ফন্ট সাইজ:
থিম:
হেদায়েতের নুর

২৯তম পর্ব

লেখক: নাফিসা বিনতে সুলতানা

#হেদায়েতের_নুর

#নাফিসা_বিনতে_সুলতান

পর্ব:২৯

কান্না করতে করতে এক পর্যায়ে নুর ঘুমিয়ে যায়। সাদিফ ছাদে দোলনায় বসে নির্ঘুম রাত কাটায়। হালকা হালকা শীত পড়তে শুরু করেছে। মধ্যরাতে ভালোই ঠাণ্ডা পড়ে। ফজরের ওয়াক্ত হলে মোবাইলের এলার্মের শব্দে নূরের ঘুম ভেঙে যায়। প্রচণ্ড মাথা ব্যথা নিয়ে নূর ঘুম থেকে উঠে। অতিরিক্ত কান্নার ফলে মাথা ব্যথা হয়েছে। নূর আসেপাশে তাকিয়ে দেখে সাদিফ রুমে নেই। ওয়াশরুমের দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে দরজাও লক করা। তাহলে কোথায় গেলো লোকটা? রাতে সেই যে বাহিরে বের হয়ে গেলো আর কি রুমে আসে নি? নূরের চিন্তা বাড়তে থাকে। এমন সময় রুমের দরজা খোলার শব্দ হয়। নুর তাকিয়ে দেখে সাদিফ রুমে প্রবেশ করছে। সাদিফ রুমে ঢুকে সামনে তাকাতেই নূরকে দেখতে পায়। বিছানায় বসে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। নূরের চোখ ফুলে গেছে অতিরিক্ত কান্নার ফলে। সাদিফ সেটা বুঝতে পারে। কিন্তু কিছু বলে না। অন্যদিকে নূর সাদিফকে ভালোভাবে লক্ষ্য করে কেঁপে উঠে। সাদিফের চোখ ফুলে লাল টকটকে হয়ে আছে, গাল ,নাক ও লাল। মাথার চুল এলোমেলো হয়ে আছে । অনেক অস্বাভাবিক লাগছে সাদিফকে দেখতে। সাদিফ কোনো কথা না বলে ওয়াসরুমে চলে যায়। ওযু করে মাথার টুপি নিয়ে বের হয়ে যায় মসজিদে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। নূর কিছুক্ষন পর ওযু করে এসে নামাজ পড়ে নেয়। নামাজ শেষে নূর জায়নামাজে বসে যিকির করছিলো। মনটা তার অনেক ভার হয়ে আছে। এমন সময় সাদিফ রুমে প্রবেশ করে। নূরের সাথে কোনো কথা না বলে বিছানায় এক কোনায় শুয়ে পড়ে। নূর সেই দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে আবার যিকির পড়ায় মনোযোগ দেয়। দশ পনেরো মিনিট পর উঠে জায়নামাজ ভাঁজ করে খাটের পাশে যায়। সাদিফের দিকে তাকিয়ে দেখে সাদিফ ঘুমিয়ে গেছে। খাটে বসে নূর কিছুক্ষণ সাদিফের দিকে তাকিয়ে থাকে। ছেলেটার চেহারাটা এক রাতেই মলিন হয়ে গেছে। দেখতে অনেক ক্লান্ত লাগছে। নূর তাকে কষ্ট দিতে চাই নি। কিন্তু নিজের ইন্সিকিউরিটির সাথে পেরে উঠতে পারে নি। নূর চিন্তা করলো ঘুম থেকে উঠে সকালে সাদিফের সাথে কথা বলবে। নুর খাটের আরেক কোণায় চুপ করে শুয়ে পড়লো।

কিছুক্ষণ পর রুম থেকে কেমন যেনো শব্দ শোনা যাচ্ছিলো। নূর আশেপাশে তাকিয়ে খুঁজতে লাগলো কই থেকে শব্দ আসছে। হঠাৎ তার চোখ পড়লো সাদিফের দিকে। সাদিফ গোঙাচ্ছে। নূর চমকে উঠলো। সাথে সাথে সাদিফকে ডাকার জন্য ঝাঁকাতে লাগলো তখন খেয়াল করলো সাদিফের শরীর প্রচন্ড গরম। জ্বরে শরীর পুড়ে যাচ্ছে। নুর কি করবে বুঝতে পারছে না। তার মাথা কাজ করা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এদিকে সাদিফের গোঙানো বেড়েই চলেছে। নুর আর এক সেকেন্ডও দেরী না করে নাজমা আক্তার কে ডাকতে গেলো। রুমে দুইবার টোকা দেয়ার সাথে সাথে তিনি দরজা খুলে দিলেন। নূরকে এমন ঘাবড়ানো অবস্থায় দেখে তিনি জিজ্ঞেস করলেন,

কি হয়েছে নূর? তুমি এমন ঘামছো কেনো?

নূর নাজমা আক্তারের হাত ধরে বললো,

মা তাড়াতাড়ি আসুন উনি কেমন জানি করছেন। উনার শরীরে প্রচুর জ্বর।

নাজমা আক্তার নূরের কথা শুনে থমকে গেলেন। তিনি নূরকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে দৌঁড়ে নুরদের রুমে গেলেন। রুমে গিয়েই তিনি সাদিফের এই অবস্থা দেখে কান্না করে দিলেন। সাথে সাথে ছেলের গায়ে হাত দিয়ে দেখলেন প্রচন্ড জ্বর। তাদের শব্দে আনিসুর রহমান এবং সায়মা ও এই রুমে এসেছে। ছেলের এই অবস্থা দেখে তিনি নাজমা আক্তার কে বললেন,

নাজমা তুমি ওর মাথায় জলপট্টি দাও আমি ডাক্তারকে কল করছি।

তিনি স্বামীর কথা মতো সাদিফকে জলপট্টি দেয়া শুরু করলেন। এইসবের মাঝে সায়মা খেয়াল করলো নূর এক কোণায় দাঁড়িয়ে কান্না করছে।

সায়মা নূরকে নিয়ে নিজের রুমে গিয়ে প্রশ্ন করলো,

কি হয়েছে নূর? ভাইয়ার হঠাৎ জ্বর আসলো কিভাবে? আর তোমাকেও অনেক অস্বাভাবিক লাগছে চোখমুখ ফুলে আছে। গতরাতে তোমাদের রুম থেকে চিল্লানোর আওয়াজ ও আসছিলো। সব ঘটনা খুলে বলো আমাকে।

নূর কান্না করতে করতে সায়মা কে সব খুলে বলে। নূরের কথা শুনে সায়মা মাথায় হাত দিয়ে খাটে বসে পড়ে। কিছুক্ষণ পর বলে,

তুমি কি পাগল নূর? তুমি কি ছোট বাচ্চা যে ভালোমন্দ বুঝো না? যে তোমাকে যাই বলবে তাই বিশ্বাস করবে??

নুর নিশ্চুপ। কি উত্তর দিবে সে জানা নেই।

সায়মা আবারও বলতে শুরু করে,

তুমি কি এতই অবুঝ যে ভাইয়ার দেয়া ইফোর্টস গুলো তোমার চোখে পড়ছে না? তুমি তো ভাইয়ার সাথে ৫ মাস ধরে সংসার করছো। ভাইয়ার পরিবর্তন লক্ষ্য করছো না? ভাইয়ার চোখই বলে দেয় সে তোমাকে ঠিক কতটা ভালোবাসে সেই চোখের ভাষা পড়তে পারছো না? তোমাকে বিয়ে করার জন্য আব্বুর কাছে তোমার বাবার কাছে কি পরিমাণ কান্নাকাটি করেছে সে সবই কি নাটক? কথা বলছো না কেনো?

