ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি আমার সেই প্রিয়সী

১২তম পর্ব

লেখক: শ্যামলী রহমান

#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী

লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান

পর্ব:১২

মির্জা বাড়িতে খাবার টেবিলে বসে রশিদ মির্জা খেতে ব্যস্ত এক পাশে রিশাদ আরেক পাশে রাফিয়া খাচ্ছে। খাওয়া শেষে রশিদ মির্জা ওঠে যেতে নিলে রিশাদ পিছু ডাকে।

"আব্বু তোমার সাথে কিছু কথা ছিলো।

রশিদ মির্জা দাঁড়ায়।

'কি কথা বলো?

" আমি কয়েকদিন চাচ্চুর সাথে কথা বলেছি উনাকে দেশে আসতে বলেছি এতে নিশ্চয়ই তোমার কোনো আপত্তি নেই।

রশিদ মির্জা গম্ভীর মুখে জবাব দেয়।

'সে কি আসতে রাজি হয়েছে।

"রাজি না কিন্তু আমি জোর করে রাজি করিয়েছি এই মাসের মধ্যে নিয়ে আসবো। বারো বছর হতে চললো চাচ্চু দেশে নেই এবার তো আসা উচিত তুমি ও কখনো তাকে আসতে বলোনি তাই আমি উনাকে যে করে হোক নিয়ে আসবো।

'আমি কাউকে যেতে বলেছিলাম না তাই আসতেও বলবো না সে মির্জা বাড়ির ছেলে এ বাড়িতে তার অধিকার আছে চাইলে আসতে পারে।

কথা গুলো বলে রশিদ মির্জা ওঠে চলে যায়।

রাশেদা মির্জা হাঁসি মুখে এগিয়ে আসেন রিশাদ কে জিজ্ঞেস করে

'সত্যি কি রাইসুল দেশে আসবে?

"আসবে আম্মু চাচ্চু আসবে তাকে আসতে হবে।

কারণ অনেক কিছু জানার বাকি তোমরা তো বলবে না। শেষের কথা গুলো মনে মনে বললো যা রাশেদা মির্জা শুনতে পেল না।

রিশাদ একটা দামি রেস্টুরেন্টে বসে আছে এখন বাজে দুপুর দুটো রিশাদের আজকে বিদেশি ক্লাইন্টের সাথে মিটিং ছিলো সেটা মাত্র শেষ হলো উনারা মিটিং সেরে খাওয়া দাওয়া করে চলে গেলেন আর রিশাদ বসে আছে সাথে আছে সুইটি অপলক তাকিয়ে আছে রিশাদের দিকে কিন্তু ওর সেদিকে খেয়াল নেই।

" সুইটি আমার ফোনটা কোথাই?

'এইতো স্যার আমার কাছে।

রিশাদ ফোনটা হাতে নিতেই দেখে আকাশের মিস কল ওঠে আছে এগারো বার। রিশাদ মনে মনে ভাবে কোনো দরকার ছাড়া আকাশ তো এতোবার কল দিবে না কারো কিছু হয়নি তো আবার?

এই ভেবে মনে ভয় শঙ্কা নিয়ে আকাশকে কল করে।প্রথম বার দিলেও ধরে পর পর তিন বার দিয়ে ধরে।

'হ্যাঁ বল?এতোক্ষণে ধরলি তাহলে।

"জানিস তো চজকে মিটিং ছিলো কিন্তু এতোবার কল দিয়েছিস কারো কিছু হয়েছে?

'মহা ঝামেলা হয়েছে আমি এখন সিটি হসপিটালে আছি তুই তাড়াতাড়ি আয় এখন এতো কিছু বলার সময় নেই।

" বাসার কারো কিছু হয়েছে বা তোর কিছু হয়েছে?

'আমার কিছু হয়নি তোর বাসায় কিছু হয়নু তুই আয়। ( পাশে কান্নাকাটির জন্য কথাটুকু শুনতে পায় না।

"রিশাদের মনে শঙ্কা বাড়তে থাকে অস্থির হয়ে পড়ে এই ভেবে বাসায় কারো কিছু হয়েছে হয়তো।

রিশাদ তাড়াতাড়ি করে রেস্টুরেন্টে থেকে বেরিয়ে আসে গাড়ি বসে। পিছনে সুইটি দৌড়ে আসে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে এতো তাড়াহুড়ো করে কোথায় যাচ্ছেন আমাকে রেখে আমি কিন্তু একা যেতে পারবো না এই রোদে এসি ছাড়া গাড়িতে যাওয়া সম্ভব নয়।

এই মূহুর্তে সুইটির নেকামো কথায় রাগ ওঠলেও কিছু বলতে পারছে না কারণ ওর কাছে সময় নেই। সুইটির হাতে পাঁচশত টাকা দিয়ে বললো এটা দিয়ে বাসায় যাও আমার কাজ আছে নয়তো নেকামোর জবাব দিবাত বলে গাড়ি নিয়ে চলে যায়।

সুইটি ক্ষিপ্ত হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা প্লাস্টিকের বোতলটাকে লাথি মারে কিন্তু বোতলে না লেগে তার ওায়ে আঘাত পায়।

'এই ব্যথার হিসেব ও খুব শিগগিরই নিবো রিশাদ মির্জা নয়তো এই সুইটি তোমার পিছনে পড়ে থাকার মেয়ে না বলে মুখে শয়তানি হাঁসি দেয়।

রিশাদ সুটি হসপিটালে এসে পৌছাতে তাড়াতাড়ি করে নেমে ভিতরে যায় সেখানে গিয়ে আকাশকে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করে কার কি হয়েছে বাসার সবাই ঠিক আছে তো?

'এতো অস্থির হয়ে আছিস কেন? ফোনে তো বললাম বাসার কারো কিছু হয়নি।

" এ কথা শুনে রিশাদ একটু সস্থির নিশ্বাস নেয়।

তাহলে কার কি হয়েছে?

'আমাদের পশ্চিম পাড়ার বেল্লাল চাচা আছে না?উনার ছেলে বাবলু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে ডাক্টরের কাছে আনলে জানতে পারি ওর শরীরে ড্রাগসের প্রভাব ফেলছে।

" বাবলু এখন ঠিক আছে? এতো ছোট আয়সে ড্রাগসের নেশায় পড়লো কিভাবে? যে সবে মাত্র ক্লাস টেনে পড়ে সে এই ড্রাগস পেল কোথাই?

'অবস্থা তেমন ভালো না। বাবলুর এক সহপাঠির থেকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সে নাকি প্রায় চেয়ারম্যানের লোক খোরশেদের সাথে চৌধুরী গোডাউনের দিকে যেতে দেখেছে।

" গোডাউনে তো বন্ধ থাকে তাহলে ওদিকে যায় কেন?

কিছু ভাবতেই রিশাদের অঙ্ক মিলে যায় আকাশকে বলে তুই কিছু বুঝতে পারছিস?

'বুঝতে পেরেছি কিন্তু মিজানুর চৌধুরী মনে হয় এসবের কিছু জানেন না সব কিছু দেখা শুনা তো খোরশেদ করে।

"উনি নিজেও বুঝতে পারেন না কাছের মানুষ সেজে কত ক্ষতি করছেন তবে আমার একটু চৌধুরী বাড়িতে যাওয়া দরকার তার আগে ওই গোডাউনে যেতে হবে সাথে পুলিশ কে নিতে হবে। তুই যাবি নাকি এখানে থাকবি?

তুই বরং থাক আমি একাই যাই বলে রিশাদ বাহির হয়ে গেল।

রিশাদের এক পরিচিত বন্ধু ছিলো সুহেল যে পুলিশে চাকরি করে তাকে ফোন দেয়। আসতে বলে মিজানুর চৌধুরীর বন্ধ গোডাউনে। দশমিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছায় কিন্তু গেটে তালা লাগানো আমরা ভিতরে যাবো কিভাবে?

রিশাদ আশে পাশে তাকিয়ে একটা ইট পায় সেটা দিয়ে তালা ভেঙে ভিতরে যায় দুজনে গিয়ে দেখে পুরো অন্ধকার ফোনের লাইট অন করে চারদিক খুঁজে ড্রামের ভিতরে ছোট এক বাক্সে পায় অনেক গুলো ড্রাগস।

সুহেল সেগুলো হাতে নেয়।

'মিজানুর চৌধুরীকে তো ভালো মনে করতাম তিনি চেয়ারম্যান হলেও সমাজ নষ্ট করতে ড্রাগসের ব্যবসা করনে এটা কল্পনাতীত ছিলো।

" মিজানুর চৌধুরী এসব হয়তো জানেন না সব কিছু উনার বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে করছে খোরশেদ সাথে আরো কেউ আছে।

'এখন কি করবো?

"এসব নিয়ে মিজানুর চৌধুরীর বাড়ি যাবো উনার সাথে কথা বলি আগে।

মিজানুর চৌধুরী বিকেলে ড্রয়িং রুমে বসে ছিলেন পাশে বসে আছে রুহি তখন কলিং বেল বাজে রুজিনা বেগম রান্না ঘর থেকে রুহিকে চিল্লিয়ে বলে দরজা খুলে দিতে। রুহি সবে কার্টুন দেখতে বসেছিলো এখন দরজা খুলতে বলায় বিরক্ত হয়।

মিজানুর চৌধুরী বলেন একটু তো কে আসলো দেখে আবার দেখিস।

রুহি বিরক্তি নিয়ে দরজা খুলে দেয় সামনে রিশাদ কে দেখে চমকে ওঠে সাথে অবাক হয়। মনে মনে ভাবে উনি তো আমাদের বাড়িতে আসার নয় তাহলো আসলো কেন?আর পাশে উনি বা কে?

সুহেল রুহিকে বলে,

'ম্যাম আপনার বাবা আছে? থাকলে একটু কথা ছিলো আমরা কি ভিতরে যেতে পারি?

মিজানুর চৌধুরী রুহিকে বলেন,

কে এসেছে?

রুহি ভয়ে রিশাদের নাম নিতে পারছে না উনি এসেছেন মানে কোনো ঝামেলা আছে আব্বুর সাথে।

" আব্বু তোমার সাথে দেখা করতে এসেছে কি জানো কথা আছে।

ভিতরে আসতে বল।

রুহি দরজা ছেড়ে দাঁড়ায় রিশাদ এক পলক তাকিয়েছিলো তার পর বাসার ভিতরে যায়।

মিজানুর চৌধুরী সুহেল কে চিনেন এখানকার পুলিশ অফিসার কিন্তু তার পাশে রিশাদকে দেখে চোখ মুখের পরিবর্তন দেখা দেয়।

'তুমি এখানে আমার বাড়িতে কেন?আবার কি গন্ডগোল করতে এসেছো?

"আরে চেয়ারম্যান সাহেব আগে বসতে বলুন শত্রুর ছেলে বলে কি বসতে বলবেন না?মানুষ তো তার শত্রুকে ও আপ্যায়ন করায় আর তাছাড়া আমি গন্ডগোল করতে আসিনি।এসেছি একটা কথা বলতে।

সুহেলের দিকে তাকিয়ে বলে বলো সব।

সুহেল সব খুলে বলে গোডাউনে পাওয়া সব ড্রগস গুলো দেখায়।

মিজানুর চৌধুরীর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে।

'বিশ্বাস করেন আমি এসবের কিছু জানিনা। কে করছে এসব তাও জানিনা।

'আপনার গেডাউন আপনি বা আপনার লোকরা ছাড়া কে করবে?তাছাড়া ছেলেটার অবস্থা ভালো না কিছু হলে আপনাকে থানায় নিয়ে যেতে পারি।

'পুলিশ অফিসার আমি কিছু জানিনা নিশ্চয়ই আমাকে কেউ ফাঁসাতে চায়। আমার শত্রুর তো অভাব নেই কথাটা বলার সময় রিশাদের দিকে তাকিয়ে বলছিলেন।

" চেয়ারম্যান সাহেব আপনি কি আমাকে বুঝাতে চাচ্ছেন তাহলে বলবো ভুল ভাবছেন আমি আর যাই করি মানুষের ক্ষতি করবো এমন শিক্ষা আমার বাবা মা দেয়নি।

আপনার শত্রু আশে পাশে থাকে কিন্তু আপনি চিনতে পারেন না।

মিজানুর চৌধুরী বলে,

আমার পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় শত্রু তুমি আর তোমার বাবা আর কেউ না।

"আপনার বিশ্বস্ত লোক খোরশেদ কে একটু নজরে রাখিয়েন কে কখন পিছন থেকে ছুরি মারে কে বলতে পারে।

রুহি পাশে দাঁড়িয়ে সব শুনছে কিন্তু কিছু বুঝতে পারছে না।

মিজানুর চৌধুরী বলে,

সবাই তোমাদের মতো হয়না।

"সবচেয়ে বড় শত্রু কে সেটা পরে জানা যাবে তার আগে একটা কথা বলে নেই। ছেলেটার কিছু হলে আপনার গোডাউনে আগুন জ্বলবে। একথা বলে রিশাদ বেরিয়ে যায় সাথে সুহেল ও যায়।

এ কথা শুনে মিজানুর চৌধুরী ক্ষিপ্ত হয়ে যায় আবারো বেয়াদব ছেলে বলে আক্ষায়িত করে।

রুহি তখন থেকে সব কিছু শুনলো যা বুঝতে পারলো বড় কোনো ঝামেলা হতে চলছে রিশাদ আর যাই করুক কারো ক্ষতি করবে না আর আব্বুও ড্রাগসের বিষয়ে জড়িত নেই একটুকু বিশ্বাস আছে তাহলে এসব করছে কে?

আব্বুকে এই মিথ্যে দায় থেকে বাঁচাতে হবে।ভাইয়ার সাথে কথা বলে উনার সাথে কথা বলতে হবে আর বাহির করতে হবে কে সে?

চলবে..................?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন