে দেয়। নুর এসে সুমাইয়াকে জড়িয়ে ধরে। ওরও চোখে পানি চলে এসেছে। ছোট বেলা থেকে একত্রে বেড়ে উঠা ওদের। খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক। সব সময় নিজেদের সুখ দুঃখ ভাগ করে নিয়েছে ওরা।
নুর সুমাইয়াকে শান্ত করানোর চেষ্টা করে এবং বলে,
কান্না করিস না। আল্লাহ আমার ভাগ্যে রেখেছে সেখানে যাওয়া তাই যাচ্ছি। তোর সাথে আমি রোজ ভিডিও কলে কথা বলবো ইন শা আল্লাহ।
- ইন শা আল্লাহ। আমি অনেক খুশি তোর জন্য যে তুই এত বড় একটা সুযোগ পেয়েছিস৷ আল্লাহ তোকে অনেক সফলতা দান করুক আমিন।
রুমের বাহির থেকে নুরের মা আয়েশা ওদের দুইজনকে নাস্তা খাওয়ার জন্য ডাক দেন। ওরা দুইজন একসাথে নাস্তা খেতে যায়। বিকেলে নুরকে জড়িয়ে ধরে বিদায় দিয়ে সুমাইয়া চলে যায় এবং বলে যায় সে অবশ্যই তাকে এয়ারপোর্টে দিতে আসবে। নুরের ফ্যামিলির সব গুছানো শেষ। আগামিকাল তাদের অস্ট্রেলিয়ার প্লেনে উঠার পালা। রাতে সবাই শুয়ে পরলো। আগামী কাল থেকে তাদের জীবনের একটা নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।
...................................
অস্ট্রেলিয়ায়
সাদিফ ঘুম থেকে উঠে ইউনিভার্সিটি তে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে। সাদিফের বয়স ২৩ বছর। সাদিফ ৫ ফিট ১১ লম্বা। ফরসা গায়ের রঙ। মাথার ঘন চুল গুলো কপালে আছড়ে পরে কপাল ঢেকে রেখেছে। ইউনিভার্সিটির প্রত্যেকটা মেয়ে তার জন্য পাগল। এমনকি যে তাকে একবার দেখে তার জন্য পাগল হয়ে যায়। সাদিফ ব্র্যান্ডের জামা জুতা ছাড়া পরেই না। বাবার আদরের ছেলে হওয়ায় বাবা তার কোনো আবদার কে ফেলেন না। দামি গাড়ি দিয়ে চলা তার অভ্যাস। এক জামা এক জুতা সে ২ বার এর বেশি পড়ে না। যেহেতু তাকে সবাই অনেক পছন্দ করে তাই তার ভাব আকাশ ছোয়া। রাগ তার সব সময় নাকের ডগায় থাকে। তার যেটা লাগবে সে সেটা হাসিল করেই ছাড়বে যেভাবেই হোক। সে কখনো হেরে যাওয়া কে মেনে নেয় না। রায়ান ইসলাম সাদিফের একটাই রুলস কখনো হারা যাবে না।
চলবে।
গল্পটা কেমন লাগছে আপনাদের মতামত জানাবেন। আর ভুল হলে আমাকে সংশোধন করবেন। ধন্যবাদ।