#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী
লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান
পর্ব:১৬
চৌধুরী বাড়িতে সাদা মাটা ভাবে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে আপন কয়েকজন ছাড়া কেউ নেই। সাদিবের বাবা এসেছে সাথে কয়েকজন লোক এসেছে বিয়েতে তেমন মানুষ না আসলেও আপন কয়েকজনে বাড়ি ভরে গেছে।
রুহিকে শাড়ি পরিয়ে রেডি করে দিয়েছে চোখ বেয়প পানি পড়ছে তার মুখে কথা নেই দৃষ্টি ডেসিন টেবিলের আয়নায় যেখানে দেখতে পাচ্ছে তাকে সিম্পল ডিজাইনের লাল শাড়িতে সাজানো হয়েছে।
"লাল শাড়ি পরার চেয়ে সাদা শাড়ি পরে পরপারে চলে গেলেও এতো কষ্ট পেতাম না যতটা কষ্ট অন্যের জন্য লাল শাড়ি পরে বিয়ে করলে পাবো।
আল্লাহ কেন করলো এমন যদি ভাগ্যে ভালোবাসা না লিখো তাহলে তার জন্য মনে ভালোবাসা দিয়েছিলো কেন?
ভালোবাসলাম যাকে পেলাম না তাকে পরিবারে কথা ভেবে বিয়ে করতে হচ্ছে অন্য কাউকে হাহ নিয়তী এমব কেন?
ভালোবাসা আর বিয়ের মাঝে যখন দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, তখন হৃদয়ের মাঝে এক অনিঃশেষ যন্ত্রণা সৃষ্টি হয়। একজনকে গভীরভাবে ভালোবাসলেও, পরিবারের চাপের কারণে অন্য কাউকে বিয়ে করতে হয়—এটা সত্যিই অত্যন্ত কঠিন। অনুভূতিগুলো অস্পষ্ট হয়ে যায়, হৃদয়ের এক পাশে প্রেমের আকাঙ্ক্ষা, অন্য পাশে দায়িত্বের বোঝা। এই দ্বন্দ্ব মানুষকে দ্বিধায় ফেলে, স্মৃতির ভাঁড়ারে রেখে যায় অম্লমধুর মুহূর্ত। সত্যিকার অর্থে, ভালোবাসা আর বাধ্যবাধকতার মাঝে যে সংগ্রাম চলে।
এমনটা অনেকের ক্ষেত্রে হলে আমার না কারণ,
আমার ভালোবাসা ভুল ছিলো শুধু পরিবারের দোষ দিয়ে লাভ নেই সে যে আমায় ভালোবেসেও অন্য কাউকে বাসতে পারেছে।
'রুহি চল তোকে নিচে নিয়ে যেতে বললো বিয়ে শুরু হবে।
ভাইয়ের ডাকে পিছনে ফিরে রুহি চোখের পানি মুছে নেয়।
রোহান বোনের কান্নামাখা মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। এগিয়ে আসে বলে,
কষ্ট পাস না আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্য করে। আল্লাহর উপর ভরসা রাখ ভালো কিছু হবে।
ভাইয়ের কথা শুনে রুহি হু হু করে কেঁদে ওঠে ভাইকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে ফেলে।
রোহান বোনের মাথায় হাত দিয়ে সান্ত্বনা দেয়।
" চল দেরি হয়ে যাচ্ছে আব্বুরা অপেক্ষা করছে।
রোহান বোনের হাত ধরে নিচে নামে রুহিকে সাদিবের পাশে সোফায় বসানো হলো কাজি এসে গেছে বিয়ে পড়ানো শুরু হয় তখনি কারেন্ট চলে যায় চারদিক অন্ধকার হয়ে যায় সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে আলো খুঁজতে হঠাৎ কারেন্ট যাওয়ার কারণ খুঁজে পেল না মিজানুর চৌধুরী রোহান কে বলে কারেন্ট কেন গেল দেখো তো?
আর জেনেটার চালু করে দেও।
রোহান একটু পর ফিরে আসে বলে,
"আব্বু কারেন্ট নেই উপরে কিছু সমস্যার কারণে।
'তাহলে জেনারেটর চালু করো।
" আব্বু জেনারেটর চালু হচ্ছে না।
সেলিম সাহেব এগিয়ে আসে মিজানুর চৌধুরী কে বলে কারেন্ট কি আসবে না? যদি না আসে তাহলে ফোনের আলো বা মোমবাতি জ্বালিয়ে বিয়েটা সেরে নেই তার পর না হয় বাকি সব দেখা যাবে।
সেলিম সাহেবর কথায় মিজানুর চৌধুরী মত জানায় অন্ধকারে ফোনের আলো জ্বালিয়ে বিয়ে শুরু হয়।
বরের মুখ রুমাল দিয়ে ঢাকা দেখে সেলিম সাহেব জিজ্ঞেস করে,
-সাদিব তুই রুমাল দিয়ে পুরো মুখ ঢেকেছিস কেন?
সাদিব কথা বলছে না। তখনি রোহান সেলিম সাহেব কে টেনে নিয়ে যায়।
আংকেল এদিকে আসুন আব্বুর পাশে বসুন।
কাজির বিয়ে পড়ানো শেষ ছেলে কবুল বলেছে এবার পালা মেয়ের কবুল বলা কিন্তু রুহি চুপ করে আছে কাজি তাড়া দেয় কবুল বলতে।রুহি চোখে পানি নিয়ে বহু কষ্টে কবুল বলে ফেলে চোখের সামনে রিশাদের মুখটা ভেসে ওঠছে। মনে চলছে যন্ত্রণার তোলপাড় ইচ্ছে করছে মরে যাই।
কবুল বলায় বিয়ে সম্পূর্ণ হয় সকলে আলহামদুলিল্লাহ বলে।
তখনি কারেন্ট আসে সামনে বসা বরকে দেখে সবাই চমকে যায় মিজানুর চৌধুরী বলে ওঠে,
"তুই এখানে কি করছিস?
রুহি মাথা নিচু করে কান্না করছিলো বাবার কথা শুনে নিজের সামনে তাকায় দেখতে পায় বর বেসে রিশাদকে দেখে সেও চমকে যায়।
রিশাদ মিজানুর চৌধুরীর কাছে যায়।
" শশুড় মশাই নিজের জামাইকে কি তুই তোকারি করছেন এটা কিন্তু ঠিক না মেয়ের জামাইকে ভালোবেসে জামাই বাবা বলতে হয়।
'তুই আমার জামাই হতে যাবি কেন আমার মেয়ের জামাই তো সাদিব ওর সাথে বিয়ে হয়েছে।
"সাদিব কোথায় ডাকুন আছে নাকি? বিয়ে তো আমার সাথে হয়েছে বিশ্বাস না হলে রেজিস্ট্রার পেপার দেখুন বলে কাজির হাতে থাকা কাগজটি মিজানুর চৌধুরীর হাতে দেয়।
মিজানুর চৌধুরী বরের নামের জায়গায় রিশাদের নাম দেখে কিন্তু কিভাবে সম্ভব?
রেগে গিয়ে তিনি রিশাদের শার্টের কলার ধরে বলে,
তুই কারেন্ট যাইয়েছিস তাই না? তার পর সাদিবকে সরিয়ে নিজে বিয়ে করছেস?
রেগে গিয়ে তিনি একটা চড় মেরে বসেন রিশাদ কিছু বলে না।
"তুই কোন সাহসে এমন করলি?আমার মেয়েকে তোকে কখনো দিবো না।
রিশাদ নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়
'শশুড় মশাই এতো উত্তেজিত হবেন না এই যে মেয়ের জামাইয়ের গায়ে হাত তুললেন এর ফল আপনার মেয়ের উপরেও পড়তে পারে।
" আমার মেয়েকে তোর হাতে দিবোই না তাহলে ফল ভোগ করার কথা আসছে কি করে? তুই এখনি আমার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যা।
'যাবো তো অবশ্যই আপনি যখন জামাই আদর করবেন তাহলে চলে যেতে হবে তবে একা যাবো না আপনার মেয়েকে নিয়ে যাবো।
সেলিম সাহেব রিশাদের কাছে যায় দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
:আমার ছেলে কোথায়?
"আরে চাচা চিন্তা করবেন না আপনার ছেলে ঠিক আছে তেমন কিছু করিনি শুধু অজ্ঞান করেছিলাম পাশের রুমে গিয়ে দেখেন পড়ে আছে।
সেলিম সাহেব ক্ষোভ নিয়ে কিছু বলতে চেয়েও বলেনা দৌঁড়ে যায় পাশের রুমে ছেলের কাছে।
রিশাদ রুহির কাছে যায় হাত ধরে তুলে নিয়ে যেতে চায় রুহি দাঁড়িয়ে থাকে নড়ছে না।
'আমি আপনার সাথে যাবো না আপনি আমাকে ঠকিয়েছেন আপনি প্রতারক।
রিশাদ হাঁসে রুহির কানের কাছে গিয়ে বলে,
"তুমি চুপচাপ যাবে নাকি আমাকে এখানে তুলকালাম ঘটাবো কোনটা? আর চুপচাপ না গেলেও জোর করে নিয়ে যাবো আর সে অধিকার আছে।
রুহি জানে যা হওয়ার হয়ে গেছে এখন যদি না যাই তবে তুলুম কিছু হতে পারে ভেবে আর কিছু বলেনা আর অবাক হয় নিজের ভাইকে দেখে পাশে দাঁড়িয়ে আছে অথচ রিশাদকে কিছু বলছে না কিন্তু কেন?আজকে সকালে ও যে রিশাদের উপর ক্ষেপে ছিলো সে কিছু বলছে না।
রিশাদ রুহিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে মিজানুর চৌধুরী বাঁধা দিতে গেল রোহান আটকায়।
'রোহান তুই ছাড় আমায় আটকালি কেন?ওই শত্রুর ছেলেকে আমার মেয়েকে নিয়ে যেতে দিবো না ওই রশিদ মির্জা এসব প্ল্যান করে নিজের ছেলেকে পাঠিয়েছে যাতে আমার মেয়েকে নিয়ে গিয়ে কষ্ট দিয়ে প্রতিশোধ নিতে পারে।
" আব্বু শান্ত হও আমার কথা শোনো তুমি চাইলেও আটকাতে পারবে না কারণ রুহি লিগ্যালি রিশাদের সাথে বিয়ে হয়েছে ওর বউ হয়ে গেছে এখন রুহির উপর তোমার থেকে রিশাদের অধিকার বেশি।
'সে যাই হোক আমি আমার মেয়ের জীবন নষ্ট হতে দিবো না তুই যে করে হোক রুহিকে আনার ব্যবস্থা কর।
ঠিক আছে এ নিয়ে পরে ভাববো তুমি একটু বসো নয়তো তোমার পেসার ওঠে যাবে।
মিজানুর চৌধুরী যায় রোহান মনে মনে বলে,
'আব্বু তোমার মেয়ে কষ্টে থাকবে না রিশাদ ওকে কতটা ভালোবাসে তা বুঝতে পেরেছি আর বুঝতে পেরেছি ওকে ভুল বুঝে কত বড় ভুল করেছি হয়তো পরিবারিক শত্রুতা আছে তার প্রভাব আমার বোনের উপর পড়বে না এতটুকু বিশ্বাস আছে। যাকে ভালোবাসা যায় তাকে কষ্ট দেওয়া যায় সে যতই শত্রুর মেয়ে হোক সেটা আমি নিজে বুঝি।
সে হয়তো অভিমান করে আছে ভুল আমারি অন্যের জন্য তাকে কষ্ট দিলাম আবার যে কারণে কষ্ট দিলাম সেটাও ছিলো মিথ্যে। তার অভিমান বেশি গাঢ় হওয়ার আগে ভাঙাগাতে হবে।
রোহান রাফিয়ার বলা শেষ কথাটা মনে করে একটু ভয় পায় যদি সত্যি আর না পাই যদি অভিমান ভেঙে ফিরে না আসে।
রিশাদ রুহিকে নিয়ে এসে গাড়িতে বসিয়ে দরজা লক করে দেয় বাহিরে আকাশ দাঁড়িয়ে ছিলো ওর সাথে কথা বলার জন্য আসে।
"আকাশ তুই বাড়ি যা আমিও যাই।
'তুই একা যাবি বাড়িতে গেলে আংকেলের সাথে ঝামেলা হবে আমি জানি আংকেল ও মানতে চাইবে না আমি তোর সাথে যাই আংকেল কে বুঝাবো।
" ভালোবাসা আমার আর লড়াইটাও আমার তাই একাই লড়তে হবে। তুই গেলে আব্বু তোকে রাগের মাথায় কিছু বলতে পারে কারণ সে জানে আমার সাথে তুই থাকিস তুই সব জানিস।
'ঠিক আছে যা আর মাথা গরম করিস না বুঝিয়ে বলবি আমাকে ফোন করে জানাবি কি হয়।
"ওকে জানাবো।
আকাশ বাইক নিয়ে চলে যায় রিশাদ গাড়িতে থাকা শাড়ি পরিহির নারীর দিকে তাকিয়ে ভাবে,
শেষমেশ আমার নামে করে তোমাকে পেলাম এখন পৃথিবী আমার বিপক্ষে গেলেও আমার ভয় নেই কারণ তুমি আনার সঙ্গে আছো।
হয়তো ভুল বুঝে আছো তবে সেও ভুল ধারণা বদলে যাবে।
চলবে..........?