ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি আমার সেই প্রিয়সী

১৯তম পর্ব

লেখক: শ্যামলী রহমান

#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী

লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান

পর্ব:১৯

রাতের আঁধার কাটিয়ে সবে সূর্যদ্বয়ের আলোর আর্বিভাব হচ্ছে রিশাদ অনেক আগে ওঠে পড়েছে কোনো এক কারণে ভোরবেলা ঘুম ভেঙে যায় আর ঘুম আসছিলো না বলে শোয়া থেকে ওঠে পড়ে রুহির দিকে তাকিয়ে কিছু ভাবে তার পর চলে আসে বেলকুনিতে তখনি চোখে পড়ে সূর্যোদয়ের সুন্দর মহূর্তটা।

সূর্যোদয়ের দৃশ্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। প্রভাতের প্রথম আলো যখন আকাশে ছড়িয়ে পড়ে, তখন হালকা গোলাপি ও সোনালী রঙের ছটা দেখা যায়। পাখির গান, সকালের নির্মল বাতাস এবং প্রকৃতির সজীবতা সব মিলে একটি অনন্য অনুভূতি তৈরি করে। অনেক সংস্কৃতিতে সূর্যোদয়কে নতুন শুরুর প্রতীক হিসেবে ধরা হয়, যা জীবনকে নতুন সম্ভাবনার দিকে নিয়ে যায়।

এই মুগ্ধকর দৃশ্য দেখে রিশাদ নিজ মনে বলে,

" সূর্যোদয় যেমন রাতের অন্ধকার কাটিয়ে সকালে আলো আর্বিভাব করে,

তেমনি আমিও আমাদের সম্পর্কের সব অন্ধকার কাটিয়ে আলো নিয়ে আসবো।

সকাল সাতটায় রুহির ঘুম ভাঙে চোখ খুলে দেখে পাশে রিশাদ নেই। মনে মনে ভাবে হয়তো গেছে কোথায় তাতে আমার কি? আমি ফ্রেশ হতে যাবো কিন্তু ড্রেস তো নেই তাহলে কি পরবো?

ভাবনায় মাঝে রাফিয়া রুমে আসে রুহিকে বসে থাকতে দেখে নিজের হাতে থাকা শপিং ব্যাগটা রুহিকে দেয়।

রুহি জিজ্ঞেস করে,

- কি আছে এতে?

'আম্মু তোকে পরার জন্য শাড়ি পাঠালো তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিচে যেতে বললো তুমি ফ্রেশ হয়ে আয় আমি তোকে শাড়ি পড়তে হেল্প করছি

রুহি চুপচাপ ফ্রেশ হতো গেল।

ফ্রেশ হয়ে এসে শাড়ি পরার প্রস্তুতি নিয়ে নিলো রুহি মোটামুটি শাড়ি পরতে জানে তাই সমস্যা নেই রাফিয়া রুহির শাড়ির কুচি ধরে আছে সুন্দর করে সবকিছু ঠিকঠাক করে দিচ্ছে।

রুহি এক নজরে রাফিয়ার দিকে তাকিয়ে ভাবছে,

রাফিয়ার মতো বান্ধবী পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার এটা আমি আগে থেকে মানি এখন তো আরো বেশি মানি মা, বাবা আর ভাইয়া ছাড়া যদি কেউ কেয়ার করে তাহলে সেটা রাফিয়া নিজের বোন হলেও বোধহয় এতো ভালোবাসতো যেটা ওর কেউ না হয়েও স্কুলের পরিচয় থেকে বাসে ।

শাড়ির কুঁচি ঠিক করা শেষ রুহিকে ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে চোখের সামনে তুড়ি বাজায় রুহির হুস আসে।

-এভাবে কি দেখছিলি?

'তুই অনেক ভালো এতো কেয়ার করিস এজন্য তোকে এতো ভালোবাসি বলে রাফিয়াকে জড়িয়ে ধরে হেঁসে ওঠে।

হাজারো মন খারাপের মাঝে বেস্ট ফ্রেন্ড মন ভালো করতে পারে।

রাফিয়া একটু মজা করে বলে,

-আমাকে এতো ভালো না বেসে নিজের জামাইকে বাস তাহলে হবে। আর তোর জামাই থাকতে আমাকে শাড়ির কুঁচি ঠিক করে দিতে হলো সিমেনায় দেখতাম নায়ক নায়িকার শাড়ির কুঁচি ঠিক করে দেয় সাথে রোমান্টিক সিম হয়। ইসস তুই মিস করলি ভাইয়া যদি বাসায় থাকতো হবে ওকে পাঠাই দিতাম কিন্তু ভাইয়া সেই সকালে কোথায় ঢ়েন বেরিয়ে গেল।

রুহি তখনি জিজ্ঞেস করে কোথায় গেছে?

-সে তো জানিনা শুধু বললো কাজ আছে আর তুই ওঠলে যেন দেখে রাখি।

'আমাকে দেখে রাখার কি আছে?

-যদি পালাই যাস এই ভয়ে। আমার ভাই ভয় পায় তোকে হারানোর।

রুহি আনমনে বলে,

'যদি ভয় পাইতো তাহলে এমন কেন হলো?

-আচ্ছা আর কথা নয় নিচে চল।

রাফিয়া রুহিকে নিয়ে নিচে নামে।

রশিদ মির্জা মুখের সামনে ধরে খবরের কাজগ পড়ছে বলে রুহিকে দেখতে পায়নি। রাশেদা মির্জা রান্না ঘরে ছিলো রাফিয়া রুহিকে সেখানে নিয়ে যায় গিয়ে দেখে রান্না বসিয়েছেন তিনি রুহিকে দেখে হেঁসে দেয় পেখিতে রুহিও হাঁসে কারণ রিশাদ যাই করুক এই মানুষ গুলো তো কিছু করেনি যা আছে বাবার সাথে।

রুহি রাশেদাকে বলে আমি কি করবো বলেন?

'না মা তোমায় কিছু করতে হবে না।

রুহি বারণ শুনে না রান্নার কাজে সাহায্য করতে যায় দেখে রাশেদা চা বানাতে বলে।

রুহি মোটামুটি রান্না পারে তেমন ভালো না হলেও খারাপ হয়না খাওয়া যায় আর চা বানাতে পারে বেশ এজন্য চা বানাতে শুরু করে রাফিয়া পাশ থেকে বলে,

-বাহ বউমা আর শাশুড়ীর দায়িত্ব এখন থেকে শুরু আম্মুর কাজে হেল্প করতে এসে গেছে রুহি।

রাশেদা রাগি চোখে বলে,

:তোর মতো নাকি যে কোনো কাজ করে না শুধু বসে বসে থাকে।

রাফিয়া মন খারাপের ভান করে বললো,

-আম্মু এখন খোটা দিচ্ছো তো দেখিও আমি একদিন শাশুড়ীর সবচেয়ে ভালো বউ হবো।

:তোকে কেউ বউ করবে না যে অলস আর বলিস সবচেয়ে ভালো বউ হবি।

রুহির মা মেয়ের কান্ডে হাঁসছে তখন ওর মায়ের কথা মনে পড়ে মা ও বলতো একটু কাজ শিখ শশুর বাড়িতে গিয়ে কিছু না পারলে কথা শুনতে হবে। তখন বাবা বলতো আমার মেয়েকে এমন জায়গায় বিয়ে দিবো যেখানে কাজ করতে হবে না।

একথা ভাবতে বাবার কথা মনে হয়।

চা বানানো শেষে তিনকাপে চা ঢালে রাফিয়া রাশেদা চা নেয় এবং রুহিকে রশিদ মির্জাকে চা দিয়ে আসতে বলে।

একথা শুনে একটু ভয় লাগে কালকে উনি অনেক রাগ দেখাচ্ছিলেন আব্বুর মতো তিনিও চাননা আমাদের সম্পর্ক।

রুহি ভয়ে ভয়ে চা নিয়ে রশিদ মির্জার কাছে যায় তিনি তখনো খবরের কাগজ পড়ছিলেন।

'আংকেল আপনার চা। (ভয়ে ভয়ে বলে)

কারো কথা শুনতে পেয়ে রশিদ মির্জা খবরের কাগজটা সামনে থেকে সরায় এবং সামনে রুহিকে দেখতে পায় নিবর ভাবে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।