নুর এখনো চুপ মুখে কোনো কথা নেই শুধু কান্নার বেগটা বেড়ে গেছে ।

সায়মা নূরের সামনে দাঁড়িয়ে বলে,

তুমি যখন ভাইয়ার কোনো কথা না শুনে বাংলাদেশে চলে গিয়েছিলে ভাইয়া এমন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো । হাসপাতালেও ভর্তি থাকতে হয়েছিলো । কি কারণে জানো? অতিরিক্ত মানসিক চাপ নেয়ার কারণে। ডাক্তার তখন বলেছিলেন ভাইয়া যেনো অতিরিক্ত মানসিক চাপ না নেয়। কিন্তু কালকের ঘটনায় ভাইয়া আবার সেই চাপ নিয়েছে। তাই ভাইয়ার এখন এই অবস্থা। ওই মেয়ে তোমাকে কি না কি বললো আর তুমি সেটা বিশ্বাস করে ভাইয়াকে অবিশ্বাস করলে? ভাইয়া মনে অনেক বেশি আঘাত পেয়েছে ।

সায়মা আর কিছু বললো না রুম থেকে বের হয়ে গেলো।

নূর ফ্লোরে বসে কান্নায় ভেঙে পড়ে। সে সাদিফকে কষ্ট দিতে চাই নি কিন্তু পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে এমনটা করে ফেলেছে । কিছুক্ষণ পর তার কান্নার বেগ কমলে সে নিজের রুমে যায়। সেখানে সবাই উপস্থিত আছে।

আনিসুর রহমান ডাক্তারকে নিয়ে প্রবেশ করে। ডাক্তার চেকআপ করার পর বলেন,

উনি কোনো কিছু নিয়ে অতিরিক্ত মানসিক চাপ নিয়েছেন এবং হয়তো এই ঠাণ্ডায় সারারাত বাহিরে ছিলেন তাই দুটো মিলে তার শরীরে প্রভাব ফেলেছে। ওনাকে ইনজেকশন পুশ করে দিয়েছি । দুই তিন ঘণ্টা ঘুমে থাকবেন । আর কিছু ওষুধ দিচ্ছি এগুলা খেলে ঠিক হয়ে যাবে। খেয়াল রাখবেন উনার এবং কিছুক্ষণ পর পর জলপট্টি দিবেন।

আনিসুর রহমান ডাক্তার কে এগিয়ে দিতে গেলেন । নাজমা আক্তার নূরের সামনে এসে বললেন,

তোমাদের মধ্যে যদি কিছু হয়ে থাকে স্বামী স্ত্রী দুইজন মিলে মিটমাট করে নিয়ো। সংসার জীবনে এমন হয়েই থাকে। আমি নিচে যাচ্ছি নাস্তা রেডি করতে। তুমি এখানে থেকে স্বামীর সেবাযত্ন করো। আমি সায়মা কে দিয়ে তোমার নাস্তা উপরে পাঠিয়ে দিবো কেমন?

নূর মাথা ঝাঁকিয়ে সম্মতি জানালো। উনি নূরের মাথায় হাত বুলিয়ে সায়মাকে নিয়ে নিচে চলে গেলেন।

নূর সাদিফের পাশে বসে মাথায় জলপট্টি দিতে থাকলো। সাদিফের এই অবস্থা দেখে নূর কান্না আটকিয়ে রাখতে পারছে না। সাদিফের এই অবস্থার জন্য নিজেকে দায়ী করছে। ইনজেকশনের কারণে সাদিফ গভীর ঘুমে ।

নুর সাদিফের বুকে নিজের মাথা দিয়ে বলে উঠলো,

আমি আপনার কষ্ট সহ্য করতে পারছি না । আপনার অসুস্থতা আমাকে ভিতর থেকে ভেঙে দিচ্ছে। আপনার এই অসুস্থতার জন্য আমি দায়ী। আমাকে মাফ করে দিন। আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি ।

নূরের চোখের পানিতে সাদিফের টিশার্ট ভিজে যাচ্ছে। সাদিফের ঘরের রানী এই প্রথম তার বুকে তাকে ভালোবাসার কথা জানালো। নিজের চোখের পানি দিয়ে তার শার্ট ভিজালো অথচ সে টেরও পেলো না।

