#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী
লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান
পর্ব:১৭
রিশাদ মির্জা বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে আছে ওর পাশে রুহি মাথা নিচু করে টলমল চোখ দাঁড়িয়ে আছে রিশাদ কলিং বেল বাজাতে রাশেদা মির্জা দরজা খুলে দেন উনার মুখে ভয়ের ছাপ বার বার পিছু তাকাচ্ছিলেন রিশাদ সেদিকে খেয়াল করে দেখে তার বাবা দাঁড়িয়ে আছেন মুখের আবরণ দেখে মনে হচ্ছে প্রচন্ড রেগে আছেন। রাফিয়া চিন্তিত হয়ে সোফায় বসে আছে মনে মনে ভাবছে না জানি আজ কি হয় তবে মনে মনে ভীষণ খুশি।
রিশাদ রুহিকে নিয়ে ভিতরে আসতে গেলে রশিদ মির্জা বলে ওঠেন,
'ওখানে দাঁড়াও! শত্রুর মেয়েকে নিয়ে এই বাড়িতে প্রবেশ করবে না। তুমি কি করে পারলে আমার শক্রর মেয়েকে বিয়ে করতে? তুমি আমার ছেলে হয়ে আমার সম্মান রাখলে না।
রাশেদা মির্জা এগিয়ে আসে নিজের স্বামিকে বলেন,
ওদের আগে ভিরতে আসতে দেও তার পর বলো যা বলার।
রশিদ মির্জা স্ত্রীর দিকে রাগি চোখে তাকাতে উনি চুপ হয়ে গেলেন। এবার রিশাদ বললো,
"আব্বু এখানে অসম্মান করার কি আছে? আমি রুহিকে ভালোবাসি তাই বিয়ে করেছি। ভালোবাসা বন্ধু কিংবা শত্রুতা দেখেনা আর এমনিতেও তোমার শত্রুতা ওর বাবার সাথে ওর সাথে নয় তাই তোমাদের শত্রুতার জন্য আমি আমার ভালোবাসা ত্যাগ করতে পারবো না আর ভলোবাসা কি অপরাধ?
' ভালোবাসা অপরাধ কি না সেটার জবাব দিতে পারবো না কিন্তু শত্রুর মেয়েকে ভালোবাসা তোর অন্যায়।
রিশাদের সহসা উত্তর,
" তাহলে সে অন্যায় আমি প্রতিদিন করতে চাই।
রিশাদের কথা শুনে রশিদ মির্জা ক্ষেপে যায়।
কাল যখন মানুষ বলবে কি রশিদ মির্জা শেষমেশ শত্রুর মেয়েকে বাড়ির বউ করলে তখন কি উত্তর দিবো?আজ তোর জন্য ওই মেয়ের বাবা মিজানুর চৌধুরী আমাকে ফোন করে অপমান করতে পারলো। তোর জন্য আমাকে এতো কথা শুনতে হলো। তোকে এই জন্য মানুষ করেছিলাম যাতে বড় হয়ে তোর জন্য মানুষের কাছে অপমানিত হতে হবে?
রিশাদ জিজ্ঞেস করে,
" কে তোমাকে অপমান করেছে?কেন অপমান করেছে?
'মিজানুর চৌধুরী ফোন করে অপমান করেছে বলেছেন কেমন ছেলে মানুষ করেছেন যে জোর করে আমার মেয়েকে বিয়ে করেছে,বেয়াদব ছেলে জন্ম দিয়েছি
অবশ্য ঠিকই বলেছেন সন্তান মানুষ করতে পারলে তো আজ এউদিন দেখতে হতো না।
সাথে এ্যাও বলেছেন আমি সন্তান মানুষ করতে পারিনি তোকে তার মেয়ের পিছনে লেলিয়ে দিয়েছি অতীতের প্রতিশোধ নিতে।
রিশাদ রাগ হয়ে ওঠে কিছু একটা ভেবে রাগ কন্ট্রোল করে রশিদ মির্জাকে বলে,
"আব্বু তোমাকে তোমার ছেলে কথা দিলে যে মিজানুর চৌধুরী বলেছে বেয়াদব ছেলে জন্ম দিয়েছো সেই মিজানুর চৌধুরী একদিন বলবে শ্রেষ্ঠ সন্তান জন্ম দিয়েছো।
আর অতীতের প্রতিশোধ বলতে কোন বিষয়টা আব্বু?
রিশাদের প্রশ্নে রশিদ মির্জা মুখের আবরণ কাঠিন হয়ে যায় বলে,
'সে উত্তর তোমাকে দেওয়ার হলে আগেই দিতাম আমি চাইনা তুমি এই প্রশ্ন আর কখনো জিজ্ঞেস করো।
আর এই মেয়েকে( রুহিকে ইঙ্গিত করে বলে) ওর বাবার কাছে দিয়ে আসো মিজানুর চৌধুরী বলেছে তার মেয়েকে তার কাছে না দিলে কালকে সকালে পুলিশ পাঠাবে তোমার নামে কেচ করবে তার মেয়েকে জোর করে বিয়ে করার অপরাধে।
রুহি চুপচাপ বাবা ছেলের কথা শুনছিলো রিশাদ রুহির হাতটা ধরে বলে,
" ওর হাত ধরেছি তিন কবুল বলে বিয়ে করেছি তখন ভয় ভয় পাইনি আর এখন তো ও আমার স্ত্রী তাই এসব পুলিশে ভয় পাইনা তুমি কি ভয় পাচ্ছো?
'মির্জা বংশ কাউকে ভয় পায়না বরং তাদের সবাই ভয় পায়।
"তাহলে মিজানুর চৌধুরী হুমকিতে ভয় পাচ্ছো কেন?
আর তোমার শত্রুতার তার সাথে তার মেয়ে তো তোমায় কিছু করেনি।
রশিদ মির্জা চুপ হয়ে যান একবার রুহির মুখের দিকে তাকান।
চুপচাপ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটা দেখতে কিছু বাচ্চা মুখে মায়াবী ভাব আছে কিন্তু পরখনে কিছু একটা ভেবে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
রাফিয়া এবার সাহস করে রশিদ মির্জা কে বলে,
-আব্বু ভাইয়া আর ভাবিকে ভিতরে আনি?
রশিদ মির্জা রাফিয়ার দিকে তাকিয়ে আর একবার রিশাদের দিকে তাকিয়ে মুখ কালো করে বলে,
'তোদের যা ইচ্ছে কর আমার যা অপমান করার তা তো করেই ফেলেছে।
কথাগুলো বলে রশিদ মির্জা উপরে চলে যান। রাফিয়া দৌঁড়ে রাশেদা মির্জার কাছে যায়।
-আম্মু মিষ্টি আনো ভাইয়া ভাবিকে মিষ্টি মুখ করিয়ে ভিতরে আনতে হবে।
রাশেদা মিষ্টি আনতে যায় রাফিয়া রুহির কাছে গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে বলে,
-জানিস তো আজ আমি খুব খুশি তুই সত্যি আমার ভাইয়ের বউ হয়েছিস তোর স্বপ্ন পূরন হয়েছে।
রুহি মলিন কন্ঠে বলে ওঠে,
;" স্বপ্ন কোনো একদিন ছিলো কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে দুইদিন আগে আজ এখানে এসে দাঁড়িয়েছি ইচ্ছের বিরুদ্ধে তোর ভাই না বলে ছলনা করে নিয়ে এসেছে।
রাফিয়া সব বুঝতে পারে তখন রুহিকে প্রশ্ন করে,
-আমার ভাইকে রেখে অন্য কাউকে বিয়ে করলে ভালো থাকতি?তুই কি নিজের ইচ্ছেতে বিয়েটা করতে চেয়েছিলি?
তোকে একটা কথা বলবো আমার ভাইকে ভুল বুঝেছিস ভুল ভাঙলে সেদিন বুঝতে পারবি তখন আপসোস করতি।
রুহি কিছু বলার আগে রাশেদামির্জা মিষ্টি নিয়ে হাজির হয় রাফিয়া রুহির কাছ থেকে সরে পাশে দাঁড়ায় রাশেদা মির্জা হাঁসি মুখে রুহির মুখের সামনে মিষ্টি ধরে রুহির মন খারাপ থাকলেও মিষ্টিটুকু মুখে নেয় এটা ভেবে সামনে থাকা মানুষটাকপ খুবই ভালো তাকে দেখলেই মায়ের মতো লাগে।
মিষ্টি খাওয়া শেষে রাশেদা মির্জা বাড়ির ভিতরে আসতে বলে।
রিশাদ ভিতরে আসার জন্য রুহির হাত ধরে কিন্তু রুহি আস্ত করে হাত ছাড়িয়ে নেয় তার পর একা একা ভিতরে আসে ওর পরে রিশাদ আসে।
রাশেদা রুহিকে খাবার খেতে দিতে চাইলে বলে খাবো না আন্টি আমার ভালো লাগছে না।
রুহির কথা পরবর্তীতে রাশেদা মির্জা কিছু বলেনা শুধু রাফিয়াকে ইশারা করে চলে যায়।
রাফিয়া রুহিকে বলে,
-চল তোকে রুমে দিয়ে আসি তুই নিশ্চয়ই টায়ার্ড।
রুহি চুপচাপ রাফিয়ার সাথে উপরে আসে। রাফিয়া রুহিকে রিশাদের রুমে নিয়ে আসে।
-এই নে তোদের রুম রেস্ট নে আমি গেলাম।
রাফিয়া যেতে গিয়েও আবার ফিরে এসে বলে,
মন খারাপ করিস না ভাইয়া তোকে অনেক ভালোবাসে।
তোর কপাল অনেক ভালো রে নিজের ভালোবাসা কে পেলি বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে ভুল বুঝাবুঝিতেও একজন দূরে যেতে চাইলেও অপরজন যেতে দেয় না জোর করে বা ছলনা করে হলেও নিজের কাছে নিয়ে আসলো আর আমার কপালে ভালোবাসা এসেও দূরে চলে গেল পরিবারের শত্রুতার ভুল বুঝাবুঝিতে আমাকে দূরে সরিয়ে দিলো অথচ একদিন বলেছিলো পরিবার হোক আর যাই হোক শত বাঁধা পেরিয়ে হলেও নিজের করবে হারিয়ে যেতে দিবে না ভালোবাসা। সেসব কথা সেদিন মিথ্যা প্রমান করেছে।
রাফিয়া এই কথা গুলে রোহানকে ভেবে মনে মনে বলে।
চোখে অজান্তেই পানি আসে আজকে সকাল থেকে রোহান ফোন করলেও ধরেনি কল ধরলে হয়তো বুঝাতে পারতো সেদিনের বলা কথা গুলো রাগের মাথায় বলেছিলো।
চলবে..........?
[দুঃখীত দেরিতে দেওয়ার জন্য কারণটা সবাই জানেন নিশ্চয়ই আজকে থেকে রেগুলার দেওয়ার চেষ্টা করবো।