রুহি ভয়ে আছে যদি কিছু বলে।

রুহিকে ভুল প্রমান করে চা'য়ের কাপটা নেয় এতে রুহি সস্তি পায় আর মনে মনে ভাবে,

-মানুষ গুলো কেউই খারাপ না তাহলে এতো শত্রুতা কেন তৈরি হয়েছে কি কারণ তা অজানা চেষ্টা করেও বুঝতে পারিনি।

রিশাদ আর আকাশ খোরশেদের খোঁজ নিচ্ছে অল্প সূত্রে জানতে পেরেছে ও ঢাকায় আছে কিন্তু ঢাকার কোথায় আছে তা জানতে আরো একদিন সময় লাগতে পারে।

রিশাদ ভীষণ চিন্তিত দেখে আকাশ কাঁধে হাত দিয়ে বলে,

:এতো চিন্তা করিস সব ঠিক হবে একদিন দুদিন সময়ের মধ্যে সব প্রমান পাবো আর রুহিকে নিয়ে আপসেট থাকলে বলবো এতো ভাবিস না সে এখন তোর কেউ কিছু করতে পারবে না।

"আমি সেটা ভাবছি না তবে আমার মনে হচ্ছে নতুন কোনো ষড়যন্ত্র হতে চলেছে জানিস তো মোরশেদের মাস্টার মাইন্ড আছে তাকে ধরতে হবে যার কথায় এসব করেছে সে নিশ্চই পরবর্তী প্ল্যান করবে।

:শত্রু প্ল্যান করলে আমরা তার প্ল্যাননের উপর প্ল্যান করবো শুধু একটু ক্লু পাই।

আচ্ছা তোর কি কাউকে সন্দেহ হয়?

" আপাতত মনে পড়ছে না পরে জানাবো।

:ঠিক আছে তাহলে তুই যা আমি একটু মৌরির সাথে দেখা করতে যাবো।

"বাহ্ তাহলে মৌরি ফুলে গন্ধে মাতাল হয়ে গেলি?

:ঠাড্ডা করিস না তুই তো বলেছিস ও তোর বোন হয় ওকে ভালোবাসতে এজন্য একটু চেষ্টা করতেছি।

" বিয়েটা করে নে।

:তোর ঝামেলা আগে শেষ হোক তার পর বিয়ে করবো তুই আর রুহি সরি ভাবি না থাকলে তো বিয়ে হবে না।

"ঠিক আছে তুই যা আমিও যাই বলে দুই বন্ধু দুদিকে চলে যায়।

রিশাদ বাসায় এসে কলিং বেল বাজালে কাজের মহিলা দরজা খুলে দেয়।

রুমে গিয়ে দেখে রুহি নেই ভাবলো হয়তো মায়ের সাথে নয়তো রাফিয়ার সাথে আছে।

বাহিরে আসতে রাশেদার দেখা পায় জিজ্ঞেস করে,

" রুহি কোথায় আম্মু?

'কেন রুমে নেই?

" না নেই আমি ভাবলাম তোমার সাথে আছে। রাফিয়ার রুহে আছে হয়তো দেখে আসি।

'রাফিয়া তো কলেজে গেছে আজকে জরুলি ক্লাস আছে।

রিশাদ চিন্তায় পড়ে যায় সাথে অস্থির হয়ে পড়ে কোথায় গেল রুহি?

বাহিরে গিয়ে দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করে রুহি কে যেতে দেখেছে কিনা?

:হ্যাঁ বাবা যেতে দেখেছি একটু আগে গেল আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম কোথায় যাচ্ছেন কিন্তু উত্তর না দিয়ে দৌড়ে চলে গেল।

রিশাদ দারোয়ান কে ঝাড়ি দেয়।

দৌড়ে চলে গেল আপনি জানালেন না কেন? আপনাকে কি করতে রেখেছি?

দারোয়ান মাথা নিচু করে চুপ করে আছে। রিশাদের চিন্তা আরো বেড়ে যায় সাথে রাগ ও হয়।

ওই বাড়ি যায়নি তো আবার?

এভেবে রোহানকে কল দেয় কিন্তু আপসোস রোহান ও কল ধরে না। শেষে উপায় না পেয়ে তাড়াহুড়ো করে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে।

চলবে..........?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন