ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি আমার সেই প্রিয়সী

১৩তম পর্ব

লেখক: শ্যামলী রহমান

#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী

লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান

পর্ব:১৩

রাত প্রায় একটা বাজে মানুষ ঘুমিয়ে পড়েছে চারদিক নিস্তব্ধতা ভর করে আছে। রাতের অন্ধকারে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে চেয়ারম্যানের গোডাউনে আগুন জ্বলার কারণে আশপাশ আলোকিত হয়ে ওঠে পোড়া গন্ধে আশে পাশের মানুষ জেগে যায়।আগুন লাগানোর খবর পৌঁছে যায় মিজানুর চৌধুরীর কাছে তক্ষনাৎ রোহানকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে রুহি আসতে চাইলেও রাতের জন্য নিয়ে আসেনি কিছু সময়ের মধ্যে এসে উপস্থিত হয় গোডাউনের কাছে এসে দেখে আগুন জ্বলছে।পানি দিয়ে এতো আগুন নেভানো সম্ভব নয়। রোহান ফায়ার সার্ভিসে ফোন করে আসতে বলে ২০ মিনিটের মধ্যে তারা এসে আগুন নেভায়। চেয়ারম্যান ক্ষান্ত হয় আর ভাবে ভাগ্যিস গোডাউনটার আশে পাশে কোনো বাড়ি নেই নয়তো পুড়ে যেত শত ঘরবাড়ি।

খোরশেদ মিজানুর চৌধুরীর পাশে এসে দাঁড়ায়, মিজানুর চৌধুরী কে বলে,

'-গোডাউনে আগুন লাগলো কিভাবো বুঝতে পারছি না কে করতে পারে এই কাজ?

রোহান ক্ষিপ্ত হয়ে বলে,

' আপনাকে আব্বু সন্ধ্যায় বাসায় আসতে বলেছিলো আসেননি কেন? আপনার উপর সব দায়িত্ব ছিলো এখনের চাবি আপনার কাছে ছিলো তাহলে........

রোহান ও খোরশেদ কে,

মিজানুর চৌধুরী হাত নাড়িয়ে থামতে বলে চোখের ইশারায় বোঝায় আশেপাশে অনেক মানুষ আছে।

"আমি যা ভাবার এবং যা বোঝার বুঝেছি। আজকে অনেক রাত হয়েছে এসব নিয়ে কালকে সকালে কথা হবে। আর শোন খোরশেদ তুমি কালকে সকালে আমার সাথে দেখা করবে বাসায় আসবে কিছু বোঝাপড়া আছে।

মিজানুর চৌধুরী আর রোহান ওখান থেকে চলে আসে তখনি খোরশেদ কাউকে কল দেয়।

" হ্যাঁ বলো ওদিকের কি খবর?

'খবর ভালো সব কিছু তোমার প্ল্যান মাফিক চলছে শুধু একটু টেনশন হচ্ছে কালকে চেয়ারম্যান যেতে বলেছে গোডাউনে ড্রাগস কোথা থেকে এলো জিজ্ঞেস করলে কি বলবো?

"আমি যে-রকম বলবো ঠিক সেরকম করবে আজকে আগুন লাগার দোষ গিয়ে পড়বে রিশাদ মির্জার উপর তুমি শুধু আমার কথা গুলো ভালো ভাবে চেয়ারম্যানের মাথায় ঢুকিয়ে দিবে।

'ওকে যে না হয় করবো কিন্তু রোহান কে নিয়ে একটু চিন্তা বেটার রক্ত গরম একটু আগে তেজ দেখাচ্ছিলো।

" চিন্তা করো না আমার কথা মতো কাজ করো চেয়ারম্যানের মাথায় বুদ্ধি কম যা বলবে তাই বুঝবে রোহানকে কথায় মাঝে রেখো না বলে কল কেটে দেয় আগন্তকের মুখে হাঁসি রেখা বলে ওঠে,

"চৌধুরী আর মির্জা পরিবারের শত্রুতা আরো বাড়বে

এতে লাভ হবে আমার রাজকন্যা পাবো সাথে পাবো রাজত্ব রিশাদ মির্জার চেপ্টার ক্লোজ করে দিবো খুব শিগগিরই আসছি আমি।

রাতের আঁধার কাটিয়ে দিনের আলো ফোঁটে সকাল হয়।

রিশাদ ঘুম থেকে ওঠতে আকদশের ফোন আসে খবর পায় চেয়ারম্যানের গোডাউনে কেউ আগুন লাগিয়েছিলো পুরো গোডাউন পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে। সাথে লোক মুখে শোনা যাচ্ছে চেয়ারম্যান নাকি তোদের সন্দেহ করছে।

রিশাদের কপালে চিন্তার ছাপ সে আকাশকে জিজ্ঞেস করে,

" সারেজুল চাচার ছেলে এখন কেমন আছে?

'এখন কিছুটা সুস্থ আছে।

"আচ্ছা ঠিক আছে আমি একটু পর বেরোচ্ছি তুই স্কুল মাঠে আয়।

সকাল সকাল মিজানুর চৌধুরী বাড়ি এসে উপস্থিত হয় খোরশেদ।

মিজানুর চৌধুরী বসতে বলেন তার পর জিজ্ঞেস করেন,

" গোডাউনে ড্রাগস এলো কিভাবে?

মোরশেদ উওর দেয়,

"আমি এসব ব্যাপারে কিছু জানিনা আমি তো গোডাউনে যাইনা।

রোহান আজকে আবারো ক্ষিপ্ত সরে বলে,

" আপনি না জানলে কে জানবে?গোডাউনের চাবি শুধু মাত্র বাসায় আর আপনার কাছে আছে। আমরা গোডাউনে ড্রাগস রেখে আসিনি নিশ্চয়ই।

খোরশেদ ভয় পেলেও সাহস আনে রাতের প্ল্যান অনুযায়ী কথা গুলো বলতে থাকে,

"চেয়ারম্যান সাহেব আপনি তো আমায় বিশ্বাস করেন আর সেদিন বলললাম না যে গোডাউনে চাবিটা হারিয়ে গেছে আর একটা চাবি নিয়ে গেলাম।

মিজানুর চৌধুরী মাথা নাড়ায় রোহান জিজ্ঞেস করে তাহলে এসব করলো কে?আমাদের ক্ষতি করে কার লাভ?

মিজানুর চৌধুরী ওঠে দাঁড়ায় রোহানের দিকে তাকিয়ে বলে আমি জানি কে করেছে এসব।

রোহান জিগাসু দৃষ্টিতে বাবার দিকে চায়। জিজ্ঞেস করে কে সে?

" আমাদের ক্ষতি একমাত্র মির্জা পরিবার চায় রশিদ মির্জা ও তার বেয়াদব ছেলে রিশাদ। সে আমাকে কালকে রাতে হুমকি দিয়ে গেছিলো ছেলেটার কিছু হলে গোডাউনে আগুন লাগিয়ে দিবে। তাহলে বুঝতে পারছো ওই করেছে এসব।

রোহান থমকায় সাথে রুহি অবাক চোখে চায় অতপর রাতে রিশাদের বলা কথা গুলো মনে পড়ে সত্যি তো এমন বলেছিলো।

রোহান রুহির কাছে আসে জিজ্ঞেস করে,

"কালকে তো বললি ষড়যন্ত্র চলছে কিন্তু রিশাদ গোডাউনে আগুন দিতে চেয়েছে এটা কি সত্যি?

রুহি মাথা নাড়ায় যার অর্থ সত্যি রোহান বিশ্বাস করতে না চাইলে বিশ্বাস করতে হয় মুখে বলে রিশাদ এমনটা করতে পারলো?

রুহি বলে,

'ভাইয়া হয়তো ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে অন্য কেউ এসব করতে পারে।

" আব্বুর সাথে রিশাদের শত্রুতা ওর সাথে মিলে না ও ছাড়া আর কাউকে দেখছিনা তবুও বিশ্বাস করতাম না কিন্তু রিশাদ কালকে নিজে বলেছে আগুন জ্বালিয়ে দিবে তাই বিশ্বাস করতে বাধ্য হচ্ছি।

রিশাদ আকাশ ও আরো কয়েকজন ছেলে স্কুল মাঠে উপস্থিত হয় তখনি ফোন আসে সুহেলের ফোন ধরতে বলে,

"রিশাদ কোথাও আছো চৌধুরী বাড়িতে আসো তো একটু দরকার আছে গোডাউনে আগুন লাগার বিষয়ে উনার বক্তব্য শুনতে চাই তবে উনি ফোনে তোমাকে সন্দেহ করে বলেছেন এজন্য একটু ঝামেলা হতে পারে।

'ঠিক আছে আমি দশ মিনিটে আসছি আপনি অপেক্ষা করুন।

চৌধুরী বাড়ির বাগানে দাঁড়িয়ে আছে মিজানুর চৌধুরী

সাথে আছে উনার লোকজন ও কয়েকজন পুলিশ ।

দশমিনিটের মধ্যে রিশাদ ও আকাশ উপস্থিত হয়।

পুলিশ রিশাদ কে বলে,

" চেয়ারম্যান সাহেবের বক্তব্য তুমি উনার গোডাউনে আগুন লাগিয়েছো এটা কি সত্যি?

রিশাদের শক্ত জবাব আমি আগুন লাগাইনি ইনফ্যান্ট আমি আগুন লাগার বিষয়ে জানতাম না সকালে আকাশ ফোন করে বললো তার পর জানলাম।

মিজানুর চৌধুরী রেগে যান রিশাদের শার্টের কলার ধরে বলে,

শত্রুর ছেলে তুই ছাড়া কে করবে?তুই তো কালকে বলছিলি আগুন লাগিয়ে দিবি এখন মিথ্যা বলছিস।

রিশাদের কলার ছাড়াতে পুলিশরা ওদের কাছে যায়।

রুহি এতক্ষন বেলকুনি থেকে দেখলেও অবস্থা খারাপ দেখে দৌড় নিচে নামতে আসে। রোহান এগিয়ে যায় কলার ছাড়াতে মিজানুর চৌধুরী শক্ত হাতে কলার ধরে আছে রিশাদ হাত লাগায়নি কিন্তু যখনি হাত দিয়ে কলার ছাড়াতে যাবে তার আগে কেউ পিছন থেকে ধ্বাক্কা মারে মাটিতে পড়ে যায় মিজানুর চৌধুরী সেই সময় আসে রুহি দেখতে পায় বাবা পড়ে আছে দৌড়ে এসে বাবাকে তোলে

সবাই মনে করে রিশাদের ধ্বাক্কাতে পড়ে গেছে। রোহান রেগে গিয়ে রিশাদের কলার ধরে বলে,

"তুই এতোটা খারাপ জানতাম না আব্বু সাথে তোর শত্রুতা থাকতে পারে তাই বলে বাবার বয়সি মানুষ কে ধ্বকা দিয়ে ফেলে দিবি?

আকাশ এসে রোহানকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

মিজানুর চৌধুরী কে বাসার ভিতরে নিয়ে যায়। রুহির চোখে ছিলো পানি সাথে ছিলো ঘৃণা যাওয়ার আগে একটা কথা বলে গেছে,

" আপনি এতোটা খারাপ জানতাম না কত বিশ্বাস করতাম আপনাকে ভাবতাম আর যাই করেন মানুষ কে সম্মান করতে জানেন মানুষের ক্ষতি করতে জানেন না কিন্তু আজকে সব ভুল প্রমানিত হলো।

আপনি আমার বাবাকে ধ্বাকা দিয়েছেন তার শাস্তি পাবেন। এতোদিন ভালোবাসতাম আজকে থেকে আপনার জন্য থাকবে শুধু ঘৃণা।

কথা গুলো বলে কান্না করতে করতে দৌঁড়ে চলে গেল বাসায়।

রিশাদ এখনো নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

আকাশ এসে কাঁধে হাত রাখে।

"তুই উনাকে ধ্বাকা দেসনি এটা বললি না কেন?

'বললেও কেউ বিশ্বাস করবে না কারণ সবাই দেখেছে ধ্বাক্কা দিয়েছি কিন্তু আমি না আমার পিছন থেকে কেউ দিয়েছে সেটা কেউ দেখেনি তাই চুপ ছিলাম।

" রুহি যে ভুল বুঝলো দূরে সরে যাবে ভালোবাসার বদলে ঘৃণা করবে।

'ঘৃণা করতে দে সময় আসুক সব ঘৃণা মুছে যাবে।

বড় খেলা চলছে আর পিছন থেকে চাল চালছে অন্য কেউ সেটা খুঁজে বাহির করতে হবে।

চলবে......….....?

[কেমন এলোমেলো হয়েছে প্রচন্ড মাথা ব্যাথা নিয়ে লিখেছি ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন