#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী
লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান
পর্ব:২০
রিশাদ চারদিক হর্নে হয়ে রুহিকে খুঁজতেছে কিন্তু কোথাও দেখা পেল না রুহির কলেজে গেলো সেখানে রাফিয়া ছিলো ও সবে কলেজ থেকে বাহির হয়েছে কলেজের সামনে ভাইকে অস্থির হয়ে দেখে জিজ্ঞেস করে,
-কি হয়েছে ভাইয়া এতো অস্থির হয়ে আছো কোনো সমস্যা?
"রুহি বাসায় নেই আম্মুকে কিছু না বলে বেরিয়েছে ভাবলাম তোর কাছে কলেজে এসেছে নাকি।
-না ভাবি তো এখানে আসেনি। তুমি কি ভাবির বাবার বাসায় খোঁজ নিয়েছিলে? ওখানে যেতে পারে।
" রোহানকে ফোন করেছিলাম কিন্তু ধরেনি।
-আমার মনে হয় ও বাড়ি গেছে।
"আমার টেনশন হচ্ছে যদি ও বাড়ি না যায়।
-চলো ও বাড়ি গিয়ে দেখে আসি ওখানে গেছে কিনা।
রাফিয়ার কথায় রিশাদ সম্মতি জানায় দুই ভাই বোন মিলে গাড়িতে ওঠে পড়ে রওনা দেয় রুহিদের বাড়ি।
চৌধুরী বাড়ির সামনে গাড়ি থামায় দুই ভাই বোন নেমে গেইট দিয়ে আসলে গেলে দারোয়ান ঢুকতে বাঁধা দেয়।
" কি সমস্যা যেতে দিচ্ছেন না কেন?
'মির্জা বাড়ির কাউকে এ বাড়িতে প্রবেশ নিষেধ করেছেন।
"কে নিষেধ করেছেন?
'মিজানুর চৌধুরী।
" সেটা আমি বুঝে নিবো বলে দারোয়ানকে জোর করে সরিয়ে রিশাদ আর রাফিয়া ভিতরে যায়।
কলিং বেল বাজলে রুহি দরজা খুলে দেয় সামনে রিশাদ আর রাফিয়া কে দেখে অবাক হয়। রিশাদের দিকে তাকালে দেখে রিশাদ রাগি চোখে ওর দিকে তাকিয়ে আছে দাঁত দাঁত চেপে বলে,
"ননসেন্স বাবার বাড়ি এসেছো বলে আসোনি কেন?
-তুমি কে যে তোমায় বলে আসতে হবে?
কারো আওয়াজ শুনে তাকিয়ে দেখে মিজানুর চৌধুরী কথাটা বলেছেন রিশাদ হেঁসে সামনে গিয়ে বলে,
" আমি আপনাক জামাই শশুড় মশাই এতো তাড়াতাড়ি ভুলেন। চেয়ারম্যান হয়ে স্মৃতিশক্তি কম হলে চলে।
-তুমি আমার বাড়িতে এসেছো কেন? দারোয়ান আটকায়নি? বলেনি এ বাড়িতে মির্জা বাড়ির কারো প্রবেশ নিষেধ।
"বলেছিলো কিন্তু সে নিয়ম তো আগেই ভেঙে গেছে কারণ মির্জা বাড়ির বউ আপনার বাড়িতে এসে আছে তাকে নিয়ে যেতে এসেছি।
-রুহি তোমায় সাথে যাবে না আমি তোমার মতো অভদ্র ছেলেকে আমি জামাই হিসাবে মানিনা খুব শিগগিরই তোমার সাথে আমার মেয়ের ডিভোর্স করাবো।
তুমি এ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাও।
" ঠিক আছে যাচ্ছি। রুহি তাড়াতাড়ি এসো?
রুহি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে দেখে রিশাদ হাত ধরে নিয়ে যেতে চায় কিন্তু রুহি নড়ে না হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলে ,
'আমি যাবো না আপনি আমায় ঠকিয়েছেন আব্বু যা বললো তাই হবে।
রিশাদ রেগে যায়।
"রুহি আমাকে আরো রাগিয়ো না তাড়াতাড়ি চলো।
'যাবো আপনি কি করবেন? জোর করবেন? জোর করে যদি নিয়ে যান তাহলে আজকেই আমার শেষ দিন হবে।
রুহির কথায় রিশাদ থেমে যায় কোনো কথা না বলে রাফিয়াকে নিয়ে বাহির হয়ে আসে।
মিজানুর চৌধুরীর হাঁসি মুখে ফোন লাগায় সাদিবকে প্রথম প্ল্যান সাকসেসফুল সেটা জানায়।
রিশাদ আর রাফিয়া বাহির হয়ে গেটের কাছে আসতে রোহানকে দেখতে পায় হাতে অনেকগুলো ঔষধ রিশাদ জিজ্ঞেস করে,
" কার ঔষধ এসব?
-আম্মু অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো উনার ওষুধ আনতে গেছিলাম।
"তোকে ফোন করেছিলাম ধরলি না আর রুহি এ বাড়িতে এসেছে বলিসনি কেন? ওকে খুঁজে না পেয়ে আমার মাথা কাজ করছিলো না।
'সরি আমি টেনশনে ছিলাম রুহিকে আব্বু ফোন করে আম্মুর অসুস্থতার কথা জানায় ও তখনি চলে আসে তাই হয়তো কাউকে জানাতে পারেনি।
" ঠিক আছে তোর বোনকে দেখে রাখিস আর বাসায় গিয়ে তোকে ফোন দিবো কিছু কথা আছে।
'রুহিকে নিয়ে যাবি না?
"তোর বোন যাবে না আমি নাকি ওকে ঠকিয়েছি। তোর বাবা বলেছে আমার সাথে তার ডিভোর্স করাবে আর রুহি সে কথা মানবে।
'আমি ওকে বুঝাবো আব্বু নিশ্চয়ই ভুলভাল বুঝিয়েছে তুই বাসায় যা আমি পরে কথা বলবো।
রিশাদ গাড়ির কাছে যায় রাফিয়া দাঁড়িয়ে ছিলো রোহানের দিকে একবার তাকিয়ে আর তাকায়নি রোহান এবার রাফিয়ার দিকে তাকায় মুখে হাঁসি নিয়ে বলে,
:কতদিন দেখিনা তোমায় হয়তো সময়ের সাপেক্ষে ভুল বুঝেছিলাম অভিমানের পাল্লা কি বেশি ভারি হয়ে গেছে।
রাফিয়া না তাকিয়ে উত্তর দেয়,
'আমি অভিমান যার তার উপর করিনা মিস্টার রোহান চৌধুরী আর আপনি কে? আপনাকে আমি চিনিনা।
:মায়াবিনী এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে আমি তোমার মনের মালি।
'আপনার রঙের কথা শুনার আমার সময় নেই বলে রাফিয়া রেগে চলে যায় গাড়িতে বসতেই রিশাদ রাফিয়া গেইট পেরিয়ে রাস্তায় অনেকটা চলে যায় রোহান সেদিকে তাকিয়ে হেঁসে বলে,
:ভালোবাসো বলেই অভিমান করেছো সে আমি জানি,
অপেক্ষা শুধু সময়ের অভিমান ভাঙ্গাতে আমি হয় আমি সেটা মানি।
সারাদিন কেটে গিয়েছে দিনের আলো ফুরিয়ে অন্ধকার নেমে এসেছে অনেক সময় আগেই। রুহি দুপুর ঢুকেছে আর বেরোয়নি। রাত নয়টা বাজে মায়ের ওষুধ খাওয়াতে হবে বলে রুহি রুম থেকে বেরিয়ে মা বাবার রুমে যায়।
মা কে খাবার খাইয়ে দিয়ে ওষুধ খাইয়ে দেয়।
খাওয়া শেষে মা কে আদেশ শুরে বলে ঘুমিয়ে পড়ো বলে নিজের রুমে আসতে গেলে মিজানুর চৌধুরী পিছু ডাকে রুহি থেমে যায় পিছনে তাকায়,
'তুমি কি আমার সিদ্ধান্ত মানতে রাজি?
" কোন সিদ্ধান্ত আব্বু?
'তখন বললাম যে ওই বেয়াদব ছেলের সাথে তোমার ডিভোর্স করাবো তার পর আবার সাদিবের সাথে বিয়ে দিবো।
রুহি চকিত নয়নে বাবার দিকে তাকায় তার পর কিছু ভেবে মাথা নিচু করে নেয় কিছু বলে না।
মিজানুর চৌধুরী বলে,
'তাহলে আমি কি ভেবে নিবো তুমি আমার সিদ্ধান্তে রাজি?
"আমার সিদ্ধান্ত আমি কালকে জানিয়ে দিবো।
'আশা করছি আমাকে নিরাস করবে না। সব সময় মনে রাখবে বাবা কখনো তোমার ক্ষতি চাইবে না।
" জ্বী বলে রুহি রুম থেকে বেরিয়ে আসে দরজার বাহিরে রোহানকে দেখতে ভাইয়ের দিকে এক নজর তাকিয়ে নিজের রুমে চলে যায়।
রোহান সবকিছু শুনেছে বাবা কে কিছু বলতে চেয়েও বললো না কারণ তাকে বলে লাভ নেই যা করার এখন আমাকেই করতে হবে বলে রুহির রুমের দিকে হাঁটা শুরু করে।
রোহান রুহির রুমের দরজায় টোকা দেয়।
-রুহি দরজা খোল।
ভাইয়ের আওয়াজ শুনে রুহি চোখের পানি মুছে নেয়। দরজা খুলে দিতে রোহান ভিতরে আসে বলে,
-তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে।
"কি কথা বলো?
-তুই কালকে আব্বুকে কি ডিসিশন দিবি? রিশাদকে ডিভোর্স দিতে রাজি হয়ে যাবি?
" তাছাড়া আর কি করবো ঠকবাজ মানুষের সাথে তো সংসার করা যায় না।
-দেখ তুই রিশাদকে ভুল বুঝছিস ডিভোর্সের কথা মাথাতেও আনিস না পরে পস্তাবি।
"তুমি উনার হশে সফাই গাইছো কেন? সেদিন আব্বুর সাথে হওয়া ঘটনা ভুলে গেছো? বিয়ের রাতে উনি তোমাকে ফোন করে ধন্যবাদ জানাচ্ছিলেন তাই না?তুমি তাকে সাহায্য করেছো যে আব্বুর সাথে এমন করেছিলো আমাকে ঠকিয়েছে।
- না ভুলিনি আর কে করেছে সেটা ভালো করে জানি অনেক সময় চোখের দেখা ঘটনা মিথ্যা হয়।
" কি বলতে চাইছো ভাইয়া?
-বলতে নয় দেখাতে হবে নয়তো বিশ্বাস করবি না যদিও রিশাদ তোকে বলতে মানা করেছিলো কিন্তু না দেখালে তুই অনেক বড় ভুল করবি বলে রোহান ফোন বাহির করে একটা ভিডিও দেখায়।
ভিডিও দেখে রুমি চমকে যায়। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখতে পায় রিশাদ নয় আব্বুকে ধ্বাকা দিয়েছিলো আব্বুর বিশস্ত কর্মী খোরশেদ।
রোহান ফোনটা রাখে রুহিকে বলে,
-এবার বিশ্বাস হলো তো, দেখলি কে করেছে এসব? আমিও তোর মতো রিশাদ কে ভুল বুঝেছিলাম তার পর বিয়ের দিন রিশাদ আর আকাশ আমার কাছে এসে সব ক্লিয়ার করে তাই তোকে পেতে সাহায্য করেছিলাম কারণ আমি জানতাম রিশাদ তোকে অনেক ভালোবাসে আর তুই ও বাসিস।
"বাসতাম অনেক ভালোবাসতাম কিন্তু সব ভেঙে গেছে আব্বুর ঘটনা মিথ্যা হলেও সে ঘটনা তো মিথ্যে নয়।
রোহান চোখ কুঁচকে জিজ্ঞেস করে কোন ঘটনা?
রুহি ফোন থেকে সুইটি আর রিশাদের ছবি গুলো বের করে রোহানের সামনে ধরে।
" এই দেখো ভালোবাসার নমুনা যার সম্পর্ক অন্য মেয়ের সাথে।
রোহান ফোনটা হাতে নেয় ছবিগুলো ভালো করে দেখে রুহি কে জিজ্ঞেস করে,
- এসব ছবি তোকে কে দিয়েছে?
"ওই মেয়েটাই পাঠিয়েছে।
রোহান জোরে হেঁসে ওঠে। এই সিরিয়াস মহূর্তে ভাইকে হাঁসতে দেখে রুহি বাঁকা চোখে তাকায়।
" হাঁসছো কেন?
-হাঁসবো না তো কি করবো? তুই এতো বোঁকা কেন রে?
"মানে?
- মানে হলো এসব ছবি এডিট করা মেয়েটার সাথে ছেলেটা রিশাদ নয় অন্য কেউ ছবিতে রিশাদের মুখ লাগিয়েছে ভালো করে দেখলেই বুঝতে পারবি। এই দেখ একটু মোটা লাগছে আর রিশাদ কি এতো সর্ট?
রুহি ভালো করে খেয়াল করে দেখে তাই তো রিশাদ তো এমন না।ছবি দেখে মন ভেঙে গেছিলো এতো সুর্খ ভাবে দেখা হয়নি।
- এজন্য বলেছিলাম ভুল বুঝে সিদ্ধান্ত নিবি না। প্রমান হলো তো রিশাদের কোনো দোষ নেই ও তোকে নিজের চেয়ে ভালোবাসে।
রুহির মন ভালো হয়ে মুখে হাঁসি রেখা ভাইকে জড়িয়ে ধরে বলে,
" ধন্যবাদ ভাইয়া ভুলটা ভেঙে দেওয়ার জন্য ভুল বুঝে উনাকে কত কথা শুনিয়েছি উনি নিশ্চয়ই কষ্ট পেয়েছেন।
-ধন্যবাদ দিতে হবে না। ভুল বুঝে ভালোবাসার মানুষকে অনেক কথা বলে ফেলি সেটা তখন না বুলেও পরে বুঝতে পারি কিন্তু সেটা দেরিতে ওপাশের মানুষটা কষ্ট পায় সেটা তো তখন ভাবিনা।
রুহি চুপ করে থাকে ভাইয়া তো ঠিকি বলেছে কত কষ্ট দিয়েছি উনি কত বলেছিলো ভুল বুঝেছি আর যেদিন ভুল ভাগবে সেদিন আফসোস করবো আজ সেটা সত্যি হলো আফসোস করছি কেন একটু বুঝতে চেষ্টা করলাম না, সত্যিটা জানতে চাইলাম না।
-শোন ভুল যখন ভেঙেছে সব মিটমাট করে মিবি আর কালকে ওই বাড়ি চলে যাবি।
"ঠিক আছে যাবো বলে মাথা নাড়ায়। রোহান রুহির রুম থেকে বেরিয়ে যায় দরজা পেরিয়ে গিয়ে আবার ফিরে আসে দেখে রুহি জিজ্ঞেস করে কিছু বলবে?
- হ্যাঁ! ওই মেয়ের সাথে রিশাদের এডিট করা ছবি গুলো আমাকে দে রিশাদকে দেখাতে হবে আর ওই মেয়েকে শায়েস্তা করতে হবে ওর সাহস কি হয় এসব করার বলে ছবি গুলো নিজের ফোনে নিয়ে রোহান চলে যায়।
রুহি দরজা দিয়ে এসে ভাবে এডিট করা ছবি দেখে ভুল বুঝেছি উনি জানতে নিশ্চিত হাঁসবে সাথে রাগ ও করবে কত কষ্ট দিয়েছি উনাকে আজকে যা নয় তাই বলেছি চুপচাপ চলে গেছিলো নিশ্চয়ই আমার ব্যবহারে আঘাত পেয়েছে।
ভুল যখন করেছি শুধরে নিতে হবে উনার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে রাগ,অভিমান ভাঙাতে হবে।
কিন্তু তার আগে তো উনাকে কাছে পেতে হবে তার পর তো সব হবে।
কি করে কাছে আনবো?
ভেবে একটা বুদ্ধি বাহির করে। হ্যাঁ এটাই করবো তাহলে আসতে বাঁধ্য হবে বলে নিজের মনে হেঁসে ওঠে।
চলবে...........?