ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ বিকালের মুগ্ধতা

৭ম পর্ব

লেখক: ইসরাত জাহান আফিয়া

#শেষ_বিকালের_মুগ্ধতা{পর্ব ০৭}

#ইসরাত_জাহান_আফিয়া
(🚫এই গল্পের কোনো অংশ কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
রাত তখন প্রায় এগারোটা ছুঁইছুঁই।
দুইটা গাড়ি এসে থামলো শহরের একদম নিরিবিলি একটা জায়গায়।
নদীর পাশের ছোট্ট ওয়াকওয়ে।চারপাশে নরম হলুদ আলো জ্বলছে।দূরে পানির ঢেউয়ে আলো পড়ে চিকচিক করছে,হালকা ঠান্ডা বাতাসে পুরো পরিবেশটাই কেমন শান্ত হয়ে আছে।
গাড়ি থামতেই লাবণ্য সবার আগে নেমে চিৎকার করে উঠল—“ওয়াওওও এওোোো মাম!”
সে দৌড়ে সামনে চলে গেল।আহির দ্রুত তার পেছনে গেল।-“আস্তে লবঙ্গ !”
সাহিল দুই হাত ছড়িয়ে বলল—“এই জায়গা আমার খুব পছন্দ!”
প্রেম নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল—
— “এখানে প্রেম করলে ভাই ফিল আলাদা আসে।”
রুদ্র সাথে সাথে বলল—তোরে কেউ প্রেম করতে বলছে?”
সবাই আবার হেসে উঠল।
......
আরিয়া ধীরে ধীরে গাড়ি থেকে নামল।হালকা বাতাসে তার অবাধ্য চুলগুলোবিরক্ত করছে তাকে। সে কিছুক্ষণ চুপচাপ নদীর দিকে তাকিয়ে রইল।
ঠিক তখনই তার পাশে এসে দাঁড়ালো আহনাফ।
দুজনের মাঝেই কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর আহনাফ নিচু গলায় বলল— “ঠান্ডা লাগছে তোর?”
আরিয়া মাথা নাড়ল।–“না।”
কিন্তু তার কণ্ঠ কেঁপে উঠল হালকা।
আহনাফ কিছু না বলে নিজের হাতে থাকা কফির কাপটা তার দিকে এগিয়ে দিল।– “নে ধর রাগীনিরানী।”
আরিয়া অবাক হয়ে তাকাল।
— “আপনার?পরের মুহূর্তে রাগিনী রানি শুনে রেগে বলল -আজব রাগীনিরানী কে?
আহনাফ হেসে মাথা চুলকে বলল –তুই ছাড়া আরকে হবে।বলেই আরিয়ান এর কাছে চলে গেল।
......
এদিকে সাহিল, ইশান আর রুদ্র মিলে আবার ভিডিও বানানো শুরু করেছে।
প্রেম ক্যামেরা ধরে বলছে—আজকের রাতের বিশেষ আকর্ষণ—দুই জোড়া সন্দেহজনক মানুষ!”
সাহিল সাথে সাথে ক্যামেরা ঘুরিয়ে আহনাফ আর আরিয়ার দিকে ধরতেই আরিয়া চমকে গেল।
— এই! ভিডিও বন্ধ কর! আরিয়া বলল
সবাই হেসে উঠল।
আহনাফ এবার শান্ত গলায় বলল– “সাহিল।”
সাহিল সাথে সাথে নাটকীয়ভাবে বলল— “জি ভাই আমি কিছু করি নাই!”
রুদ্র হাসতে হাসতে বসে পড়ল।
......
অন্যদিকে অদ্রিতা ইনায়া,ঈশিতা অন্যদিকে ছবি তুলতে ছিল,অদ্রিতা একা একা একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিল।
হঠাৎ তার ফোনটা হাত থেকে পিছলে নিচে পড়ে গেল।সে নিচু হতে যাবে ঠিক তখনই আরিয়ান আগে ফোনটা তুলে নিল।অদ্রিতা থমকে গেল।
আরিয়ান ফোনটা হাতে নিয়ে মুচকি হেসে বলল—
— “এত নার্ভাস কেন থাকো সবসময়?”
অদ্রিতা চোখ নামিয়ে বলল—কো কো -থায় নার্ভাস হলাম ।”
আরিয়ান হালকা হেসে বলে উঠলো — “তাহলে আমার সামনে এলে হাত কাঁপে কেন?”
অদ্রিতা এবার সত্যিই লজ্জা পেয়ে গেল।
তার গাল লাল হয়ে উঠেছে।
আরিয়ান কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে ধীরে বলল—টমেটোর মতো লাগছে কিউট।”
একটা শব্দ।শুধু একটা শব্দেই মেয়েটার বুকের ভেতর তোলপাড় শুরু হয়ে গেল।
সে দ্রুত ফোনটা নিয়ে অন্যদিকে চলে গেল।
আরিয়ান দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হেসে ফেলল।
......
রাত আরও গভীর হতে লাগলো।
সবাই মিলে নদীর পাশের সিঁড়িতে বসে গল্প করছে।
হাসাহাসি, খুনসুটি, ঠান্ডা বাতাস—
সব মিলিয়ে সময়টা স্বপ্নের মতো লাগছে।
হঠাৎ আনিকা বলল— “চলো সবাই নিজের সিক্রেট বলি!”
সাথে সাথে সবাই “নাহহহ!” বলে উঠল।
কিন্তু আনিকা মেয়েটা জেদ ধরে বসে রইল।
শেষমেশ ঠিক হলো সবাই একটা করে ছোট্ট সিক্রেট বলবে।
প্রথমে সাহিল বলল— “আমি ছোটবেলায় একটা ম্যামকে প্রেমপত্র লিখে ধরা খাইছিলাম।”
পুরো দল হেসে গড়াগড়ি খেতে লাগল।
রুদ্র হাসতে হাসতে বলল— “ভাই এটা কি ছিলে শেষমেষ নাকি ম্যামকেই প্রেমপত্র দিতে হলো 
এরপর একে একে সবাই কিছু না কিছু বলল।
হঠাৎ নুসরাত বলল—এবার আহনাফ ভাইয়া!”
আহনাফ ভ্রু তুলল— আমার কিছু বলার নাই।”
সবাই একসাথে বলে উঠল,–আছে আছে!”
আহনাফ কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকল।
তারপর ধীরে ধীরে বলল—আমি সহজে কাউকে পছন্দ করি না।”
সবাই চুপ হয়ে গেল।
কেন যেন কথাটার ভেতরে অন্যরকম একটা গভীরতা ছিল।
আরিয়া অজান্তেই তার দিকে তাকাল।ঠিক তখনই আহনাফও চোখ তুলে তাকাল তার দিকে।
দুজনের চোখ কয়েক সেকেন্ডের জন্য আটকে গেল।বাতাসটা হঠাৎ কেমন ভারী হয়ে উঠল।
সাহিল আস্তে করে প্রেমকে কনুই মেরে ফিসফিস করল—“ব্রো আমি কনফার্ম।”
অর্ক বুক চেপে বলল— “আমার তো এখনই বিয়ের দাওয়াত চাই।”
রুদ্র,নুসরাত আনিকা বিরক্ত হয়ে বলল—তোরা থামবি?”
......
রাত প্রায় বারোটা।ফেরার সময় হয়ে গেছে।
সবাই ধীরে ধীরে গাড়ির দিকে এগোচ্ছে।
ঠিক তখনই হঠাৎ আরিয়ার লম্বা চুল বাতাসে উড়ে গিয়ে রাস্তার পাশের ঝোপে আটকে গেল।
সে থমকে গেল।বারবার ছাড়ানোর চেষ্টা করেও পারছে না।
বাকি সবাই একটু সামনে চলে গেছে।ঠিক তখনই আহনাফ ফিরে তাকিয়ে সেটা দেখল।
সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে নিচু হয়ে চুল গুলো ছাড়িয়ে দিল।আরিয়া নিঃশ্বাস আটকে তাকিয়ে আছে।
আহনাফ উঠে দাঁড়িয়ে খুব শান্ত গলায় বলল— “সবসময় এত অগোছালো থাকিস কেন?”
আরিয়া ছোট্ট গলায় বলল—আমি কোথায় অগোছালো থাকি এই বেয়াদব চুলের দোষ সব,
আহনাফ হালকা হেসে ফেলল।
তারপর হঠাৎ খুব আস্তে করে বলল—
— তবুও ভালো লাগে রাগীনিরানী।”
আরিয়া একদম স্থির হয়ে গেল।
মনে হলো পুরো পৃথিবীটাই কয়েক সেকেন্ডের জন্য থেমে গেছে।দূরে গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে সাহিল মুখ চেপে চিৎকার আটকাচ্ছে।
প্রেম তো প্রায় লাফাচ্ছে।
আর অদ্রিতা ইনায়া, ঈশিতা দূর থেকে সব দেখে মুচকি হেসে ফেলল।
চলবে?
(গল্পটা পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই একটা রিয়্যাক্ট আর সুন্দর মতামত জানাতে ভুলবেন না।
 পড়ে কেউ রিয়্যাক্ট দেয় না কেন 
আয়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া) 😞🙌
খুব শীঘ্রই আসছে পরবর্তী পর্ব।
ধন্যবাদ সবাইকে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন