ফন্ট সাইজ:
থিম:
হেদায়েতের নুর

১৭তম পর্ব

লেখক: নাফিসা বিনতে সুলতানা

#হেদায়েতের_নুর

#নাফিসা_বিনতে_সুলতান

পর্ব: ১৭

নামাজ শেষে নুর নিচে আসে। তখন খেয়াল না করলেও এখন নুর চারিদিক খেয়াল করে দেখছে বাড়িটা বিশাল বড় এবং সুন্দরভাবে সাজানো গুছানো। যে কেউ প্রথম বার এসেই বলতে পারবে এই বাড়ির মালিক বেশ সৌখিন। সায়মা নুরকে দেখে বলে তোমাকে তো বাড়িটাই ঘুরিয়ে দেখানো হলো না। চলো ঘুরে ঘুরে দেখাই। সায়মা নুরের হাত ধরে পুরো বাড়ির প্রত্যেকটা কোণা দেখাচ্ছে। সায়মা যখন সাদিফের রুমের কাছে যায় নুর বলে উঠে সে যাবে না। দরকার নেই। সায়মা ও আর জোর করে না অন্যদিকে নিয়ে যায়। সব শেষে বাড়ির গেরেজে নিয়ে যায় নুরকে। নুর তো এখানে এসে পুরা অবাক। পুরোটা গেরেজে অনেক গুলো দামি দামি ব্রেন্ডের গাড়ি দিয়ে ঘেরা।

নুর: এতগুলো গাড়ি?

সায়মা: ভাইয়ার সব গুলো। ভাইয়া গাড়ি খুব পছন্দ করে৷ নামিদামি ব্রেন্ডের সব ফেমাস গাড়িগুলো ভাইয়ার কাছে আছে। নতুন মডেল বের হলেই ভাইয়া কিনে ফেলে। ভাইয়ার অনেক শখের জিনিস বলতে পারো।

নুর: ও আচ্ছা। কিন্তু আমার কাছে এগুলো অপচয় মনে হয়। এত গুলা তো প্রয়োজন ও না তাও কিনে ফেলে রাখা অপচয় নয় তো কি?

সায়মা: হুম কি আর করার ভাইয়ার শখ। ভাইয়ার একটা বাইক ও আছে৷ কিন্তু তেমন একটা চালায় না। কারণ ভাইয়ার বাইকের থেকে গাড়ির নেশা বেশি৷ প্রায় সময়ই ভাইয়া রাতে একা লং ড্রাইভে বের হয়ে যায় গাড়ি নিয়ে।

ওদের কথার মাঝখাবেই নাজমা আক্তারের ডাক পড়ে নাস্তার জন্য।

সায়মা: চলো আম্মু ডাকছে।

দুইজন ভিতরে এসে সোফায় বসে। নাজমা আক্তার সাদিফকেও নাস্তার জন্য ডাক দেন। সাদিফ অন্য একটি সোফায় বসে নাস্তা করতে থাকে।

নুর অনেক্ক্ষণ নাজমা আক্তারের সাথে গল্প করে। দুই জনের মধ্যে বেশ ভালোই জমেছে। কথার মাঝে হঠাৎ নুরের ঘড়ির দিকে চোখ যায়।

নুর: আন্টি আমার এবার যেতে হবে সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে। আব্বু আম্মু চিন্তা করবে।

নাজমা আক্তার : হ্যাঁ। তুমি কীভাবে যাবে? সাদিফ তোমাকে বাসায় দিয়ে আসুক।

মায়ের কথা শুনে সাদিফ একবার নুরের দিকে তাকায়। নুরও সাদিফের দিকে তাকায়। দুইজনের চোখাচখি হয়ে যায়। নুর সাথে সাথে চোখ সরিয়ে নেয়।

নুর: আমি কিছুক্ষণ আগে আমাদের ড্রাইভার আংকেলকে কল করেছি। এসে পড়বে উনি। সমস্যা নেই আন্টি।

কথার মধ্যেই নুরের ফোনে কল আসে।

নুর: এইযে ড্রাইভার আংকেল কল করছেন। এসে পড়েছেন উনি। আজ তাহলে আসি আন্টি। অনেক ভালো লাগলো আপনার সাথে পরিচিত হয়ে।

নাজমা আক্তার : আমারও অনেক ভালো লেগেছে তোমার সাথে পরিচিত হয়ে। কি মিষ্টি মেয়ে মা শা আল্লাহ। আবার এসো। আমি তোমার অপেক্ষায় থাকবো।

নুর: ইন শা আল্লাহ। আজ তাহলে আসি। আল্লাহ হাফেজ।

নাজমা আক্তার : আল্লাহ হাফেজ।

সায়মা নুরকে গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে যায়। নুর গাড়িতে করে বাসায় চলে আসে।

*************************************

বাসায় এসে নুর কিছুক্ষণ রেস্ট নেয় এর মধ্যে মাগরিবের নামাজের সময় হয়ে যায় তাই সে ওযু করে নামাজ আদায় করে। রাতের খাবার খাওয়ার সময় ডাইনিং টেবিলে তাদের শিক্ষা সফরের কথা বলে। নুরের মা বাবা তাকে সাবধানে যেতে বলেন। খাওয়া শেষ করে এশার নামজ পড়ে যে যার রুমে ঘুমানোর জন্য চলে যায়।

আজ ফজরের নামাজের পর নুর আর ঘুমায় নি। সে রেডি হতে বসেছে। ৮ টায় তাদের বাস ছাড়বে ৭:৩০ এর মধ্যে তাকে ইউনিভার্সিটিতে পৌছাতে হবে। নুর সেদিনের কেনা লেভেন্ডার কালারের বোরকা আর হিজাব টা পড়ে নেয়। মুখে সান্সক্রিম, চোখে সুরমা, আর হাল্কা গোলাপী লিপ বাম দিয়ে রেডি হয়ে যায়। হাতে ঘড়ি পড়ে হ্যান্ড ব্যাগটা গুছিয়ে নেয়। সেদিনের কেনা হিল জুতা পড়ে নেয়।

নুর: এই সায়মার জন্য কি কি করতে হচ্ছে। কতবার করে বললাম যে হিল না নিতে। কিন্তু কে শুনে কার কথা।

রেডি হয়ে নুর বের হয়ে যায় ইউনিভার্সিটির উদ্দেশ্যে।

*************************************

ইউনিভার্সিটির মাঠে বড় তিনটি বাস এসে অপেক্ষা করছে। বাসের চারিদিকে ছাত্র ছাত্রীদের হৈ-হুল্লোড় লেগেই আছে। নুর গাড়ি থেকে নেমেই সায়মা কে খুজতে লাগে। কিছুক্ষণ খোজার পর পেয়েও যায়। সায়মা ও তার মতো লেভেন্ডার কালার বোরকা হিজাব আর সেইম হিল জুতা পড়েছে।

সায়মা: আসসালামু আলাইকুম।

নুর: ওয়ালাইকুম আসসালাম৷ আরে আমাদের তো পুরো সেইম সেইম লাগছে।

সায়মা: হ্যাঁ এর জন্যই তো সেইম নিয়েছি।

সাদিফ ব্রু কুচকে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে। টিচার সবাইকে গাড়িতে উঠতে বললে সবাই উঠে পড়ে৷ সায়মা আর সাদিফ এক সাথে বসেছে। ওদের সামনের সিটে নুর বসেছে জানালার পাশে। নুরের পাশের সিটটা খালি। গাড়ি নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। প্রায় ২ ঘন্টা টানা যাওয়ার পর গাড়ি থামে ৫ মিনিটের জন্য। সেই সময় যার যার প্রয়োজন তারা বাহিরে গিয়েছে। সায়মা সাদিফকে একটা কোল্ড ড্রিংকস এর বোতল এনে দিতে বলে। সাদিফ গিয়ে নিয়ে আসে। সাদিফ যখন আসছিলো তখন বাস ছাড়ার সময় হয়ে গিয়েছিলো। তাই সাদিফ তাড়াতাড়ি উঠে বসে পড়ে। সিটে হেলান দিয়ে সাদিফ জোড়ে জোড়ে শ্বাস নিতে থাকে দৌড়ে আসার কারণে। সাদিফ চোখ বন্ধ অবস্থাতেই পাশে সায়মার দিকে কোল্ড ড্রিংকসের বোতল টা এগিয়ে দেয়। কিছু সময় অতিক্রম হওয়ার পরও সায়মা সেটা নিচ্ছে না দেখে সাদিফ বিরক্ত হয়ে পাশে তাকিয়ে বলে– কি হলো নিচ্ছিস না কেন আজব?

পাশে তাকিয়ে সাদিফ থতমত খেয়ে যায়। পাশে সায়মা না নুর বসা।

সাদিফ: নুর তুমি এখানে এলে কিভাবে? তোমার জায়গা ছেড়ে?

নুর: আমি আপনার সিটে নয় বরং আপনি আমার সিটে এসে বসেছেন। ব্রু কুচকে নুর কথা টা বলে।

সাদিফ পিছনে ঘুরে দেখে আসলেই সায়মা পিছে বসা। সাদিফ নুরকে সরি বলে পিছনে চলে যায়।

সাদিফ: আরে দুইজন পুরা সেইম গেটাপে এসেছে কে যে কোনটা বুঝতেই পারছি না ধুর। (মনে মনে)

আরও এক ঘন্টা জার্নির পর তারা তাদের লোকেশনে পৌছায়। যেয়ে যে যার মতো ঘুরাঘুরি আনন্দে মেতে উঠে।

তাদের সবার আশেপাশে টিচাররা আছেন। নুর আর সায়মা এক সাথে হাটছিলো আর জায়গাটা ঘুরে ঘুরে দেখছিলো। সায়মার তেমন অসুবিধা না হলেও নুরের হিল পড়ে হাটতে কষ্ট হচ্ছিলো। সাদিফ দূর থেকেই সেটা লক্ষ্য করে।

সাদিফ: ওর পাশেই যে মেয়েটার হাটতে সমস্যা হচ্ছে সায়মা সেটা খেয়াল করছে না কেনো?

সাদিফ সেই মুহুর্তে আশেপাশে তাকয়ে কিছু খুজছে থাকে। সে পেয়েও যায়। সাদিফ হেটে সেখানে যায়। সাদিফ একটা জুতার দোকানে গিয়ে ঢুকে। সেখান থেকে দুই জোড়া কেডস কিনে সে। সায়মা যখন তার আম্মুকে সেদিন শপিং গুলো দেখাচ্ছিলো সেদিন বলেছিলো ওর আর নুরের পায়ের মাপ এক। সাদিফ তখন সেখানেই বসে ছিলো তাই সে শুনেছিলো কথা টা। তাই সেইম সাইজের দুটো কেডস কিনে সেখান থেকে বেড়িয়ে গেলো সাদিফ।

নুরদের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় সাদিফ।

হঠাৎ সাদিফকে দেখে দুইজনই চমকে যায়।

সায়মা: কি হয়েছে ভাইয়া?

সাদিফ: যেটা পড়তে পারিস না অসুবিধা হয় সেটা পড়িস কেন? রাগ নিয়ে কথাটা সাদিফ সায়মা কে বলে কিন্তু চোখ তার ছিলো নুরের দিকে যেনো কথাটা আসলে নুরকে বলছে।

সায়মা: কই ভাইয়া আমি কিছু বুঝতে পারছি না।

সাদিফ: হিল পড়ে যখন হাটতে পারিস না তাহলে পড়েছিস কেন? ধমক দিয়ে বললো সাদিফ। এবারো চোখ তার নুরের দিকে।

সায়মা: কই না তো ভাইয়া। কোন সমস্যা হচ্ছে না তো।

সাদিফ: চুপ মুখে মুখে তর্ক করবি না। এই বেঞ্চে বস আমি কেডস নিয়ে এসেছি।

সায়মা: ভাইয়া.....

সাদিফ: একটা কথাও না। নুর তুমি ও বসো। তোমার জন্য ও কেডস এনেছি।

নুর: না আমার লাগবে না।

সাদিফ: লাগবে কি লাগবে না আমি জিজ্ঞেস করি নি বসো বলছি চুপচাপ। ধমক দিয়ে।

দুইজন বেঞ্চে বসে পড়ে।

সাদিফ ওদের সামনে কেডস দুটো রাখে আর ইশারা করে পড়ার জন্য । সাদিফ যে মানুষ কেডস না পড়লে ও এখান থেকে যাবে না তাই দুইজনই হিল খুলে কেডস পড়ে নেয়। সাদিফ দুইজনের দুই জোড়া হিল জুতা দুই হাতে নেয়। নুর সাথে সাথে দাঁড়িয়ে বলে– একি আপনি জুতা হাতে নিয়েছেন কেন? আমাকে দিন আমি নিচ্ছি৷

সাদিফ নুরের দিকে তাকিয়ে একটি মুচকি হাসি দিয়ে চলে যায় কিছু বলে না৷ সাদিফ কে মুচকি হাসি দিতে দেখে নুর থতমত খেয়ে যায়। ভিতর টা তার ধক করে উঠে। নুর সাদিফের দিকে তাকায় সাদিফ দুই হাতে দুই জোড়া জুতা নিয়ে দিব্বি ঘুরাঘুরি করছে। নুর অবাক হয়ে সেদিকে তাকিয়ে থাকে।

নিক : কিরে সাদিফ? হাতে মেয়েদের জুতা নিয়ে ঘুরছিস কেন? তাও আবার দুইটা? কাদের জুতা এগুলো?

সাদিফ মুচকি হাসি দিয়ে মনে মনে বলে– একটা আমার বোনের আরেকটা আমার প্রিয়তমার। যে এখনো নিজেই জানে না সে যে আমার প্রিয়তমাতে পরিনত হয়েছে। যখন দেখলাম নুরের হিল পড়ে হাটতে কষ্ট হচ্ছে আমার আর কিছু ভালো লাগছিলো না। শুধু মাথায় ঘুরছিলো কি করা যায়। তাই জুতার দোকান খুজছিলাম আর পেয়েও যাই। আমি জানি নুরের জন্য কেডস নিয়ে গেলে ও কখনো পড়বে না তাই সায়মার জন্য ও নিয়ে যাই। যাতে দুইজন কে এক সাথে ধমক দিলে পড়ে নেয়।

এসব ভাবতে ভাবতেই আনমনে হাসে সাদিফ।

চলবে।

রিচেক দিতে পারি নি। বানান ভুল হলে ক্ষমা করবেন। এই প্রথম এত বড় করে পর্ব লেখার চেষ্টা করেছি।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন