#শেষ_বিকালের_মুগ্ধতা {পর্ব ১০}
#ইসরাত_জাহান_আফিয়া
(🚫এই গল্পের কোনো অংশ কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
আরিয়ানের কথা শুনে পুরো দল একসাথে থমকে গেল।
অদ্রিতা তখনও আরিয়ার পিছনে লুকিয়ে দাঁড়িয়ে।
আরিয়া গলা খাঁকারি দিয়ে বলল—“আমরা… ঐ… হাঁটতে আসছি।”
আরিয়ান দুই হাত বুকের সামনে ভাঁজ করে তাকিয়ে রইলো সবার দিকে।
তার চোখেমুখে এমন এক কড়া ভাব যে প্রেম,সাহিল পর্যন্ত চুপ মেরে গেছে।
কয়েক সেকেন্ড কেউ কোনো কথা বললো না।
তারপর আরিয়ান ধীরে ধীরে বলল—ব্যাচ শেষ তোমাদের ?”
প্রশ্নটা শুনে সবাই একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওি করতে লাগলো।
নুসরাত আস্তে করে বলল–ঐ… প্রায় শেষ।”
ঠিক তখনই প্রেম ফোন বের করে টাইম দেখে শুকনো ঢোক গিলে বলল— “দোস্ত… শেষ হতে এখনো বিশ মিনিট বাকি।”
কথাটা শুনে আরিয়ানের মুখ আরও শক্ত হয়ে গেল।— “মানে ক্লাস চলতেছে আর তোরা পার্কে ঘুরতেছিস?”
সাহিল দ্রুত বলল—“ভাইয়া আসলে পড়া খুব বোরিং ছিল।”
আরিয়ান ঠান্ডা গলায় বলল— “তাই বলে পালিয়ে আসবি ?”
অদ্রিতা এবার সাহস করে বলল— “আমরা একটু ফ্রেশ হাওয়া খাইতে আসছিলাম।”
আরিয়ান ভ্রু তুলল।— “ফ্রেশ হাওয়া?”
তারপর সরাসরি অদ্রিতার দিকে তাকিয়ে বলল
— “আর তুমি একটু আগে পুরো পার্ক মাথায় তুলে কান্দতেছিলা কেন?”
এই কথা শুনতেই বাকিরা আবার হাসি আটকাতে পারলো না।
অদ্রিতা মুখ ঢেকে বলল— “ইয়া আল্লাহ! আবার ওই কথা!”
.....
ঠিক তখনই আরিয়ানের সাথে থাকা সেই মেয়েটি এগিয়ে এলো।
কালো শার্ট,ক্যাপ,হাতে একটা ফাইল।
সে খুব সাবধানে চারপাশ দেখে নিচু গলায় বল— “স্যার,ফাইলটা।”
“স্যার” শব্দটা শুনে আরিয়া ভ্রু কুঁচকে তাকালো।
আরিয়ান দ্রুত ফাইলটা নিয়ে জ্যাকেটের ভিতরে ঢুকিয়ে ফেলল।
মেয়েটা আবার নিচু গলায় বলল— “লোকটা আজও ফলো করছে।”
আরিয়ানের চোখ মুহূর্তেই বদলে গেল।
সে চারপাশে তাকিয়ে খুব শান্ত গলায় বল—“আমি দেখেছি।”
কিন্তু সেই শান্ত গলার ভিতরেও ভয়ংকর কড়া ভাব ছিল।
আরিয়া এবার সরাসরি বলল— “ভাইয়া,কি হচ্ছে কে ফলো করছে ?”
আরিয়ান বোনের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল — “কিছু না ।”
আরিয়া আরিয়ানের মুখের দিকে তাকিয়ে আবার বলল — “মিথ্যা বলছো তুমি ভাইয়া ।”
আরিয়ান এবার বিরক্ত হয়ে বলল—“আরু,এখন চুপ থাক।”
সেই মেয়েটা আরিয়াকে বলল– হ্যালো আরিয়া। আমি স্নেহা খন্দকার। আরিয়ানের ফ্রেন্ড তুমি তো সেই ছোট্ট আরিয়া। কত বড় হয়ে গিয়েছো কেমন আছো? বলে হাত এগিয়ে দিল হ্যান্ডশেক করার জন্য।
আরিয়া ও তার দিকে তাকিয়ে হাত বাড়িয়ে দিল বলল –আপু তোমাকে তো ঠিক চিনলাম না তুমি ভাইয়ার ফ্রেন্ড ভাইয়া তো বলল না।
স্নেহা আরিয়ানের দিকে তাকালো। কিরে অফিসার বললি না কেনো।
আরিয়ান স্নেহা কে চুপ থাকতে বলল স্নেহা বাধ্য মতো মেয়ের মতো চুপ হয়ে গেল।
অদ্রিতার বেস্ট ফ্রেন্ড শুনে কষ্ট লাগলো তাই সে চুপ হয়ে অন্যদিকে গেল।
ঠিক তখনই প্রেম হঠাৎ বলল— “দোস্ত ওই লোকটা ছবি তুলতেছে না?”
সবাই তাকিয়ে দেখলো একটু দূরে কালো ক্যাপ পরা একটা লোক মোবাইল উঁচু করে ওদের দিকেই ছবি তুলছে।
লোকটা বুঝতে পারলো ওরা দেখে ফেলেছে।সাথে সাথে দ্রুত হাঁটা দিল।
আরিয়ানের মুখ মুহূর্তেই শক্ত হয়ে গেল।
সে ফোন বের করে কারও কাছে কল দিল— “ব্লু পার্কের পূর্ব পাশ।কালো ক্যাপ।লোকটা বের হচ্ছে।ট্র্যাক করো।”
ওপাশ থেকে কিছু বলতেই আরিয়ান নিচু গলায় বলল—“না,এখনই কিছু করবে না।”
পুরো দল অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।
অদ্রিতা তো ভয় পেয়ে অন্য দিক দিয়ে ছুটে এসে আরিয়ার হাত শক্ত করে ধরে ফেলেছে।
অর্ক আস্তে করে বলল— “ভাই… আমার ডর লাগতেছে।”
আরিয়া এবার আর চুপ থাকতে পারলো না।
সে সরাসরি আরিয়ানের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।
দাঁড়িয়ে বলল — “ভাইয়া তুমি কি কোন পুলিশ নাকি যেভাবে কাউকে ফোন দিলা আর ওই আপুটা তোমাকে স্যার এবং অফিসার বলল কেন ?”
প্রশ্নটা শুনে কয়েক সেকেন্ড চুপ রইলো আরিয়ান।
তারপর ধীরে ধীরে বলল— “সব মানুষের একটা দিক থাকে যেটা সবাই দেখে… আর একটা দিক থাকে যেটা কেউ জানে না।”
সবাই নিঃশ্বাস বন্ধ করে শুনছে।
চারপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা নেমে এলো।
তারপর হঠাৎ আরিয়ান কড়া গলায় বলল“এখন সবাই ব্যাচে যাবি গিয়ে স্যারকে সরি বলবে ।”
সবাই একসাথে বলল— “কিহহহ?”
আরিয়ান গম্ভীর গলায় বলল — “যা শুনছিস তাই।ক্লাস শেষ হতে এখনো বিশ মিনিট বাকি।”
সাহিল মুখ কুঁচকে বলল—“ভাই প্লিজ।”
প্রেম নাটকীয় মুখে বলল—“আমাদেরে মাফ করে দেন।”
অদ্রিতা তো প্রায় কান্নার গলায় বলল— “আমরা গেলে ওই পেট মোটা সাদা চুল ওয়ালা স্যার আমাদের কান ধরে দাঁড় করাবে আবার মারবেও কাল যাব আজ থাক ?”
কিন্তু আরিয়ান কোনো কথা শুনলো না।
সে সোজা বলল—“চুপচাপ হাঁটা শুরু কর।”
পুরো দল বাধ্য ছেলের-মেয়ের মতো মাথা নিচু করে হাঁটতে লাগলো।
আরিয়ান ওদের নিয়ে আবার ব্যাচের সামনে এসে দাঁড়ালো।
ওদের স্যার তখন দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রাগে ফুঁসছে।
কারণ কারন সে পিছন ফিরে অংক বোঝাতে গিয়ে দেখেলো পুরো দল উধাও
সে মনে মনে আজ ওদের শাস্তি দিবে এই ভেবে রাখল ।
স্যার ওদের দেখে চিৎকার করে বলল— “বাহ! খুব ভালো! পুরো ব্যাচ একসাথে পালাইছো। আরিয়ান ও আহনাফ আমার কাছে পড়েছে কই ওরা তো এরকম করেনি কখনো আরিয়া তুমি ওদের বোন হয়ে কিভাবে এরকম কর ?”
সবাই মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে।
আরিয়া বিড়বিড় ব্যঙ্গ করে বলল –এ্যাঁ যত্তসব তুমি এমন কিভাবে করো।
আরিয়ান ভদ্রভাবে বলল—“ সরি স্যার ওদের হয়ে আমি বলছি ওরা আর এমন করবে না আর যদি এমন করে তাহলে আপনি একবার আমাকে বা আহনাফ ভাইয়াকে কল দিবেন তারপর ওদের আমরা দেখবো ।”
স্যার বিরক্ত গলায় বলল—ঠিক আছে আরিয়ান আর এদের জন্যই আমার আমার মাথার চুল সাদা হচ্ছে !”
প্রেম আস্তে করে সাহিলকে বলল “–স্যারের তো আগেই সাদা ছিল।”
সাহিল হাসি আটকাতে গিয়ে কাশি শুরু করে দিল।
স্যার রাগী চোখে তাকাতেই দুজন আবার সোজা হয়ে দাঁড়ালো।
আরিয়ান যাওয়ার আগে একবার আরিয়ার দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় বলল– ভালোমতো ক্লাস করবা সবাই। আরিয়া বাসায় গিয়ে কথা আছে তোর সাথে ছুটকি ।”
আরিয়ার বুক ধক করে উঠলো।
অদ্রিতা ফিসফিস করে বলল—ননদিনী… আজ তোর নিস্তার নেয়।”
আরিয়া শুকনো ঢোক গিলে ব্যাগ শক্ত করে বলল–আমার ভাই আমাকে কিছুই বলবে না জাস্ট একটু ভয় দিলো বাদ দে বেশি বকবক করিস না তো তোর জন্য সব হয়েছে।
বাকিরা সবাই আরিয়ার কথা শুনে বলল একদম অদ্রিতে যদি ওভাবে না কাঁদতো তাহলে আরিয়ান ভাই আমাদের দেখতেও না সবই অদ্রিতার কাজ মনে হচ্ছে গলা টিপে দি বেয়াদব বেডি।
অদ্রিতা কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল আমি কি করলাম আমি তো একটু ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিলাম আরিয়ানকে অন্য মেয়ের সাথে দেখে।
অন্যদিকে রাস্তার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সেই কালো ক্যাপওয়ালা লোকটা আবার মোবাইল তুলে ওদের ব্যাচের একটা ছবি তুলে ফেললো।
তার ঠোঁটে ধীরে ধীরে ভয়ংকর হাসি ফুটে উঠলো।
চলবে…
(আমার প্রথম লেখা -শেষ বিকেলের মুগ্ধতা- কাঁচা হাতে লেখা কেমন হয় অবশ্যই গল্পটা পড়ে ভালো লাগলে একটা রিয়্যাক্ট আর সুন্দর মতামত জানাতে ভুলবেন না পুকিরাা।🥹
খুব শীঘ্রই আসছে পরবর্তী পর্ব।
ধন্যবাদ সবাইকে)