ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি আমার সেই প্রিয়সী

২১তম পর্ব

লেখক: শ্যামলী রহমান

#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী

লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান

পর্ব:২১

রিশাদ সবে বাহির থেকে এসে রুমে ঢুকেছে রাতের খাবার খায়নি। রাশেদা মির্জা এতো করে বলেও খাওয়াতে পারেনি। মন খারাপ থাকলে খাবার গলা দিয়ে নামে না একটা কথা আছে পেটের খিদার চেয়ে মনের খিদা বড় জ্বালা আমার মনের চাওয়া তাকে আমার সব সময় পাশে চাই, সাথে চাই, হাতে হাত রেখে অন্ধকার পথ পাড়ি দিতে চাই আর সে আমার থেকে দূরে যেতে চায় কিন্তু আমি থাকতে তো তা হতে দিবো না একবার যখন পেয়েছি ছাড়বো না জীবন থাকতে।

বিষন্ন মন নিয়ে বদ্ধ করে বসে এসব ভাবছিলো রিশাদ তখনি ফোনে কল বেজে ওঠে। রিশাদ ফোনের দিকে তাকায় তার থেকে একটু দূরে টেবিলে ফোন খানা চার্জে দেওয়া একটু আগেই দিয়েছি।

প্রথম কল কেটে গেলো ফোন আবারো বাজছে রিশাদ অনিহায় ওঠছে না।

কেইবা হবে আকাশ নিশ্চয়ই এই ভেবে বসে থাকে।

এদিকে রুহি কল দিতে দিতে হাফাই গেছে।

'দূর ফোন ধরছে কেন?

বলে রুহি রাগে বিরক্তিতে ফোনটা বেডে ছুড়ে মারে।

'ফোন ধরছে না এখন কি করবো?

সব কিছু জানার পর কথা না বলে নিজের অস্থির লাগছে ইচ্ছে করছে ছুটে যাই উনার কাছে।

আইডিয়া!

আমি বরং ওই বাড়ি যাই।

কিন্তু এতো রাতে যাবো কিভাবে আর গিয়ে বলবো না কি?

আমি তো আর ছেলে না যে ওয়াল বেয়ে উনার রুমে যাবো।

নিজের মনে শতশত প্ল্যান করছে আবার নিজেই ক্যান্সেল করছে। কি করবে ভেবে না পেয়ে ছুটে চলে ভাইয়ের রুমে।

রোহানের রুমের দরজা খোলা ছিলো এসে দেখে ভাই কাউকে লাগাতার কল দিচ্ছে কিন্তু বার বার বন্ধ বলছে এতে তার চোখে মুখে বিরক্তি সাথে আকুলতা কিন্তু কার জন্য এই আকুলতা তা রুহি বুঝতে পারে না।

অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বলে,

'ভাইয়া আসবো?

রোহান পিছনে ফিরে রুহিকে দেখে ফোনটা কান থেকে নামিয়ে তড়িঘড়ি করে পকেটে রেখে হেঁসে বলে,

-আয়। কিছু বলবি?

রুহি মাথা নিচু করে বলে,

'ভাইয়া তুমি একটু উনাকে বলে দিও তো কালকে যেন আমায় নিয়ে যায়।

-আমি কেন? তুই ফোন করে বল।

'ফোন করেছিলাম ধরেনি।

-ঠিক আছে বলে দিবো তুই গিয়ে ঘুমিয়ে পড় টেনশন করিস না সব ঠিক হয়ে যাবে বলবো না সব ঠিক করতে হবে তোকে বুঝলি?

রুহি মাথা ঝাকায় যার অর্থ হ্যাঁ বুঝেছি।

রুহি চলে যায়। রোহান ফোন বাহির করে এবার রিশাদের ফোনে কল দেয় অনেক বার দিয়ে ধরে না দেখে রেগে বলে,

-সালা দুই ভাই বোন এক কেউ ফোন ধরে না।

একজন সামান্য ভুলে দূরত্ব বাজায় রাখছে আরেকজন নিশ্চয়ই বিরহে কাতর হয়ে সব ভুলে গেছে।

নিজের মনে বকবক করে রিশাদকে মেসেজ দেয় জুরুলি কথা আছে আর সাথে রুহির থেকে নেওয়া ছবি গুলো পাঠায়

বেডে বসে পড়ে অনেক ভেবে দেখে আজ কিছুতেই দেখা পাওয়া সম্ভব নয় কালকে ওই বাড়ি চলে যাবো।

কিন্তু আব্বুকে কি বলবো?আমি ওই বাড়ি আব্বুর কথার বিরুদ্ধে গেলে নিশ্চয়ই রাগ হবে।

না আমি যাবো আব্বুকে যা বলার বলবো শুধু আজকের রাতটা পার হোক।

রিশাদ এখনো নিশ্চুপ হয়ে বেডে মাথা নিচু করে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে।

"ফ্রেশ হওয়া দরকার কিন্তু ক্লান্ত শরীর নিয়ে ওঠতে ইচ্ছে করছে না তার পর ও নিজেকে জোর করে ওঠে ওয়াশ রুমে যায়।

রিশাদ ওয়াশ রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বাহির হয় মাথা পুরো ভিজে গোসল করেনি কিন্তু মাথায় পানি দিয়েছে এখন কিছুটা ভালো লাগছে যদিও মন ভালো নেই।

তোয়ালা দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে চার্জে লাগানো ফোনের দিকে নজর যায় মনে হয় তখন ফোন দিচ্ছিলো আকাশ বোধ-হয় তখন মন মেজাজ ভালো না থাকায় অনিহায় ফোন ধরা হয়নি জরুলি কিছু হতেও পারে ভেবে ফোনটা চার্জ থেকে খুলে নেয় তখন স্কিনে দুটো নাম্বারে কল আসেছে দেখতে পায়।

আশ্চর্য হয়ে চেয়ে থাকে প্রথম কল রুহির আর এতো বার কল দিয়েছে আর দ্বিতীয় নাম্বার রোহানের ও অনেক বার কল দিয়েছে।

কিছু হয়নি তো আবার ভেবে তাড়াতাড়ি করে কল লিস্টে প্রথমে ওঠে থাকা রোহানের ফোনে কল দেয়।

রোহান রাফিয়ার নাম্বারে এমনকি ফেসবুকে সব জায়গায় কনট্রাক করার চেষ্টা করেও পারেনি ব্যর্থ হয়ে সবে ঘুমানোর জন্য বিছানায় শুয়ে পড়েছে তখনি রিশাদের কল আসে ফোনের রিংটোন শুনে রোহাম চটকে ওঠে হাঁসি মুখে ফোন হাতে নেয় কিন্তু যখন দেখে রিশাদ ফোন করেছে তখন আবার মুখটা চুপসে যায় ও ভেবেছিলো রাফিয়া ফোন করেছে কিন্তু তার ধারণা ভুল।

রোহান ফোন ধরতেই রিশাদ অস্থির হয়ে বলে,

" তোর বোন এতোবার ফোম দিয়েছিলো তুই ও এতো বার ফোন দিয়েছিলি কারো কিছু হয়েছে নাকি?

রোহান রাগি কন্ঠে বলে,

'সালা এতোক্ষণ কই ছিলি? তোকে ফোন দিয়ে পাওয়া যায় কেন?

"সরি! আসলে মনমানসিকতা ভালো নেই জানিস তো এজন্য ফোন হাতে নেইনি। কি হয়েছে সেটা বল সব ঠিক আছে তো?

'হ্যাঁ সব ঠিক আছে তবে রুহি ঠিক নেই।

রুহি ঠিক নেই কথা শুনতেই রিশাদের অস্থিরতা বেড়ে যায় মুখের আদল পরিবর্তন হয় তাগিদ কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,

" কি হয়েছে রুহির তাড়াতাড়ি বল? আমি কি আসবো?

'আরে রিল্যাক্স এতো অস্থির হচ্ছিস কেন?

রুহির কিছু হয়নি কিন্তু ওর ভুল ভেঙেছে তোকে ভুল বুঝে ভুল করেছে এর জন্য ও অনুতপ্ত ভুল বুঝতে পারার পর থেকে রুহির মধ্যে অস্থিরতা কাজ করছিলো তোর কাছে যাওয়ার জন্য।

রিশাদ কিছুটা শান্ত হয় তার পর কিছু ভেবে রোহানকে প্রশ্ন করে,

"রুহির ভুল ভাঙলো কি করে?

তুই ওকে সব বলে দিয়েছিস?

'হ্যাঁ বলে দিয়েছি আর ভিডিওটা দেখিয়েছি তবুও অবিশ্বাস ছিলো অন্য এক কারণে যেটা দেখলে তুই ও আবাক হবি তোর ফোনে কিছু ছবি পাঠিয়েছি চেক কর।

রোহানের কথা মতো ওকে কলে রেখে মেসেনজারে যেতেই নোটিফিকেশন আসে ইনবক্সে গিয়ে দেখে কয়েকটা ছবি এসেছে সেখানে চাপ দিতে দেখতে পায় সুইটি আর তার নিজের কিছু ছবি কোনটাতে হাত ধরা আবার কোনটাতে জড়িয়ে রাখার ছবি। নিজের সাথে সুইটির ছবি দেখে অবাক হয় রোহানকে বলে,

" এগুলো ছবি কই পাইলি?সব ছবি তো এডিট করা।

'আর বলিস না ছবি গুলো রুহির কাছে কে জানি পাঠিয়েছে নাম নেই। রুহি এই ছবি গুলো দেখে আরো বেশি ভুল বুঝেছে সরি ভুল বুঝানো হয়েছে ও মনে করেছে ওই মেয়ের সাথে তোর সম্পর্ক আছে।

"তোর বোনের মাথায় বুদ্ধি নেই? এমনিতে তো ভালো কথা জানে কাকে কিভাবে কথায় আঘাত করতে হয় সেটাও জানে তাহলে বুঝতে পারেনি কেন এগুলো ফেক ছবি।

'এখানে রুহির দোষ নেই ও এসবের কিছু বুঝেনা আর নিখুঁত ভাবে না দেখলে কেউ বুঝতে পারবে না রুহির তো আমার আর তোর মতো বুদ্ধি বা জ্ঞান কোনোটাই হয়নি।

" ভাই হোস বোনের সাপোর্ট তো নিবি ভালোবাসার মানুষের দূরে চলে যেতে চাওয়া আর কথায় আঘাত যে কতটা কষ্ট দেয় সেটা বুঝবি না।

রোহান মনে মনে বলে,

'তোর চেয়ে কম জানিনা বরং বেশি জানি যেটা আমিও প্রতিনিয়ত বুঝছি।

রুহি তোকে কালকে এসে নিয়ে যেতে বলেছে।

"তোর বোনকে বলে দিস আজকে যখন নিতে গেছিলাম তখন আসেনি যখন আমি আর নিতে যেতে পারবো না সে যেমন কাউকে না জানিয়ে একা যেতে পেরেছে তেমন একা আসতে পারবে।

'রুহি একা যেতে গেলে আব্বু ঝামেলা করবে তুই আসলে ভালো হবে।

" এবার লড়াইটা ওর একা ভালোবাসাকে দূরে সরে দিয়ে ও চলে গেছিলো এখন আবার কাছে আসতে হলে ওকে একা আসতে হবে আমি সদরে গ্রহন করবো তবে আমাকে দেওয়া কষ্টের শোধ নিবো একটু (পরের কথাটা রিশাদ রশিকতার সুরে বলে)

রোহান ভাবুক কন্ঠে বলে,

'কি শোধ নিবি?

"সেটা তোর বোন বুঝতে পারবে তবে চিন্তা করিস না মারবো না, কাটবো না শুধু একটু.......

থাক এখন বলবো না তোর নিজের বোন এসব শুনতে নেই।

অনেক রাত হলো ঘুমাই কতদিন পর একটু শান্তিতে ঘুমাবো।

'সালা তুই তো শান্তিতে ঘুমাবি কিন্তু আমার রাত কাটবে অশান্তিতে, অস্থিরতায়।

" কেন? প্রেমিকা কি রাগ করেছে?

রোহান আফসোসের রেখায় বলে,

'রাগ করেনি তবে দূরে চলে যেতে চায় অবশ্য দোষ তার না আমার নিজরই দোষ তাকে কোনো কারণ ছাড়াই ভুল বুঝেছি যা নয় তাই বলেছি।

সেদিন ও কান্না করে বলেছিলো ভুল ভাঙলে আফসোস করবো আর তখন ওকে চাইলেও পাবো না।

ওর কথা ঠিকই ছিলো ভুল ভাঙলো আফসোস করছি তবে ওকে দূরে যেতে দিবো না যত যাই হোক।

রিশাদ এক মিনিট চুপ করে সব শোনে আর কিছু জিজ্ঞেস করে না ফোন রাখার আগে বলে,

"তোর জন্য আমার তরফ থেকে একটা গিফট আছে।

'কিসের গিফট আর কি জন্য?

" এই যে আমাকে তোর বোনের জামাই বানালি অনেক সাহায্য করলি এজন্য দিবো।

'ঠিক আছে বলে ফোন রেখে রিশাদ বিছানায় শুয়ে পড়ে চোখ বন্ধ করে হাঁসে আর বলে,

"শান্তির ঘুম আজ দিবে ধরা,

রাতের পরে হবে বেলা,

তার পর শুরু হবে আমার খেলা।

চলবে...........?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন