ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ বিকালের মুগ্ধতা

৮ম পর্ব

লেখক: ইসরাত জাহান আফিয়া

#শেষ_বিকালের_মুগ্ধতা {পর্ব ০৮}

#ইসরাত_জাহান_আফিয়া
(🚫এই গল্পের কোনো অংশ কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
সেই দিন ঘোরাঘুরির পর রাতে সবাই শিকদার বাড়ি ফিরে এসে যে যার মত ঘুমিয়ে পড়েছিল পরদিন বিকেলে অদ্রিতা, রুদ্র, সাহিল,অর্ক, প্রেম, নুসরাত, আনিকা, আনিসা, আলিফা, যে যার মত যার যার বাসায় চলে গেছিল। 
আর ওই দিনপর থেকেই কেউ সুযোগ পেলে আরিয়াকে খোঁচা দেই, 
বিশেষ করে সাহিল আর প্রেম।দুজন তো সুযোগ পেলেই আরিয়াকে খোঁচা দেয়।
......
কয়েকদিন পর আবার স্কুল শুরু হলো।
সকালের ব্যস্ততা, ক্লাস, টিফিন টাইম—সব আগের মতোই।কিন্তু আরিয়া তো আরিয়াই সে দুপুর দুইটাই ঘুম থেকে উঠে কখনো কখনো বারোটাই এই নিয়ে রোজিনা সিকদার তাকে এত বকা দেই তারপরও সে ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি ওঠেনি স্কুলেও যায় না স্কুলের বিকালে বন্ধুদের সাথে বাইক রাইডে বের হয়। 
এর মাঝেই কিন্তু আরিয়ার কাছে সবকিছু যেন একটু অন্যরকম লাগছে।কারণ এখন প্রায়ই সে টের পায়—কেউ একজন আড়াল থেকে তাকে দেখছে।সে ভেবেই পায় না যে তাকে কে ফলো করছে 
......
শুক্রবার।আজ স্কুল বন্ধ।বাবাদের অফিসও বন্ধ তাই সবাই বাসায়। সকালের রোদ এসে পড়েছে শিকদার বাড়ির বারান্দায়।আরিয়া ড্রইংরুমের কার্পেটের উপর পা ছড়িয়ে বসে আছে।সামনে বই খোলা,কিন্তু পড়ার থেকে মোবাইলেই বেশি মন তার।
হঠাৎ দরজার সামনে থেকে গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এলো—
— “আরিয়া আম্মু তোমার স্কুলের পরীক্ষা কবে পড়ালেখা কেমন চলে? আরমান শিকদার বলল।
আরিয়া মুখ তুলে তাকাল।
বড় বাবা ধীরে ধীরে এসে সোফায় বসলেন।
তার হাতে খবরের কাগজ,চোখে সেই চিরচেনা শান্ত ভাব। তার সাথে আরিয়া দেখলো তার মেঝো বাবা, আর তার পাপা ও এসে বসলো।
আরিয়া মুখ বাঁকিয়ে বলল—বড় বাবা, পড়ালেখা ও ওর পথে চলে আর আমি আমার পথে। 
আরিশ শিকদার আর নাজমুল শিকদার দুইজনেই আরিয়ার তাকালেন, তারা জানতো আরিয়া এমনই উত্তর দিবে, 
বড় বাবা ভ্রু তুললেন।আরিয়ার চঞ্চল কথা শুনে আর কিছু বলল না 
আরিয়া এবার বই বন্ধ করে সোজা হয়ে বসলো— “বড় বাবা,সবাই শুধু পড়াশোনা পড়াশোনা করে কেন বলো তো?”
আরমান শিকদার বললেন — “কারণ মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হয় মা।”
আরিয়া ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে বলল—এখনো তো নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আছি হাত দিয়ে তো দাঁড়িয়ে নেই বলো বড় বাবা।
কথাটা শুনে বড় বাবা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইলেন।তারপর হঠাৎ বললল–মা তুই থাম নাজমুল তোর মেয়ে আমাকে পাগল বানিয়ে ছাড়বে আমাকে ভাই।
নাজমুল শিকদার বড়ো ভাইয়ের ও মেয়ের কথা শুনে মুখ টিপে হাসলো মনে মনে বলে উঠলো–আমাকে পাগল বানিয়ে ছাড়ছে এইবার তোমরা ও হও। সে মুখে কিছুই বলল না। 
এর মধ্যে আরিয়ান নিচে নেমে সোফায় বাবাদের সাথে বসলো।বোনের এমন কথা শুনে সে হেসে সামন্ত কণ্ঠে বলল –ছুটকি ঠিক বলছিস।
আরিয়া গর্বিত ভঙ্গিতে বলল—হ্যাঁ ভাইয়া আমি সব সময় ঠিক কথাই বলি তুমি বলো তুমি তো জানো পড়ালেখা বাজে জিনিস। আরিয়ান কিছু বলতে যাবে। 
তার মধ্যেই সিঁড়ি থেকে আহনাফ বলে উঠলো –একদম ঠিক পড়ালেখা তো বাজে জিনিস সারাদিন টইটই করে বেড়ানো ভালো জিনিস বল তাই না। 
আরিয়া আহনাফের এই কথা শুনে উঠে দাঁড়ালো কোমরে হাত দিয়ে বলল রাগে –এই একদম আজেবাজে কথা বলবেন না আপনার মত নাকি ১০টা গার্লফ্রেন্ড আপনি ঘুরে বেড়ায় যত্তসব।
বড়রা সবাই আরিয়ার কথা শুনে আহনাফের দিকে তাকালো আর আহনাফ সে তো ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল আরিয়ার এমন কথা শুনে মনে মনে বলল- এই মেয়ে বলে কি আমার নাকি দশটা গার্লফ্রেন্ড আহনাফ কিছু বলতেই যাবে।
 এরমধ্যে শারমিন শিকদার এসে বলল– তোরা দুটো থাম। সবাই খেতে চলো, যে যার মত চেয়ারে বসলো আরিয়া, লাবণ্য, ঈশিতা, ইনায়া আহির ঈশান ছয়জন পাশাপাশি বসলো আরিয়ার পাশে আরিয়ানের জন্য চেয়ার রাখে দিল তারা ভাই বোন পাশাপাশি বসে,
লাবণ্য আর আরিয়াকে রোজিনা সিকদার হাত থেকে খাওয়াতে লাগলো কারণ আরিয়া হাত থেকে ভাত মেখে খেতে পারে না তাকে প্রতিদিন মা,মামণিরা বা ভাইয়ারা, বোনরা খাইয়ে দেই আজ তার মাথাতে দুই বোনকে খাওয়ায় দিচ্ছে, 
আহনাফ এসেই আরিয়ার পাশে আরিয়ানের চেয়ারটাই বসে পড়ল।
 আরিয়া আহনাফকে বসতে দেখে বলল– এ্যাঁই,এটা আমার ভাইয়ের চেয়ার আপনি কেন বসলেন উঠুন, 
আহনাফ ওর কথা শুনে ভাবলেস ভাবে বলল–এ্যাঁ ভাইয়ার চেয়ার নাম লেখা আছে তো ভাইয়ার?
 আহনাফ আরিয়ানকে আসতে দেখে ওর দিকে চোখ গরম দিয়ে বলল– আরিয়ান তোর কোনো সমস্যা আছে চেয়ারে বসলে? 
আরিয়ান ভয়ে ঢোক গিলে বলল– না না ভাইয়া তুমি বসো আমার কোন সমস্যা নেই সত্যি থাক আজকে ভাইয়া বসুক আমি ইশানের পাশেরটায় বসি। 
আহির বলল–নায়াাাাাা আমার পাশে খালি এখানে আসো আরু ভাইয়াাাা।
আরিয়ান আরু নামে শুনে রাগী ভাবে আহির কে বলল –আরু বলবি না না হলে কিন্তু 
আহির চুপ হয়ে গেল আরিয়ান কি করবে ভাবতেই তার ঘাম ছুটে গেল। 
 আরমান শিকদার ধমকে বলল– চুপচাপ খাও আর একটাও কথা না শুনি। তার কথা শুনে সবাই খাওয়াতে মন দিল সবার খাওয়া শেষে বড়রা সবাই চলে গেল যাওয়ার সময় বড়মা ছেলেমেয়েদের রুমে রেস্ট নিতে বলল।যে যার মত রুমে চলে গেল।
 
 চলবে?
(মাইগ্রেন এর মাথা ব্যাথা নিয়ে লিখছি বসে বসে
গল্পটা পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই একটা রিয়্যাক্ট আর সুন্দর মতামত জানাতে ভুলবেন না।
খুব শীঘ্রই আসছে পরবর্তী পর্ব।
ধন্যবাদ সবাইকে।)🫠🤍

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন