#হেদায়েতের_নুর
#নাফিসা_বিনতে_সুলতান
পর্ব: ২৮
দেখতে দেখতে ৫ মাস কেটে গেছে। কিছুদিন আগে সাদিফের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে। আজকে তার রেজাল্ট প্রকাশ পেয়েছে। তার ইউনিভার্সিটিতে সে টপ করেছে। শুরু থেকেই সাদিফ পড়াশোনায় অনেক ভালো ছিলো। তাদের বাসায় আজ কাচ্চি বিরিয়ানী রান্না হচ্ছে। সাদিফের অনেক পছন্দের খাবার। নাজমা আক্তার ছেলের পছন্দের সব রান্না করছেন। নুর তার শ্বাশুড়ীকে কাজে সাহায্য করছে। নুর সবার জন্য নিজের হাতে পায়েশ রান্না করেছে। আনিসুর রহমান ছেলেকে নিয়ে অফিসে আছেন। ছেলের এত ভালো রেজাল্টের কথা শুনে অফিসের স্টাফদের মিষ্টি খাইয়েছেন। দুপুরের পর সবাইকে ছুটি দিয়ে তারাও বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সায়মা অনলাইন থেকে ফুলের তোড়া এনে রেডি করেছে ভাই এর জন্য। কলিং বেলের আওয়াজ পেয়ে সবাই দরজার সামনে জড়ো হয়। গেইট খুলতেই সবাই অভিনন্দন বলে চিল্লিয়ে উঠে। সায়মা ভাইয়ের হাতে ফুলের তোড়া দেয় । সাদিফ বোনের মাথায় আদুরে হাত বুলায়। নাজমা আক্তার ছেলেকে জড়িয়ে ধরলেন খুশীতে। সাদিফের কপালে চুমু দিয়ে প্রাণ ভরে দোয়া করলেন ছেলের জন্য । সাদিফ ভেতরে প্রবেশ করে সোফায় বসে। নুর সাদিফের দিকে শরবতের গ্লাস এগিয়ে দেয়। তাদের দুইজনের চোখাচোখি হয় কিন্তু কেউ কিছু বলে না।
সাদিফ: মা আমি রুমে যাচ্ছি ফ্রেশ হয়ে আসি।
নাজমা আক্তার: নামাজ পড়েছিস বাবা?
সাদিফ: আলহামদুলিল্লাহ। আমি আর বাবা অফিস থেকে বের হয়ে মসজিদে নামাজ পড়েই বাসায় এসেছি।
নাজমা আক্তার: আলহামদুলিল্লাহ। যাও ফ্রেশ হয়ে আসো। আজকে তোমার পছন্দের কাচ্চি বিরিয়ানী রান্না করেছি।
সাদিফ: আরেহ মা তুমি কিভাবে বুঝলে আমার কাচ্চি বিরিয়ানী খেতে মন চাচ্ছিলো ?
নাজমা আক্তার: মায়েরা সন্তানদের মনের কথা বুঝে যায়। আল্লাহ মায়েদের স্পেশাল পাওয়ার দিয়েছে সন্তানদের মন বুঝার।
সাদিফ মাকে জড়িয়ে ধরে।
সায়মা: হ্যাঁ হ্যাঁ ভালোই। আমার জন্য তো রান্না করা হলো না। সব আদর শুধু ছেলের জন্যই। হাহ।
সাদিফ বোনের নাক ধরে টান দিয়ে বলে,
মা কোথা থেকে যেনো পোড়া পোড়া গন্ধ পাচ্ছি। তুমি পাচ্ছো না?
সায়মা: শোনো ভাইয়া আমি পুড়ছি না বুঝেছো। বয়েই গেছে তোমার উপর জেলাস হওয়ার ।
সাদিফ: আমি তোর নাম নিলাম কখন? আমি কি একবারও তোর কথা বলেছি? তোর গায়ে লাগলো কেন? তার মানে নিশ্চই তুই জ্বলছিলি????? সাদিফ সায়মার দিকে তাকিয়ে দাঁত কেলিয়ে হাসছে।
সায়মা: মা তুমি কিছু বলছো না কেনো??
নাজমা আক্তার: এই তোরা ঝগড়া করিস না তো। আর সায়মা তুইও ভাইয়ের মতো ভালো রেজাল্ট কর তোকেও কাচ্চি বিরিয়ানী খাওয়াবো।
সাদিফ: আমি রুমে গেলাম ফ্রেশ হয়ে আসি।
সাদিফ সায়মার মাথায় গাট্টা মেরে রুমে চলে গেলো ।
সায়মা: দেখেছো মা তোমার ছেলের কাজ?
নাজমা আক্তার: ভাই মজা করে দিয়েছে রেগে যাচ্ছিস কেন? ভাই কি তোকে কম আদর করে? চল আমার সাথে ডাইনিং টেবিল সেট করতে সাহায্য কর। নূর তুমি রুমে যাও দেখো সাদিফের কিছু লাগবে কিনা।
নূর: জ্বি আম্মু ।
নুর কিছুক্ষন পর রুমে ঢুকে দেখলো সাদিফ মাত্র গোসল করে বের হয়েছে। সাদা প্যান্ট এর সাথে কালো টি শার্ট পরা। বিছানায় বসে চুল মুছছে। দরজা খোলার আওয়াজ পেয়ে সাদিফ সেদিকে তাকায়।
সাদিফ: কি ম্যাডাম দাড়িয়ে আছেন কেনো? ভিতরে আসুন। এটা আপনারও রুম।
নুর: আপনার কি কিছু লাগবে?
সাদিফ নূরের সামনা সামনি এসে দাঁড়িয়ে উত্তর দিলো,
হ্যাঁ লাগবে তো।
নূর: কি লাগবে বলুন ।
সাদিফ: আপনাকে।
সাদিফের এই উত্তরে নুর থতমত খেয়ে যায়। নূর একটু অস্বস্তিবোধ করে।
নূরের এই অবস্থা দেখে সাদিফ জোড়ে হেসে ফেলে। সাদিফের হাসির শব্দ শুনে নুর ব্রু কুচকে সাদিফের দিকে তাকায়।
সাদিফ: কি ব্যাপার ম্যাডাম ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন বুঝি?? মুখের এই হাল বানিয়ে রেখেছেন কেনো? স্বামীকে এত ভয় পান???
নুর: না মানে আসলে
সাদিফ: জ্বি বলুন আসলে নকলে কি হুম?
নূর: কিছু না।
সাদিফ: সবাই আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছে আপনি তো জানালেন না? অথচ আপনার থেকে অভিনন্দন পাওয়ার আশায় বসে ছিলাম আমি।
নুর কি বলবে বুঝতে পারছে না । সবার সামনে অভিনন্দন বলতে সে বেশ লজ্জা পাচ্ছিলো তাই চুপ করে ছিলো । নুর আস্তে করে বলে,
নুর: আপনাকে অভিনন্দন। আল্লাহ আপনাকে সফল করুক। হালাল রিযিক বৃদ্ধি করুক। আপনার মনের নেক আশা পূরণ করুক আমিন।
সাদিফ আরেকটু নূরের দিকে এগিয়ে নূরের দিকে ঝুঁকে বলে,
আমিন। আল্লাহ আমার নেক আশা গুলো পূরণ করুক। সেই অপেক্ষায় আছি।
সাদিফের একদম কাছাকাছি দাঁড়ানোর কারণে নূরের হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছে। সে কাপা কাপা চোখে সাদিফের দিকে তাকায়।
সাদিফ ও নূরের দিকে তাকিয়ে ছিলো। সাদিফ হঠাৎ বলে উঠে,
আমাকে একান্ত ভাবে অভিনন্দন জানাতে চাচ্ছিলেন আগে বললেই তো পারতেন ম্যাডাম। সাদিফের ঠোঁটে বাকা হাসি, চোখে খেলা করছে দুষ্টুমি।
নুর লজ্জা পেয়ে হেসে সাদিফকে হালকা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দৌঁড়ে রুমের গেইটের কাছে চলে যায়। রুম থেকে বের হয়ে যাওয়ার আগে পিছনে ঘুরে সাদিফকে উদ্দেশ্য করে বলে,
ভন্ডামি বাদ দিয়ে তাড়াতাড়ি নিচে খেতে আসুন। সবাই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।
সাদিফ: কি! আমি ভন্ডামি করছি? আজকে আপনার খবর আছে ম্যাডাম । দাঁড়ান বলছি।
নুর হেসে দৌঁড়ে নিচে চলে যায়। সাদিফ হেসে উঠে। এই ৫ মাসে তাদের সর্ম্পকে অনেক উন্নতি হয়েছে। নুর পুরোনো সব কিছু ভুলে আস্তে আস্তে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। সাদিফ নূরকে সময় দিচ্ছে তার সাথে স্বাভাবিক হওয়ার জন্য।
সাদিফ: ইন শা আল্লাহ্। আর বেশি দেরী নেই । খুব শীঘ্রই তুমি আমাকে মন থেকে মাফ করে দিবে। আমাকে কাছে টেনে নিবে। সেই পূর্ণতার অপেক্ষায় আছি আমার হৃদয়ের রানী।
*********************************
সবাই অনেক মজা করে কাচ্চি বিরিয়ানি খাচ্ছে। সাদিফ তো মন ভরে খেয়েছে। খাওয়া শেষে সাদিফ বললো,
আলহামদুলিল্লাহ । আম্মু কাচ্চি বিরিয়ানি অনেক মজা হয়েছে। পেট ভরে গেছে তাও মন ভরে নি।
সায়মা: ঠিক বলেছো ভাইয়া । আলহামদুলিল্লাহ প্রাণ জুড়িয়ে গেছে খেয়ে।
আনিসুর রহমান: আসলেই নাজমা খুব স্বাদ হয়েছে। অনেক তৃপ্তি করে খেলাম।
নাজমা আক্তার: তোমাদের সবাইকে জাযাকাল্লাহু খায়রান। সব আল্লাহর দেয়া নেয়ামত।
সাদিফ উঠে যাচ্ছিলো সেই সময় নাজমা আক্তার বলেন,
আরে উঠছিস কেনো? খাওয়া পর্ব তো এখনো শেষ হয় নি।
সাদিফ: আর কি বাকি আছে ?
নাজমা আক্তার এক বাটি পায়েশ সাদিফকে দিলেন সাথে বাকিদেরও দিলেন।
সাদিফ খেয়ে বললো,
মা শা আল্লাহ। আম্মু অনেক মজা হয়েছে। আজ হঠাৎ পায়েশ করলে যে? তুমি তো পায়েশ রাধো না কখনো?
নাজমা আক্তার: পায়েশ আমি রান্না করি নি নুর রান্না করেছে। তুই এত ভালো রেজাল্ট করেছিস তাই মিষ্টি জাতীয় কিছু করেছে। তোর জন্য রেধেছে।
শাশুড়ীর কথায় লজ্জায় নুর মিহিয়ে যাচ্ছে। সাদিফ আর কিছু বললো না। খাওয়া দাওয়া শেষে রুমে চলে গেলো। বাকিরাও নূরের অনেক প্রশংসা করলেন পায়েশের জন্য । সবাই খেয়ে চলে যাওয়ার পর নাজমা আক্তার এবং নুর খেতে বসেছেন। খাওয়া দাওয়া শেষ করে সব গুছগাছ করে যে যার রুমে চলে যায় বিশ্রাম নেয়ার জন্য ।
নুর রুমে ঢোকার সাথে সাথেই কেউ তার জামার হাতা ধরে টান দেয়। হঠাৎ এমন হওয়ার কারণে নুর চমকে উঠে। সাদিফ নূরকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে বলে,
ম্যাডাম স্বামীর জন্য পায়েশ বানিয়েছেন? হুম?
নুর কাপা কাপা গলায় বলে,
আ আপ আপনার একার জন্য তো বানাই নি। সবার জন্য বানিয়েছি।
সাদিফ নূরকে তার আরেকটু কাছে টেনে বলে,
তাই?
নুর কাপা কাপা গলায় বলে ,
হুম।
সাদিফ কিছুক্ষন নূরের দিকে তাকিয়ে থেকে নূরের কাপা কাপি দেখতে থাকে তার পর হঠাৎ নূরকে ডেকে উঠে,
নুর
নুর জবাব দেয়,
হুম।
সাদিফ আবারো ডাকে,
এই নুর।
নূরের সেই জবাব,
হুম বলুন।
সাদিফ: আমার দিকে তাকাও।
নুর সাদিফের দিকে তাকায়। তাদের মধ্যে চোখাচোখি হয়।
সাদিফ নূরের চোখে চোখ রেখে বলে,
ভালোবাসি ।
নুর কেঁপে উঠে। সাদিফ আবারও বলে,
আমি তোমায় অনেক ভালোবাসি নুর ।
নুর সাদিফের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। সেও সাদিফকে ভালোবাসি বলতে চাচ্ছে কিন্তু তার গলা দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না। গত ৫ মাসে নুর সাদিফের ভালোবাসা বুঝতে পেরেছে। সাদিফ যে তার ভুলের জন্য অনুতপ্ত সেটা অনুভব করেছে। সেও তো সাদিফকে ভালোবাসে। কিন্তু মুখ দিয়ে একটা টু শব্দও বের হচ্ছে না।
নূরকে কিছু বলতে না দেখে সাদিফ নূরকে ছেড়ে দিয়ে বলে,
আমি আমার মনের ভাব প্রকাশ করেছি। বার বার করবো। হাজার বার করবো। আপনার মনের ভাব জানার অপেক্ষায় রইলাম ম্যাডাম।
সাদিফ ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করতে বসে যায়।
***************************
যেহেতু সাদিফের পড়ালেখা শেষ তাই সে এবার পুরোপুরি অফিস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সারাদিন অফিসের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সায়মা এবং নুর এবার ২য় বর্ষে উঠেছে। তারা দুইজন ড্রাইভারের সাথে ইউনিভার্সিটিতে যায় আসে। মাঝে মাঝে সাদিফ কাজের মধ্যে থেকে সময় বের করে তাদের নিতে আসে। বাহিরে লাঞ্চ করে একসাথে।
একদিন সাদিফ সায়মা এবং নূরকে ইউনিভার্সিটিতে নিতে আসে। সাদিফ তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলো। নুর এবং সায়মা আসার পর তাদের জন্য গাড়ির গেইট খুলে দেয় সাদিফ । সায়মা পিছনের সিটে আরাম করে বসে। নুর সামনের সিটে বসে। তাদের বসিয়ে সাদিফ ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। এই দৃশ্য ইউনিভার্সিটির কয়েকটা মেয়ে দেখে রাগে ফুসতে থাকে।
পরের দিন ক্লাস শেষ করে নুর ও সায়মা ক্লাস থেকে বের হয় তখন সায়মা নূরকে তার জন্য অপেক্ষা করতে বলে তার কিছু জরুরী নোটস নিতে হবে ফ্রেন্ডের কাছ থেকে। নুর ক্লাসের বাহিরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। তখন পাশ থেকে একজন মেয়ে তাকে ডেকে উঠে,
এই মেয়ে তোমার নাম কি নুর?
নুর উত্তর দেয়,
জ্বি।
মেয়েটির সাথে আরও কয়েকজন মেয়ে ছিলো। মেয়েটি নূরকে বলে,
মুখে এটা কি পড়ে আছো? খুলো এটা । তোমার চেহারা দেখবো।
নূরকে কোনো উত্তর দেয়ার সময় না দিয়ে মেয়েটি টেনে নূরের নিকাব খুলে ফেলে ।
হঠাৎ এমন হওয়ার কারণে নুর থতমত খেয়ে যায়। অবাক হয়ে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থাকে ।
মেয়েটি বলে,
আমার নাম ডেইজি। এই ইউনিভার্সিটির ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী। তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করার ছিলো?
নুর ব্রু কুচকে বুঝার চেষ্টা করছে চিনে না জানে না এই মেয়ে কেন তার কাছে এসেছে এবং এমন ব্যবহার করছে।
ডেইজি নূরকে প্রশ্ন করে,
সাদিফ তোমার কি হয়? গতকাল দেখলাম সাদিফ তোমাকে আর সায়মাকে নিয়ে গেলো। সায়মা তো বোন হয় তুমি কে? কাজিন ও তো হওয়ার কথা না কারণ আমার জানা মতে সাদিফের কোনো রিলেটিভ এই দেশে নেই।
নুর তাকে প্রশ্ন করে,
আমি কে সেটা আপনার জেনে কাজ কি ? আর আপনি বা উনার সর্ম্পকে এতকিছু কিভাবে জানেন?
ডেইজি নূরের এমন কথায় রেগে গিয়ে নূরের চোয়াল শক্ত করে ধরে আর বলে,
আগে আমি প্রশ্ন করেছি সেটার উত্তর দে। কতবড় সাহস তোর আবার আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করিস? আর উনি উনি করছিস কেনো? বল সাদিফ তোর কি হয়?
এত শক্ত করে চোয়াল ধরায় ব্যথায় নূরের চোখ ভিজে উঠেছে। অনেক কষ্টে নুর উত্তর দেয়,
তিনি আমার স্বামী হোন।
এই কথা শুনে ডেইজি নূরকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় আর জোরে জোরে হাসতে থাকে। নুর অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে ডেইজির দিকে। এই মেয়ে এভাবে হাসছে কেনো সেটাই বুঝার চেষ্টা করছে আপাতত ।
ডেইজি হাসতে হাসতে বলে,
সাদিফ তোর স্বামী? সিরিয়াসলি? নিজের চেহারা আয়নায় দেখেছিস? তোর গায়ের রঙ দেখেছিস? তোর হাইট দেখেছিস? কি যোগ্যতা আছে তোর সাদিফের বউ হওয়ার?? না আছে সৌন্দর্য না আছে কোনো যোগ্যতা। সাদিফকে দেখেছিস কি পরিমাণ হ্যান্ডসাম। এই পুরো ইউনিভার্সিটির মেয়েরা পাগল ছিলো ওর জন্য । ওর এক ঝলক দেখার জন্য সবাই ছটফট করতো। যেমন রূপ তেমনই গুণ। রূপে গুণে উভয় দিক দিয়েই সেরা। এই পুরো ইউনিভার্সিটিতে টপ করেছে। এখন আবার বিজনেস সামলাচ্ছে। তোকে কেন বিয়ে করলো ও বুঝলাম না।
কিছুক্ষন থেমে ডেইজি কিছু ভেবে বলে উঠলো,
এই এক মিনিট তোকে নিয়েই না সাদিফ ফ্রেডের সাথে বাজি ধরেছিলো ??? এর পর থেকেই তো সাদিফ পাল্টে গেলো। সাদিফ অনুতপ্ত হয়ে তোকে বিয়ে করেছে। নিজের গিল্টি ফিল কমানোর জন্য তোকে বিয়ে করেছে। নাহলে তুই কোনো দিক থেকেই সাদিফের যোগ্য না। কি কপাল রে তোর। সাদিফ তোকে কোনো ভালোটালো বাসে না। নিজের গিলটি ফিল কমানোর জন্য তোকে বিয়ে করেছে। কোনো সুন্দর মেয়ে পেলে তোকে ছেড়ে দিবে।
নূরের চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ছে। তার শরীর কাপছে। মেয়েদের মধ্যে ইন্সিকিউরিটি অনেক বেশি থাকে। কেউ তাদের চেহারা , হাইট ,সৌন্দর্য নিয়ে কথা বললে সেটা তাদের মস্তিষ্কে গেঁথে যায়। নূরের ক্ষেত্রেও এখন তাই হচ্ছে। তার মনে হচ্ছে আসলেই তো সে তো কোনো দিক দিয়ে সাদিফের যোগ্য না তাহলে সাদিফ কেন তাকে বিয়ে করলো? সাদিফ তো তার মতো কোনো যোগ্য সুন্দর মেয়েকে বিয়ে করতে পারতো। তাহলে কি আসলেই অনুতপ্ত হওয়ার কারণে বিয়ে করেছে??
নুর আর এক সেকেন্ড ও না দাড়িয়ে সেখান থেকে দৌঁড়ে চলে গেলো। মাঠের এক কোণায় বসে পড়লো। কিছুক্ষন পর সায়মা নূরকে খুঁজতে খুঁজতে দৌঁড়ে এদিকটায় আসলো এবং নূরকে পেয়েও গেলো। নূরকে দেখার সাথে সাথে সায়মা নূরকে জড়িয়ে ধরলো। সায়মা জড়িয়ে ধরার সাথে সাথে নুর কান্না করে দিলো। আর নিজের ভিতরের কষ্ট গুলোকে দমিয়ে রাখতে পারলো না।
সায়মা নূরকে শান্ত করার চেষ্টা করছে। সায়মা ক্লাস থেকে বের হয়ে এত ভিড় দেখে অবাক হয় আসে পাশে নূরকে দেখতে না পেয়ে একটা মেয়েকে জিজ্ঞেস করলে সব ঘটনা জানতে পারে।
ডেইজি যখন নূরকে এসব বলছিলো তখন আশেপাশে মানুষ জড়ো হয়ে যায় ।
সায়মা: আমি ছাড়বো না ওই মেয়েকে। কতবড় সাহস তোমাকে এগুলা বলেছে ।
নুর কান্না করতে করতে বলে,
সায়মা আমি এক্ষনি বাড়ি যাবো। আমাকে নিয়ে চলো।
সায়মা নূরকে নিয়ে বাসায় এসে পড়ে। বাসায় আসার পর থেকে নুর রুমে বসে আছে রুম থেকে বের হয়নি। জায়নামাজে কান্না করে কাটিয়ে দিয়েছে সারাটা দিন। সায়মা বাড়ির সবাইকে নুর একটু অসুস্থ বলে বুঝিয়ে দিয়েছে।
সাদিফ রাতে এশার নামাজ পড়ে একেবারে বাসায় আসে। এসে ফ্রেশ হয়ে রুমে বসে। আজকে নূরকে একটু অন্য রকম লাগছে তার কাছে। কোনো কথা বলছে না কেন মেয়েটা তার সাথে? এসব ভাবনার মধ্যেই ডিনারের জন্য ডাকা হয় তাদের। দুইজনই ডিনারের জন্য নিচে যায়। ইউনিভার্সিটি থেকে আসার পর নুর এই প্রথম রুম থেকে বের হয়েছে। খাবার শেষ করার পর নাজমা আক্তার নূরকে জিজ্ঞেস করেন,
নুর এখন কেমন লাগছে তোমার? শরীর ভালো লাগছে এখন?
নুর আস্তে করে জবাব দেয়,
আলহামদুলিল্লাহ । জ্বি আম্মু ভালো লাগছে।
আনিসুর রহমান: নিজের খেয়াল রেখো মামণি।
নুর: জ্বি আব্বু।
গুচগাছ করার পর যে যার রুমে চলে যায় ঘুমানোর জন্য।রুমে আসার পর সাদিফ নূরের কপালে হাত রাখে আর বলে,
জ্বর তো নেই তোমার। কি হয়েছে তোমার? শরীর খারাপ কিভাবে হলো? কি সমস্যা হচ্ছে তোমার ? আমাকে বলো?
নুর সাদিফের হাতটা তার কপাল থেকে ঝাড়া দিয়ে সরিয়ে দেয়।
নুর: ছোঁবেন না আমায়।
সাদিফ অবাক হয়ে প্রশ্ন করে,
কি হয়েছে তোমার নুর? এমন করছো কেনো?
নুর: কেনো বিয়ে করেছেন আমায় ?
সাদিফ উত্তর দেয়,
তোমায় ভালোবাসি তাই ।
নুর: না আপনি আমায় ভালোবাসেন না।
সাদিফ: তুমি এটা কিভাবে বলতে পারলে? তুমি কি আমার চোখে একটুও ভালোবাসা দেখো না?
নুর: না দেখি না। আপনি আপনার বাজি ধরার জন্য অনুতপ্ত হয়ে আমাকে বিয়ে করেছেন। দয়া করে আমাকে বিয়ে করেছেন ।
সাদিফ চিল্লিয়ে বলে,
নুর! কি হয়েছে তোমার? এমন করছো কেন তুমি? তুমি কেনো আমার ভালোবাসা বুঝতে চাইছো না??
নুর: কারণ আপনি ভালোবাসেন না।
সাদিফ: আমি কি আমার ভালোবাসা তোমাকে সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারি নি?? তুমি কেনো আমার ভালোবাসাকে দয়া বলছো????
কথা গুলো বলার সময় সাদিফের গলা কাপছিলো। নুর কোনো উত্তর দেয় না কান্না করতে থাকে। সাদিফ রুম থেকে বের হয়ে ছাদে চলে যায়। সাদিফ রুম থেকে চলে যাওয়ার পর নুর বিছানায় শুয়ে কান্না করতে থাকে। সাদিফ ছাদের দোলনায় বসে মাথা এলিয়ে দেয়। আকাশ পানে চেয়ে চোখের পানি ফেলতে থাকে। সাদিফ খালি গলায় গেয়ে উঠে,
মন তোরে বলি যত,
তুই চলেছিস তোরই মত,
সাধ্য কি আমার ছুটি তোর পিছনে।
মন বলি তুই ফিরে যা,
মন ছাড়া কি যায়রে বাঁচা,
তুই ছাড়া কে আর আছে এই জীবনে।
কি কারন অকারন এত করিস জ্বালাতন,
ভাল লাগে না এ দোটানা ও যাতন সারাক্ষন
বলনা তুই বলনা,
কেন এ ছলনা,
ও মন তুই বলনা,
ভালবাসি বলনা বলনা তুই বলনা,
ভুলে গিয়ে ছলনা,
একবার শুধু বলনা, ভালবাসি বলনা ।।
চলবে।
কেমন হয়েছে সবাই মতামত জানাবেন।