****************************

নূর যোহরের নামাজ পড়া শেষ করে নফল নামাজ আদায় করে সাদিফের সুস্থতা চেয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করলো। মনের কষ্ট গুলো চোখের পানির মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রকাশ করলো। দোয়া পড়ে সাদিফের সারা শরীরে ফু দিলো। সাদিফের পাশে বসে যিকির করতে করতে ঘুমিয়ে পড়লো ।

সাদিফ চোখ খুলে আশেপাশে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করলো সে কই আছে। মাথা ব্যথায় চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। কিছুক্ষণ পর সব মনে পরে গেলো। পাশে তাকিয়ে দেখলো নূর তার পাশে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে আছে। মেয়েটাকে কি ক্লান্ত লাগছে। এক দিনে কান্না করতে করতে চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে। সাদিফের নাড়াচাড়ার কারণে নূরের ঘুম ভেঙে যায়। সে চোখ খুলে সাদিফ কে সজাগ দেখতে পেয়ে সাথে সাথে জিজ্ঞেস করে,

আপনি ঠিক আছেন? কখন উঠেছেন? এখন কেমন লাগছে?

নিজের জন্য নূরকে এত অস্থির হতে দেখে সাদিফ মুচকি হাসলো। উঠে বসতে গেলে নূর তাকে সাহায্য করে বসার জন্য। খাটে হেলান দিয়ে বসে সাদিফ বললো,

এতগুলো প্রশ্ন একসাথে করলে কিভাবে উত্তর দিবো হুম?

একটা একটা করেও তো করতে পারো তাই না? একটা অসুস্থ মানুষকে কেউ এতগুলো প্রশ্ন করে?

নুর সাদিফকে বলে,

আপনি না অসুস্থ? তাও ঠাট্টা করা কমছে না?

সাদিফ বললো,

না কমছে না। আমার জন্য যে আমার ঘরের রানী কান্নাকাটি করে চোখমুখ ফুলিয়ে ফেলেছে তাকে হাসাবো কি করে তাহলে?

নূর লজ্জা পেয়ে যায় কিন্তু প্রকাশ করে না। নুর ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে বলে,

পাকনামি বাদ দিয়ে চুপ করে বসুন আমি গামছা ভিজিয়ে নিয়ে আসছি শরীর মুছিয়ে দিবো আপনার। জ্বরের মধ্যে আরাম লাগবে।

নুর গামছা নিয়ে সাদিফের সামনে দাঁড়িয়ে বলে,

টিশার্টটা খুলুন। শরীর মুছিয়ে দিবো ।

সাদিফ লজ্জা পাওয়ার ভান করে বললো,

নাহ আমার লজ্জা লাগে উফ।

নুর কোমরে হাত রেখে বললো,

একদম ঢং করবেন না আমার সামনে। প্রতিদিন গোসল করে যে খালি গায়ে ঘরে ঘুর ঘুর করেন তখন তো রুমে আমিও থাকি। কই তখন তো লজ্জা পেতে দেখি না।

সাদিফ অবাক হওয়ার ভান করে বললো,

হায় হায় তুমি কি তখন আমার দিকে তাকিয়ে থাকো নাকি? এ কি সর্বনাশ হলো আমার । এখন আমার কি হবে? পাশের টিস্যু বক্স থেকে টিস্যু নিয়ে জোরে শব্দ করে নাক মুছলো সাদিফ।

নুর আর কথা না বাড়িয়ে নিজেই টিশার্ট খুলে শরীর মুছিয়ে দিয়ে অন্য একটি টিশার্ট পরিয়ে দিলো সাদিফকে। এই লোকের সাথে কথা বলে লাভ নেই। কোনো দিনও এই লোকের সাথে কোথায় পারা যাবে না।

নুর বললো,

আপনি বসুন আমি আপনার জন্য খাবার নিয়ে আসছি।

নুর নিচে গিয়ে স্যুপ বানিয়ে নিয়ে আসলো। সাদিফকে নিজ হাতে স্যুপ খাইয়ে ঔষুধ খাইয়ে দিলো। সাদিফ ওযু করে নামাজ পড়ে নিলো। নুর সাদিফকে আবার শুইয়ে দিলো। বিকেলে সবাই সাদিফকে দেখে গেলো।

দুইদিন সায়মা এবং নুর ইউনিভার্সিটিতে গেলো না। সাদিফকেও নাজমা আক্তার বাসা থেকে বের হতে দেয় নি। পুরোপুরি বেড রেস্টে রেখেছেন।

আজ তিনদিনের মাথায় নূর ইউনিভার্সিটিতে যাচ্ছে । তার একটা পরীক্ষা আছে আজকে। সাদিফ এখন অনেকটাই সুস্থ। সায়মা আজকে কিছু কাজের কারণে ইউনিভার্সিটিতে যাচ্ছে না। নুর ড্রাইভারের সাথে ইউনিভার্সিটিতে যায়।

সায়মা নিজের রুমে বসে কিছু কাজ করছিলো। এমন সময় তার রুমে কেউ নক করে। সায়মা তাকিয়ে দেখে সাদিফ এসেছে। সাদিফ বলে,

ভেতরে আসবো?

সায়মা সাথে সাথে বলে,

হ্যাঁ ভাইয়া আসো।

সাদিফ সায়মার রুমের সোফায় বসে সায়মা কে জিজ্ঞেস করে,

ঐদিন কি ইউনিভার্সিটিতে কিছু হয়েছিলো ? নূর এমন করলো কেন সেদিন? ও তো এমন করার কথা না। আমাদের সম্পর্ক অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছিলো । হঠাৎ কি হলো?

সায়মা সাদিফকে সেদিনের সকল ঘটনা খুলে বলে। সব শোনার পর রাগে সাদিফ হাত মুঠো করে ফেলে। সাদিফ রুম থেকে বের হয়ে গাড়ি নিয়ে ইউনিভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

নুর মাত্র পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে ইউনিভার্সিটির মাঠ দিয়ে যাচ্ছিলো। পিছন থেকে ডেইজি নূরকে ডাক দেয়,

এই মেয়ে দাঁড়াও।

নূর পিছনে ফিরে ডেইজিকে দেখে থতমত খেয়ে যায় ।

ডেইজি নূরের সামনে দাঁড়িয়ে বলে,

এই দুইদিন আসিস নি কেনো? বাসায় বসে কান্না করছিলি বুঝি?

নুর বলে,

আপনি এভাবে তুই তুকারি করছেন কেনো?

ডেইজি হাসতে হাসতে বলে,

তাহলে আপনি ম্যাডাম বলে ডাকবো?

তাদের কথপোকথনের মধ্যে মাঠে অনেক মানুষ জড়ো হয়ে গেছে। ডেইজির সাথে মেয়েরা বলে উঠে,

আমরা কালকে ভালো মতো ওর চেহারা দেখতে পারি নি। আজকে আবার দেখবো। মুখে কি পড়ে আছো এটা খুলো।

নুর এ কথা শুনে দু কদম পিছিয়ে যায়।

ডেইজি বাকা হাসি দিয়ে নূরের দিকে এগিয়ে যায়। যেই না নূরের নিকাবে টান দিবে পাশ থেকে শব্দ আসে,

হেই স্টপ ইট। খবরদার নিকাব ধরে টান দিলে হাত ভেঙে ফেলবো একদম ।

সবাই পাশে তাকিয়ে দেখে সাদিফ গেইটে দাঁড়িয়ে আছে। রাগে চোখ দুটো লাল হয়ে গেছে। ডেইজি ও তার সাথের মেয়েরা সাদিফকে দেখে পিছিয়ে যায়।

সাদিফ নূরের সামনে ঢালের মতো দাঁড়ায়। ডেইজি কে উদ্দেশ্য করে বলে,

এই মেয়ে কি সমস্যা কি তোমার? উহুম তোমার না তোর । কি সমস্যা কি তোর?

ডেইজি অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো,

সাদিফ তুমি তুই করে বলছো?

সাদিফের সোজাসাপ্টা জবাব,

হ্যাঁ বলছি। যে আমার বউকে সম্মান করবে না আমিও তাকে সম্মান করি না। তুই কি সব উল্টা পাল্টা কথা বলেছিস আমার বউকে???

ডেইজি উত্তর দেয়,

উল্টা পাল্টা কি বললাম। সত্যি তো বলেছি। ওর মতো এত অসুন্দর একটা মেয়েকে তুমি কেনো বিয়ে করতে যাবে?

সাদিফ গর্জে উঠে বললো,

চুপ একদম চুপ। তোর কত বড় সাহস আমার সামনে দাঁড়িয়ে আমার বউকে অসুন্দর বলিস? ও আমার চোখে দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দর নারী। ওর সৌন্দর্য আমার চোখকে শীতল করে, আমার মনকে প্রশান্তি দেয়। সৌন্দর্যের বুঝিস কি তোরা? চামড়া সাদা হলেই মানুষ সুন্দর হয়ে যায় না। আর যেনো কি বলেছিলি ওর হাইট নিয়ে? ওর হাইট একদম পারফেক্ট। আমার বুকে মাথা রেখে সারাজীবন আমার হৃদস্পন্দন শোনার জন্য ওর হাইট একদম পারফেক্ট। তুই মেয়ে বলে কিছু করছি না ছেলে হলে এতক্ষণে মেরে তক্তা বানিয়ে ফেলতাম। কিন্তু মেয়ে বলে তুই ছাড় পাবি না। তোর প্রাপ্য শাস্তি তুই অবশ্যই পাবি।

এই কথা বলে সাদিফ নূরকে তার পিছন থেকে সামনে এনে দাঁড় করায়। তারপর নূরকে আদেশ করে,

নূর ওকে চড় মারো ।

নুর চমকে উঠে পিছনে সাদিফের দিকে তাকায়। সাদিফ চোখের ইশারায় বুঝায় চড় মারতে। নুর নিজের দুই হাত কচলাতে থাকে।

সাদিফ ধমক দিয়ে বললো,

নূর তোমাকে আমি কি বলেছি ওকে চড় মারো ।

সাদিফের ধমকে নুর কেঁপে উঠে। ডেইজির দিকে তাকায়। ডেইজির করা ব্যবহারের কথা মনে করে ডেইজিকে একটা চড় দেয়। ডেইজি সহ মাঠের সবাই থতমত খেয়ে যায়।

সাদিফ বলে উঠে,

এই চড় টা ছিলো নূরের নিকাব ধরে টান দেয়ার জন্য। নুর আরেকটা মারো।

সাদিফের কথা মতো নূর ডেইজিকে আরেকটা চড় মারে।

সাদিফ বলে উঠে,

এটা ছিলো নূরের চোয়াল ধরে ওকে আঘাত দেয়ার জন্য। নূর আরেকটা মারো।

নুর পুনরায় চড় দেয় ডেইজি কে। ডেইজি তাল সামলাতে না পেরে নিচে বসে পড়ে।

সাদিফ বাকা হেসে বলে,

কেমন লাগলো? হুম? এটা ছিলো নূরকে অপমাণ করার জন্য। তুই আরও চড়ের প্রাপ্য কিন্তু তোকে দেখে মনে হয় না তুই আর নিতে পারবি।

এবার সাদিফ নূরকে সরিয়ে ডেইজির সামনে হাঁটু গেড়ে বসে বলে,

মনে করিস না ও একা। ওর পাশে ওর স্বামী আছে। চিরকাল ওর ঢাল হয়ে ওর পাশে থাকবো ইন শা আল্লাহ্।আর কখনো ওর সাথে লাগতে আসিস না।

এই বলে সাদিফ নূরের হাত ধরে ইউনিভার্সিটি থেকে বের হয়ে যায়।

চলবে।

কেমন লাগলো সবার??

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন