ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ বিকালের মুগ্ধতা

৩য় পর্ব

লেখক: ইসরাত জাহান আফিয়া

#শেষ_বিকালের_মুগ্ধতা {০৩}

#ইসরাত_জাহান_আফিয়া
(🚫এই গল্পের কোনো অংশ কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
(সত্যি বলতে এখন আর বুঝতে পারি না আমার লেখাগুলো আপনাদের ভালো লাগে কি না… 
১.৮k+ মানুষ পর্ব পড়ে, কিন্তু রিয়েক্ট-কমেন্ট খুব কম আসে। তখন মনে হয় এত রাত জেগে, এত কষ্ট করে লিখে হয়তো লাভ নেই…শুধু আপনাদের জন্যই এত কষ্ট করে নিয়মিত পর্ব লিখে যাচ্ছি। তাই আজকে একটা ছোট্ট অনুরোধ—
পর্বটা পড়ে প্লিজ একটা রিয়েক্ট, কমেন্ট আর শেয়ার করে পাশে থাকবেন। আপনাদের সাপোর্টই আমাকে নতুন পর্ব লিখতে সাহস দেয়। 
এই পর্বে বেশি রিয়েক্ট চাই এবার… না হলে হয়তো আর পরবর্তী পর্ব লিখার ইচ্ছেটাই হারিয়ে ফেলবো…)
-----
সকালের পর থেকেই আজ শিকদার বাড়িতে অন্যরকম ব্যস্ততা।
কারণ আজ আসবে ছোট ফুপি আরশি শিকদার।
তার সাথে আসবে নিলয় আর আইয়ানও।
------
লাবণ্য সকাল থেকেই একবার এই রুমে, একবার ওই রুমে দৌড়াচ্ছে।
 মামাম পিপু কথন আতবে?”
রোজিনা হেসে বললেন—
 “এই মেয়ে, এত লাফাস না! আসতেছে।”
এদিকে ইশান আর আহির পুরো বাড়ি মাথায় তুলে ফেলেছে।
ইশান সোফায় শুয়ে চিৎকার করে বলল—
 “আজকে কিন্তু কেউ ঘুমাইতে পারবে না!”
আহির সাথে সাথে বলল,
 “আজকে জম্পেশ আড্ডা হবে!”
ইনায়া হেসে বলল,
“তোরা দুইজন একসাথে থাকলেই মাথা ব্যথা শুরু হয়।”
ঈশিতা সাথে সাথে বলল,
“এদের জন্য আলাদা সাউন্ডপ্রুফ রুম দরকার।”
সবাই হেসে উঠল।
ঠিক তখনই বাইরে গাড়ির হর্ন শোনা গেল।
লাবণ্য চিৎকার দিয়ে উঠল—
 “আতেেেেে গেছে!!!”
সবাই দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
ফুপি গাড়ি থেকে নামতেই আরিয়া দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরল তাকে।
“পিপিইই!”
আরশি ফুপি হেসে বললেন—
আমার পাগলি মেয়েটা আরো সুন্দর হইছে!”
তারপর গাড়ি থেকে নামল নিলয় আর আইয়ান।
আইয়ান নামতেই বলল—
“ওফফ! এই বাড়িতে ঢুকলেই ছেলে মেয়েদের জন্য মনে হয় মেলা বসছে!”
ইশান সাথে সাথে বলল—
“কারণ তুই নিজেই একটা সার্কাস।”
সবাই হেসে উঠল।
------
আহনাফ একটু দূরে দাঁড়িয়ে সব দেখছিল।
তিন বছর পর বাড়িতে এমন হৈচৈ, এমন হাসি… অদ্ভুত ভালো লাগছে তার।
ঠিক তখনই আরিয়া হেসে হেসে কিছু বলছিল ঈশিতাকে।
আহনাফের চোখ অজান্তেই আটকে গেল মেয়েটার দিকে।
মেয়েটা হাসলে পুরো মুখটা কেমন আলোয় ভরে যায়।
-------
সন্ধ্যার পর সবাই একসাথে ড্রয়িংরুমে বসলো।
চা, চিপস, কফি— পুরো আড্ডার পরিবেশ।
হঠাৎ ইশান হাততালি দিয়ে বলল—
— “শুনেন শুনেন ভাই ও বোনেরা! আজকে সবাই মিলে ছাদে গিয়ে গানের কলি খেলব!”
আহির সাথে সাথে লাফিয়ে উঠে বলল—
“ইয়েস! ছাদে গেলে আরও মজা হবে!”
ঈশিতা হেসে বলল—
— “তাহলে তাড়াতাড়ি চল!”
এক এক করে সবাই ছাদে উঠে গেল।
রাতের ঠান্ডা বাতাস, চারপাশে নরম আলো, আকাশভরা তারা—সব মিলিয়ে একদম অন্যরকম সুন্দর একটা পরিবেশ।
----
ছাদের মাঝখানে গোল হয়ে বসে পড়ল সবাই।
ইনায়া, ঈশিতা, আরিয়া, আরিয়ান, নিলয়, আইয়ান, ইশান, আহির, লাবন্য… সবাই।
----
শুধু আহনাফ একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিল।
----
হাত গুটিয়ে ছাদের রেলিংয়ে হেলান দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।
-----
ইশান সেটা দেখে বলল—
— ভাইয়া, তুমি ওখানে দাঁড়িয়ে কী করছো? এখানে আসো!”
আহনাফ শান্ত গলায় বলল—
— “তোরা খেল, আমি এখানে আছি ।”
আহির ঠোঁট ফুলিয়ে বলল—
— “না ভাইয়া, আজকে সবাই খেলবে আসো তুমিও।”
— “আমি এসব খেলি না।”
ইশান আর আহির একে অপরের দিকে তাকিয়ে দুষ্টু হেসে দু’জন মিলে গিয়ে আহনাফের দুই হাত ধরে টেনে আনল।
— “আজকে কোনো অজুহাত চলবে না!”
আহনাফ বিরক্ত হয়ে বলল—
— “তোরা একদম পাগল।”
আরিয়া হালকা হেসে বলল—
— “একদিন খেললে কিছু হবে না।”
মেয়েটার কথা শুনে আহনাফ কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
তারপর ধীরে ধীরে এসে সবার সাথে বসে পড়ল।
ইশান সাথে সাথে বলে উঠল—
— “ইয়েস! মিশন সফল!”
সবাই হেসে উঠল।
খেলা শুরু হলো।
প্রথমে ইশান নাটকীয়ভাবে গলা খাঁকারি দিয়ে বোটল ঘুরানো শুরু করল—
এরপর বোতল গেল আহিরের দিকে আহির হঠাৎ দাঁড়িয়ে দুই হাত তুলে চিৎকার করে গান ধরল—
“কচু বনে হেগে গেলো কালো কুকুরেএএএএএ…
কচু বনে হেগে গেলো কালো কুকুরেএএএএএ!”
গান গেয়ে নিজেই এমন অদ্ভুত নাচ শুরু করল যে সবাই হেসে কাঁদার অবস্থা।
ইশান পেট চেপে বলল—
— “এই ছেলেকে কেউ থামা!”
ঈশিতা এবার নাটকীয় মুখ করে বুকের ওপর হাত রেখে গান ধরল—
— “বাবা আমার কি বিয়ে হবে না…
বাবা আমার কি বিয়ে হবে নায়ায়ায়া…”
আইয়ান সাথে সাথে বলে উঠল—
— “তোরে বিয়া দিলে জামাই পালাইয়া যাবে!”
সবাই আবার হেসে উঠল।
এরপর ইশান কলার ঠিক করতে করতে উঠে দাঁড়িয়ে বলল—
— “এবার আসল হিরো নামতেছে।”
তারপর সিনেমার নায়কের মতো ভঙ্গি করে গান ধরল—
— “আমি হলাম রোমিওওও…
Ladykiller রোমিওওও…
পাক্কা playboy রোমিও হো, হো!”
আরিয়ান সাথে সাথে বালিশ ছুড়ে মারল ওর দিকে।
— “ঢং কম কর ভাই!”
আহনাফ : ওহো রোমিও তাই না দ্বারা তোর রোমিও হওয়া বের করব আমি। 
হাসির রোল পড়ে গেল পুরো ছাদজুড়ে।
আরিয়া এবার উঠে দাঁড়িয়ে চুল ঝাঁকিয়ে বলল—
— “এবার আমার পালা।”
ইশান মুখ ঢেকে বলল—
— “ইয়া আল্লাহ, বাঁচাইও !”
সবাই হেসে উঠতেই আরিয়া নাটকীয় ভঙ্গিতে গান ধরল—
— “ঘটক বুঝি আমার বাড়ির রাস্তা চেনেনা না না…
আরে ঘটক বুঝি আমার বাড়ির রাস্তা চেনে না…”
গান গাইতে গাইতে সে আহিরের হাত ধরে ঘুরতে লাগল।
 আহানাফ,আরিয়ান সহ সবাই ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল গান শুনে। ঈশিতা, আহির, ইশান, আইয়ান,হো হো করে হেসে উঠলো 
ছোট্ট লাবণ্যও কে জানে কি বুঝলো তাদের সাথে লাফাতে ও হাসতে শুরু করল।
আরিয়ান মাথা নেড়ে হেসে বলল—
— “ছুটকি মাকে বলে ঘটক আনাচ্ছি ওয়েট এন্ড সি লিটিল সিস্টার ।”
আরিয়া বলল হেসে: ওকে মাই ডিয়ার ব্রাদার বাট মাকে না পাপাকে বলো প্লিজজজজজজ।
ইশান আবার বোতল ঘোলা ঘোরালো সাথে সাথে বলল—
— “এবার আরিয়ান ভাই!”
সবাই হাততালি দিল।
আরিয়ান একটু হেসে ধীরে ধীরে গান ধরল—
“আকাশে তাকিয়ে দেখো
তাঁরারা জেলেছে আলো 
ছেড়ে যাবে না কোথাও 
এ আলো ছুঁয়ে বলো …”
তার কণ্ঠ শুনে সবাই কিছুক্ষণ চুপ হয়ে গেল।
রাতের হাওয়া, আকাশের তারা, আর সেই গানের সুর—সব মিলিয়ে মুহূর্তটা অদ্ভুত সুন্দর লাগছিল।
তারপর হঠাৎ আহির ঈশানের কাছ থেকে বোতল নিয়ে নিজে ঘুরানো শুরু করল,
 বলল,
“এবার আহনাফ ভাই!”
আহনাফ ভ্রু কুঁচকে বলল—
আমি না।”
ইশান বলল—
 “এত কষ্টে বসাইছি, এখন গানও গাইতে হবে।”
ইনায়াও হেসে বলল—
 “গান না গাইলে উঠতে দিব না ভাইয়াা।”
আরিয়ান ও নিলয় বলল:আরে ভাইয়া শুরু করো 
সবাই একসাথে জেদ ধরল।
শেষে আহনাফ হাল ছেড়ে দিয়ে ধীরে ধীরে গাইতে শুরু করল—
“তুই তো আমার সব রে পাগল…
তুই তো আমার সব
তুই তো আমার বেঁচে থাকার 
বড় অনুভব …”
তার গভীর, ভারী কণ্ঠ শুনে চারপাশ যেন থেমে গেল।
আরিয়ার বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেঁপে উঠল।
সে ধীরে ধীরে চোখ তুলে তাকাল।
আহনাফের চোখ তখন তার দিকেই।
----
কয়েক সেকেন্ড…
কেউ কিছু বলল না।
আহির আবার বোতল ঘুরালো ঠিক ইনায়া দিকে বোতল গেলো সে নরম গলায় গান ধরল—
— “রাতের সব তারা আছে দিনের গভীরে…
বুকের মাঝে মন যেখানে রাখবো তোকে সেখানে…
তুই কি আমার হবি রে…”
ঈশান,ঈশিতা, আরিয়া, আইয়ান,আহির বলে উঠলো :সে তো তোরই আছে এখন আবার কি তোর হবে বলে হাসতে শুরু করল। নিলয় আহানাফ আরিয়ান তারা তিনজন চুপ।
এভাবেই হাসি ঠাট্টায় ভরে উঠলো শিকদার বাড়ির ছাদ
হালকা বাতাসে আরিয়ার চুল উড়ছে।
আর আহনাফ…
সে শুধু তাকিয়ে আছে।
আজ প্রথমবার তার মনে হলো—
এই মেয়েটাকে এড়িয়ে থাকা হয়তো আর সম্ভব না… 
চলবে?
(রিয়েক্ট করে ফেলুন তারাতাড়ি 🥹🦋)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন