#শেষ_বিকালের_মুগ্ধতা (ঈদ_স্পেশাল_পর্ব)
#ইসরাত_জাহান_আফিয়া
#সারপ্রাইজ_পর্ব
(🚫এই গল্পের কোনো অংশ কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
সকাল থেকেই পুরো শিকদার বাড়িতে ঈদের আমেজ।
কেউ নতুন জামা পরে ঘুরছে, কেউ ছবি তুলছে, কেউ আবার শুধু গরুর হাটে যাওয়ার জন্য এক্সাইটেড হয়ে আছে।
সকালেই আরিয়া তার বন্ধু মহল কে কল দিয়ে তাদের বাসায় আসার জন্য বলেছে তাই তারাও তাদের বাড়ি চলে এসেছে হাটে যাওয়ার জন্য।
সবচেয়ে বেশি উত্তেজিত ছোট্ট লাবণ্য।
সে সকাল থেকে সবার পেছনে ঘুরে একটাই কথা বলছে—আমি লাল গোলু নিবো! একদম টকটকে লালু!”
ড্রইংরুমে বসে থাকা সাহিল হেসে বললো—গরু কিনবা নাকি লাল টমেটো?”
লাবণ্য সাথে সাথে কোমড়ে হাত দিয়ে বললো–তোমাল সাথে কতা নাই সাহি ভাইটুস!
সাথে সাথে পুরো বাড়ি হেসে উঠলো।
এদিকে অদ্রিতা ব্যাগে পানির বোতল, টিস্যু আর মেকআপ এর জিনিস ভরছে।
আরিয়া আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ঠোঁটে লিপগ্লস দিতে দিতে বললো—
“আজকে অনেক ছবি তুলবো।”
নুসরাত সাথে সাথে বললো—আগে গরু কিনে আয়, তারপর মডেলিং করিস।
সবাই রেডি হয়ে দুইটা গাড়িতে উঠলো।
গাড়ির ভেতরেও শান্তি নেই।
রুদ্র গান চালিয়ে পুরো গাড়ি মাথায় তুলেছে।
প্রেম জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিল, হঠাৎ সাহিল বলে উঠলো—এই প্রেম গরু দেখতে যাইছিস নাকি জীবন নিয়ে ভাবতেছিস?”
গাড়িতে আবার হাসির রোল পড়ে গেল।
লাবণ্য আরিয়ার কোলে বসে বারবার বলছে—আমাল জন্য লাল গলু কেউ নিবা ।”
আরিয়ান মাথায় হাত বুলিয়ে বললো—আচ্ছা লবঙ্গ , তোর লাল গরুই নিবো।”
হাটে পৌঁছাতেই চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ।
বড় বড় গরু, মাইকিং, দামাদামি— পুরো জায়গা জমজমাট।
অদ্রিতা তো হাটে ঢুকেই উত্তেজনায় চিৎকার–ওমাগো! এই গরুটা কত সুন্দর!”
সে দৌড়ে একটা সাদা গরুর পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।
কখনো সেলফি তুলছে, কখনো ভিডিও করছে।
আরিয়ান দূর থেকে তাকিয়ে বললো—অদ্রিতা, একটু দূরে দাঁড়াও।”
অদ্রিতা বলল –কেনো?”
আরিয়ান আবার তার দিকে তাকিয়ে বলল –গরু ধাক্কা দিলে সোজা কাদাঁয় পড়বা।”
অদ্রিতা মুখ ফুলিয়ে বললো বিড়বিড় করে বলল —উফ! একটু ছবি তুলতেছি তাও শান্তি নেই শাশুড়ির ছেলে ।”
ঠিক তখনই গরুটা জোরে “হাম্বা” করে উঠতেই অদ্রিতা ভয় পেয়ে সোজা আরিয়ানের গায়ে ধাক্কা খেলো!
সাহিল সাথে সাথে প্রেমের কানে বলে উঠলো—এইটা গরুর হাট নাকি রোমান্টিক নাটক?
রুদ্র বললো—আরিয়ান ভাইয়ের শার্ট বাঁচলো তো?”
সবাই হাসতে হাসতে শেষ।
আরিয়ান বিরক্ত মুখে দাঁড়িয়ে থাকলেও ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠলো।
এদিকে লাবণ্য হঠাৎ দূরে একটা টকটকে লাল গরু দেখে চিৎকার করে আহনাফকে উঠলো—বড় ভাইয়া! এতা ! এতাই আমার লালু!
সবাই গরুর কাছে গেল।
গরুটা সত্যিই সুন্দর।
লাবণ্য তো গরুর গলায় হাত দিয়ে আদর করাই শুরু করে দিলো।
কিন্তু দাম শুনতেই সবাই থমকে গেল।
ঈশান চোখ বড় বড় করে বললো—এই দামে গরু না, গাড়ি কিনা যায়!
কিন্তু লাবণ্য কিছু শুনবে না।
সে মাটিতে বসে কান্না শুরু করলো—আমাল লাল গলু চাইইই!
আহির এতক্ষণ চুপ থাকলেও এবার লাবন্য কে বলল– লবঙ্গ চুপ থাক না হলে মুখ সেলাই করে দিব।
আহিরের কথা শুনে লাবণ্য সত্যিই ভয় পেয়ে আহনাফের কোলে উঠে গেল।
হাটের মানুষও তাকিয়ে হাসছে।
বড় বাবা হাসি আটকাতে আটকাতে বললো—এই মেয়ে আজ পুরো হাট মাথায় তুলবে।”
ঠিক তখনই ইশান ফোন হাতে ভিডিও করতে করতে স্টাইল মেরে পেছাচ্ছিল।
আর সবাই লাবণ্যকে সামলাতে ব্যস্ত।
হঠাৎ—
ঝপাসসসস! সোজা পাশের কাদাঁ পানিতে পড়ে গেল ঈশান !
দুই সেকেন্ড সবাই চুপ।
তারপর পুরো হাট হাসিতে ফেটে পড়লো।
রুদ্র হাঁটুতে হাত দিয়ে বললো—
“গরু কিনতে এসে মাছ ধরতে নামছে!”
সাহিল বললো—“এইবার কুরবানির সাথে মাছ ভাজাও হবে।”
অদ্রিতা হাসতে হাসতে দাঁড়াতেই পারছে না।
আরিয়ানও আহনাফ মাথা নেড়ে বললো–এই দল নিয়ে বাইরে আসাটাই ভুল ছিল।”
আরিয়ান গিয়ে ঈশান কে পানি থেকে তুলতে তুলতেই সবার অবস্থা শেষ।
তার পুরো জামা কাদা আর পানিতে ভিজে একাকার।
নাজমুল শিকদার তার ভাইয়ের ছেলেকে দেখে হাসতে হাসতে বললো—তোরে দেখে মনে হইতেছে গরুর সাথে গোসল করছিস।
ঈশান রাগে বললো—কাকাই তুমিও।
নাজমুল সিকদার চুপ হয়ে গেলেন তিনি মুখ টিপে টিপে হাসছেন।
রুদ্র সাথে সাথে ফোন বের করে বললো—না ভাই, এই মুহূর্ত ইতিহাস হয়ে থাকবে।”
অদ্রিতা আবার হাসি আটকাতে না পেরে সোজা নুসরাতের কাঁধে হেলে পড়লো।
এদিকে লাবণ্য এখনও তার লাল গরুর পাশেই দাঁড়িয়ে।
সে গরুর মাথায় হাত বুলিয়ে বলছে—তুমি মন খালাপ তরো না, আমি তোমালে নিবো।
গরুর মালিকও হাসতে হাসতে বললো—মাইয়াডা তো গরুরে নিজের বন্ধু বানাইয়া ফেলছে।
শেষ পর্যন্ত সবাই অনেক দরদাম করে গরুটা নিয়েই ফেললো সাথে আরো তিনটা গরু নিল ।
লাবণ্য খুশিতে লাফিয়ে উঠে বললো—ইয়েহহ! আমাল লালু আসতেছে!
আরিয়া বললো—এই গরুর নামও ঠিক করে ফেলছে দেখ।”
এদিকে প্রেম একটা কালো গরুর সামনে দাঁড়িয়ে ছিল।
হঠাৎ গরুটা তার দিকে তাকিয়ে জোরে ডাক দিলো।
প্রেম ভয় পেয়ে এক লাফে পিছিয়ে যেতেই সাহিল চিৎকার করে উঠলো—ওই দেখ! গরুও প্রেম ভাইরে পছন্দ করছে না।”
নুসরাত হেসে বললো—গরুও বুঝছে বেশি ভাব নেয়।”
সবাই আবার হেসে উঠলো।
গরু কেনা শেষ করে সবাই ঠান্ডা শরবত খেতে বসলো।
অদ্রিতা ফোন বের করে একের পর এক ছবি দেখতে লাগলো।
হঠাৎ সে চিৎকার করে উঠলো—
“ইয়া আল্লাহ! আমার একটা ভিডিওতে ঈশান ভাইয়ার পড়ার সিন ধরা পড়ছে!”
সবাই একসাথে ফোনের দিকে ঝুঁকে পড়লো।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে—ইশান স্টাইল মেরে হাঁটছে, তারপর স্লো মোশনের মতো কাদাঁ পানিতে পড়ে যাচ্ছে।
পুরো দল আবার হাসতে হাসতে শেষ।
ইশান মুখ গোমড়া করে বললো—
“ভিডিওটা কেউ আপলোড দিবা না।”
রুদ্র বললো—আগেই দেরি হয়ে গেছে ভাই।”
ঈশান বলল –মানে?”
আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল– আমি অলরেডি স্টোরি দিয়ে দিছি।
ঈশান কাঁদো কাঁদো করে আরিয়ার দিকে তাকালো।
সাথে সাথে সবাই আবার হেসে উঠলো।
বিকেলের দিকে গরুগুলো ট্রাকে তোলা হলো।
লাবণ্য তার লাল গরুর পাশে বসে পড়েছে ।
বারবার বলছে—লালু ভয় পেয়ো না, আমি আছি।”
আহনাফ দূর থেকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।
অরিয়া সেটা দেখে বললো—“আপনি হাসতেছেন?”
আহনাফ সাথে সাথে গম্ভীর হয়ে বললো—না তো।”
আরিয়া বলল–আমি দেখছি কিন্তু।”
আহনাফ গম্ভীর ভাবে বলল –ভুল দেখছিস।”
আরিয়া আহনাফকে জ্বালাতে বললো—ওহো বুঝছি রিজভী ভাই আপনি আপনার ১০ গার্লফ্রেন্ডের কথা মনে করে হাসছেন ?
আহনাফ রাগী ভাবে আরিয়ার দিকে তাকালো অন্যদিকে আরিয়া আর কিছু না বলে অন্যদিকে চলে গেল ।
সাহিল পাশ থেকে ফিসফিস করে বললো– আমরা একটা গার্লফ্রেন্ড পাই না আর আহনাফ ব্রো দশটা
আহনাফ কড়া চোখে তাকাতেই সাহিল দৌড়ে পালালো।
সন্ধ্যার পর সবাই বাড়ি ফিরলো।
পুরো বাড়ি তখন গরু দেখতেই ব্যস্ত।
ছোটরা দৌড়াদৌড়ি করছে, বড়রা গল্প করছে।
লাবণ্য তার লাল গরুর সামনে দাঁড়িয়ে গম্ভীর মুখে বললো—এইডা কিন্তু আমাল লালু কেউ ধলবা মা।
সাথে সাথে সবাই আবার হেসে উঠলো।
আর এভাবেই হাসি, দুষ্টুমি আর হৈচৈয়ের মধ্য দিয়ে শিকদার বাড়ির কুরবানির ঈদের আনন্দ আরো জমে উঠলো।
চলবে?
(রেসপন্স করবেন প্লিজ সবাই)🫠✨