পর্ব ৪
হাসপাতাল থেকে ফেরার পর অয়ন বদলে গেল।
আগে সারাদিন ঘরে দরজা দিয়ে বসে থাকত। এখন বারান্দায় আসে। নিতুর সাথে চা খায়। সেলিম সাহেবের সাথে ছাদে উঠে তারা দেখে। এমনকি রাবেয়া খালার বিড়ালগুলোকেও মাছের কাঁটা কিনে দেয়।
"তোমার নাক ঠিক হয়েছে?" নিতু জিজ্ঞেস করে একদিন বিকেলে।
অয়ন হাসে। "সব গন্ধ পাই না এখনো। কিন্তু দরকারি গন্ধগুলো পাই। আপনার গন্ধটা পাই। কাঠগোলাপ। আর দারুচিনি।"
নিতুর গাল লাল হয়। সে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে লজ্জা লুকায়।
কিন্তু সমস্যা হলো রূপাকে নিয়ে।
রূপার বয়স চৌদ্দ। ক্লাস টেনে পড়ে। এই বয়সের মেয়েরা যা হয়-আধা বাচ্চা, আধা মেয়ে। কখনো ফ্রক পরে ঘোরে, কখনো শাড়ি পরে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। রূপার এখন অয়ন-রোগ হয়েছে।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিরালা বাড়িতে পড়ে থাকে। অয়নকে দেখলেই "ভূতভাই, ভূতভাই" করে লাফায়।
"ভূতভাই, আজকে স্কুলে কী হয়েছে শোনেন," রূপা বলে।
"স্যার আমাকে দাঁড় করিয়েছে। আমি অঙ্ক পারিনি। আপনি শিখিয়ে দেবেন?"
অয়ন হাসে। "আচ্ছা, নিয়ে আয় খাতা।"
নিতুর বুকের ভেতর ছ্যাঁৎ করে ওঠে। এই হাসিটা সে চেনে। অয়ন যখন তার দিকে তাকিয়ে হাসে, তখনও একই রকমদেখায়।
রূপা রোজ অয়নের জন্য কিছু না কিছু আনে। কখনো কাঠগোলাপ, কখনো বকুল মালা, কখনো নিজের হাতে বানানো নারকেলের নাড়ু।
"এইটা আপনার জন্য ভূতভাই," রূপা নাড়ুর বাটি এগিয়ে দেয়।
"মা বানিয়েছে। কিন্তু আমি বলেছি আপনার জন্য বানাতে।”
অয়ন একটা নাড়ু মুখে দেয়। "বাহ! খুব ভালো হয়েছে।"
নিতু রান্নাঘর থেকে দেখে। তার হাতের চামচ পড়ে যায় ঝনঝন করে।
রাবেয়া খালা পাশে দাঁড়িয়ে পান চিবুচ্ছিলেন। বললেন, "কী রে মা? হিংসা হয়?"
"ধুর খালা! কী যে বলেন! ও তো বাচ্চা মেয়ে।”
"বাচ্চা মেয়ের গায়েও প্রেমের গন্ধ থাকে," খালা নাক টানেন।
"রূপার গা থেকে কাঁচা আমের গন্ধ আসে। প্রথম প্রেমের গন্ধ।
আর তোর গা থেকে পোড়া পেঁয়াজের গন্ধ। হিংসার গন্ধ।"
নিতু কথা বলে না। সত্যিই তার ভেতরটা জ্বলছে।
একদিন দুপুরে নিতু লাইব্রেরি থেকে ফিরে দেখে রূপা আর অয়ন বারান্দায় বসে। রূপার হাতে নিতুর লাল শাড়ি। গায়ে জড়িয়েছে। চোখে কাজল, ঠোঁটে লিপস্টিক। নিতুর লিপস্টিক। "আমাকে কেমন লাগছে ভূতভাই?" রূপা ঘুরে ঘুরে দেখাচ্ছে। অয়ন হাসছে। "পরীর মতো লাগছে।”
নিতুর মাথায় রক্ত উঠে যায়। সে বারান্দায় গিয়ে রূপার হাত ধরে টান দেয়। "এই শাড়ি তুই কেন পরেছিস? কে দিয়েছে তোকে?"রূপা ভয় পেয়ে যায়। "আমি... আমি আলমারি থেকে নিয়েছি আপা। তুমি তো পরো না। ভাবলাম..."
"আমি পরি না তাতে তোর কী? আমার জিনিসে হাত দিবি না খবরদার!" নিতু শাড়ির আঁচল ধরে টান দেয়। রূপা কেঁদে ফেলে।
অয়ন উঠে দাঁড়ায়। "নিতু, কী করছেন? ও তো বাচ্চা।"
"বাচ্চা? বাচ্চা মেয়ে আমার লিপস্টিক দেয়? আমার শাড়ি পরে? আপনার সামনে ঘোরে?" নিতুর গলা চড়ে যায়।
"আপনার ভালো লাগে না? পরীর মতো লাগে বললেন না?"
রূপা কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে চলে যায়।
বারান্দায় নিস্তব্ধতা। শুধু কাঠগোলাপ গাছের পাতা নড়ছে।
অয়ন নিতুর দিকে তাকায়। চোখে কষ্ট। "আপনি ওকে বকলেন কেন? ও তো আপনার ছোট বোনের মতো।”
"ছোট বোন?" নিতু হাসে। তিতা হাসি। "ছোট বোন আমার প্রেমিকের সামনে শাড়ি পরে ঘোরে না অয়ন ভাই।"
"প্রেমিক?" অয়ন চমকে ওঠে। "আমি আপনার প্রেমিক?"
নিতু থমকে যায়। এই প্রথম মুখ ফুটে বলল কথাটা। অয়ন মাথা নিচু করে। "আমি জানতাম না নিতু। আমি ভেবেছিলাম আপনি শুধু... শুধু দয়া করছেন।”
"দয়া?” নিতুর চোখে পানি আসে। "আমি আপনাকে গোরস্থান থেকে টেনে এনেছি। হাসপাতালে রাত জেগেছি। আমার বুকে মাথা রেখে আপনি ঘুমিয়েছেন। আর আপনি বলেন দয়া?" অয়ন কথা বলে না।
নিতু ঘরে চলে যায়। দরজা লাগিয়ে দেয়।রাত দশটা।
দরজায় টোকা। "নিতু, দরজা খুলুন।" অয়নের গলা।
নিতু খোলে না।
"নিতু, আমি জানি আপনি জেগে আছেন। আপনার ঘর থেকে লবণের গন্ধ আসছে। কান্নার গন্ধা"
নিতু উঠে দরজা খোলে। চোখ লাল।
অয়ন দাঁড়িয়ে। হাতে কাঠগোলাপের মালা।
"আমি রূপাকে বকেছি," অয়ন বলে। "বলেছি, আর কখনো আপনার জিনিসে হাত দেবে না। আর আমার সামনে শাড়ি পরে আসবে না।"
নিতুর বুকের পাথরটা একটু হালকা হয়। তবু অভিমান যায় না। "আপনি ওকে পরীর মতো লাগছে বলেছেন।"
"বলেছি," অয়ন স্বীকার করে। "কারণ ও আসলেই পরীর মতো। বাচ্চা পরী। কিন্তু আপনি..." অয়ন থামে। "আপনি আমার কাঠগোলাপ। বাচ্চারা কাঠগোলাপের মর্ম বোঝে না নিতু। বড়রা বোঝে।”
সে মালাটা নিতুর দিকে বাড়িয়ে দেয়। "পরবেন?"
নিতু মালাটা নেয় না। "আমি হিংসুটে, তাই না?"
"হ্যাঁ," অয়ন হাসে। "খুব হিংসুটে। আপনার গা থেকে এখনো পোড়া পেঁয়াজের গন্ধ আসছে।"
নিতু এবার হেসে ফেলে। চোখের পানির সাথে হাসি মিশে যায়। "আর কী গন্ধ পাচ্ছেন?"
অয়ন নাক টানে। চোখ বন্ধ করে। "দারুচিনি। সাথে কাঠগোলাপ। আর.... আর একটু ক্ষমার গন্ধ। আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।"নিতু মালাটা নেয়। খোঁপায় পরে।
"কাল থেকে রূপাকে আমি পড়াব," নিতু বলে। "অঙ্ক, ইংরেজি। আপনি না।"
অয়ন হাসে। "আচ্ছা।"
নিচ থেকে রাবেয়া খালার গলা ভেসে আসে। "ওই মা! ঝগড়া শেষ হইছে? এখন বিয়ার তারিখ ঠিক কর। আমি আর বাঁচব কয়দিন? নাতি কোলে নিতে চাই।"
সেলিম সাহেব ছাদ থেকে বলেন, "মালেকা, শুনছ? ওদের মিল হয়ে গেছে।"
আর রূপা? রূপা নিজের ঘরে বসে ডায়েরি লিখছে। প্রথম পাতায় লেখা: _আজ বুঝলাম, ভূতভাই আমার না। উনি নিতু আপার। আমার ভূতভাই অন্য কোথাও আছে। আমি তাকে খুঁজে নেব।
তার চোখে পানি নেই। আছে একটা নতুন গন্ধ। বেড়ে ওঠার গন্ধা
আর নিরালা বাড়ির কাঠগোলাপ গাছে নতুন কুঁড়ি এসেছে।
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
রূপার ঘটনার পর নিরালা বাড়িটা আবার শান্ত হয়ে গেল। রূপা এখন আর দুপুরবেলা আসে না। স্কুল থেকে ফিরে নিজের ঘরে থাকে। নিতু সন্ধ্যায় গিয়ে তাকে অঙ্ক করায়, ইংরেজি পড়ায়। রূপা চুপচাপ পড়ে। "ভূতভাই" ডাকটা বন্ধ। এখন বলে "অয়ন ভাই"। সম্মান দিয়ে।
অয়নও দূরত্ব রাখে। রূপাকে দেখলে হাসে, মাথায় হাত বুলায়, কিন্তু বারান্দায় আর একা বসে না ওর সাথে।
নিতুর ভেতরের পোড়া পেঁয়াজের গন্ধটা কমে এসেছে। এখন আবার কাঠগোলাপ আর দারুচিনি।
কিন্তু একটা নতুন গন্ধ যোগ হয়েছে নিরালা বাড়িতে। ছাইয়ের
গন্ধা
সেই রাতে, যেদিন অয়ন ঘুমের ওষুধ খেয়েছিল, টিনের স্যুটকেসটা উল্টে পড়েছিল। সব ডায়েরি ছড়িয়ে গিয়েছিল।
নিতু তখন খেয়াল করেনি। হাসপাতাল থেকে ফিরে অয়ন সব ডায়েরি আবার স্যুটকেসে ঢুকিয়েছিল। কিন্তু নিতু দেখেছিল, কয়েকটা পাতা পোড়া। কিনারগুলো কালো। যেন কেউ আগুন ধরিয়ে নিভিয়ে দিয়েছে।
নিতু জিজ্ঞেস করেনি। জিজ্ঞেস করা অভদ্রতা। তবু রাতে ঘুম আসে না। কী পুড়িয়েছে অয়ন? কেন?
কার্তিক মাস। আকাশে হালকা কুয়াশা। কাঠগোলাপ গাছের পাতা ঝরছে। ফুলও কমে এসেছে।একদিন সকালে সেলিম সাহেব নিতুকে ডাকলেন। "মা, একটু ছাদে আসবা?"
নিতু ছাদে গেল। সেলিম সাহেবের হাতে একটা পুরোনো ছবি। সাদা-কালো। ছবিতে একটা মেয়ে। বয়স আঠারো-উনিশ। শাড়ি পরা, খোঁপায় কাঁঠালিচাঁপা। হাসছে।
"চেনো?" সেলিম সাহেব জিজ্ঞেস করলেন।
নিতু মাথা নাড়ল। "না চাচা। কে উনি?”
"আমার মালেকা।" সেলিম সাহেবের গলা ধরে এলো। "মারা যাওয়ার এক সপ্তাহ আগের ছবি।"
নিতু ছবিটা হাতে নিল। মেয়েটার মুখটা কেমন চেনা চেনা লাগছে। কোথায় দেখেছে?
"চাচা, কিছু বলবেন?"
সেলিম সাহেব আকাশের দিকে তাকালেন। "অয়ন ছেলেটা ভালো মা। কিন্তু ওর একটা অতীত আছে। খুব কালো অতীত। ও নিজে তোমাকে বলবে না। পুরুষ মানুষের জাতই এই।
নিজের কষ্ট লুকায় রাখে।"
"কী অতীত চাচা?"
"ওর বউ ছিল।"
নিতুর পায়ের নিচের ছাদটা দুলে উঠল। "বউ?”
"হ্যাঁ। আট বছর আগে বিয়ে করেছিল। মেয়েটার নাম ছিল মিতু। ভার্সিটিতে পড়ত। অয়ন তখন পাগলের মতো গন্ধ জমাত। সারাত কবরস্থানে, হাসপাতালে, রেলস্টেশনে ঘুরত। মিতু প্রথমে মেনে নিয়েছিল। ভালোবেসেছিল। কিন্তু শেষে পারেনি।"
সেলিম সাহেব থামলেন। দম নিলেন।"একদিন মিতু সুইসাইড করল। গায়ে কেরোসিন ঢেলে। সুইসাইড নোটে লিখেছিল: 'আমি আর মানুষের দুঃখের গন্ধ সহ্য করতে পারছি না। অয়ন শুধু মরা গন্ধ শোঁকে। আমি জীবন্ত, আমার গায়ের গন্ধ ও পায় না।”
নিতুর হাত থেকে ছবিটা পড়ে গেল।
"অয়ন তারপর থেকে নিজেকে দোষ দেয়," সেলিম সাহেব বললেন। "ওর টিনের স্যুটকেসে মিতুর ডায়েরি ছিল। মিতুর চিঠি ছিল। ওই রাতে, যেদিন ও ঘুমের ওষুধ খেল, সেদিন ও মিতুর সবকিছু পুড়িয়ে ফেলেছে। ভেবেছিল, পুড়িয়ে ফেললে গন্ধ চলে যাবে। অপরাধবোধ চলে যাবে। যায়নি।"
নিতুর চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। টপটপ।
"তুমি ওকে ছেড়ে যেও না মা," সেলিম সাহেব নিতুর মাথায় হাত রাখলেন। "ওর এখন তোমার গন্ধটা দরকার। কাঠগোলাপ।
জীবনের গন্ধ।"
নিতু ছাদ থেকে নামল। পা চলছে না।
রাতে নিতু অয়নের দরজায় টোকা দিল।
অয়ন দরজা খুলল। নিতুর চোখ লাল দেখে চমকে উঠল।
"কী হয়েছে? আপনি কাঁদছেন কেন?"
নিতু ঘরে ঢুকল। টিনের স্যুটকেসটার দিকে তাকাল। “ওটা
খুলুন।"
"কেন?"
"খুলুন।"
অয়ন চুপ করে রইল। তারপর চাবি বের করে স্যুটকেস খুলল।
ভেতরে ডায়েরিগুলো নেই। সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কালোছাই। আর ছাইয়ের নিচে একটা ছবি। অর্ধেক পোড়া। ছবিতে একটা মেয়ে। শাড়ি পরা, হাসছে। খোঁপায় কাঁঠালিচাঁপা।
সেলিম সাহেবের মালেকা না। অন্য কেউ।
"ও কে?" নিতু জিজ্ঞেস করল। গলা শান্ত।
অয়ন মেঝেতে বসে পড়ল। দুই হাতে মুখ ঢাকল। "মিতু।
আমার বউ ছিল।”
তারপর সব বলল। আট বছর আগের গল্প। ভালোবাসার গল্প। অবহেলার গল্প। মৃত্যুর গন্ধের নেশার গল্প। আর একটা মেয়ের কেরোসিনের গন্ধের গল্প।
বলতে বলতে অয়ন কাঁদল। প্রথমবার। নিতুর সামনে। পুরুষ মানুষের কান্না। শব্দ নেই, শুধু কাঁপুনি।
নিতু পাশে বসল। অয়নের মাথা নিজের কোলে তুলে নিল। চুলে হাত বুলিয়ে দিল।
"আমি খারাপ মানুষ নিতু" অয়ন ফিসফিস করে। "আমি ওকে বাঁচাতে পারিনি। আমি শুধু মরা গন্ধ শুঁকেছি। জীবন্ত গন্ধ বুঝিনি।"
"আপনি খারাপ না,” নিতু বলল। "আপনি অসুস্থ ছিলেন।
গন্ধের অসুখ। এখন সেরে গেছেন।"
"সারিনি। আমি এখনো গন্ধ পাই। আপনার গন্ধ পাই। ভয় হয়, যদি আপনার গন্ধও একদিন..."
নিতু অয়নের মুখ চেপে ধরল। "চুপ। আর বলবেন না।" সে অয়নের চোখের দিকে তাকাল। "আমার গন্ধটা কী?" অয়ন নাক টানল। "কাঠগোলাপ। সাথে দারুচিনি। আর এখন... এখন একটু ক্ষমার গন্ধ। আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।""আমি ক্ষমা করিনি," নিতু বলল। "আমি ভালোবেসেছি। ক্ষমা আর ভালোবাসা এক না।"
অয়ন অবাক হয়ে তাকাল।
নিতু স্যুটকেসের ছাইয়ের দিকে তাকাল। তারপর উঠে রান্নাঘর থেকে একটা কাঁচের বয়াম আনল। ছাইগুলো বয়ামে ভরল।
"এটা কী করছেন?" অয়ন জিজ্ঞেস করল।
"এটা থাকবে,” নিতু বলল। "আমাদের বারান্দায়। কাঠগোলাপ গাছের গোড়ায়। মিতু আপার স্মৃতি। আপনি ভুলতে পারবেন না। ভুলতে হবে না। কিন্তু এই ছাইয়ের উপর নতুন ফুল ফুটবে। আমাদের ফুল।"
অয়ন নিতুকে জড়িয়ে ধরল। প্রথমবার। শক্ত করে।
নিতু অয়নের গায়ের গন্ধ শুঁকল। কবরের মাটির গন্ধ নেই। বকুল ফুলের গন্ধ নেই। শুধু দারুচিনি। আর একটু লবণ। অয়ন কাঁদছে।
নিচ থেকে রাবেয়া খালার গলা ভেসে এলো। "ওই মা! তোর ঘর থিকা আজ নতুন গন্ধ আসে। আগুনের পর মাটির গন্ধ। নতুন জীবনের গন্ধ। কবে বিয়া খাওয়াবি?"
সেলিম সাহেব ছাদ থেকে হাসলেন। "মালেকা, দেখো। ছেলেটা বেঁচে গেল।"
আর রূপা? রূপা নিজের ঘরে বসে নতুন ডায়েরি লিখছে। প্রথম পাতায় লেখা: _ভূতভাইয়ের ভূত নেমেছে। এখন উনি মানুষ। আর নিতু আপা পরী। ওদের গল্পটা আমি লিখব।_ বাইরে কার্তিকের চাঁদ উঠেছে। কাঠগোলাপ গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে জোছনা পড়ছে স্যুটকেসের ছাইয়ের বয়ামের উপর।
ছাই চিকচিক করছে। যেনো রুপো
চলবে,,,,