ফন্ট সাইজ:
থিম:
হেদায়েতের নুর

৯ম পর্ব

লেখক: নাফিসা বিনতে সুলতানা

#হেদায়েতের_নুর

#নাফিসা_বিনতে_সুলতান

পর্ব: ০৯

সাদিফ যেনো এক ঘোরের মধ্যে চলে গেছে। নুরকে অন্যরকম লাগছে। এক অদ্ভুত মায়া লাগছে ওর চোখে। সাদিফ রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে হা করে নুরকে দেখছিলো। নুর মোনাজাত শেষ করে পাশে তাকায় সাদিফকে ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে চমকে উঠে। সাথে সাথে ভয় পেয়ে যায়। তার চোখ সায়মা কে খুজছে। সাদিফ এখনো তার দিকে তাকানো। সায়মা মাত্র কথা শেষ করে রুমে আসছিলো। নিজের ভাইকে এভাবে রুমের গেইটে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অবাক হয় সে। সায়মা ভাইয়ের কাছে গিয়ে ভাইকে হাত ধরে ঝাকায়৷ সায়মার ঝাকানো তে সাদিফের হুশ আসে। সাদিফ থতমত খেয়ে যায়। সে এতক্ষণ এই মেয়ের দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে ছিলো? কিন্তু কেনো? একটু আগেও না সে তার বন্ধুদের বললো যে এই মেয়ের মধ্যে কোন সুন্দর্য বা মায়া নেই। তাহলে এতক্ষণ কেন এভাবে তাকালো ও? অন্য সময়ের থেকে নামাজ পড়ার সময় নুরকে এক অন্য রকম সুন্দর লাগছিলো ওর চোখে। সাদিফের মাথা কাজ করছে না। ও কি বলছে কি করছে মাথায় ঢুকছে না। সাথে সাথে সেখান থেকে নিজের ক্লাসে চলে যায় সাদিফ। সায়মা এতক্ষণ ওর ভাইকে দেখছিলো। হঠাৎ তার কি হলো? এমন অদ্ভুত ব্যবহার করছে কেন সে? এইসব চিন্তা বাদ দিয়ে সায়মা নুরের দিকে এগিয়ে যায়।

- সায়মা তুমি আমাকে রেখে কোথায় চলে গিয়েছিলে???

- আমার ফোন কল এসেছিলো। তোমার যেনো ডিস্টার্ব না হয় তাই আমি বাহিরে গিয়েছিলাম।

- না জানি তোমার ভাই কতক্ষণ ধরে এখানে ছিলো। এটা কি হলো।

নুর দুই হাত তুলে মোনাজাত ধরে,

ইয়া আল্লাহ আমাকে মাফ করে দাও। আমি খেয়ালই করি নি যে একজন পরপুরুষ আমার দিকে তাকিয়ে আছে। নেক্সট টাইম থেকে আমি নামাজের সময় আরও সতর্ক থাকবো ইন শা আল্লাহ। নুরের চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে গেছে।

- এ কি নুর এই সামান্য বিষয়ের জন্য তুমি কান্না করছো??

- এটা সামান্য বিষয় নয়। একজন পরপুরুষের সামনে নামাজ আদায় করা যায় না।

- আমি আর কখনো তোমাকে একা রেখে যাবো না। আই এম সরি।

- আমারও ভুল ছিলো। আমার আরও বেশি সতর্ক থাকা উচিত ছিলো।

- ক্লাসের জন্য আরও দেরি আছে চলো ক্যান্টিনে যাই।

নূর সায়মার দিকে এগিয়ে এসে সায়মার কাঁধে হাত রেখে বলে,

এই দুনিয়াটা একটা সুন্দর মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই না। আমদের সবাইকে আল্লাহ এই দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন এবং সব শেষে আমাদেরকে তার কাছেই ফিরে যেতে হবে। মৃত্যুর পর সর্বপ্রথম আমাদের নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। তুমি আমার বান্ধুবি। আমি চাই তুমি আমার জান্নাতের সাথী হও। তুমি প্লিজ নামাজ পড়া শুরু করো। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেনো তোমাকে হেদায়েত দান করেন। নিশ্চয়ই হেদায়েত আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে।

সায়মা এতক্ষণ ধরে খুব মনোযোগ দিয়ে নুরের কথা গুলো শুনছিলো। সেও তার ভুল বুঝতে পেরেছে।

- ইন শা আল্লাহ কাল থেকে পড়বো।

নুর মুচকি হাসি দিয়ে তার দিকে তাকায় আর ইন শা আল্লাহ বলে।

সায়মা নুরকে প্রশ্ন করে,

আচ্ছা আমার তো তাহলে এসব ড্রেস পড়া ছাড়তে হবে তাই না?

- হ্যাঁ। তোমার শালীন পোশাক পড়া উচিত যেটা তে তোমার বডি বুঝা যাবে না। ইসলামে প্রত্যেকটা মেয়ের জন্য পর্দা ফরজ। পর্দা আমাদের কে হেফাজতে রাখে৷ ইসলামে মেয়েদের অনেক সম্মান আর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে৷ মেয়েরা অনেক মুল্যবান সম্পদ তাই তো তাদের ঢেকে রাখতে হয়। ধরো তোমার কাছে অনেক স্বর্ণ আর হিরা আছে তুমি কি সেগুলো বাহিরে ফেলে রাখবা?

- অবশ্যই না। এত দামী জিনিস কেনো বাহিরে ফেলে রাখবো ? সেগুলো কে যত্ন করে লোকারে রাখবো।

- মেয়েরাও তেমন মুল্যবান। তাই নিজেকে সুরক্ষা করতে নিজেকে ঢেকে রাখতে হবে৷ আমরা আমাদের স্বামীর আমানত। আমাদের সৌন্দর্য একমাত্র আমাদের স্বামী দেখবে। সেটা কেনো আমরা সবার সামনে তুলে ধরবো??? আচ্ছা ধরো দুটো চকলেট আমি তোমাকে দিলাম। একটার খোসা খুলে মাটিতে ফেললাম আরেকটা খোসা সহ মাটিতে ফেললাম। তুমি কোনটা নিবে?

- অবশ্যই খোসা সহটা।

- কেন?

- কারণ খোসা সহ টা নিরাপদে আছে নষ্ট হয় নি। আর খোসা ছাড়া টাতে ধুলো বালি নানা ধরণের ময়লা লেগেছে। আর অনেক পিপড়া ধরেছে।

- তাহলে চকলেট টা ধুলো বালি আর পিপড়ার কবল থেকে বাচলো কিভাবে??? খোসার কারণে। খোসাটি হচ্ছে চকলেটের পর্দা। ঠিক একই ভাবে মেয়েদের পর্দা মেয়েদেরকে ছেলেদের খারাপ নজর থেকে হেফাজত করে। পর্দা মেয়েদের রক্ষাকবচের মতো। তাই তো আল্লাহ মেয়েদের জন্য পর্দা ফরজ করেছে। তুমি যখন নিজেকে ঢেকে রাখবে তখন তো কেউ তোমাকে খারাপ নজরে দেখতেই পারবে না। আগে নিজেকে নিজে সম্মান করতে হবে। নিজেকে নিজের মুল্যবান মনে করতে হবে তাহলেই তো সবাই তোমাকে মুল্যবান ভাববে। মেয়েদের সবচেয়ে মুল্যবান সম্পদ হচ্ছে হায়া বা লজ্জা৷ এখনকার মেয়েদের মধ্যে থেকে লজ্জা উঠে গেছে বলেই সমাজের এই অবস্থা৷ তারা এখন খোলামেলা পোশাক পড়াকে নিজের অধিকার দাবি করে। অথচ তারা যদি আসলেই নিজেকে সম্মান করতো আর নিজেদের মুল্য বুঝতো তাহলে কখনো নিজেকে দুনিয়ার সামনে এভাবে উপস্থাপন করতো না বরং নিজেকে ঢেকে আড়াল রাখতো। ছেলেদের যেমন নজর নিচু করতে বলা হয়েছে মেয়েদেরও পর্দা করতে বলা হয়েছে। উভয়কেই এই আদেশ মেনে চলতে হবে। ছেলেদের নজর নিচু করতে হবে, নজরকে হেফাজতে রাখতে হবে এবং মেয়েদেরকেও পর্দা করতে হবে। এটা উভয়েরই দায়িত্ব।

- আমি তোমার কথা বুঝতে পেরেছি। আমি আর এসব পোশাক পড়বো না ইন শা আল্লাহ। আমি এতদিন যাবত একটা মিথ্যে নিয়ে বেচে ছিলাম। কিন্তু এখন থেকে আমার আল্লাহর আদেশ–নিষেধ মেনে এবং আমাদের নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর দেখানো পথে চলবো ইন শা আল্লাহ। নুর তোমার থেকে কত কিছু শিখার আছে। তুমি আসলেই একজন আদর্শ মুসলিম।

- আদর্শ মুসলিম হতে পেরেছি কিনা জানি না কিন্তু একজন ভালো মুসলিম হওয়ার জন্য সব সময় চেষ্টা করি। আমি একজন সাধারণ মানুষ। আমিও অনেক ভুল করি। সেগুলো কে আবার শুধরে নেবার চেষ্টা করি। এখনো অনেক কিছু আছে যেগুলো আমি জানি না। এখনো অনেক কিছু শেখার বাকি আছে। এখনো অনেক নিয়ম আছে যেগুলো আমি পালন করতে পারি নি। সেগুলো আসতে আসতে পালন করার চেষ্টা করছি। আল্লাহ আমাদের দুইজনকেই আল্লাহর একজন ইমানদার বান্দা হিসেবে কবুল করে নেক, আমাদের ইমানকে আরও মজবুত করে দেক আমিন।

- আমিন।

চলবে।

আমার লেখায় কোন ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। জাযাকাল্লাহ।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৯ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন