#শেষ_বিকালের_মুগ্ধতা {০৪}
#ইসরাত_জাহান_আফিয়া
(🚫এই গল্পের কোনো অংশ কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
শিকদার বাড়ি থেকে আরশি ফুপি চলে গেছে
এক সপ্তাহ হলো নিলয় এর অফিস এর কাজে তারাতাড়ি চলে যেতে হয়েছে তাদের।
সকালের ব্যস্ততায় পুরো বাড়ি সরগরম।
আজ অনেকদিন পর ৩ জন একসাথে স্কুলে যাচ্ছে।
আরিয়া আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করছে, আর পাশে ছোট্ট লাবন্য স্কুল ড্রেস পরে ঘুরে ঘুরে নিজের ব্যাগ দেখাচ্ছে।
— “আরিপি! দেতো (দেখো) আমাল (আমার) নতুন পেনসিস(পেন্সিল) বক(বক্স)!”
আরিয়া হেসে তার গালে আলতো চাপ দিল।
— “ওয়াও! একদম প্রিন্সেসদের মতো
কিন্তু লবঙ্গ পেন্সিল বক্স হবে ওটা!”
এদিকে নিচে দাঁড়িয়ে বিরক্ত মুখে অপেক্ষা করছে আহির।
— “তোমাদের দুইজন রেডি হতে আর কতক্ষণ লাগবে?”
লাবন্য জিভ বের করে বলল—
— “আহি দালাও (দাঁড়াও) তিলাছো(চিল্লাছো) কেনো আতছি(আসছি) আহির বলতে পারে না তাই আহি বলে !”
আহির ভ্রু কুঁচকে বলল—
— “আমি চিল্লালাম কখন আবার বাবা?”
আরিয়া সাথে সাথে বলে উঠল—
— “হ্যাঁ, একদম গরুর মতো!”
আহির কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল।
কারণ ঠিক তখনই আহনাফ নিচে নামল।
----
সাদা শার্ট আর কালো ঘড়িতে তাকে আজ অন্যরকম লাগছে।
আরিয়া কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকেই দ্রুত চোখ সরিয়ে নিল।
আহনাফ সেটা খেয়াল করলেও কিছু বলল না।
আহির কে আহনাফ বলল :চল আমিও বের হবো, চল তোদের স্কুলে ড্রপ করে দেই।
সবাই ওর সাথে বেরিয়ে গেলো স্কুলে
কিছুক্ষণ পর সবাই স্কুলে পৌঁছে গেল।
স্কুলের করিডোরে চারপাশে ছাত্রছাত্রীদের হৈচৈ।
লাবন্য ছোট ছোট পায়ে নিজের ক্লাসের দিকে দৌড়ে চলে গেল।
আরিয়া আর আহিরও নিজেদের ক্লাসে চলে গেল।
টিফিন টাইমে হঠাৎ করেই পুরো স্কুলে একটা ছোটখাটো ঘটনা ঘটে গেল।
লাবন্য ক্লাসরুমের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল।
ঠিক তখন পাশের ক্লাসের একটা ছোট ছেলে হাতে হাওয়াই মিঠাই নিয়ে তার সামনে এলো।
হেসে বলল—
“এইটা তোমার জন্য!”
লাবন্য এর চোখ চকচক করে উঠল।
“আমাল জন্য?”
ছেলেটা মাথা নেড়ে মিঠাইটা এগিয়ে দিল।
সুবহাও খুশি হয়ে সেটা নিয়ে নিল।
ঠিক তখনই দূর থেকে পুরো দৃশ্যটা দেখে ফেলল আহির।
মুহূর্তের মধ্যে তার মুখ শক্ত হয়ে গেল।
সে দ্রুত হেঁটে এসে সুবহার সামনে দাঁড়াল।
— “এটা কে দিছে?”
সুবহা ভয় পেয়ে ছোট্ট গলায় বলল—
— “ওই ভাইয়া…”
আহির রাগী চোখে ছেলেটার দিকে তাকাল।
ছোট্ট ছেলেটা ভয় পেয়ে এক পা পিছিয়ে গেল।
আহির দাঁত চেপে বলল—
— ওকে এসব কেন দিচ্ছো?”
ছেলেটা কাঁপা গলায় বলল—
— “আমি শুধু—”
হঠাৎ আহির রাগের মাথায় লাবণ্য এর হাত থেকে হাওয়াই মিঠাইটা ফেলে দিল।
লাবন্য চমকে উঠল।
— “আহি…”
পরের মুহূর্তেই আহির রাগে তার গালে একটা চড় বসিয়ে দিল।
চড়টা খেতেই ছোট্ট লাবণ্য এর গাল লাল হয়ে গেল।
পুরো করিডোর থমকে গেল।
সুবহার চোখ ছলছল করে উঠল।
তারপর কাঁদতে কাঁদতে বলল—
— “আমি তি কলেছি…”? (আমি কি করেছি)
আহির রাগী গলায় বলল—
— “আমি কতবার বলছি, অপরিচিত কারো কাছ থেকে কিছু নিবি না!”
লাবন্য কাঁদো কাঁদো করে বলল—
— সলি আহি আর নিবো না। (সরি আহির আর নিবো না)
চারপাশে তখন সবাই ফিসফিস করছে।
ঠিক তখনই আরিয়া দৌড়ে সেখানে এলো।
সুবহার গাল দেখে তার চোখ বড় হয়ে গেল।
সুবহা কান্না করতে করতে আরিয়ার পেছনে লুকিয়ে গেল।
আরিয়া লাবন্য কে বলল : কি হয়েছে লবঙ্গ?
লাবন্য বলল : পলে দেতি(পড়ে গেছি)
ঠিক তখনই আহনাফও সেখানে এসে দাঁড়াল।
পরিস্থিতি দেখে তার ভ্রু কুঁচকে গেল।
সে ধীরে ধীরে লাবণ্য সামনে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসল।
নরম গলায় বলল—
— “এই যে প্রিন্সেস… এত কান্না কেন?”
সুবহা ফুঁপিয়ে বলল—
— পলে দেতি(পড়ে গেছি)…”
আহনাফ সবটা দেখেছে লাবন্য যে আহির কে বাঁচানোর জন্য মিথ্যা বলছে তা বুঝে গেয়েছে।
আহনাফ আলতো করে তার গালটা দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
তারপর ঠান্ডা চোখে আহিরের দিকে তাকাল।
— “আহির ।”
আহির চুপ হয়ে গেল।
আরিয়া বলল- আমি ক্লাস এ যায় আহির লাবণ্য কে দেখে রাখ,
আরিয়া চলে গেল
আহির এর রাগটা ধীরে ধীরে কমে আসছে তার।
কিছুক্ষণ পর সে মাথা নিচু করে লাবন্য
সামনে দাঁড়াল।
— “সরি…”
সুবহা চোখ মুছতে মুছতে বলল—
— “আমাকে ইসক্রিম (আইসক্রিম) কিতে ( কিনে)দিলে মাপ(মাফ) কলবো(করবো)…”
মুহূর্তেই আহনাফও ঠোঁটের কোণে ছোট্ট হাসি টানল।
আর আহির…
সে অসহায় মুখে বলল—
— “তুমি একদম ছোট্ট ভুতু!”
লাবন্য মুচকি হেসে তার হাত দেখিয়ে কোলে নিতে বলল।
আহির কোলে নিয়ে উঠে গেল
আর দূরে ক্লাস এর সামনে দাঁড়িয়ে আরিয়া চুপচাপ নিচে তাকিয়ে রইল আহনাফের দিকে।
কেন যেন মানুষটার শান্ত, গম্ভীর দিকটা তার বুকের ভেতর আরও গভীর ঝড় তুলছে… 🖤
চলবে…
(তোমরা বেশি বেশি রেসপন্স করো লাইক কমেন্ট কর বেশি বেশি তাহলে পরবর্তী পর্ব তারতারি দিবো আর যারা ফলো না দিয়ে গল্প করছেন তারা ফলো দিয়ে পড়ুন প্লিজ পুকিরাাাাাাাা) 🙂🦋