#হেদায়েতের_নুর
#নাফিসা_বিনতে_সুলতান
পর্ব:১৮
নুর এখন আরাম করে হাটতে পারছে আর সায়মার সাথে ঘুরছে। এতক্ষন পর নুরকে হাসিখুশি দেখে সাদিফ মুচকি হাসলো।
নিক: কি ব্যাপার সদিফ? হাতে দুই দুইটা জুতো নিয়ে ঘুরছিস।
সিড: আরে নিক বুঝিস না সব বাজির জন্য করছে। বাজি জিততে হবে না?
নিক: ওহ হ্যাঁ। ওর তো বাজি জিততেই হবে কারন রায়ান ইসলাম সাদিফ কখনো হারে না।
সাদিফ: তোরা কি মজা নিচ্ছিস?
সিড: তুই কেন নূরের পিছে উঠে পড়ে লেগেছিস? এসব বাজি বাদ দে ভাই।
সাদিফ নূরের দিকে তাকিয়ে নূরকে দেখছে। নুর সায়মার সাথে গল্প করছে আর একটু পর পর হাসছে। নূরের দিকে তাকিয়েই সাদিফ উত্তর দিলো - অনেক আগেই বাজি ছেড়ে দিয়েছি। জীবনে এই প্রথম রায়ান ইসলাম সাদিফ হারতে যাচ্ছে কিন্তু এটা নিয়ে আমার বিন্দু পরিমাণ আফসোস নেই।
সিড: মানে কি বলতে চাচ্ছিস তুই?
নিক: তুই কি নূরকে ভালোবেসে ফেলেছিস?
সাদিফ: হুম এই সাদিফ নূরকে ভালোবেসে ফেলেছে। জানি না কখন অভিনয় করতে করতে সত্যিকারে ওকে ভালোবেসে ফেলেছি। ওর প্রতি আমি অদ্ভুত একটা টান অনুভব করি। ও আমার আশেপাশে থাকলেও আমার শান্তি লাগে। আমি জীবনে অনেক মেয়েকে ডেট করেছি কিন্তু কোনদিনও ওদের মধ্যে থেকে কাউকে ভালবাসি নি। ওরা আমার কাছে ছিলো টাইমপাস। কিন্তু নূরকে প্রথম দেখার পর থেকেই আমি এক অদ্ভুত টান অনুভব করি। প্রথমে এটা আমি মানতে না চাইলেও এটাই সত্যি। আমি ওকে হালাল ভাবে পেতে চাই বউ হিসেবে গার্লফ্রেন্ড হিসেবে না।
নিক: তুই কি সিউর?
সাদিফ: হ্যাঁ ১০০% সিউর।
সিড: ওকে তোর মনের কথা কবে বলবি?
সাদিফ: বলতে আমি সব সময়ই চাই কিন্তু পারছি না। ওর সাথে তো কথাই বলতে পারি না। আমাকে দেখলেই মাথা নিচু করে ফেলে চলে যায়।
নিক: তোর তাড়াতাড়ি বলে দেয়া উচিত।
সাদিফ: হ্যাঁ বলবো ইন শা আল্লাহ্।
****************************************
সারাদিন ঘুরাঘুরি করে সন্ধ্যার সময় সবাই বাসে উঠে এবং বাস রওনা দেয় ইউনিভার্সিটির উদ্দেশ্যে। সারাদিন ঘুরাঘুরি করে সবাই বেশ ক্লান্ত। কয়েক ঘণ্টার পর বাস ইউনিভার্সিটি তে পৌছায়। সবাই বাস থেকে নেমে টিচার দের থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় চলে যায়। নুর গাড়ি পাঠানোর জন্য কল দিতে যাবে কিন্তু সায়মা দেয় নি। সে জোর করে নূরকে নিজেদের গাড়িতে করে পৌঁছে দিবে বলেছে। সায়মার সাথে না পেরে অবশেষে নুর রাজি হয়েছে। সাদিফ গাড়ি চালাচ্ছে তার পাশে সায়মা বসা নুর পিছনের সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে আছে।
সাদিফ গাড়ি চালানোর ফাঁকে ফাঁকে নূরকে মিরর এ দেখছে। নূরের বাড়ির সামনে গাড়ি পার্ক করে সাদিফ । ওরা চলে যেতে চেয়েছিলো কিন্তু নুর যেতে দেয় নি জোর করে বাসায় নিয়ে গেছে। কলিং বেল চাপতেই মরিয়ম এসে গেইট খুলে দেয়। সালাম দিয়েই বোনকে জড়িয়ে ধরে। বোনের পাশে আরও দুইজনকে দেখে মরিয়ম নূরকে ছেড়ে দেয়।
আয়েশা আক্তার: নুর এসে গেছিস মামুনি।
সাদিফ, সায়মা - আসসালামু আলাইকুম আন্টি।
নুর: আম্মু তোমাকে যে আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড এর কথা বলি সে সায়মা আর উনি সায়মার বড় ভাই।
আয়েশা আক্তার: ওয়ালাইকুম আসসালাম। ভেতরে আসো তোমরা।
সবাই ভিতরে এসে সোফায় বসে।
আয়েশা আক্তার: তোমরা বসো আমি আসছি এক্ষুনি।
সিকদার আহমেদ: আরেহ আমার মা চলে আসছে।
নুর বাবার আওয়াজ পেয়ে দৌড়ে বাবার কাছে গিয়ে বাবা কে জড়িয়ে ধরে সালাম দেয়। তিনি সালামের উত্তর দিয়ে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। তখন সোফায় বসা দুজনের দিকে তার নজর যায়।
নুর: আব্বু ও সায়মা আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড এর পাশের জন সায়মার বড় ভাই।
সায়মা,সাদিফ- আসসালামু আলইকুম।
সিকদার আহমেদ: ওয়ালাইকুম আসসালাম। বসো তোমরা। কেমন আছো তোমরা?
সায়মা,সাদিফ- আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?
সিকদার আহমেদ: আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
সায়মা: অনেক রাত হয়ে যাচ্ছিলো নুর গাড়ির জন্য আবার ওয়েট করবে তাই আমরাই বাসায় নিয়ে এলাম।
সিকদার আহমেদ: ভালো করেছো তোমাদেরকে অনেক ধন্যবাদ। জাযাকআল্লাহু খাইরান।
সাদিফ এই যে মাথা নিচু করে বসেছে এখনো মাথা নিচু করেই বসে আছে। প্রচণ্ড নার্ভাস ফিল করছে সে। এরকম আগে কখনো লাগে নি।
সিকদার আহমেদ এবার সাদিফের দিকে তাকালেন।
সিকদার আহমেদ: তোমার নাম কি ইয়াং ম্যান ?
সাদিফ মাথা তুলে উত্তর দেয় - রায়ান ইসলাম সাদিফ।
সিকদার আহমেদ: কি করো তুমি?
সাদিফ: জ্বি আমি সায়মাদের ইউনিভার্সিটিতেই পড়ি ৩য় বর্ষে।
সিকদার আহমেদ: মা শা আল্লাহ্। খুব ভালো। মনযোগ দিয়ে পড়বে কেমন।
সাদিফ: জ্বি ইন শা আল্লাহ্।
উনাদের গল্পের মাঝেই আয়েশা আক্তার নাস্তা নিয়ে আসেন। নাস্তা করে ওরা বিদায় নিয়ে বাসায় চলে যায়।
*********************************
এভাবেই দিন পার হতে থাকে। সাদিফ দুর থেকেই নূরকে দেখে। এখনো নুর প্রয়োজন ছাড়া সাদিফের সাথে কথা বলে না। সাদিফ ওর মনের কথা বলার জন্য অস্থির হয়ে যাচ্ছে কিন্তু পারছে না কোনোভাবেই। সাদিফ দুর থেকেই নূরের অনেক যত্ন করে। একদিন নুর ক্যান্টিনে পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়েছিলো সাদিফ নিজের ওভারকোট নূরের গায়ে দেয় যাতে ঠান্ডা না লাগে। কিছুক্ষন নূরের ঘুমন্ত চেহারার দিকে তাকিয়ে থেকে নিঃশব্দে চলে যায় ।
ঘুম থেকে উঠে নিজের গায়ে হঠাৎ এভারকোট দেখে নুর ভরকে যায়। পড়ে বুঝতে পারে এটা সাদিফের। নুর ঠিকই বুঝতে পারে সাদিফের কেয়ারগুলো। দিন দিন তার মনও সাদিফের জন্য নরম হচ্ছে। এই চিন্তায় নুর আরও বেশি সাদিফকে এভয়েড করছে। রাতে নামাজে কান্না করছে কেনো তার মন সাদিফের জন্য নরম হচ্ছে। সে কোনধরনের হারামে জড়াতে চায় না। আল্লাহ যেনো তাকে সাহায্য করে সঠিক পথ দেখায় সেই দুয়া করছে সে দিন রাত।
ক্লাস শেষে নুর লাইব্রেরির দিকে যাচ্ছিলো তখন পিছন থেকে সাদিফ তাকে ডাক দেয়।
সাদিফ: নুর দাঁড়াও।
নুর পিছনে ফিরে মাথা নিচু করে বলে– কিছু বলবেন?
সাদিফ: তোমাকে আমি অনেকদিন যাবত একটা কথা বলতে চাচ্ছি। অনেক অপেক্ষা করেছি । আজ বলবো ।
নুর ব্রু কুচকে সাদিফের দিকে তাকায়।
সাদিফ: আমি তোমাকে ভালবাসি নুর। বিশ্বাস করো আমি তোমাকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি।
নুর অবাক হয়ে সাদিফের দিকে তাকায়। নূরের হার্ট অনেক জোরে বিট করছে এই মুহূর্তে। সাদিফের ও হার্ট জোরে বিট করছে ।সে নূরের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।
নুর নিজেকে শান্ত করে বললো – দেখুন আমি কোনো হারামে যেতে পারবো না। আমার এসব পছন্দ না।
সাদিফ: তোমাকে হারামে যেতে কে বলেছে? আমি তো তোমাকে আমার গার্লফ্রেন্ড হতে বলি নি।
নুর প্রশ্নবোধক চোখে তাকায় সাদিফের দিকে।
সাদিফ: আমি তোমাকে ভালবাসি। তুমি আমার সম্পর্কে কি ভাবো আমি সেটা জানতে চাচ্ছি। তাহলে আমি পরের পদক্ষেপের কথা ভাববো।
নুর কিছুক্ষন চুপ করে থেকে সাদিফের উদ্দেশ্যে বলে– আপনি আমার বাবার সাথে কথা বলুন।
সাদিফ: এটাকে কি আমি হ্যাঁ ধরে নিবো যে তুমিও আমায় পছন্দ করো?
নুর এক সেকেন্ডের জন্য সাদিফের দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করে মুচকি হাসে।
নূরের উত্তর হ্যাঁ বুঝতে পেরে সাদিফের বুক ৩ গুণ জোরে বিট করছে । সে খুশীতে দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে।
সাদিফ: আমি আজকালের মধ্যেই তোমার বাবার সাথে দেখা করবো ইন শা আল্লাহ্।
পিছন থেকে হাতে তালি এবং শিশ বাজানোর শব্দে সাদিফ আর নুর পিছনে তাকায়। ফ্রেড ও তার বন্ধুরা শিশ দিতে দিতে আসছে। ওদের দেখে অজানা ভয়ে সাদিফের বুক কাপতে শুরু করে । নুর মনে মনে ভাবছে এরা এমন করছে কেনো?
ফ্রেড: মানতে হবে রে রায়ান ইসলাম সাদিফ কখনো হারে না । তুই বাজি জিতেছিস ভাই।
চলবে।
আজ অনেক দিন পর পর্ব দিলাম। ইন শা আল্লাহ্ রেগুলার দেয়ার চেষ্টা করবো ।🫶✨